24/11/2025
বাউলদের বিকৃত যৌনাচার
পর্ব-২
রক্ত-মলমূত্র-বীর্য খেকো বাউলসমাজ
যা শুনছেন তাই, আক্ষরিক অর্থেই বাউলরা রক্ত খায়। আবার সেটার অন্যতম উৎস হচ্ছে মেয়েদের ঋতুস্রাবের রক্ত।
আবার এমনকি এরা নিজেদের জাস্টিফাই করতে ইসলামেরও অপব্যাখ্যা করতে ছাড়ে না।
আর রক্তের সাথে মল-মূত্র-বীর্যও খায়, এবং খাওয়ায়।
(৬)
🟠 ত্রিবেণী → মলমূত্র-বীর্য দিয়ে তৈরি 'খাদ্য'!
❝ত্রিবেণী বলতে বাউল ফকিররা মল, মূত্র, শুক্র এই তিনটি জিনিসকে বুঝিয়ে থাকে। বাউলদের মধ্যে কয়েকটি দল আছে। বন্দেগী সাহেব ও সৎনামীরা বীভৎস জিনিষকে বুঝিয়ে থাকে। তার মধ্যে আপাপন্থী, কাণ্ড ক'রে থাকে। এদের সম্বন্ধে অক্ষয় কুমার দত্ত লিখেছেন:-"ইহারা মৎস্য, মাংস ও মদ্য ব্যবহার করে না। ইহাদের মধ্যে অনেক সরল সজ্জন লোকও আছে। কিন্তু এই তিন শ্রেণীর উদাসীনেরা এমন একরূপ বীভৎস ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করে যে তাহাতেই ইহাদের সমুদয় গুণ ও সমুদয় সাধনা আচ্ছন্ন হইয়া গিয়াছে। সেটি চারি চন্দ্র ভেদের অনুররূপ। সেটি নিজ নিজ মল, মূত্র ও শুক্র মন্ত্রপূত করিয়া ভক্ষন করা বই আর কিছুই নয়। ইহারই নাম ত্রিবেণী ক্রিয়া। ইহারা সেই অতীব গুহা ক্রিয়াকে পরম পুরুষার্থ সাধন বলিয়া বিশ্বাস করে এবং তাহা গোপন রাখিবার উদ্দেশ্যে কতকগুলি সাঙ্কেতিক শব্দ ব্যবহার করিয়া থাকে। উদাহরণ স্বরূপ তাহার কয়েকটি লিখিত হইতেছে। শুক্রকে 'রস', মলকে 'অজর', মুত্রকে 'রাম রস', নাসিকার বাম রন্ধকে 'চন্দ্র', নাসিকার দক্ষিণ রন্ধুকে 'সূর্য', দক্ষিণ চক্ষুকে 'অর্দ্ধ', বাম চক্ষুকে 'উর্দ্ধ', মুখকে 'লঙ্কা', দন্তকে 'দশানন', লিঙ্গ ও গুহ্য দ্বারের মধ্যস্থলকে 'গোইন্দ্রিয়', লিঙ্গের যে দ্বার দিয়া শুক্র নির্গত হয় তাহাকে 'দশম দ্বার', প্রভৃতি।
উল্লিখিত তিন সম্প্রদায়ী ফকির ত্রিবেণী ক্রিয়ার অনুষ্ঠান করে। "আপনার মল, মূত্র ও শুক্র আপনি ভক্ষন করে।”
— ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়, অক্ষয় কুমার দত্ত, পৃ ২৬৬-২৬৭; সাধু সাবধান, আবূ তাহের বর্ধমানী, পৃ ১২-১৩
(৭)
🟠 পঞ্চামৃত → বীর্যের সাথে দুধ-মধু-দই ইত্যাদি মিশিয়ে বাউলদের 'খাদ্য'
বীজমার্গী (বাউলদের শাখাবিশেষ)। ❝ইহারা শুক্রকেই পরব্রহ্ম বলিয়া বিশ্বাস করে, কেননা শুক্র হইতেই সমস্ত জীবের উৎপত্তি হয়। শুক্রের নাম বীজ এই নিমিত্ত ইহাদের নাম বীজমাগী। ইহাদের ভজন-সভার নাম সমাজ ও ভজনালয়ের নাম সমাজ-গৃহ। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময়ে ঐস্থলে ভজনা হইয়া থাকে। গোরক্ষনাথ প্রভৃতির বিরচিত ভজন সমুদায় গান করাই ইহাদের ভজনার প্রধান অঙ্গ।
