14/05/2026
চলে আসলো আবারো!
“৪ পাতার কমিক্স চ্যালেঞ্জ – ২ : “অন্তহীন”
কমিক্স আঁকতে চাও, কিন্তু সাহস পাচ্ছ না?
কার্টুন পিপল কমিক্সের “৪ পাতার কমিক্স চ্যালেঞ্জ” হচ্ছে নবীন ইন্ডি কমিক্স ক্রিয়েটরদের সামনে নিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা।
অনেক সময়ই আমাদের কমিক্স আঁকার ইচ্ছাটা বড় বড় গল্প, সময়
সুযোগ কিংবা আইডিয়ার অভাবে বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠে না।
তাই, এবার ছোট ছোট অনুগল্প থেকে এই - মাত্র ৪ পাতার Comics চ্যালেঞ্জটির
মাধ্যমেই হতে পারে তোমার সেই রেখে দেয়া আইডিয়া ও স্টোরি টেলিং এক্সপেরিমেন্ট ।
এবারের এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার তো থাকছেই, পাশাপাশি থাকছে টপ ৪ নির্বাচিত কমিক্স আঁকিয়েদের জন্য তাদের কমিক্স প্রথমবারের মতো লিমিটেড এডিশন কমিক বই আকারে প্রকাশ হওয়ার সুযোগ!
আমরা মনে করি, কমিক্স শিল্পীরা যত বেশি নিজেদের জীবন ও চারপাশের অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন ভিন্ন গল্পের কমিক্স আঁকবে, ততই কমিক্স ধীরে ধীরে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে। নিজের ভাষায় কমিক্স আঁকুন এবং সেই গল্প দুনিয়ার কাছে তুলে ধরুন।
কী করতে হবে?
নিচে দেওয়া ৪টি সম্ভাব্য দৃশ্যপট বা প্রম্পট থেকে যে কোনো একটিকে বেছে নিয়ে আঁকা শুরু করে দাও তোমার চার পাতার এক্সপেরিমেন্টাল কমিক্স।
এবারের প্রম্পট /দৃশ্যপটঃ
১। ২০৮৫ সাল। একটা কিশোর ছেলে ডিঙি নৌকা চালিয়ে এক বিরাট জলাশয়ের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে নাকি একসময় রাজধানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি ছিল। একটু এগোতে গিয়ে সে দেখে ঐতো ঐ যে! দূরে সংসদ ভবনের মাথাগুলো পানির ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। বাবা বলতো এই দিক দিয়ে গেলে নাকি একসময় ধানমন্ডি নামের এক এলাকা ছিল। এখন সবই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ছেলেটা এগোচ্ছে অপেক্ষাকৃত উঁচু এক এলাকার দিকে, যেখানে ধনীরা শূন্যে ভাসমান কৃত্রিম কলোনিতে বাস করে। আর নিচে ডুবে থাকা শহরের পানিতে ভাসমান বস্তির শিশুরা পুরোনো যন্ত্রপাতি কুড়িয়ে বেঁচে থাকে।
নিয়ন আলো, পানিতে ডুবে থাকা রিকশা, অর্ধেক ডুবে যাওয়া মসজিদের মিনার, ভাঙা বিলবোর্ড, ড্রোনে ভরা আকাশ, আর মরিচাধরা কংক্রিটের গোলকধাঁধার মধ্য দিয়ে এগোতে এগোতে কিশোরটি এমন একটি ডিভাইস খুঁজে পায়, ……
২। ঈদের আগে বরিশালগামী শেষ লঞ্চে সবাই বাড়ি ফিরছে। লঞ্চ ঘাট ছেড়ে গেলে ইন্তি বুঝতে পারে মানুষের ভারে লঞ্চটা একটু একদিকে হেলে চলছে। ডেকে চাদর পেতে দাদু-দিদা বসেছে, মা হটপটে খিচুড়ি এনেছে, ছোটরা দৌড়াদৌড়ি করছে, পুরো লঞ্চ জুড়ে এক ধরনের পিকনিকের আনন্দ। বহুদিন পর সবাই একসাথে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। গ্রামে নানা একা থাকে, বছরে একবার সবাই গেলে মানুষটা শিশুর মতো খুশি হয়ে ওঠে।
হঠাৎ মাঝরাতে কিছু একটার সাথে বাড়ি খেয়ে বিকট এক শব্দে পুরো লঞ্চ কেঁপে ওঠে। বিদ্যুৎ চলে যায়। চারদিকে আতঙ্ক, নদীর ঠান্ডা বাতাস আর অন্ধকার ঘিরে ধরে।
নদীর মাঝে আটকে পড়া মানুষগুলো ধীরে ধীরে খেয়াল করে, লঞ্চে এমন কিছু যাত্রীও আছে যাদের কেউ উঠতে দেখেনি। ঠিক তখনই ইন্তি দেখতে পায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে তার নানু ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে।
কিন্তু নানু তো…
৩। মাসের শুরুতেই বাড়িওয়ালা নোটিশ দিয়ে দিয়েছে। সামনের মাসের বাসা খালি করে দিতে হবে। বিল্ডিং কমিটির সিদ্ধান্তে এখন আর ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া চলবেনা। দুপুর ১টায় ক্লাস সেরে চড়চড়ে রোদ মাথায় করে আগাচ্ছিলাম আজিমপুরের দিকে। আজকে একটা সস্তায় মাথা গোজার মতো একটা বাসা খুঁজে ঠিক করে ফেলতেই হবে। নাহলে সামনের মাসে গিয়ে সিনিয়রদের হাতে পারে ধরে উঠতে হবে আবার সেই জঘন্য হলে, ২০জন ছেলে একটা রুমে... ভাবতেই কান্না পাচ্ছে। ছাদে বসে এই ঘিঞ্জি শহরের দিকে তাকিয়ে কী করা যায় ভাবছি, এমন সময়…
৪। সিএনজিকে বরাবরেই বানরের খাঁচা মনে হয় শুভ্রর। মনেহয় খাঁচার মধ্যে বানরকে ঢুকিয়ে এক চিড়িয়াখানা থেকে আরেক চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেই সিএনজির ভেতরে বসে যেতে যেতে নিজেকে বানর ভাবতেই খুব হাসি পায় ওর। সিএনজিটা হুট করে এতো স্পিডে যাওয়া শুরু করলো যে আশপাশ দিয়ে সবকিছু ব্লার লাগছে, ঠিক কোথায় যাচ্ছে বুঝতে পারেনা শুভ্র। সিএনজি মামাকে "অই মামা আস্তে চালান!" বলতেই জবাব এলো - "কিচ কিচ কিচকিচ"!....
