Huminity & infinity.

Huminity & infinity. honesty is the best policy

07/05/2017

এই পেইজের কোন ছবি বা কোন পোস্ট অনুগ্রহ করে অন্য কোন পেইজে পোস্ট করবেন না।

একটি শিক্ষনীয় গল্প-সময় থাকলে পড়ুন এবং শেয়ার করে অন্যকেও পড়ার সুযোগ করে দিন।------------------------ছোট্ট একটি ফুটফুটে ছে...
06/04/2017

একটি শিক্ষনীয় গল্প-
সময় থাকলে পড়ুন এবং শেয়ার করে অন্যকেও পড়ার সুযোগ করে দিন।
------------------------
ছোট্ট একটি ফুটফুটে ছেলে।
মায়ের খুব আদরের সন্তান। এমন
সুন্দর ছেলে খুব কমই দেখতে
পাওয়া যায়। মায়ের যত
ভালবাসা এ ছেলেটিকেই
ঘিরে। খুব আদর যত্ন করে
ছেলেকে চোখে চোখে
রাখেন। এমন চোখের নিধিকে
রেখে মা কখনো একটুকুও আড়াল
হন না।
কি জানি কখন ছেলের কোন
দুর্ঘটনা ঘটে যায় কিনা!
মোটামুটি ছেলে এখন হাঁটতে
শিখেছে। আধো আধো বোল
ফুটেছে মুখে। আনন্দ আর
চঞ্চলতা শিশু বয়সকে মায়ের
চোখে আরো প্রাণবন্ত করে
তোলে এবং পাশাপাশি কত
রকমের স্বপ্নের জালও বুনছেন
ছেলের জন্য। পৃথিবীর সমস্ত
চাওয়া পাওয়া একমাত্র এ ছোট্ট
ছেলেটিকে ঘিরে। মায়ের
প্রত্যাশার অন্ত নেই যেন।
একদিন মা সাংসারিক নানা
কাজের মাঝে নিজেকে মগ্ন
রেখেছিলেন ছেলেটিকে
পাশের রুমে রেখে। খেলার
সমস্ত আয়োজন ছেলেটিকেও
বিভোর রেখেছিল। তাই মা
নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, ছোট্ট
বাবুটি কান্নাকাটি করছেনা
বলে। কথাটি মনে হতেই
ক্ষণিকের মধ্যে ছোট্ট
ছেলেটির চিৎকার শুনে বিদ্যুত
গতিতে ছেলের কাছে গিয়ে
গভীর মমতায় ঝাপটে ধরে
কোলে তুলে নিলেন।
কিন্তু ছেলেটির তো আর
কান্না থামছেনা। কতো আদর
আর চুমুর পর চুমু খেয়ে শান্ত
করতে চাইলেন একমাত্র বুকের
ধনকে। হঠাৎ করেই ছেলের বাম
চোখের দিকে তাকাতেই
চমকে উঠলেন মা এবং চিৎকার
করে বললেন কী হয়েছে
বাবা... তোমার চোখটি ফুলে
উঠলো কেন! ভাবতে না
ভাবতেই বুঝে ফেললেন মা,
কোন রকম আঘাত থেকে হয়তো
বাম চোখটির এমন অবস্থা
হয়েছে। ছেলেকে নিয়ে
দৌড়ে ডাক্তারের কাছে
গেলেন। কিন্তু হায় দুর্ভাগ্য
যেন হাতছানি দিয়ে ডাকল।
ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন
যে, আপনার ছেলের বাম
চোখটি আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায়
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একথা
শুনে মাকে দুঃস্বপ্নের আধার
ঘিরে ধরল ছেলেটিকে
নিয়ে.... দিন যায়, সন্তানটি
সুখে দুঃখে বড় হতে লাগলো।
মা ও যথাসম্ভব সাধ্যের সবটুকু
বিলিয়ে দিয়ে আদরের
সন্তানটিকে বড় করতে
লাগলো। তবে সন্তানের
মেধা ছিল চমৎকার। স্কুল জীবন
থেকেই পড়াশুনায় কৃতিত্বের
সাথে ফলাফল করে এগিয়ে
যেতে লাগলো। সত্যিই
ছেলেটি একদিন বেশ বড় হলো
এবং ভালো একটি সরকারী
প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ
কর্মকর্তা হলো। ইতোমধ্যে সে
বিয়ে করে তার দুটি সন্তানও বড়
হলো। ভাল স্কুলে পড়ালেখার
জন্য ভর্তিও করে দিলো।
তবে মা ছেলের সরকারী
বাসায় দুর্বার আকর্ষণে ছুটে
