ListenLit Audiobook

ListenLit Audiobook বুক রিভিউ, অডিওবুক আর শিল্প-সাহিত্যের দুনিয়া 📖
YouTube: youtube.com/

প্যালিনড্রোম। অর্থাৎ শুরু বা শেষ দু'দিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (স...
14/10/2024

প্যালিনড্রোম। অর্থাৎ শুরু বা শেষ দু'দিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (সংখ্যার ক্ষেত্রে)। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস (অর্থ: Running back again) থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে।
অবাক করার বিষয় হলো, বাংলা ভাষায় প্যালিনড্রোমের প্যালিনড্রোমিক সংজ্ঞাও রয়েছে; “ইহা উল্টে পাল্টে উহাই”। এটি লিখেছেন বাংলাদেশি তরুণ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এর বিশ্লেষণ করলে হয়, “ওল্টালে পাল্টালে যা একই হয়”।

🔲 বাংলায় প্যালিনড্রোম বাক্য

সিমার মাসি
বল খেলব
বই চাইব
ঘুরবে রঘু
নাম লেখালেম না
বিকল্প কবি
তুমি কি মিতু ?
মার কথা থাক রমা
কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী
কাক কাঁদে কাঁক কা
চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে
তাল বনে নেব লতা
চার সের চা
ঠাকুরদাদার কুঠা
খা সমস্ত রুটি রুস্তম সখা
না না কেনা না।
না বললে লব না
ওর মা আজ আমারও
বিরহে রাধা নয়ন ধারা হেরবি
থাক রবি কবির কথা
মামাতো মামা
কাকা তো কাকা
রবীন দা দানবীর।

🔲 বাংলায় প্যালিনড্রোম নাম
নিধুরাম রাধুনি
সুবল লাল বসু
রমা কান্ত কামার
সদানন দাস
রায়মণি ময়রা
হারান রাহা
ইলু দলুই
সুবর্ণা বসু
সদাই দাস

🔲 বাংলায় প্যালিনড্রোম শব্দ
মরম, মলম, দরদ, জলজ, বনমানব, নবজীবন, সহিস, সরেস, তফাত, বাহবা, সন্ন্যাস, সন্ত্রা*স, নরুন, তখত, কনক, নয়ন, সরস, নিড়ানি, খামোখা, কালিকা, হুবহু, ইহাই, বলিব।

বাংলা ভাষায় সব থেকে বড় প্যালিনড্রোম হলো-
চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে!

🔲 প্যালিনড্রমিক সংখ্যা

১০১৩১০১,১২১,১৪৪১,৫৬৭৬৫ এরকম হাজারো আছে।
প্যালিনড্রমিক সংখ্যা নিয়ে দুইটি মজার সমস্যা আছে।

কোন সংখ্যা প্যালিনড্রমিক এবং মৌলিক? [2, 3, 5, 7, 11, 101, 131, 151, …]
কোন সংখ্যা প্যালিনড্রমিক এবং পূর্ণ বর্গ সংখ্যা? [0, 1, 4, 9, 121, 484, 676, 10201, 12321, …]

একটা ব্যাপার মনে হয় না বললেও চলে। যেকোন ভিত্তিতে প্যালিনড্রমিক সংখ্যার মোট সংখ্যা অসীম।

কোন সংখ্যার প্যালিনড্রমিক সংখ্যার সাথে উক্ত সংখ্যার বিয়োগফল শূন্য।

🔲 কিছু ইংরেজি শব্দ

সবচেয়ে বেশি প্যালিনড্রোমের দেখা মেলে ইংরেজি ভাষায়। ভুরি ভুরি প্যালিনড্রোম শব্দ তো আমাদের হরহামেশা ব্যবহারেই লাগছে; EYE, DEED, CIVIC, NUN, NOON, MADAM, WOW, POP, TOOT,redivider, deified, radar, level, rotor, kayak, reviver, racecar, refer ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি হলো: REDIVIDER, যার অর্থ: উদ্ধারক।

গিনেস বুক অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় প্যালিনড্রোম শব্দটি হলো- ‘SAIPPUAKIVIKAUPPIAS’।

🔲 ইংরেজিতে কিছু প্যালিনড্রোম বাক্য দেখে নেওয়া যাক

A dog! A panic in a pagoda.
A lot not new I saw as I went on to L.A.
A man, a plan, a canal – Panama
A new order began, a more Roman age bred Rowena.
A Toyota. Race fast, safe car. A Toyota
এছাড়াও ইংরেজিতে প্যালিনড্রোম উপন্যাসও রয়েছে,

Satire: Veritas – David Stephens
Dr Awkward & Olson in Oslo – Lawrence Levine

🔲 আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে খ্রীষ্টধর্ম অনুযায়ী পৃথিবীর প্রথম শব্দ ছিল প্যালিনড্রোম! জানেন কি সেই শব্দটি কী ছিলো?
আদম প্রথম ইভকে Introduce করেছিলেন এই বলে-

MADAM IN EDEN I'M ADAM!

সাহিত্যে নোবেল জয়ী হান কাংয়ের সাক্ষাৎকার🔲আমি বেশ অবাক ও সম্মানিত বোধ করেছিসাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ ক...
14/10/2024

সাহিত্যে নোবেল জয়ী হান কাংয়ের সাক্ষাৎকার🔲

আমি বেশ অবাক ও সম্মানিত বোধ করেছি
সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান কাং। রাজধানী সিউলে নিজের বাসায় ছেলের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাতের খাবার শেষ করার পরপরই তিনি নোবেল পাওয়ার খবরটি জানতে পেরেছিলেন। পরে নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলা হয়। নোবেল পাওয়ার পর এটাই তার প্রথম সাক্ষাৎকার। টেলিফোনে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে তিনি কোরিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন। হান কাংয়ের মতে, কোনো একক লেখক নয়, বরং তার মধ্যে রয়েছে অনেক লেখকের সম্মিলিত প্রভাব। তার ভাষায় : ‘তাদের (লেখক) যাবতীয় প্রচেষ্টা ও শক্তি আমার প্রেরণা।’ সাক্ষাৎকারে হান কাং আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত নিজের উপন্যাস ‘দ্য ভেজেটারিয়ান’ লেখার প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেছেন। কৌতূহলী পাঠকদের প্রতি হানের সুপারিশ, তারা যেন তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘উই ডোন্ট নট পার্ট’ দিয়ে শুরু করেন। এতে করে নতুন পাঠকরা তার সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা পাবেন বলে বিশ্বাস করেন ৫৩ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরিয়ার এই লেখক। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে হানের সাক্ষাৎকারটির অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন জেনি রাইডেন।

হান কাং : হ্যালো?

জেনি রাইডেন : হ্যালো, আপনি কি হান কাং?

হান কাং : হ্যাঁ।

জেনি রাইডেন : আমার নাম জেনি রাইডেন। নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে আমি আপনাকে ফোন করেছি।

হান কাং : হুম, আপনার সঙ্গে কথা বলতে বেশ ভালো লাগছে।

জেনি রাইডেন : আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমারও বেশ ভালো লাগছে। অনুগ্রহ করে সবকিছুর আগে আপনি আমার অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

হান কাং : ধন্যবাদ। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

জেনি রাইডেন : এই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কী?

