21/03/2019
টুনটুনির মা টুম্পা, মানে আমার বউ শখ করে ডাকি টুনটুনির মা।আজ ৭ দিন হলো আমার সাথে কথা বলে না।এক ডাক্তার এসে সব উলটপালট করে দিয়েছে।যে বউ ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন দিত অফিসে,খেয়েছি কিনা,কখন বাসয় যাবো রুটিন করে খোজ নিত,আজ সাত দিন হলো কোন খোজ নেই! অফিসের শেষে কলিগ রাসেল জিজ্ঞেস করলো কি ফাহিম ভাই আজকাল এত মনমরা কেন আমি কথা এড়িয়ে বাসার দিকে রওয়ানা হই।
ডিং ডং ডিং ডং বাসার কলিং বেল বাজছে কাজের বুয়া কুলসুম এসে দরজা খুলে দিয়ে গেলো,অথচ আমি আসলে টুম্পা দৌড়ে এসে গেট খুলতো আমার অপেক্ষা করতো।এখন সে দেখি মেসেঞ্জারে ব্যাস্ত! ডাক্তরা সাহেব আমাদের দুরত্বের কারণ হয়ে গেছে।
বুয়া এসে রাতের খাবার দিয়ে গেলো আর বলেছে টুম্পা আফায় খাইসে আফনে খায়া লন।বুয়ার কথা শুনতেই মনে পরে গেলো একদিন রাতে আমার অফিস থেকে ফিরতে দেরি হবে তাই বার বার বলেছিলাম ফোন করে টুম্পা তুমি খেয়ে নিও আমার দেরি হবে।আসতে আসতে রাত তিনটা বেজে গিয়েছিলো,কিন্তু এসে দেখি পাগলিটা খাবার টেবিলেই বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলো অপেক্ষা করতে করতে।পরে আমরা দুজনেই একসাথে খেয়েছিলাম।এবং এই পাগলামির জন্য বকাও দিয়েছিলাম।বুয়া খাবার রেখে চলে গেলো আমিও খেয়েনিলাম।
পরেরদিন অফিসে রাসেল আবার এসে ধরলো ফাহিম ভাই আপনাকে বলতেই হবে আপনি মনমরা কেন থাকেন না বল্লে আমি উঠছিনা।রাসেল আমার খুব ঘনিষ্ঠ ভার্সিটিতে ও আমার ২ বছরের জুনিয়র ছিলো এখন এক সাথে একই অফিসে জব করি।ওর পিড়াপিড়ি তে একটু নড়েচড়ে বসলাম,রাসেল তুমি তো জানো যে তোমার ভাবি দই খুব পছন্দ করে।হ্যা ভাই আমি না অফিসের সবাই জানে ভাবি খুব দই পছন্দ করে,এমনকি আপনাদের বাসর রাতে ভাবি আপনারে ১ গ্লাস দুধের বদলে ১ বাটি দই দিসিলো হাহাহা এই গল্প তো না হলোও ৫০ বার শুনসি আপনার কাছে।প্রতিদিন লাঞ্চবক্সে করে দই নিয়ে আসতেন সেই সুবাদে আমরাও মাঝে মাঝে খাইতাম।
আচ্ছা ফাহিম ভাই কথা ঘুড়াচ্ছেন কেন জিজ্ঞেস করলাম মন খারাপ কেন আর আপনি কিসব দইয়ের কথা উঠাইলেন।
--- না এখানেই আসল কথা
---কি?
--- তোমার ভাবির শরীর খারাপ হলো, ডাক্তার এসে বল্লো প্রতিদিন বাইরের তৈরি দই খাওয়ার ফলে এই অবস্থা এসব অসাস্থকর বাইরের দই আর খাওয়া যাবে না।
--- হুম ডাক্টার তো ভালো কথাই বলেছে সমস্যা কি?
