18/01/2016
[ ভালবাসার ২য় গল্প ]
Written by ---- রোহান আহমেদ
নীরব আজ প্রায় ৯ বছর পর ইতালি
থেকে
বাংলাদেশ এ আসছে, নীরব এর কোন
দিন আসার ইচছা ছিল না, শুধু আসতে
হলো ওর আদরের ছোট ভাই এর কারনে
আগামী কাল নীরবের ছোট ভাইয়ের
বিয়ে, নীরব এর ছোট ভাই বিয়ে
করতেছে কিন্তু নীরব আজ ও বিয়ে
করেনি, আর কোনদিন বিয়ে করবে ও
না
বলে নিরব ঠিক করেছে, নীরব বিয়ে
না করার কারন টা হলো নীরব যখন
বাংলাদেশ এ থাকাতো তখন
সাদিয়া নামে একটি মেয়ে কে
ভালবাসতো এবং আজ ও খুব
ভালবাসে ।
নীরব যখন দশম শ্রেনীতে পড়তো তখন
নীরব এর সাদিয়া সাথে পরিচয় হয় ।
সাদিয়া দেখতে খুবি অসাধারণ
ছিল,
নীরব আসলেই খুব নিরব ছিল কারো
সাথে বিনা কারনে কোন কথা
বলতো
না সব সময় চুপ করে থাকতো । আর
সাদিয়া ছিল এক রুকা যা বলতো
তাই
করতো, সাদিয়ার বন্ধুদের সাথে
সাদিয়া বাজি ধরেছিল, ও নীরব
যে
চেয়ারটাতে বসে ঐ চিয়ার টাতে
সুপারগ্লো লাগাবে এবং লাগিয়ে
ও
ছিল, সাদিয়া এই কাজটি করেছিল
ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই , একটু পরেই
ক্লাস
শুরু হয়েগেছে স্যার রোল কল করছেন,
স্যার যখন নীরব এর নাম ডাকলেন তখন
ও
নীরব ক্লাসে আসেনি নীরব একটু
পরে
আসল ক্লাসে তখন রোল কল করা শেষ
তখন
নীরব ঐ চেয়ার টাতেই বসলো একটু
পড়েই স্যার নীরব কে পড়া দরলেন
নীরব
পড়া টা খুব ভাল ভাবেই শিখেছে
কিন্তু নীরব কিছুতেই দাড়াতে
পারছে
না স্যার বললেন কি হলো নীরব তুমি
দাড়াচ্ছ না কেন..? তখন নীরব জুড়ে
দাড়াতে গিয়ে ওর পেন্ট টাই
ছিড়ে গেল ঐ দিন ক্লাসের সবাই খুব
হাসা হাসি করেছিল, কিন্তু নীরব
এর
এই অবস্থা দেখে সাদিয়ার নিজের-
ই
খুব খারাপ লেগেছিল এবং নিজের
প্রতি নিজের-ই খুব গৃণা হচিছল ঐ দিন
এর
পর থেকে সাদিয়া কেমন জানি
হয়েগেছে, সাদিয়া মনে মনে ঠিক
করলো ও নীরব এর কাছে ক্ষমা চাইবে
কিন্তু ঐ দিন এর পর থেকে বেশ
কয়েকদিন স্কুলে আসেনি নীরব ।
সাদিয়ার কোন কিছুই ভাল লাগছে
না,
সাদিয়ার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা
ও
কিভাবে ও নীরবের কাছে ক্ষমা
চাইবে, অত:পর নীরব আজ স্কুলে আসছে
তখন সাদিয়া নীরব কে বলল ঐ দিনের
কাজটা আমি করেছিলাম প্লিজ
মাপ
করে দাও তখন নীরব বলল মাফ করতে
পারি যদি তুমি আমার বন্ধু হও
সাদিয়া
বলল মাফ পাওয়ার জন্য তুমি যা বলবে
আমি তা করতেই রাজি আছি। নীরব
আগে থেকেই সাদিয়া কে পছন্দ
করতো। এ ভাবেই ওদের বন্ধুত্ব শুরু হয়।
আস্তে আস্তে সাদিয়া খুবি দুর্বল
হয়ে