হান কাং : আমি বেশ অবাক হয়েছি। বেশ সম্মানিত বোধ করছি।

জেনি রাইডেন : আপনি পুরস্কারের খবরটি কীভাবে জানলেন?

হান কাং : কেউ একজন ফোন করে আমাকে খবরটি দিয়েছিলেন। খবরটি আমাকে অবশ্য বেশ অবাক করেছিল। আমার ছেলের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করার পরপরই আমি খবরটি পাই। তখন কেবল সন্ধ্যা (রাত) আটটা বাজে। বুঝতেই পারছেন, আমার জন্য এটা একটি বেশ শান্তিময় সন্ধ্যা ছিল। আমি আসলেই বেশ অবাক হয়েছিলাম।

জেনি রাইডেন : আপনি বললেন আপনি আপনার ছেলের সঙ্গে আছেন। আপনার নোবেল পাওয়া নিয়ে তার প্রতিক্রিয়াটি কেমন ছিল?

হান কাং : আমার ছেলেও বেশ অবাক হয়েছিল। কিন্তু আমরা এটা নিয়ে কথা বলার বেশি একটা সময় পাইনি। (কারণ) আমরা দুজনেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আর (ওই মুহূর্তে) ওটাই ছিল সবকিছু।

জেনি রাইডেন : আপনার কাছে সাহিত্যে নোবেল পাওয়াটা কী অর্থ বহন করে?

হান কাং : আচ্ছা, আমি বেশ সম্মানিত বোধ করছি। আমি আপনার সমর্থন ও এই পুরস্কারের সমর্থনের আন্তরিক প্রশংসা করছি।

জেনি রাইডেন : দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাহিত্যে আপনিই প্রথম নোবেল পেলেন। এই অনুভূতিটি কেমন?

হান কাং : আপনি জানেন আমি বই পড়তে পড়তে বেড়ে উঠেছি। শৈশব থেকেই আমার বই পড়ার অভ্যাস। কোরীয় ভাষা ও অনুবাদ উভয় ধরনের বই পড়তে পড়তেই আমি বড় হয়েছি। তাই আমি বলতে চাই, কোরিয়ার সাহিত্যকে সঙ্গী করেই আমি বেড়ে উঠেছি। কোরিয়ার সাহিত্যের সঙ্গে আমি বেশ ঘনিষ্ঠতা বোধ করি। তাই (আমার পুরস্কার পাওয়া) এটি কোরীয় সাহিত্যের পাঠক, আমার বন্ধু ও লেখকদের জন্য একটি চমৎকার খবর বলে আমার মনে হচ্ছে।

জেনি রাইডেন : আপনি একটি সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছেন। কোন কোন লেখকরা আপনার প্রেরণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস?

হান কাং : শৈশব থেকেই আমার কাছে লেখকদের ব্যাপারে একটি সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তারা জীবনের অর্থ অনুসন্ধান করেছেন। কখনো কখনো তারা হার মেনেছেন। কখনো কখনো তারা অবিচল থেকেছেন। তাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা ও শক্তি আমার প্রেরণা। তাই প্রেরণা হিসেবে কয়েকজনের নাম বলাটা আমার জন্য বেশ কঠিন। এটা আমার জন্য আসলেই দারুণ কঠিন।

জেনি রাইডেন : আমি কোথাও পড়েছিলাম সুইডেনের লেখক অ্যাস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন আপনার অন্যতম প্রেরণার উৎস?

হান কাং : হ্যাঁ। শৈশবে আমার তার ‘লায়নহার্ট ব্রাদার্স’ পড়তে ভালো লেগেছিল। বইটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল।

কিন্তু এর অর্থ এই না যে, তিনিই একমাত্র লেখক যিনি আমাকে শৈশবে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। লায়নহার্ট ব্রাদার্স পড়ার সময় মানুষ, জীবন ও মৃত্যু নিয়ে বইটির সঙ্গে আমার বিভিন্ন প্রশ্নের মিল খুঁজে পেয়েছিলাম ।

জেনি রাইডেন : যে সব ব্যক্তি সবে আপনার কাজ সম্পর্কে জেনেছেন, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী? তারা আপনার কোন বই দিয়ে শুরু করলে ভালো হয়?

হান কাং : আমার বইয়ের কথা বলছেন? আমি মনে করি প্রত্যেক লেখক তার সর্বশেষ বইকে বেশি পছন্দ করেন। নতুন পাঠকেরা চাইলে আমার সর্বশেষ বই ‘উই ডু নট পার্ট’ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

ইংরেজি অনুবাদে বইটার আরও দুটি শিরোনাম হতে পারে ‘আই ডু নট বিড ফেয়ারওয়েল’ বা ‘ইম্পসিবল গুডবাইস’। আমার মনে হয় এটা দিয়ে শুরু করাটা তাদের জন্য ভালো। (আমার এর আগের বই) হিউম্যান অ্যাক্টস সরাসরি উই ডু নট পার্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর পর তারা দ্য হোয়াইট বুক পড়তে পারেন। এটা আমার আত্মজীবনীমূলক বই। পাঠকেরা দ্য ভেজেটারিয়ান দিয়েও শুরু করতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয় উই ডু নট পার্ট দিয়ে শুরু করাটা ভালো।

জেনি রাইডেন : বিদেশি পাঠকদের কাছে সম্ভবত দ্য ভেজেটারিয়ান সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এই উপন্যাস নিয়ে কিছু বলুন।

হান কাং : এটি আমি তিন বছর ধরে লিখেছিলাম। কিছু কারণে ওই তিন বছর আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমাকে প্রধান কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং সেই নারী চরিত্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা অন্যান্য চরিত্রগুলোর চিত্রকল্প খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছিল। বর্ণনায় থাকা গাছপালা ও সূর্যকিরণের চিত্রকল্পের জন্যও আমাকে হাঁটুভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছিল।

জেরি রাইডেন : শেষ প্রশ্ন, নোবেল পুরস্কার পাওয়াটি আপনি কীভাবে উদযাপন করবেন? কিছু ভেবেছেন কি?

হান কাং : আপনার সঙ্গে কথা শেষ করে আমি চা পান করার কথা ভাবছি। আমি মদ পান করি না। আমি আমার ছেলের সঙ্গে বসে চা খাব। আজ রাতে নীরবেই আমি নোবেল পাওয়াটা উদযাপন করব।

জেনি রাইডেন : বেশ চমৎকার। আপনাকে আবারও অসংখ্য অভিনন্দন। অনেক ধন্যবাদ।

হান কাং : ধন্যবাদ।

জেনি রাইডেন : ঠিক আছে। ভালো থাকবেন।

হান কাং : আপনিও ভালো থাকবেন।

উল্লেখ্য, হান কাংয়ের ‘উই ডোন্ট নট পার্ট’ উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। উপন্যাসটির প্রকাশক পেঙ্গুইন বুকস।

ভালো লেখক হওয়ার সাতটি টিপস🔲আপনি হয়তো প্রতিদিনই লেখালেখি করেন, কিন্তু আপনি কি নিজের লেখা গদ্যকে সবার সামনে একটু আলাদা করে...
13/10/2024

