30/04/2025
আপোষহীন চার নেতাঃ-
🔰১. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহঃ-
ঢাকার নবাব হিসেবে তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল মহল্লায় মহল্লায় নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন। ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জমি দান করেন। কিন্তু কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারা তো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা"
বিপরীতে তার দানকৃত ৬০০ একর জমির উপর আজকের
📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
📌 ঢাকা মেডিকেল কলেজ,
📌 বুয়েট
📌সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা (আজিমপুর) সহ বহু স্থাপনা। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালিত হলেও স্যার সলিমুল্লাহকে তেমনভাবে স্মরনও করা হয় না।
নবাব সলিমুল্লাহ যিনি সর্বপ্রথম পানীয় জল, বিদ্যুৎ (আহসান মঞ্জিলে) এবং টেলিফোন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আধুনিক ঢাকার জন্ম দেন। যার সুফল আমরা বর্তমানে ভোগ করছি।
🔰২. শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকঃ-
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী । ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে 'শের-ই-বঙ্গাল' অর্থাৎ "বাংলার বাঘ" উপাধি দেয়। তিনি বলেন, "যখন দেখবে কলকাতার দাদারা আমার প্রশংসা করছে, তখন বুঝে নেবে যে আমি আমার দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছি।"
এখন ভাবুন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা থাকতে দাদারা আমাদের প্রচুর প্রশংসা করতেন। ২-৩ দিনের ব্যবধানে ডক্টর ইউনুস আসায় তারা আমাদের সম্পর্কে অপপ্রচার চালানো শুরু করে দিলেন৷ এর মানে আমরা সঠিক পথেই আগাচ্ছি!
🔰৩. মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীঃ-
তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা। তিনি পঞ্চাশের দশকেই অনুধাবন করেছিলেন যে, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের “ওয়ালাইকুম আসসালাম” বলে পরিচিতি লাভ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা অপরিসীম।মাওলানা ভাসানী বলেছিলেন, " আসাম আমার, পশ্চিমবঙ্গ আমার ত্রিপুরাও আমার। এগুলো ভারতের কবল থেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানচিত্র পূর্ণতা পাবে না।" মওলানা সাহেব আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের চির শত্রু, এই কথাটা যে প্রজন্ম বুঝতে পারবে তারাই এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।"
🔰৪. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীঃ- গণতন্ত্রের মানসপুত্র খ্যাত সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বাঙালি রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের ৫ম প্রধানমন্ত্রী।
আপোষহীন এই নেতাকে ভারতে একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে দেখা হয় এবং সরাসরি কলকাতা দাঙ্গার জন্য তাকে দায়ী করে পশ্চিমবঙ্গে তাঁকে "বাংলার কসাই" নামে অবহিত করা হয়। অথচ তিনি রাজনীতিতে কখনোই সহিংসতার পথ বেছে নেন নাই।
🔰ওনাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে বুঝতে হবে- ভারত বাংলাদেশের চির শত্রু, যারা নিজ স্বার্থের কারণে বন্ধু রূপে আমাদের পক্ষ নিয়েছে। অথচ তারা কখনোই বাংলাদেশের ভালো চায় না। ভারত বাংলাদেশের জন্য ই/স/রা/য়ে/ল। বর্তমানে যেটা আরও স্পষ্ট।