প্রম্পট/ দৃশ্যপট ব্যবহারের নিয়মাবলি :
১. সংলাপ ও চরিত্রায়ন: অনুগল্পগুলো থেকে নিজের মতো করে সংলাপ বানিয়ে নাও। কমিক্সটিকে আকর্ষণীয় করতে এটিকে সম্পূর্ণ সংলাপ ও চরিত্র-নির্ভর করে নিজের মতো সাজিয়ে তোলো।
২। সম্ভাব্য দৃশ্যপট থেকে তোমার কমিক্স বানানোর সব চেয়ে সহজ উপায় হলোঃ
Draw what happens before or Draw what happens after
৩. গল্পের বিন্যাস (৪ পাতা): তোমার কমিক্সের ৪টি পাতাকে এভাবে ভাগ করে নিতে পারো:
১ম পাতা: গল্পের শুরু বা প্রেক্ষাপট তৈরি (Establishment)।
২য় পাতা: মূল সমস্যা বা দ্বন্দ্বের শুরু (Conflict)।
৩য় পাতা: রহস্যের চূড়ান্ত মুহূর্ত বা ক্লাইম্যাক্স (Climax)।
৪র্থ পাতা: গল্পের শেষ বা সমাধান (Ending/Resolution)।
৪. সৃজনশীল স্বাধীনতা :
অনুগল্পের প্রতিটি লাইন তোমাকে হুবহু মানতে হবে এমন কোনো কথা নেই।গল্পের শুরু ও শেষ নিজের মতো করে ঠিক করো, তারপর তোমার কমিক্সের জন্য নিজের পছন্দমতো একটি নামও বাছাই করো। এই গল্পগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তুমি সম্পূর্ণ নতুন কোনো গল্পের কমিক্সও তৈরি করে জমা দিতে পারো।
নিয়মাবলি
কমিক্সটি অবশ্যই হতে হবে ৪ পাতা অর্থাৎ ৪–৮ পৃষ্ঠা। (১ পাতা= ২ পৃষ্ঠা।) তবে আর্টিস্ট চাইলে এর বাইরে আলাদা করে রঙিন কভার/প্রচ্ছদ আঁকতে পারবে ।
ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটে আঁকতে হবে।
ট্র্যাডিশনাল বা ডিজিটাল— দুই মিডিয়াতেই আঁকা যাবে। AI এর ব্যবহার গ্রহণযোগ্য না ।
ডিজিটাল হলে:
JPEG এবং PSD—দুই ধরনের ফাইলই গুগল ড্রাইভ ফোল্ডারে জমা দিতে হবে।
PSD ফাইলে টেক্সট ও স্পিচ বাবল আলাদা লেয়ারে থাকতে হবে।
ট্র্যাডিশনাল হলে:
৩০০ DPI–তে স্ক্যান করে JPEG ফাইল ই-মেইল করতে হবে
সাইজ ও রেজুলেশন :
পেজ সাইজ: 210 × 297mm / A4 Size
রেজুলেশন: ৩০০ DPI
ডায়ালগ ফন্ট সাইজ: কমপক্ষে 11pt
অংশগ্রহণ / জমা দেওয়ার নিয়ম
Cartoon People গ্রুপে ৪ পৃষ্ঠার কমিক্স একসাথে পোস্ট করতে হবে
নিচের হ্যাশট্যাগগুলো সহ:
#৪পাতারকমিক্স
একই সঙ্গে আর্টিস্টের নাম, ফোন নাম্বার ও যোগাযোগের বিস্তারিতসহ
গুগল ড্রাইভ লিংক পাঠাতে হবে এই ই-মেইলে :
[email protected]
চ্যালেঞ্জ ঘোষণার ১ সপ্তাহের মধ্যে
গ্রুপে কমিক্সের WIP / Rough Drawing পোস্ট করতে হবে।
পুরস্কার
সেরা ৩ জন পাবে
ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও Cartoon People Gift Hamper
সেরা ৪ জন পাবে লিমিটেড এডিশন কমিক বুক পাবলিশ করার সুযোগ।
এছাড়াও নির্বাচিত টপ ১০ কমিক্সগুলো কার্টুন পিপলের ওয়েবসাইট এবং বছর শেষে এক্সিবিশনে
প্রকাশিত হওয়ার সুযোগ।
সময়সীমা- ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত।
#৪পাতারকমিক্স