ভালো লেখক হওয়ার সাতটি টিপস🔲

আপনি হয়তো প্রতিদিনই লেখালেখি করেন, কিন্তু আপনি কি নিজের লেখা গদ্যকে সবার সামনে একটু আলাদা করে তুলে ধরতে চান? এটার কোনো গ্যারান্টি নেই যে আপনি পরবর্তী ম্যান বুকার বা পুলিৎজার পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন কিংবা পরবর্তী চিমামান্ডা নগোজি অ্যাডিচে বা এমিলি ব্রন্টি হতে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি যদি একজন ভালো লেখক হতে চান তাহলে আপনাকে কিছু নির্দেশনা মানতেই হবে। দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীর ভাষা গুরু হিসেবে পরিচিত লেন গ্রিন, যিনি সাবেক আর্টস সম্পাদক এবং কলামিস্ট, তিনি ভালো লেখক হওয়ার সাতটি টিপস দিয়েছেন।

🔲উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু করুন

আপনি যে বিষয়ে যুক্তি দিতে চান বা যে বিষয়টি নিয়ে গল্পটি বলতে চান তার মোদ্দা কথাটি আপাতত ভুলে যান। শুরু করুন কোনো একটি বর্ণনা বা উদাহরণ দিয়ে, যা পাঠককে আপনার লেখা পড়তে সঠিক মেজাজটি এনে দেবে। 'অনেক বছর পর, যখন তাকে ফা*য়ারিং স্কো*য়াডের মুখে পড়তে হলো...' এভাবে নিজের বিখ্যাত রচনা 'ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড' বা 'নিঃসঙ্গতার একশ বছর' শুরু করেছিলেন লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। ফা*য়ারিং স্কো*য়াডের মুখে কে রয়েছে এবং কেনই-বা রয়েছে? এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো জিজ্ঞাসা দিয়ে কোনো রচনা শুরু করা সম্ভব নয়।

🔲বাক্য সংক্ষিপ্ত রাখুন

সংক্ষিপ্ত বাক্যে লিখলে তা আসলে পাঠকের মেধাকে ছোট করা বোঝায় না। তবে এটা করাটা অতটা সোজাও নয়। কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোনো স্টাইল নয়, কিন্তু মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য মাত্র। কারণ, এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করে। দীর্ঘ একটি বাক্য, বিশেষ করে যেসব বাক্যে একাধিক অধীনস্থ বাক্যাংশ থাকে, সে ধরনের বাক্য বুঝতে হলে পাঠককে ব্যাকরণের পাশাপাশি মূল বিষয়টিকে মাথায় একসঙ্গে রাখতে হয়। যা অনেক কঠিন এবং পাঠককে আপনার লেখার ব্যাকরণ নিয়ে ব্যস্ত রাখারও কোনো মানে হয় না।

🔲একই সঙ্গে, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের বাক্যও লিখতে হবে

আপনি হয়তো শুনে থাকবেন, 'সবকিছুরই পরিমিতি বোধ থাকা উচিত, এমনকি পরিমিতিরও পরিমিতি বোধ থাকা জরুরি।' যেখানে ছোট ছোট বাক্যে লেখাটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা উচিত, তবে সব ব্যক্যই যদি ছোট লেখা হয় এবং আর কোনো ধরনের বাক্য যদি না থাকে তাহলে তা আপনার লেখায় এক ধরনের কাটা কাটা ভাব অর্থাৎ রসহীন করে তুলবে। এক ধরনের র‍্যাট-টাট-টাট অনুভূতি দেবে পাঠককে, যা হয়তো আপনি বাস্তবে দিতে চাননি এবং এটা পাঠকের জন্য বি*রক্তির কারণও হতে পারে। তাই সব ধরনের বাক্যই লিখতে হবে।

🔲সঠিক শব্দ ব্যবহার করুন

সঠিক শব্দের ব্যবহার পাঠককে দেখা, গন্ধ নেওয়া, স্বাদ নেওয়া কিংবা পায়ের আঙুল দিয়ে স্পর্শ করার মতো অনুভূতি দেয়। এটা পাঠককে এমন কিছু দেয় যা দিয়ে তারা তাদের মনের চোখ দিয়ে এক ধরনের ছবি আঁকে। এই ছবি এবং শব্দ মিলে, আপনার বার্তাকে স্মরণীয় এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে পাঠকের কাছে।

🔲বিমূর্ত শব্দ এড়িয়ে চলুন

বিশেষ করে এগুলোকে মাঝে মাঝে বলা হয়ে থাকে 'মনোনীত করণ' বা আরও ভালো ভাবে বললে- 'জ*ম্বি নাউন বা ভৌ*তিক বিশেষ্য' বলা যায়। এগুলো অনেক বেশি প্রাণহীন শব্দ যেমন- ঘটনা, ফেনোমেনা, স্তর বা পর্যবেক্ষণ। ফেনোমেনা শুনতে আসলে কেমন শোনায়? পর্যবেক্ষণকে কীভাবে অনুভব করা যায়? প্রাতিষ্ঠানিক, আমলাতান্ত্রিক এবং অন্যান্য প্রাচীন লেখার ধরনে এমন শব্দের প্রাচুর্য থাকে। এর পরিবর্তে স্পষ্টভাবে কল্পনা করা যায় এবং নির্দিষ্টভাবে বিষয় বস্তুকে তুলে ধরে এমন শব্দ বাছাই করা উচিত।

🔲নিজের লেখাটি জোরে জোরে পড়ুন

শুধু নিজে নিজে লেখা, পুনরায় লেখা এবং সম্পাদনাই যথেষ্ট নয়, বরং জোরে জোরে পড়ুন। যখন আপনি পড়বেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, লেখার সময় আসলে আপনি কোন ধরনের শব্দটি ভুলে গেছেন বা মিস করেছেন। যদি এটা বলতে কষ্ট হয়, তাহলে এটা পড়তেও ক*ষ্ট হবে। এ ছাড়া কোথায় ছন্দপ*তন হয়েছে সেটিও আপনি সহজেই ধরে ফেলতে পারবেন।

🔲দৃঢ়ভাবে শেষ করুন

শেষের জন্য আপনার জানা সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ বা বাক্য গুচ্ছ ব্যবহার করুন। আপনি কোন ধরনের শব্দ বাছাই করছেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। এমনকি শক্তিশালী বা জোর রয়েছে এমন সিলেবল দিয়ে শেষ করার চেষ্টা করুন। শেষের শব্দগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের কথা শুনে বিশ্বাস না করলেও আইরিন নেমিরভস্কির কথা তো নিশ্চয়ই এড়িয়ে যেতে পারবেন না। নিজের রচনা স্যুট ফ্রেঞ্চাইজিতে তিনিও একই কথা বলেছেন।

সূত্র: বিবিসি

প্রকৃতি ও জীবনের সম্পর্ক: সাহিত্যে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি🦩🔲সাহিত্য সবসময়ই প্রকৃতি এবং প্রাণিজগতের নানা উপাদানের দ্বারা স...
12/10/2024

প্রকৃতি ও জীবনের সম্পর্ক: সাহিত্যে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি🦩🔲

সাহিত্য সবসময়ই প্রকৃতি এবং প্রাণিজগতের নানা উপাদানের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে পরিযায়ী পাখি একটি বিশেষ স্থান দ*খল করে আছে, যা মানুষ এবং প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক, বি*চ্ছেদ ও প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরিযায়ী পাখিরা ঋতুবৈচিত্র্যের সাথে সাথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে, যা সাহিত্যে যাত্রা, পরিবর্তন, হারিয়ে যাওয়া এবং ফিরে আসার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। তাদের নিয়ে লেখকদের রচনা প্রায়শই মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনা হিসেবে এসেছে। আজ বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবসে চলুন জেনে নিই এমনই কিছু সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে।

