12/08/2021
আইনস্টাইনের থিওরি অফ রিলেটিভিটি থেকে টাইম ডাইলেশন নিয়ে কিছু মজার তথ্য -
"আপনি যদি কোন মহাকাশযানে আলোর গতির খুব কাছাকাছি স্পিডে এক সপ্তাহ ভ্রমণ করে আসেন তাহলে পৃথিবীতে এসে দেখবেন আপনার সমবয়সী বন্ধু এখন বৃদ্ধ পার হয়ে গেছে অনেক বছর"
কিন্তু অনেক এই বিষয়টা অনেকেই বুঝতে পারছেন না, অনেকে কমেন্টে প্রশ্ন করছেন এক ঘন্টা কিভাবে অনেক বছর হতে পারে। বিষয়টা আসলে খুবই সহজ, শুধুমাত্র আপনার গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে একটু বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে।
আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা ভাবি সময় পরম অর্থাৎ সবখানে সমান ভাবে চলে।
কিন্তু সত্যটা হল সময় পরম নয় আপেক্ষিক, অর্থাৎ আমাদের পৃথিবীর এক মিনিট অন্য গ্রহে হয়তো এক ঘন্টা অথবা এক সেকেন্ড।
সময় স্লো বা ফার্স্ট হওয়ার জন্য দুইটি বিষয় নির্ভর করে-
১, স্পিড (গতি)
২, ম্যাস (ভর)
সাধারণত বেশি গ্রাভিটি যুক্ত প্লানেটে সময় ধীরে চলে। যেমন ব্ল্যাকহোলের পাশে যে গ্রহ গুলো আছে তাদের সময় আমাদের পৃথিবীর তুলনায় অনেক ধীরে চলে। আবার গতিশীল মহাকাশযানে থাকলে সময় স্লো হয়ে যায় ।
অর্থাৎ এখান থেকে একটি জিনিস ক্লিয়ার বুঝতে পারছেন সময় এক এক জায়গায় এক এক রকম স্পিডে চলে।
একটি উদাহরণ দেই তাহলে বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে, ধরুন আপনি প্লানেট এক্স এ আছেন যেটা একটি সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের খুব কাছের গ্রহ, যেখানে সময় পৃথিবীর তুলনায় অনেক ধীরে চলছে।
আপনি যখন ওই গ্রহে এক ঘন্টা কাটাচ্ছেন তখন আপনি অবশ্যই বুঝতে পারছেন আপনি এই গ্রহে মাত্র এক ঘণ্টা কাটিয়েছেন আপনার ঘড়িতে একঘন্টা কাউন্ট হয়েছে, এখন যদি আমি বলি না আপনি 20 বছর ধরে এই গ্রহে আছেন তাহলে নিতান্তই আপনার কাছে হাস্যকর মনে হবে কারণ আপনি মাত্র এক ঘণ্টা কাটিয়েছেন।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এটা আপনি যতক্ষণে ওই গ্রহে 1 ঘন্টা কাটাচ্ছেন পৃথিবীতে ততক্ষনে পার হয়ে গেছে 20 বছর। কারণ পৃথিবীর সময়ের স্পিড ছিল অনেক বেশি। পৃথিবীতে থাকা প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি বস্তু অনুধাবন করছে তারা 20 বছর কাটিয়েছে। তাদেরকে যদি বলি যে আপনারা তো একঘন্টা কাটিয়েছেন তাহলে তাদের কাছেও বিষয়টি হাস্যকর মনে হবে। আসলে এখানে মূল বিষয় হচ্ছে আপনারা একই অবস্থানে নাই দুইটা দুই স্থানে।
আপনি প্লানেট এক্স থেকে যদি পৃথিবীর দিকে তাকাতে পারতেন তাহলে দেখতেন পৃথিবীর রাতদিন 24 ঘন্টা পার হচ্ছে না, পার হচ্ছে এক সেকেন্ডের কম সময়ে, আপনার কাছে মনে হতো পৃথিবীর একি হলো এত দ্রুত গতিতে চলছে কেন?
আবার উল্টোদিকে পৃথিবী থেকে আপনার গ্রহের দিকে তাকালে মনে হবে সবকিছু এতই স্লো যে আপনারা প্রায়ই স্থির আছেন।
কিন্তু প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে মনে হবে সময় একদম ঠিকঠাক মতো চলছে। কিন্তু প্রবলেম টা হল একজনের সাপেক্ষে অন্যজনের সময় ঠিক নাই। বিষয়টা অনেকটা এরকম যে আপনার কাছে যেটা 9 আপনার উল্টা দিকে থাকা মানুষের কাছে 6 ।
আসলে আমরা যে অবস্থানে থাকি আমাদের আশেপাশের সবকিছু যদি সেইম স্পিডে চলতে থাকে তাহলে আমরা আমাদের গতিশীল অবস্থাটাকে কখনো পার্থক্য করতে পারিনা। ধরুন আপনাকে হাত-পা বেঁধে অজ্ঞান করে একটি জাহাজের কেবিনে আটকে রাখা হলো তারপর যখন আপনার জ্ঞান ফিরল তখন আপনি দেখলেন আপনি একটি রুমে শুয়ে আছেন আপনি কিছুতেই বুঝতে পারছেন না আপনি কোথায় আছেন, আপনার কোন আইডিয়া নেই আপনি গতিশীল নাকি স্থির। এখন আপনি যদি কেবিন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন তাহলে সমুদ্রের দিকে তাকালে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি কতটা গতিশীল জাহাজে আছেন।
ঠিক তেমনিভাবে আপনি আমি এখন যে যে অবস্থানে আছি আমরা মোটামুটি সিওর যে আমরা স্থির, কিন্তু পৃথিবী যে গতিশীল সেটা আমরা বুঝতে পারছি না কারণ আমাদের আশেপাশের সব কিছুই আমাদের সেইম স্পিডে চলছে।
ঠিক একইভাবে আমাদের কোন আইডিয়া নেই যে সময় অন্য স্থানে ভিন্ন স্পিডে চলতে পারে।
তাহলে এখন প্রশ্ন হল "সময়" জিনিসটা আসলে কি? স্লো বা ফাস্ট হয় কিভাবে? সেটা না হয় অন্যদিন আলোচনা করবো। সবাই ভালো থাকুন গবেষণায় থাকুন আপনার কোন আইডিয়া জন্ম দিতে পারে নতুন একটি পৃথিবী।