পড়ে নীরবের উপর এবং ওদের
ভালবাসার কথাটি সাদিয়াই প্রথম
বলেছিল নীরব কে, আর নীরব ও না
করেনি কারন নীরব তো আগে
থেকেই
ডুবে ডুবে পানি খাচিছল তার পর
থেকে ওদের রিলেশন ভালই চলছিল।
তারপর একদিন ওরা ২ জন এক সাথে
ঘুরিতেছিল হঠাৎ সাদিয়া মাথা
ঘুরে
মাটিতে পড়ে যায়। তার পর থেকেই
সাদিয়া নীরব কে দেখলেই এড়িয়ে
যায় ফোন দিলে ফোন রিসিভ করে
না
তার পর একদিন সাদিয়া নীরব কে
বলল
আমি তোমার সাথে রিলেশন
রাখতে
পারবো না আমার বাবা আমার
বিয়ে
অন্য যায়গায় ঠিক করেছেন তাই আমি
আমার বাবার অবাধ্য হতে পারবো
না
তাই তুমি আমাকে মাফ করে দিও এই
কথা বলে চলে গেল নীরব কে কোন
কথা বলার সুযোগ -ই দেয়নি সাদিয়া,
তার পর নীরব ইতালি চলে আসে।
এবং
বহু বছর পর আজ নীরব দেশে ফিরেছে ।
সব
কিছুই কেমন জানি বদলে গেছে ।
সবাই
রেডী হচেছ বর যাত্রীর সংগে
যাওয়ার জন্য। নীরবের যাওয়ার কোন
ইচছাই নেই কিন্তু ওর ছোট ভাই এর জন্য
যেতে হচেছ । ঐ বিয়ে বাড়ীতে যে
সাদিয়ার সাথে দেখা হবে এটা
কখনো আশা ও করেনি নীরব !! !!!,
সাদিয়া নীরব কে দেখেও না
দেখার
ভান করে চলে যাচ্ছিল , তখন নীরব
সাদিয়া কে পেছন থেকে ডাক দিল
সাদিয়া দাড়াল নীরবের ডাক
শুনতে
পেয়ে, নীরব সাদিয়া কে বলল কেমন
আছো? ভাল, তোমার বর আসেনি
বিয়েতে? সাদিয়া বলল না,এই কথা
বলেই সাদিয়া চলেগেল , একটু পড়েই
নীরবের দেখা হল সাদিয়ার মায়ের
সাথে তখন উনিই নীরব কে বললেন
আসল
ঘটনা টা, ঐ দিন সাদিয়া মাথা ঘুড়ে
পড়ে যাওয়ার পড়ে, ওকে নিয়ে
ডাক্তার এর কাছে গিয়েছিলাম
ডাক্তার বলেছিল ওর নাকি ব্রেন
ক্যানসার সাদিয়া আর বেশীদিন
বাচবেঁনা বলেছিল তাই সাদিয়া
তোমার সাথে বিয়ের নাটক টা
করেছিল আসলে ও তোমাকে খুব
ভালবাসে তো তাই সাদিয়া ওর
অনিশ্চিত জীবনের সাথে
তোমাকে
জড়াতে চায়নি, তুমি ইতালিতে
যাওয়ায় পর জানতে পারি যে, ঐ
ডাক্তার এর রিপোর্ট টা ভুল ছিল
আসলে ওর কোন ক্যানসার হয়নি।
সাদিয়া আজ ও বিয়ে করেনি শুধু
তোমার আশায় পথ চেয়ে বসে আছে ও
বিশ্বাস করতো তুমি আবার ফিরে
আসবে ওর জীবনে, এই কথগুলো শুনে
নীরব
এক দৌড়ে সাদিয়ার কাছে গেল
তখনও
সাদিয়া বসে কাদঁতেছে তখন নীরব
বলল কি মেডাম আর কত কাদঁবেন?
আমি
ঐ ক্যানসারের রোগী টা কেই
বিয়ে
করতে চাই রোগী টা কি বিয়ে
করবে
আমায়? তখন সাদিয়া কোন কথা না
বলেই ঝাফিয়ে পড়ল নীরবের বুকে,
তখন
ও কাদঁতেছে সাদিয়া নীরব বলল
তুমি
এখন ও কাদঁতেচো তখন সাদিয়া বলল
এটা দুঃখের নয় এটা সুখের কান্না
[ স্পর্শের বাহিরে আমি]'