🔲১. ভ্রমণ এবং পরিবর্তন

সাহিত্যে পরিযায়ী পাখি ভ্রমণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মানুষের জীবনে যেমন পরিবর্তন ও ভ্রমণ অবশ্যম্ভাবী, তেমনি পরিযায়ী পাখিরাও পরিবর্তন এবং অভিযোজনের মাধ্যমে জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। বাংলা সাহিত্যে যেমন জীবনানন্দ দাশের কবিতায় পরিযায়ী পাখির প্রসঙ্গ বিভিন্ন সময়ে এসেছে। "আকাশের কিছু কিছু তারা", "পাখি" ইত্যাদি কবিতায়, পাখিরা নতুন জায়গায় যাত্রার মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা সংগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের যাত্রা মানুষের জীবনের পথচলার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে দেখানো হয়েছে। পরিযায়ী পাখির আবেগময় প্রতীক প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যুক্তি ও অনুভূতির মেলবন্ধন ঘটায়। জীবনানন্দ দাশের "আকাশে হেলান দিয়ে" কবিতায় আকাশে উড়ে চলা পাখি যেন একটি মুক্তির প্রতীক, যা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে অসীমের পথে যাত্রা করে।

🔲২. পরিযায়ী পাখি: বি*চ্ছেদের প্রতীক

পরিযায়ী পাখিরা নির্দিষ্ট ঋতুতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাত্রা করে, যা সাহিত্যে মানুষে মানুষের বি*চ্ছেদ এবং ভিন্নতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনেক কবিতায় পরিযায়ী পাখিকে প্রবাসের কিংবা প্রিয়জনের দূ*রত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। তাঁর "বিপ্রতীপে" কবিতায় পরিযায়ী পাখির উল্লেখ দেখা যায়, যেখানে প্রবাসী এবং স্থানচ্যুত মানুষের ক*ষ্ট তুলে ধরা হয়েছে। পাখির যাত্রা বি*চ্ছেদকে বোঝায়, কিন্তু তা একদিন শেষ হয় এবং পাখিরা ফিরে আসে, যা প্রত্যাবর্তনের আশা জাগায়। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "দুই পক্ষী দুই তীর" কবিতায় আমরা পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে জীবনের চলমানতা ও পরিবর্তনের কথা পাই। পাখির স্থানান্তর যেন মানুষের অন্তর্নিহিত যাত্রার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

🔲৩. প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্মিলন

পরিযায়ী পাখির যাত্রা যেমন ঋতুবৈচিত্র্যের সাথে তাদের ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি বহন করে, তেমনি সাহিত্যে তারা পুনর্মিলন এবং পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই পাখিদের ফিরে আসা জীবনে নতুন সূচনার প্রতীকও হতে পারে। যেমন, হিন্দি সাহিত্যে অমৃতা প্রীতমের অনেক লেখায় প্রত্যাবর্তন ও পুনর্মিলনের প্রতীক হিসেবে পাখির উল্লেখ দেখা যায়।

🔲৪. মানব সম্পর্ক এবং স্মৃতিচারণা

মানবজীবনের নানা পর্যায়ে পরিযায়ী পাখির মত কিছু সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা একসময় দূরে চলে যায়, আবার কখনও তা ফিরে আসে। বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যে পরিযায়ী পাখির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ ধরনের স্মৃতিচারণা এবং মানসিক ভ্রমণ। যেমন, শার্ল বোদলের "ল আলবাত্রস" কবিতায়, পরিযায়ী পাখি মানুষের নিঃসঙ্গতা এবং তার অভিজ্ঞতার গভীরতা প্রতিফলিত করে।

🔲৫. প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক

পরিযায়ী পাখি শুধু কাব্যিক উপমা নয়, তারা পরিবেশ এবং প্রকৃতির সংযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তারা ঋতুচক্রের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। যেমন নরওয়েজিয়ান লেখক হেনরিক ইবসেনের নাটকে প্রকৃতির নানা উপাদান, বিশেষত পরিযায়ী পাখির ইঙ্গিত দিয়ে মানবজীবনের ঋতুচক্র বোঝানো হয়।

🔲উপসংহার

পরিযায়ী পাখির প্রসঙ্গ সাহিত্যে মানবজীবনের যাত্রা, বি*চ্ছেদ, পরিবর্তন, এবং প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কবিতা, উপন্যাস বা নাটকে পরিযায়ী পাখি প্রায়শই একটি প্রতীকী উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা মানুষের জীবনের প্রকৃতি ও তার অনুভূতির বহুমুখী দিকগুলোকে তুলে ধরে।

নোবেল জয়ী হান কাংয়ের লেখাঃ 'আমার রমণীর ফল'🔲তখন মে মাসের শেষদিক, যখন আমার স্ত্রীর শরীরের জ*খমণ্ডলো প্রথম খেয়াল করি। এমন ...
12/10/2024

নোবেল জয়ী হান কাংয়ের লেখাঃ 'আমার রমণীর ফল'🔲

তখন মে মাসের শেষদিক, যখন আমার স্ত্রীর শরীরের জ*খমণ্ডলো প্রথম খেয়াল করি। এমন একদিন যখন দারোয়ানের দপ্তরের পাশের বাগিচার লাইল্যাকগুলো ছি*ন্ন জি*হ্বার মতো ল*কলক করে পাপড়ি ছড়াচ্ছিল এবং পথচারীর জুতা মাড়িয়ে যাচ্ছিল সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারের প্রবেশপথের পাকা ফলকগুলোর ওপর পচে যাওয়া সাদা ফুলের আচ্ছাদন।

সূর্য তখন একদম প্রায় মাথার ওপরে। পাকা পিচের মাং*সের রঙের সূর্যালোক গলগল করে ঢুকে পড়ছিল লিভিং রুমের মেঝেতে, ঝেড়ে দিচ্ছিল অগুনতি ধুলা পরাগের কণা। ও সেই অ*সুখ-মিষ্টি, কুসুম গরম সূর্যের আলো আমার সাদা গেঞ্জির পিঠের ওপর দিয়ে বয়ে গেল, যখন আমি ও আমার স্ত্রী রোববার সকালের খবরের কাগজটার পাতা ওল্টাচ্ছিলাম।

গত সপ্তাহটা সেই একই ক্লা*ন্তির রেশ ধরে রেখেছিল, যা বিগত বহু মাস ধরে আমি অনুভব করে আসছি। ছুটির দিনগুলোতে নিজেকে আমি একটু বেশি ঘুমিয়ে থাকতে দিই, আর ঘুম থেকে উঠেছি তখনও কয়েক মিনিট হয়েছে কেবল। বিছানায় নিজের দিকে শুয়ে তখনও আমার অলস প্রত্যঙ্গগুলো একটা স্বস্তিকর জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম। যতটা ধীরে সম্ভব খবরের কাগজের পাতা ওল্টাচ্ছিলাম।

"একটু দেখবে? বুঝতে পারছি না দাগগুলো এখনও মিলিয়ে যাচ্ছে না কেন।" ওর কথাগুলোর অর্থ বোঝার চেষ্টা করার বদলে আমি সে গুলোকে আমার নীরবতার মসৃণ চাদরের ওপর নিছক ঝামেলা হিসেবেই গ্রহণ করলাম। আনমনা হয়ে ওর দিকে একবার মুখ তুলে তাকালাম।

চট করে সোজা হয়ে বসলাম। আঙুল দিয়ে তখনও খবরের কাগজে কী পড়ছিলাম, তা ধরে রেখে এক হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছলাম। আমার স্ত্রী ব্রা অবধি গেঞ্জিটা তুলে রেখেছিল; পিঠ থেকে পেট পর্যন্ত গভীর ঘা ফুটে ছিল।

"এটা কীভাবে হলো?"

