15/07/2025
ছবির ব্যক্তির নাম খন্দকার আব্দুল হামিদ— একজন সাংবাদিক ও রাজনীতিবীদ। একইসাথে ৭১'এ স্বাধীনতাযুদ্ধ বিরোধী একজন রাজাকার। ১৯৫৬-১৯৫৮ সাল অব্দি তিনি পূর্ব পাকিস্তান কোয়ালিশন পারলামেন্টারি পার্টির সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান ডেলিগেশনের টিম মেম্বার হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী বক্তব্যও দেন। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের জন্য ১৯৭৩ সালে তাকে দালাল আইনে গ্রেফতারও করা হয়।
কিন্তু আপনি জেনে হবেন যে, এই ব্যক্তিই ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক গৃহিত ‘বাংলাদেশি ন্যাশনালিজম’ এর প্রধান প্রবক্তা। অর্থাৎ, একজন পাকিস্তানপন্থীর হাতেই রচিত হয়েছে বাংলাদেশপন্থী একটি দলের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কন্সেপ্ট।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র স্বাধীনতাবিরোধী খন্দকার আব্দুল হামিদ সাহেবের কন্সেপ্ট নিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং এত সুন্দর কন্সেপ্টের দরুন তাকে পুরষ্কৃতও করেন বটে। যেমন:
১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৬ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের যুব উন্নয়ন মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শ্রম, জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। এরপর ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন উক্ত রাজাকার।
এখানেই শেষ নয়....
১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি নির্বাচনের আয়োজন করে। উক্ত নির্বাচনে জিয়া একটা ফ্রন্ট গঠন করেন। যে ফ্রন্ট থেকেই পরবর্তীতে গঠিত হয় বিএনপি।
কিন্তু আপনি কি জানেন সেই ফ্রন্টের দল কোনগুলো?
১.মশিউর রহমানের যদুর ন্যাপ ২.শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ
এছাড়া ফ্রন্টের বাহির থেকে সাপোর্ট দেয় জামাত ইসলামি, নেজামে ইসলামী।
এই সকল দলগুলোর মধ্যে একটা কমন মিল আছে। এরা সবাই একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী এবং পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনকারী। এরমধ্যে শাহ আজিজুর তো পাকিস্তানের গণহত্যাকে সমর্থন দিতে জাতিসংঘেও যায়। আর এই দলগুলোর উপর ভর করেই জিয়া ও বিএনপির রাজনীতি দাড়িয়েছে।
স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানপন্থী গণহত্যার সমর্থকদের দিয়ে রাজনীতি দাড় করানো সেদিনের বিএনপিই কিনা আজ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বাংলা ছাড়ার স্লোগান দেয়।।
এক রাজাকার আরেক রাজাকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।