24/09/2024
সকালবেলায় উঠেই যে খবরটা পেলাম, তা শুনে অনেকক্ষণ বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছরোয়ার নির্জন (বিএ-১১৪৫৩) নিহত হয়েছে 😭।
রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একটা সোর্সের বরাত দিয়ে অস্ত্রসহ স' ন্ত্রা' সীর খোঁজ পেয়ে আর্মির একটা টিম অভিযানে গিয়েছিলো। লে. তানজিম নেগোসিয়েট করতে এগিয়ে যায়, এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হইলে গলায় ৩ বার ছুরি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করে। এরপর বাম চোখে একবার আঘাত করে, একদম চোখের ভেতরে ছুরি বসিয়ে দেয়। গলার আঘাত বেশি গভীর হওয়ায় ব্লিডিং হয় প্রচুর। সিএমএইচ এ আনার আগেই মারা গেসে।
কলেজে আমার তিনব্যাচ জুনিয়র ছিলো তানজিম, হাউজমেট ছিলো। পাবনা ক্যাডেট কলেজের ৩৬তম ব্যাচের ক্যাডেট ছিলো সে। হাউজের জন্য বহু কাজ ছেলেটাকে দিয়ে করিয়েছি। যখন যা কমান্ড করতাম, তড়িঘড়ি করে কাজ সেরে ফেলতো। কলেজে যেই তিনবছর পেয়েছি, দৈহিক গড়নে ছেলেটা ছিলো খুবই পিচ্চি। আমি ওকে ডাকতাম 'লিটল তানজিম' নামে। ওদের ব্যাচের যে কয়েকজন জুনিয়রের সাথে কলেজ থেকে বের হওয়ার পরও খুব ভালো যোগাযোগ ছিলো, তার ভেতর লিটল ছিলো সবচেয়ে ক্লোজ।
মাঝেমাঝেই ফোন দিয়ে, মেসেজ দিয়ে কথাবার্তা বলতো। এমনকি এবারের আন্দোলন চলার সময়ও ছেলেটা একদম প্রথম থেকেই যোগাযোগ রাখতো, আমার কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, সেটা নিয়ে খুব কনসার্নড ছিলো ছেলেটা, ইউনিফর্ম পরে মুক্তিকামী দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যাতে ওর কখনোই দাঁড়াতে না হয়, স্বৈরাচারের অবৈধ নির্দেশ পালন না করে জনগণের পক্ষেই যে ম্যোরাল সাপোর্ট বজায় রাখতে হবে ওদের, এই ব্যাপারটা ছেলেটা খুব ভেতর থেকে অনুধাবন করতো।
সেদিনও ফোনে কত কথা বললো। ওর পরিচিত এক ফ্যামিলি পারসনের ইস্যু নিয়ে। হঠাৎ করেই ওর আইডিতে ঢুকে দেখি আমাকে বার্থডে উইশও করে রেখেছিলো, ব্যস্ততার কারণে সেই মেসেজটা পর্যন্ত দেখতে পারিনাই। ওর মেসেজটার উত্তরটা আর কোনদিন দেওয়া হবে না! কোনদিনই না!
আমার এই সোনার টুকরা ছোটভাইটা আজ চিরতরে হারিয়ে গেলো। হে আল্লাহ, তুমি আমার লিটল-কে শহীদ হিসাবে কবুল করে নিও। হে আল্লাহ, তুমি আমার লিটল-কে জান্নাত নসীব কোরো
Sayed Abdullah ভাই ♥️