যতটুকু মুচড়ে বসলে আমি ওর মেরুদন্ডটাকে ওর প্লিটেড স্কার্টের চেইন পর্যন্ত সারি বেয়ে উঠে যেতে দেখতে পাব, ততটুকু সরে বসল। একটা নবজাতকের মুষ্টির সমান আবছা নীল ঘা, এত স্পষ্ট যে মনে হয় কালি দিয়ে ছাপানো হয়েছে। "কী? কীভাবে হলো এসব?" আমার তী*ক্ষ্ণ, জোরালো কণ্ঠে আমাদের আঠারো পিয়োংয়ের ফ্ল্যাটের শান্ত পরিবেশটা ভেঙে গেল । "আমি ঠিক জানি না, ভেবেছিলাম বেখেয়ালে কোনখানে ধা*ক্কা খেয়েছি হয়তো, কয়দিন পর এমনিতেই দাগগুলো চলে যাবে, কিন্তু এখন দেখছি আরও বাড়ছে।” আমার স্ত্রী আমার নজর এড়িয়ে যাচ্ছিল, কোনো অ*পরাধী বাচ্চার মতো। বকার মতো দেওয়াতে একটু খারাপ লাগল আমার চেষ্টা, করলাম আরেকটু কোমল স্বরে কথা বলতে।

"ব্যথা হচ্ছে না?" "না, একদমই না। বরং জ*খমণ্ডলো যেখানে, সেখানে কোনো অনুভূতিই টের পাচ্ছি না। কিন্তু বুঝছোই তো, সেটা তো আরও বেশি চিন্তার বিষয়।"

একটু আগে ওর মুখে যে অ*পরাধী ভাবটা লক্ষ্য করছিলাম, সেটা কোনো চিহ্ন না রেখেই মিলিয়ে গেল। তার বদলে সেখানে দেখা গেল একটা মৃদু, বেখাপ্পা হাসি। আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, ওর হাসপাতালে যাওয়া দরকার কিনা, আর তখনও সেই হাসিটা ওর ঠোঁটের ওপর খেলা করছিল।

পুরো ঘটনাটা থেকে হঠাৎ নিজেকে খুব বিচ্ছিন্ন মনে হলো। আমার স্ত্রীর মুখটা আমি একটা ঠান্ডা, নির্লিপ্ত নজরে পর্যবেক্ষণ করলাম। যে মুখটার সামনে নিজেকে আবিষ্কার করলাম, সেটা খুব অপরিচিত মনে হলো। অপরিচিত, এমনকি প্রায় অবাস্তব মনে হলো; এ রকমটা তো কেউই আশা করে না, বিশেষত চার বছর এক ছাদের নিচে থাকার পর। আমার স্ত্রী আমার চেয়ে তিন বছরের ছোট। সে বছর উনত্রিশ বছরে পা দিয়েছিল। একসঙ্গে যখন বের হতাম, তখন ওর মুখের কারণে ওকে এত ছোট দেখাত যে ব্যাপারটা প্রায় বি*রক্তিকর ছিল। বিয়ের আগে প্রায়ই ওকে দেখে লোকজন স্কুলপড়ুয়া ভেবে ভুল করত। এখন সেই মুখে ক্লা*ন্তির স্পষ্ট ছাপ, যা তার আয়তচক্ষু মুখের নিষ্পাপতায় একটা আকস্মিক ছেদ টানে। এখন আর কেউ ওকে দেখে স্কুলপড়ুয়া ভেবে ভুল করবে না, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ভাবারও কথা না। এখন বরং ওকে দেখতে ওর আসল বয়সের চেয়ে বেশি বয়স্ক মনে হয়। কাঁচাপাকা আপেলের মতো ওর সেই গাল, যেখানে লালের আভা একটু একটু করে ফুটত, সেটা এখন দেখতে লাগে চুপসানো, ভচকানো কাদার মতো। যে কোমর একসময় মিষ্টি আলুর চারার মতো কোমল ও নরম ছিল, যে কোমরে একসময় চমৎকার ঢেউ খেলত, তা এখন করুণভাবে সমতল।

শেষ ঠিক কবে নিজের স্ত্রীকে ন*গ্ন দেখেছিলাম, ঠিক মনে করতে পারছিলাম না, আর তখনও ওকে দেখার মতো যথেষ্ট আলো ছিল। সে বছর তো দেখিইনি, তা নিশ্চিত; তার আগের বছরও দেখেছি কিনা তাও নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।

যেই একজনের সঙ্গে আমি এক ঘরে থাকি, তার শরীরের এত গভীর ক্ষতগুলো কীভাবে আমার নজরে না পড়ে পারল? আমার স্ত্রীর চোখের কোণের উজ্জ্বল বলিরেখাগুলো গোনার চেষ্টা করলাম আমি। তারপর ওকে বললাম, সব কাপড় খুলে ফেলতে। ওর গালের হাড়ের রেখা বেয়ে একটা লাল আভা ফুটে উঠল, ওজন কমে যাওয়ার কারণে হাড়গুলো আরও অনেক তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছিল। ও আপত্তি করার চেষ্টা করল।

"কেউ দেখে ফেললে?" অন্য বেশির ভাগ ফ্ল্যাটই যেখানে কোনো বাগান কিংবা কার পার্কিংয়ের দিকে মুখিয়ে থাকে, সেখানে আমাদের বাড়ির বারান্দাটা ছিল পূর্বদিকের মেইন রোডের দিকে মুখ করা। সবচেয়ে কাছের অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক থেকে তিন রাস্তা দূরে থাকায় এটা মূল রাস্তা ও চুংচাং নদী উভয় দ্বারা বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে খুব শ*ক্তিশালী টেলিস্কোপ ছাড়া কারও পক্ষেই আমাদের দেখা সম্ভব ছিল না। এবং এত গতিতে চলে যাওয়া গাড়িগুলোর ভেতর থেকে কেউ আমাদের লিভিং রুমের মধ্যে দেখে ফেলবে, সেই সম্ভাবনাও নিশ্চয়ই ছিল না। ফলে আমার স্ত্রীর আপত্তিটাকে আমি ল*জ্জা হিসেবেই দেখলাম।

নতুন নতুন যখন বিয়ে হয়, তখন ছুটির দিনগুলোতে এই একই লিভিং রুমে, বারান্দার এই কাচের দরজা ও আগস্টের প্র*চণ্ড উ*ত্তাপ সামলানোর জন্য এর পাশে র জানালাটা একদম মেলে রেখেই আমরা দিনের মধ্যবেলায় বারবার মিলিত হতাম। আনাড়ির মতো হাতড়ে বেড়াতাম একে অপরকে, যা আমাদের কাছে খুব নতুন ছিল। তারপর একসময়, অনিবার্যভাবে, একটা ক্লা*ন্তির ভারে আমরা দেবে গেলাম।

