04/09/2026
কুফুরী কতটা ভয়ংকর এইটা জানার সুযোগ হয়েছিল একবার একটা হরোর ওয়েব সিরিজের কাজ পেয়েছিলাম। কনসেপ্ট ছিল জ্বিন এবং ব্ল্যাক ম্যাজিক। যদিও পরে ঐ কাজটা করা হয়েছিল না। পরে গিয়ে শুনতে পারি প্রডিউসার ৫ ই আগস্টের পর পালিয়ে যায় দেশের বাহিরে। সেই আলাপ বাদ থাক।
সেই কাজটার হোম ওয়ার্ক করার জন্য একজন কবিরাজের কাছে যাই। সেই কবিরাজ আমাকে কিছু তাবিজের ভিতরে কাগজ থাকে সেগুলি দেখায়। তার মতে তাবিজ আপনাকে নরমালি রিচুয়াল ছাড়া দিলে সেইটা কাজ করবে না। একটা তাবিজের কাগজ দেখায় সেই কাগজের ছবিতে একজন নারীর সাথে গরীর সহবাস। ঐটা তখনি অ্যাক্টিভ হবে যখন পশুর সাথে ইন্টারকোর্স হবে কোন নারীর। এইটা তাবিজের কাগজ দেখায় যেখানে দুইজন পুরুষ সহবাস করছে এমন ছবি, এইটা অ্যাক্টিভ করতে চাইলে দুইজন পুরুষের সহবাস করতে হবে। আবার কিছু কুফুরী করার জন্য অনেক নারী কবিরাজদের সাথে ইন্টিমেন্ট হয়, তারপর উভয়ের মিলিত হওয়ার পর যে নারী ও পুরুষের সিমেন যে থাকে সেইটা লাগে। রিচুয়াল গুলির মধ্যে এই তিনটায় একটু শালীন। তাই বাকি গুলির দিকে গেলাম না। আমি তাকে বলি যে নারীরা আসলেই করে কুফুরী? তারা আসলেই ইন্টারকোর্স করে?
সে উত্তর দেয়, "কিছু নারীর মাঝে জেদ এবং ক্ষতি করার ইচ্ছা এত প্রবল যে তারা এইসব করে।"
উনার থেকে জানতে পারি যে কি কি টাইপের কুফুরী করা যায়।
১। নারীর সন্তান হওয়া বা পিরিয়ড থামিয়ে দেওয়া।
২। কুফুরী করে কোন পুরুষকে সমকামী বানিয়ে দেওয়া সম্ভব।
৩। কুফুরী করে কোন পুরুষের যৌনক্ষমতা নস্ট করে দেওয়া সম্ভব। সেইটা সাময়িক আবার চিরস্থায়ী। আবার কুফুরী করে একটা পুরুষকে নারীতে রুপান্তর করা সম্ভব।
৪। স্বামী ও স্ত্রীর বিচ্ছেদ।
৫। অনেক অভিভাবক যায় তাদের সন্তানরা যেন তাদের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সহ্য করতে না পারে এর জন্য।
৬। আবার অনেকে যায় তালাক করানোর জন্য।
৭। কুফুরী করে একজন মানুষকে লিভারের রোগে মেরে ফেলা সম্ভব। এইটাকে বলে তারা বান। বান করে মারবে কিন্তু সবাই ভাববে পেটের বা লিভারের সমস্যার কারণে মারা গিয়েছে।
৮। এইটা করে যুবসমাজের ছেলে বা মেয়েরা। কাউকে ভালবাসায় পাগল করার জন্য। ছেলেটা বা মেয়েটা ছট ফট করবে একটা পারসনকে পাওয়ার জন্য।
৯। কারোর রিযিক বন্ধ করে ফেলা যায়।
১০। স্বামীকে বা স্ত্রীকে বশে রাখার জন্য।
১১। পরিবারের মানুষদের মধ্যে ঝগড়া বা অশান্তি লাগিয়ে ফেলা যায়। এইটা কিভাবে করে আমি জিজ্ঞাসা করি। সে উত্তর দেয় যে চার রাস্তার মোড়ে এবং তিন রাস্তার মোড়ে তাবিজ গেড়ে আসতে হয়। সেই তাবিজ অ্যাক্টিভ হয়ে যায়। সেই তাবিজে যাদের মাঝে অশান্তি লেগে যাবে সবার নাম উল্লেখ করতে হয়। এই প্রকারের তাবিজ গুলি অ্যাক্টিভ করার নিয়ম হলো কোনটা মাছে সাথে বাঁধতে হয়, কোনটা পাখির সাথে আবার কোন গাছে ঝুলিয়ে দিতে হয়। কোন কুফুরির জন্য আগুন লাগে আবার কোন কুফুরীর জন্য লাগে পানি।
এই লোক মিরপুরের ওখানে থাকে। তার বাসায় আমি দেখেছিলাম একদম অশিক্ষিত থেকে শুরু করে দামি গাড়িতে করে নামছে আধুনিক নারীদের। আবার দেখতাম উচ্চশিক্ষিত থেকে শুরু করে একদম ভ্যান চালকের টাইপের পুরুষ। সেই ওয়েব সিরিজের প্রজেক্টটা যদি হতো আমি আরো অনেক প্রশ্ন পরে গিয়ে হয়তো জিজ্ঞাসা করতাম সেই লোককে। আমি জানি না সেই লোক ফ্রড ছিল নাকি সত্যি বলছিল। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এইসব বিশ্বাস করি কারণ বিশ্বাস না করলে ইমান থাকবে না। কিন্তু মনে আমার সংশয় রয়ে গিয়েছে। যেটাই হোক, লোকেরা কি রকম জঘণ্য রিচুয়ালের সামিল হয় তাদের এইসব কাজের জন্য।
এহ আরেকটা ঘটনা মনে পরে গেল। আন্ডারওয়াল্ড নিয়ে গল্প লিখালিখির জন্য ৬ মাস আন্ডারওয়াল্ডের মানুষদের সাথে বিচরণ করা হয়েছিল। সেইটা নিয়ে অন্য একদিন লিখব। এইটা বেশি ইন্টারেস্টিং। মিরপুরের আন্ডারওয়াল্ডের একদম লোয়ার বটম থেকে একদম আপার বটম সব এক ব্যক্তি আমায় নিজে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল।কিভাবে সব অপারেট হয়। কিভাবে কি করা হয়। আন্ডারওয়াল্ডের সকল প্রসিজিউর, সকল কোড ল্যাংগুয়েজ। পলিটিসিয়ান থেকে শুরু করে প্রশাসন কিভাবে জড়িত। লিখালিখি মজার পেশা অনেক। এর জন্য ই কয়েক হাজার বার ছেড়ে দিব বলেও পরে গিয়ে ছাড়তে পারিনি।