শৈব শাক্তাদির ন্যায় ইহাদেরও একরূপ চক্র হয় ও তাহাতে অতীব গুহ্য ব্যাপার সম্পন্ন হইয়া থাকে। শুক্ল-পক্ষীয় চতুর্দশীতে ঐ চক্রের অনুষ্ঠান হইয়া থাকে। কোন বীজমাগী নিজ বাটীর স্ত্রীলোক-বিশেষকে কোন সাধুর অর্থাৎ উদাসীন-বিশেষের সহিত সহবাস করাইয়া তাহা হইতে শুক্র নির্গত করিয়া লয় *। সেই বীজ একটি সিসিতে পুরিয়া রাখে ও চক্রের দিবস ঐ শুক্র সমাজ-গৃহে আনয়ন পূর্ব্বক একটি বেদির উপর পুষ্প-শয্যার মধ্য-স্থলে একটি পাত্রে স্থাপন করে** এবং তাহাতে দুগ্ধ, মধু, ঘৃত ও দধি 'মিশ্রিত করিয়া পঞ্চামৃত প্রস্তুত করে। সেই পঞ্চামৃত ঐ পাত্রে সংস্থাপন করিয়া পুষ্প ও মিষ্টান্ন দিয়া ভোগ দেয়। দিয়া, সমাজস্থ সকলকে পরিবেশন করিয়া দেয়। ইহারা চক্র-স্থলে জাতি-বিচার পালন করে না; সকলের অন্ন সকলেই ভক্ষণ করে।❞
* ইহাদের গৃহে কোন সাধুর সমাগম হইলে, আপনার স্ত্রী অথবা কন্যাকে তদীয় সেবায় নিযুক্ত করে, তাহারই সহিত সঙ্গম করাইয়া তদীয় বীজ অর্থাৎ শুক্র গ্রহণ করে ও সেই শুক্র একটি সিসিতে ক্লিয়া রাখে।
** আরও শুনিয়াছি, ইহারা মহন্তের নিকট আপন স্ত্রীকে প্রেরণ পূর্ব্বক উভয়ের পরস্পর সহবাস দ্বারা বীজ বাহির করাইয়া লয় এবং সেই বীজ ও পূর্ব্বোক্ত পাত্রস্থ বীজ একত্র মিলিত করিয়া তাহার পূজা করে।
— ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়, অক্ষয় কুমার দত্ত, পৃ ২৭১-২৭২
(৮)
🟠 প্রেমভাজা, লাল সাধন, শ্বেত সাধন, মহাজনি, তেল সাধন, অন্ন সাধন
প্রেমভাজা → যৌনসহবাস করার পর আটার মধ্যে বীর্য ফেলে সেটা মিশিয়ে সেগুলো দিয়ে বানানো রুটি।
লাল সাধন → মেয়েদের প্রস্রাবের জায়গায় মুখ দিয়ে ঋতুস্রাবের রক্ত খাওয়া
শ্বেত সাধন → মাস্টারবেশন করে সেই বীর্য খাওয়া
মহাজনি → স্বপ্নদোষ হলে কাপড়ে লেগে শুকিয়ে যাওয়া বীর্য খাওয়া
ইত্যাদি…
এসব নিয়ে প্রায় দ্বেড়শো বছর আগে বিস্তারিত লিখেছেন নদীয়ার বিখ্যাত পুঁথি সাহিত্যিক মুনশী ফছিহ্উদ্দীন তাঁর ‘মেফতাহুল ইসলাম’ কিতাবের ৩৯-৪১ পৃষ্ঠাতে 'লালন সাধন ক্রিয়া' অংশে। তিনি ছিলেন বাউল অধ্যুষিত এলাকার লোক, কাছ থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন।
(৯)
❝অমাবস্যার রাত্রিতে যে মেয়ের প্রথম ঋতুস্রাব দেখা দেয়। সেই রক্তমাখ। ন্যাকড়া বাউল ফকিররা যোগাড় করে রাখে। এবং একটু করে ছিড়ে পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি আগন্তুকদেরকে খাইয়ে থাকে। এতে নাকি আগন্তুকদের চিত্ত-বিভ্রম ঘটে যায়।❞
— সাধু সাবধান, পৃ ২০ (পুরাতন প্রিন্ট); পীর তন্ত্রের আজব লীলা, পৃ ২০।
(১০)
❝স্ত্রী-যোনী ও অগ্নিকে ছেজদা করে। দলে দলে স্ত্রীপুরুষ একত্র উলঙ্গ হইয়া নাচিয়া গাহিয়া কাম-রিপু দমন হইয়াছে কি না তাহার পরীক্ষা করে এবং তাহাতে যে বীর্যপাত হয়, তাহা ময়দার সহিত মিশাইয়া রুটি প্রস্তুত করতঃ "প্রেমভাজা” নামক উপাদেয় (?) মারফতী খানা খায়। তাহারা পরস্পর পরস্পরের স্ত্রীকে ব্যবহার করিয়া হিংসা রিপু দমন করে ও স্ত্রী-পুরুষ মিলিত হইয়া থমক খঞ্জরী, জুড়ি বাজাইয়া দেহ-তত্ত্ব ফকিরী গান করতঃ ভিক্ষা করিয়া বেড়ায়।❞
— বাউল ধ্বংস ফৎওয়া, সংস্করণ-২, পৃ ২ (ভূমিকা অংশ), রেয়াজউদ্দিন আহমদ সংকলিত ও প্রকাশিত।