এক বছরের মতো পার হয়ে যাওয়ার পর আমরা আর একে অপরের ভালোবাসার প্রতি অতটা অনভ্যস্ত রইলাম না, আর প্রথমদিককার সেই উ*ত্তেজনা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। আমার স্ত্রী খুব তাড়াতাড়ি বিছানায় চলে যেতে শুরু করল, আর সাধারণত ওর ঘুম খুব গভীর হয়। আমার যদি বাসায় ফিরতে দেরি হতো, তাহলে ধরেই নিতে হতো যে ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। সদর দরজার তালায় চাবিটা মুড়িয়ে যখন ফ্ল্যাটের ভেতর ঢুকতাম, একদম একা, স্বাগত জানানোর কেউ নেই, তখন সে অবস্থায়ই হাত-মুখ ধুয়ে নিয়ে অ*ন্ধকার বেডরুমে ঢুকে দেখতাম ওর নিতান্ত নিঃশ্বাসের ছন্দও আমাকে অ*বর্ণনীয়ভাবে নিঃস*ঙ্গ করে ফেলছে। মুছে নেওয়ার জন্য, তখন ওর আধখোলা, ঘুমে-ঢাকা চোখ দেখে বিন্দুমাত্র বুঝতে পারতাম না ও কি আমার এই আলিঙ্গন প্র*ত্যাখ্যান করছে, নাকি উ*ষ্ণতার সাথে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ও কেবল আমার চুলের মধ্য দিয়ে নীরব আঙুল বুলিয়ে দিত, যতক্ষণ না আমার শরীরের সব নড়াচড়া থেমে যেত।

"সবটুকু? তুমি চাও আমি সবটুকু খুলে ফেলি?"

ওর কুঁ*চকানো মুখটা কান্নার গমক আটকে রাখতে পারছিল না। আমার স্ত্রী এই মাত্র খুলে ফেলা অ*ন্তর্বাসটা ভাঁজ করে একটা বল বানিয়ে নিজের যো*নিদেশ ঢাকল।

এই তো তখন ওর ন*গ্ন শরীর, বসন্তের সূর্যালোকের নিচে পুরোপুরি প্রকাশিত। সত্যিই বহুদিন হয়ে গিয়েছিল। অথচ তখনও আমি ন্যূনতম কা*মনা অনুভব করতে পারলাম না।

শুধু ওর পা*ছাই না, ওর পাঁজর আর হাঁটুর নিচ অবধি হলদে-সবুজ জ*খমণ্ডলো, যা এমনকি উ*রুর মধ্যিখানটাতেও দা*গ ফেলে গেছে, দেখে প্র*চণ্ড এক রাগ আমাকে আঁকড়ে ধরল, আর তারপর একই রকম আচানকভাবে রা*গটা ছেড়ে চলেও গেল, পিছে রেখে গেল একটা অসংগত বি*ষাদ। কেননা এই নারী, যার মন এত সহজেই খেই হারিয়ে ফেলে, ঘুম কি প্রথম সন্ধ্যার দিকে হাঁটতে বের হওয়ার স্মৃতিকেও মিইয়ে দিয়েছে- ঘুমের যবনিকা কি ইতোমধ্যে ভোঁ*তা করে দিয়েছে সব বোধ- যে পা হ*ড়কে গেল একটা ধীরগতি গাড়ির তলে, কিংবা হয়তো আমাদের ই বাড়ির নিভু-আলোর ইমা*র্জেন্সি সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গেল নিচে? আমার স্ত্রীর এই অবয়ব, এইখানে নিজের যো*নিদেশ রক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছে, পিঠ বসন্তের রোদ, আনমনা হয়ে জিজ্ঞেস করছে ওর হাসপাতালে যাওয়া উচিত হবে কিনা, কী যে দীন, বেচারা, দুঃ*খী এই মহিলা যে কোনো শব্দই যথেষ্ট হবে না ওর জন্য। ফলে এমন এক দুঃ*খ আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, যা বহুকাল ধরে অনুভব করিনি। কেবল ওর শী*র্ণ শরীরটা নিজের শরীরে আঁকড়ে ধরে বসে থাকলাম আমি।

বাংলা অনুবাদ: মাহীন হক
(টিকা: 'আমার রমণীর ফল' নামীয় গল্পের প্রথম অধ্যায়। ইংরেজি নাম 'My Woman's Fruit'। কোরীয় থেকে ইংরেজি করেছেন দেবোরাহ স্মিথ)

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ: সমাজ ও মননের প্রতিচ্ছবি🔲সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৫ আগস্ট ১৯২২ - ১০ অক্টোবর ১৯৭১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি...
12/10/2024

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ: সমাজ ও মননের প্রতিচ্ছবি🔲

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৫ আগস্ট ১৯২২ - ১০ অক্টোবর ১৯৭১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক, যিনি বাংলা সাহিত্যকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও আধুনিক মনোভাবের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। তার সাহিত্যকর্মে গ্রামবাংলার জীবন, মানুষের অ*ন্তর্দ্ব*ন্দ্ব, অ*স্তিত্ববাদ, ও সমাজ-বাস্তবতা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান লক্ষ্য করা যায়। তাঁর সাহিত্যকর্মে মানুষ এবং সমাজের জ*টিল সম্পর্ক, নৈতিক এবং সামাজিক দ্ব*ন্দ্বের পাশাপাশি, মানবিক বোধ এবং ধ*র্মের প্র*ভাব উঠে এসেছে।
চলুন জেনে নিই তাঁর সাহিত্যকর্মের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।

🔲 ১. আধুনিকতার প্র*বল উপস্থিতি:

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার অন্যতম প্রবক্তা। তার লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে অ*স্তিত্ববাদী চেতনা, সমাজ-বাস্তবতা, ও মানুষে-মানুষে সম্পর্কের জ*টিলতা। তিনি আধুনিকতার সংজ্ঞায় মানুষকে বিচ্ছিন্ন, দ্বি*ধাগ্রস্ত, ও অ*স্তিত্ব সং*কটের মুখোমুখি করে তুলেছেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "লালসালু" তে এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টতই ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসে একটি গ্রামীণ সমাজের প্রেক্ষাপটে ধ*র্ম ও কু*সং*স্কারের ছ*লনায় সাধারণ মানুষের মন*স্তাত্ত্বিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

🔲 ২. মানসিক দ্ব*ন্দ্ব ও ব্যক্তিত্বের জ*টিলতা:

ওয়ালীউল্লাহর লেখায় ব্যক্তির অ*ন্তর্দ্ব*ন্দ্ব ও মানসিক সং*কটের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। মানুষের ভেতরের অসহায়ত্ব, সংকট, এবং হ*তাশা তাঁর গল্প ও উপন্যাসগুলোর একটি মূল প্রবণতা। "চাঁদের অমাবস্যা" উপন্যাসে মানুষ এবং প্রকৃতির সম্পর্কের জটিলতা ও মানসিক অবস্থার টা*নাপো*ড়েন অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এ উপন্যাসে প্রধান চরিত্রের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও মানসিক অবস্থার মাধ্যমে তিনি মানুষের অ*স্তিত্ব সং*কটকে তুলে ধরেছেন।

🔲 ৩. প্রতীকি চিত্রায়ণ:

তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রতীক ও চিত্রকল্পের ব্যবহার অত্যন্ত দৃঢ়। ওয়ালীউল্লাহ তাঁর লেখায় বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের গভীর সমস্যা ও মানুষের অ*ন্তর্দ্ব*ন্দ্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন। "লালসালু" উপন্যাসে লালসালু নামক প্রতীকটি ধর্মীয় কু*সং*স্কার ও মানুষে-মানুষে প্র*ভুত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে, "কাঁদো নদী কাঁদো" নামক উপন্যাসে নদীকে জীবনের প্রবাহ ও মানুষের দুঃ*খ-দু*র্দশার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

🔲 ৪. গ্রামীণ জীবন ও সমাজবাস্তবতা:

ওয়ালীউল্লাহর লেখায় গ্রামীণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের জীবন সং*গ্রাম বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বাংলার প্রান্তিক মানুষের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, ও কু*সং*স্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ জীবনের নি*দারুণ ক*ষ্টকে চিত্রিত করেছেন। "লালসালু" তে গ্রামীণ জীবনের গভীরতা ও মানুষের সরলতাকে ধর্মীয় প্র*তারণার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যে তাকে অনন্য করে তুলেছে।

🔲 ৫. ভাষার সহজিয়া ঢঙ ও আঞ্চলিকতার মেলবন্ধন:

ওয়ালীউল্লাহ তাঁর উপন্যাস ও ছোটগল্পগুলোতে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তাঁর লেখার ভাষা সহজ, সাবলীল, এবং সরল হলেও তা গভীর অর্থবহ। আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে তিনি তার চরিত্রগুলোর জীবনবোধ ও সমাজের প্রতি তাদের অবস্থানকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। যেমন, "লালসালু" উপন্যাসে ব্যবহৃত ভাষা ও কাহিনীর বুনন পাঠককে গ্রামীণ জীবনের জটিলতা ও ধর্মীয় কু*সং*স্কারের সাথে সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেয়।

🔲 ৬. অ*স্তিত্ব*বাদী দ*র্শনের প্রভাব:

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লেখায় অ*স্তি*ত্ববাদী দ*র্শনের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। জীবন, মৃ*ত্যু, ও মানুষের অ*স্তিত্ব সম্পর্কে গভীর ভাবনা ও প্রশ্ন তার লেখার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। "চাঁদের অমাবস্যা" তে চরিত্রগুলো তাদের অ*স্তিত্ব ও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে অন্ত*র্দ্ব-ন্দ্বে ভুগছে, যা অ*স্তি*ত্ববাদী ভাবধারার প্রতিফলন।

🔲 ৭. রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনা:

ওয়ালীউল্লাহ তাঁর সাহিত্যকর্মে সামাজিক ও রাজনৈতিক সমালোচনাও করেছেন। তিনি সমাজের কু*সং*স্কার, ধর্মীয় গোঁ*ড়ামি, ও রাজনীতির কু*টিল চ*ক্রান্তের বি*রু*দ্ধে তার সাহিত্যকর্মে তীক্ষ্ণ সমালোচনা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে, "লালসালু" তে তিনি ধ*র্মীয় শঠতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে কিভাবে শো*ষণ চলে, তা দেখিয়েছেন।

🔲 ৮. মৃ*ত্যুচেতনা ও দার্শনিক ভাবনা:

তার বেশ কিছু সাহিত্যকর্মে মৃ*ত্যুচেতনা ও দা*র্শনিকতা বড় ভূমিকা পালন করেছে। মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন, তার অ*স্তিত্বের সীমাবদ্ধতা, এবং মৃ*ত্যুর সাথে সম্পর্কিত দার্শনিক প্রশ্ন তার লেখার গভীরে প্রোথিত। ওয়ালীউল্লাহ মানুষের জীবনযাত্রার ক্ষণস্থায়িত্ব এবং চিরন্তন পরি*ণতির প্রশ্ন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছেন, যা তাঁর রচনাগুলোতে প্রভাব ফেলেছে।

🔲শেষ কথা:

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বাংলা সাহিত্যে নতুন এক ধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে মানুষের অভ্যন্তরীণ সং*গ্রাম, সমাজের সং*কীর্ণতা, ধ*র্মীয় কু*সং*স্কার, এবং অ*স্তিত্বের সং*কট অত্যন্ত তী*ক্ষ্ণভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি মানুষের ভেতরকার য*ন্ত্রণা, আশা এবং হ*তাশার ছবি এঁকেছেন, যা পাঠককে গভীরভাবে ভাবতে বা*ধ্য করে। তাঁর লেখাগুলোতে আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে বাস্তবতার সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা বাংলা সাহিত্যে তাঁর অনন্য স্থানকে সুদৃঢ় করেছে।

এ বছর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হ্যান কাংয়ের কবিতা🔲
11/10/2024

এ বছর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হ্যান কাংয়ের কবিতা🔲

কাব্যকথায় জীবনগাথা ফুটিয়ে তুলে নোবেল পেলেন হ্যান কাং🔳কাব্যিক রচনায় মানবজীবনের ভ*ঙ্গুরতা ফুটিয়ে তুলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সা...
11/10/2024

কাব্যকথায় জীবনগাথা ফুটিয়ে তুলে নোবেল পেলেন হ্যান কাং🔳

কাব্যিক রচনায় মানবজীবনের ভ*ঙ্গুরতা ফুটিয়ে তুলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাহিত্যিক হ্যান কাং। পাশাপাশি নিজ সাহিত্যকর্মে রূপায়ণ করে চলেছেন ঐতিহাসিক য*ন্ত্রণাদায়ক বিষয়াবলি। অনবদ্য এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন হ্যান কাং।

১০ অক্টোবর এ বছরের সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ১৯০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাহিত্যে ১১৭টি নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। এর মধ্যে চারবার একাধিক লেখক একসঙ্গে নোবেল জিতেছেন। হ্যান কাংসহ এ পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন ১৮ জন নারী।

হ্যান কাং ১৯৭০ সালের ২৭ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে বসবাস করছেন দেশটির রাজধানী সিউলে। ৯ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি এই শহরে আসেন। তাঁর বাবা হ্যান সিউঙ-ওন দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক। লেখালেখির পাশাপাশি হ্যান কাং চিত্রকলা ও সংগীতচর্চাও করেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে এসবের ছাপও স্পষ্ট।

