27/04/2026
বড় নেতাদের এমন একটা বক্তব্য থাকে না, যেটা বছরের পর বছর কাউকে হাইলাইট করে? হাসনাত আবদুল্লাহ আজ সংসদ অধিবেশনে সেই বক্তব্যটা দিয়ে ফেললেন।
উনি শুরু করেছেন এভাবে, আবার আমরা আগের সংস্কৃতিতে ফিরে যাচ্ছি। যেখানে প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করলে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে, হুইপের সমালোচনা করলে তুলে নিয়ে আসা হচ্ছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী স্যাটায়ার প্রমোট করেন, সেখানে মত প্রকাশের জন্য এই সংসদ গঠনের পর এখন পর্যন্ত ৯ জনকে তুলে এনেছে সরকারি বাহিনী। আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই৷
এরপর খুবই ক্যাচি কয়েকটা লাইন ইউজ করেছেন হাসনাত। বলেছেন, আওয়ামী আমলেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল, তবে সেটা সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এইখানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাকস্পেস ব্যবহার করতে চাই না।
নারীনারী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় তুলে ধরেছেন। বলেছেন, এখন সিলেক্টিভ নারী বিরোধিতা করা হচ্ছে। পলিটিক্যালি এলিট কাউকে নিয়ে কিছু বললে, সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে এটা নোংরামি। কিন্তু পলিটিক্যালি এলিট নয়, এমন নারীদের স্ল্যাটশেমিং করা হলেও সেটাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
ক্যাম্পাসে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে বলেছেন, আমরা যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম, তখন তৎকালীন সরকারী ছাত্র সংগঠন গেস্টরুম-গণরুম চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ইউজ করত। আবার সেই গেস্টরুম-গণরুম কালচার চালু করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন, ছাত্র রাজনীতির রিয়ালিটি। বলেছেন, আমরা দেখি ক্ষমতাসীন যারা আছে, তারা তাদের সন্তানদের বিদেশে রেখে, নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করে, আর মধ্যবিত্তের সন্তানদের ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে ফেলে ক্ষমতালিপ্স রাজনীতিবিদরা নিজেদের পাটাতন শক্ত করে।
সংষ্কার ইস্যুতে বলেন, জুলাই যো'দ্ধা'দে'র কাছে মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই। আজ যদি ২০০৯-১৪ এর সংসদ হত, তাহলে এখানে উল্লেখ করা সংষ্কারের একটারও বিপক্ষে থাকত না তৎকালীন বিরোধীদল বিএনপি।
সংষ্কার নিয়ে বিএনপির টালবাহানারও কড়া সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন বাতিল করা হলো, বলা হচ্ছে আরো শক্তিশালী করে উপস্থাপন করা হবে। পুলিশ কমিশন বাতিল করা হলো, একই কথা বলে। কিন্তু সত্যি সত্যি যদি সরকারের ওয়েল ইনটেনশন থাকত, তাহলে এগুলো প্রথমে সংসদে পাশ করতো, এরপর সংশোধন করতো।
এরপর বলেছেন, আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান করবো, প্রজন্মের ভাষাকে অনুধাবন করুন। এই সংসদে আমরা যারা আছি, তারা বাংলাদেশের সবথেকে সুবিধাভোগী লোকজন। এখানে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না। এই চেয়ার জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি করে।
এর পরে বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে বলেছেন, আমরা বিভাজনের রাজনতি করলে সেটা থেকে বিএনপি, জামাত বা এনসিপি উপকৃত হবে না। হবে জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি। এজন্য বিভাজনে একটা রেডলাইন থাকা দরকার। সরকার দল থেকে একটা রাজনৈতিক দলকে নির্মূল করার আহ্বান কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনবে না। আমরা পলিসির জায়গা থেকে এগ্রি, ডিসএগ্রি করবো। কিন্তু দমন, পীড়ন, বিনাশ নির্মূলের রাজনীতি আবার চালু করলে কেউ সুবিধা পাবে না।
দারুণ বক্তব্য, এক্সিলেন্ট! ওয়েল রিটেন স্ক্রিপ্ট, সাথে একস্ট্রা অর্ডিনারী ডেলিভারি। ওয়ান অব দ্য বেস্ট!