---- আমি যখন বল্লাম ঠিক আছে ডাক্টার সাহেব দই খাওয়া বাদ।তখন তোমার ভাবি বলে না না দই ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।
ফাহিম সাহেব দই অথবা বউ দইয়ের মধ্যে আপনাকে যেকোন একটা সিলেক্ট করতে হবে।এই বলে ডাক্টার বেরিয়ে চলে গেলো।
আমি সাফ বলে দিলাম তোমার ভাবিকে আমার দই চাইন আমার বউ চাই।দইয়ের জন্য বউ হারাতে পারবো না।
টুম্পাঃ বাচতে হলে দই খেয়ে বাচবো মরলেও দই খেয়ে মরবো দই ছাড়া আমি বাচতে চাই না।তুমি যদি কাল দই এনে না দাও তাহলে তোমার সাথে কোন কথা নেই।সেই থেকে আজ ৮ দিন কথা অফ!
রাসেলঃ ওও আচ্ছা কাহিনি তাহলে এটা হাহাহা ভাই আগে বলেন নাই কেন আমার কাছে সিম্পল সলিউশন আছে।
--- কি?
--- ডাক্টার নিষেধ করসে বাইরে অসাস্থকর দই খেতে বাট বাসায় সাস্থকর দই বানিয়ে খেতে তো মানা করে নাই
--- মানে? বাসায় আবার দই বানামু কেমনে? এই ভেজাল কে করবো প্রতিদিন।
--- আরে না ভাই ভেজাল না।ইলেকট্রিক দই মেকার কিনেন।দুধ জাল দিয়ে চিনি মিশিয়ে ওতে কারেন্ট লাইন দিয়ে দই মেকারের পাত্রে রেখে দিবেন ৩/৪ ঘন্টা পর হয়ে যাবে সাস্থকর সুস্বাদু দই।ব্যাস এটা ভাবি নিজেই করে খেতে পারবে।
--- আরে এটা কোথায় পাবো?
--- WowBazar অনলাইন শপ থেকে অর্ডার করতে পারবেন ১২০০ টাকার দই মেকার এখন মাত্র ৮৯৯ টাকায়।কমেন্টে লিংক দেয়া আছে দেখে আসেন প্রডাক্ট টা আর একটা অর্ডারও করে ফেলেন ওদের 01984347705 নাম্বারে ফোন দিয়ে।
---তাই করছি।ধন্যবাদ রাসেল।
দুই দিন পর--
হ্যালো রাসেল, হ্যা আমি ফাহিম বলছি।তোমার ভাবি বলছে কাল বাসায় একটা দই পার্টি হবে তোমাকে তো অবশ্যই আসতে হবে।
--- হ্যা ভাই আসবো ইনশাআল্লাহ।
সবাই চলে এসেছে পার্টিতে খুব খুশি টুম্পা আমিও খুশি। বুয়া সবাইকে বাটিতে দই পরিবেশন করে দিচ্ছিলো কিন্তু নিজে খাচ্ছে না।
শারমিন আস্তে করে ইশারায় বুয়াকে ডেকে বল্লো কুলসুৃম এই নাও দই খাও।
--- না আফা জানেনই তো আমার ডায়বেটিস।
--- হ্যা জানি,শুনো তুমি যখন সবার জন্য মিষ্টি দই বানাচ্ছিলো আমি তখন গোপনে তোমার জন্য ডায়বেটিস সুগার দিয়ে এই দই বানিয়েছি।আমরা সবাই খাবো আর তুমি চেয়ে চেয়ে দেখবে? এই নাও খাও।
বুয়া খেতে খেতে ইমশোনাল হয়ে গেলো।
টুম্পার এই গুণগুলো আমায় বার বার মুগ্ধ করে।কানে কানে ওকে বল্লাম ডার্লিং আমি খুব সৌভাগ্যবান তোমার মত একটা বউ পেয়ে।
টুম্পাঃ জানু আজ আমিও নিজেকে অনেক ভাগ্যবতি মনে করছি।
আমিঃ কেন? আমার মত স্বামী পেয়ে?😘
টুম্পাঃ নাহ, WowBazar.com এর দই মেকার পেয়ে😛
--- কি কইলা😠😠
দই পাগল বউ
©WowBazar