সাহিত্যিক হিসেবে হ্যান কাংয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ কোরীয় সাময়িকী ‘লিটারেচার অ্যান্ড সোসাইটি’তে একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে। ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম ছোটগল্প ‘লাভ অব ইউসু’ (ইউসুর ভালোবাসা) প্রকাশ হয়। এর পরপরই তাঁর বেশ কয়েকটি ছোটগল্প ও উপন্যাস প্রকাশ হয়। এসব উপন্যাসের মধ্যে ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইয়োর কোল্ড হ্যান্ডস’ (তোমার শীতল হাত) অন্যতম। এই উপন্যাসে লেখিকার চিত্রকলায় আগ্রহের ছাপ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হ্যান কাং সাড়া ফেলেন তাঁর ‘দ্য ভেজিটেরিয়ান’ (নিরামিষাশী) উপন্যাসের মাধ্যমে। ২০০৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস মূলত তিনটি খণ্ডে রচিত। এই উপন্যাসের ঘটনাবলি প্রধান চরিত্র ইয়ং-হাইয়ের নিরামিষাশী হয়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। তার আমিষ না খাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি তার স্বামী এবং ক*র্তৃত্ববা*দী বাবা। এমনকি ইংয়-হাইয়ের হাত-পা চেপে ধরে মাং*স খাওয়ানোর চেষ্টা করে তারা। এ সময় স*হিংস ঘটনাও ঘটে। পারিবারিক এই দ্ব*ন্দ্বের সুযোগে ইয়ং-হাইকে যৌ*ন হয়*রানি করে তার ভগ্নিপতি। একপর্যায়ে মা*নসিকভাবে অ*সুস্থ হয়ে পড়ে ইয়ং-হাই। তাকে মান*সিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ইয়ং-হাইয়ের বোন প্রাণপ*ণ চেষ্টা করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার। কিন্তু ইয়ং-হাই কল্পরাজ্যের আরও অতলে ডু*বে যায়। উদ্ভিদময় সেই রাজ্য একদিকে যেমন আকর্ষণীয়, ঠিক তেমনই বিপ*জ্জ*নকও। এই উপন্যাসকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সালে ‘ভেজিটেরিয়ান’ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। উপন্যাসটি ২০১৬ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার পায়।

বন্ধুত্ব আর শিল্পকলাকে উপজীব্য করে হ্যান কাংয়ের রচিত ‘দ্য উইন্ড ব্লোজ’ (বাতাস বয়ে যায়) উপন্যাসও বেশ আলোচিত। এটি প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এ ছাড়া তাঁর ‘গ্রিক লেসনস’, ‘হিউম্যান অ্যাক্টস’ ‘দ্য হোয়াইট বুক’, ‘উই ডু নট পার্ট’ও বেশ আলোচিত সাহিত্যকর্ম। হ্যান কাংয়ের ‘বেবি বুদ্ধা’ উপন্যাসিকা অবলম্বনে ২০১১ সালে নির্মিত হয়েছে ‘স্কার্স’ চলচ্চিত্র। তাঁর সাহিত্যকর্মগুলো ইংরেজি, সুইডিশ, জার্মানসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

র*হস্যের জট খুলতে আসা নতুন আগন্তুক - কেইগো হিগাশিনোর ‘নিউকামার’🔲কেইগো হিগাশিনো একজন প্রখ্যাত জাপানি রহ*স্য সাহিত্যিক, যি...
10/10/2024

র*হস্যের জট খুলতে আসা নতুন আগন্তুক - কেইগো হিগাশিনোর ‘নিউকামার’🔲

কেইগো হিগাশিনো একজন প্রখ্যাত জাপানি রহ*স্য সাহিত্যিক, যিনি বিশ্বজুড়ে তাঁর আকর্ষণীয় গল্পকাঠামো এবং জটিল চরিত্রায়নের জন্য প্রসিদ্ধ। তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস 'Newcomer' বা 'Nyūkamā', যা ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, একটি চমৎকার গো*য়েন্দা উপন্যাস। এই উপন্যাসের মূল চরিত্র কাগা কেওইচিরো, এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ গো*য়েন্দা, যিনি টোকিওর নিহনবাশি এলাকায় সদ্য বদলি হয়ে আসেন, আর তারপর একটি র*হস্যময় হ*ত্যাকা*ণ্ডের সমাধান করার দায়িত্ব পান।

🔲উপন্যাসের কাহিনী:

'Newcomer' উপন্যাসের মূল কাহিনী ঘিরে রয়েছে একজন মহিলার হ*ত্যা*কাণ্ড, যার ম*রদে*হ টোকিওর একটি শান্তিপূর্ণ এলাকার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া যায়। সদ্য বদলি হয়ে আসা কাগা এই হ*ত্যাকা*ণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব পান। এলাকাটিতে নতুন হওয়া সত্ত্বেও তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন যে এলাকাবাসীর প্রত্যেকের জীবনের সঙ্গে এই হ*ত্যা*কা*ণ্ডের কোনও না কোনও সম্পর্ক রয়েছে।

কাহিনীর মূল আকর্ষণ হলো কাগার ধীর এবং বিস্তারিত তদন্ত, যেখানে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করেন। উপন্যাসটি মূলত আলাদা আলাদা অধ্যায়ে বিভক্ত, যেখানে প্রত্যেক অধ্যায়ে কাগার বিভিন্ন স*ন্দেহভাজনের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার বর্ণনা করা হয়েছে। স*ন্দেহভাজনদের ছোট ছোট মি*থ্যা বা লু*কানো তথ্যগুলো নিয়ে কাগা একটি বড় চিত্র নির্মাণ করেন, যা ধীরে ধীরে তাকে হ*ত্যা*কারীর কাছে নিয়ে যায়।

🔲গোয়েন্দা কাগার চরিত্রায়ণ:

কাগা কিয়োইচিরো একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ গো*য়েন্দা। তবে অন্যান্য গো*য়েন্দা উপন্যাসের নায়কদের মত তিনি শীতল বা নিঃসঙ্গ নন। বরং তিনি খুবই কৌশলী ও মানবিক, এবং তার প্রত্যেকটি তদন্তে স্থানীয়দের সঙ্গে তার আন্তরিক যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপন্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কাগার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা পাঠকদের কাছে তাকে একটি বাস্তব ও প্রিয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে।

🔲থিম ও প্রেক্ষাপট:

উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর প্রেক্ষাপট। টোকিওর ছোট্ট এবং শান্তিপূর্ণ এলাকার চিত্রায়ণ হিগাশিনোর দক্ষতার প্রমাণ দেয়। তিনি এলাকার জীবনের খুঁটিনাটি, প্রতিবেশীদের সম্পর্ক, এবং তাদের লুকানো ইচ্ছা ও দ্বন্দ্বগুলো তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। এই উপন্যাসে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষ তার ছোট ছোট কর্মকাণ্ড বা ইচ্ছাগুলো লুকিয়ে রাখতে চায়, যা পরবর্তীতে বিশাল র*হস্যের জন্ম দেয়।

🔲চরিত্র বিশ্লেষণ:

হিগাশিনো চরিত্রচিত্রণ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তাঁর দক্ষতা দিয়ে পাঠককে একের পর এক মোচড়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যান। পাশাপাশি, গল্পে নিহনবাশি এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছোঁয়া গল্পটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। কাগার বুদ্ধিমত্তা, সহানুভূতি এবং বিচারবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চরিত্রটি পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। Newcomer শুধু একটি র*হস্য গল্প নয়, বরং মানুষের মনস্তত্ত্বের এক চমৎকার অন্বেষণ। উপন্যাসটি ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়, এবং পাঠকরা কাগার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে অংশ নিতে পারেন। কেইগো হিগাশিনো এই উপন্যাসের মাধ্যমে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি সাধারণ হ*ত্যাকা*ণ্ড একটি এলাকার সমাজের গভীরতর সমস্যাগুলোর ওপর আলোকপাত করতে পারে।

এই উপন্যাসটি র*হস্যপ্রেমীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। এটি শুধু একটি চমকপ্রদ র*হস্যই নয়, বরং এটি পাঠকদের প্রতিটি চরিত্রের জীবন সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে বা*ধ্য করে।


Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ListenLit Audiobook posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to ListenLit Audiobook:

Share