23/06/2026
এক চিমটি রাগ, খানিকটা অভিমান আর অনেকখানি ভালোবাসার মোড়কে লেখা একটি ছোট ও মিষ্টি প্রেমের গল্প
নীল আর মেঘার সম্পর্কটা ঠিক চিরাচরিত প্রেমিক-প্রেমিকার মতো ছিল না। তাদের বন্ধুত্বের চেয়ে ঝগড়ার বহরই ছিল বেশি। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে লেগে পড়া তাদের প্রাত্যহিক রুটিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একদিন মেঘা ক্যান্টিনে বসে কফি খাচ্ছিল। ঠিক তখনই নীল এসে তার সামনে বসল এবং বিনা অনুমতিতে মেঘার প্লেট থেকে একটা চপ তুলে মুখে পুরে দিল।
মেঘা চোখ বড় বড় করে বলল, "কী রে! এটা আমার প্লেট ছিল। তুই সবসময় আমার খাবার কেড়ে খাস কেন? নিজে কিনে খেতে পারিস না?"
নীল মুচকি হেসে বলল, "নিজের প্লেটের খাবার তো সবসময়ই খাই, কিন্তু তোর প্লেটের খাবারের স্বাদই আলাদা। আর ঝগড়া না করলে তোকে আর আমার ভালোই লাগে না।"
"অসভ্য!" মেঘা রাগ দেখানোর চেষ্টা করে মুখ ফিরিয়ে নিল। কিন্তু তার গাল দুটো যে লজ্জায় লাল হয়ে উঠছে, তা নীল ঠিকই লক্ষ করল।
এরপর কেটে গেল বেশ কিছুদিন। মেঘার জন্মদিনের পার্টিতে নীল একটি ছোট বাক্সে নীল রঙের ডায়মন্ডের আংটি নিয়ে হাজির। মেঘা তখন তার বান্ধবীদের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত। নীল মেঘার হাত ধরে টেনে একটু নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গেল।
মেঘা কিছুটা অবাক হয়ে বলল, "কী রে, এখানে নিয়ে এলি কেন? সবাই খুঁজছে তো।"
পকেট থেকে বাক্সটি বের করে নীলের গম্ভীর গলা, "খুব তো ঝগড়া করিস। এবার একটু শান্ত হ। এই আংটিটা পর।”
মেঘা তো রীতিমতো থ! সে ভাবতেই পারেনি নীল এমন কিছু করবে। কিছুক্ষণ অবাক হয়ে নীলের দিকে তাকিয়ে থেকে মেঘা হঠাৎ হেসে ফেলল এবং নীলের কাঁধে আলতো একটা কিল বসিয়ে দিল।
"এত রাগ দেখাস কেন আগে বলবি তো?" মেঘা হাসিমুখে নিজের আঙুল বাড়িয়ে দিল।
নীল মেঘার আঙুলে আংটিটি পরিয়ে দিয়ে তার কপালে আলতো করে চুমু খেল। মেঘা নীলের বুকে মাথা গুঁজে দিল। তাদের সব ঝগড়া, মান-অভিমানের অবসান ঘটিয়ে শুরু হলো এক নতুন দুষ্টু-মিষ্টি প্রেমের গল্প """