যেতেন নাতি-নাতনীদের
দেখতে। মাঝে মধ্যে বৌমা
আপত্তি জানাতো তার
ছেলের কাছে যে, গ্রামের
বাড়ি থেকে মা কি আমাদের
শহুরে বাসায় না আসলেই নয়!
স্ত্রীর এমন কথা শুনে যদিও
ছেলে প্রতিবাদের ভাষায়
বলতে চায় যে, আমার মা তার
নাতীদের দেখতে আসবে
এতে দোষের কী? এটা তো
তার অধিকার।
এসব বিষয়ে স্ত্রীর সাথে
মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হয়।
স্ত্রীর অভিযোগ শাশুড়ীর
একচোখ নেই অর্থাৎ অন্ধ। অতএব
একজন অন্ধ বুড়ীকে দেখলে
আমার বাচ্চারা খুব ভয় পায় এবং
বাচ্চারা ভীত হয়ে পড়লে
তাদের বড় হয়ে উঠা বাধাগ্রস্ত
হবে। মাঝে মধ্যে মা তার
বাচ্চাদের স্কুলে গিয়েও আদর
দিতে বা তাদের বাসায়
পৌঁছে দিতে খুব আনন্দ পান।
তাতেও স্ত্রীর অভিযোগ যে,
স্কুলের ছেলেমেয়েরা
তাদের সন্তানদের অন্য ছেলে
মেয়েরা তিরস্কার করে যে,
তোমার দাদী কানা বা
ডাইনীর মতো ভয়ঙ্কর মনে হয়।
এবং বাচ্চারা তাতে খুব লজ্জা
পায়।
এতোসব অভিযোগ স্ত্রীর পক্ষ
থেকে শুনে স্বামীকে অর্থাৎ
তাদের বাবাকে বলল যে, বুড়ী
মা যেন স্কুলে বা আমার বাসায়
আর না আসেন। কী আর করা,
স্ত্রীর সবসময়ই এমন অভিযোগ
তাকেও উব্ধুদ্ধ করল মাকে বলে
দেবে যে- মা, তুমি আর আমার
বাসায় এসো না। আমার স্ত্রী ও
সন্তানরা তোমার এক চোখ
দেখে ভয় পায়, অতএব তুমি আর
আমার বাসায় এসো না। একদিন
ঠিক এমনিভাবেই নিজের
মাকে বলে দিলো স্ত্রীর
অভিযোগ। দুঃখে এবং
অন্তরভরা ব্যথা নিয়ে
ছেলেকে বললেন, ‘ব্যাস, ঠিক
আছে। আমি আর আসবো না’।
এমনিভাবে অনেকদিন হয়ে
গেলো বুড়ী মা ছেলে ও
নাতি-নাতনীদের সাথে আর
কোন সম্পর্ক রইল না। শহরের
অভিজাত পরিবেশে থাকা
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একদিন তার
বাল্যকালের স্কুলে বার্ষিক
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
থেকে সেই স্কুলের কমিটির
সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের পক্ষ
থেকে দাওয়াত পেলেন, চীফ
গেস্ট হয়ে অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণের জন্য। সঠিক দিনে
যথাসময়ে পুরনো সেই
স্মৃতিঘেরা আপন বিদ্যালয়ে
উপস্থিত হয়ে আবেগঘন কন্ঠে
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ছাত্র-
ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে
বললেন যে, ‘হে কোমলমতি
শিশুরা তোমরা কিন্তু বড়দের
শ্রদ্ধা করবে, ছোটদের
ভালবাসবে। বিশেষ করে মা
বাবাকে কখনো কষ্ট দিবে না।
একথা বলেই হঠাৎ করে সম্বিত
ফিরে এলো তার এবং
নিমিষেই তার অন্তর দুমড়ে-
মুচড়ে ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। কারণ
সহসাই নিজের মায়ের প্রতি
তার অবহেলা এবং অশ্রদ্ধার
অপরাধবোধ জেগে উঠল। যাই
হোক স্কুল থেকে বিদায় নিয়ে
তার নিজের গ্রামের
বাড়ীতে গেলো পাগলপারা
হয়ে বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ নিতে।
একে ওকে জিজ্ঞাসা করে
জানতে পারল যে তার মা গত
ক’দিন আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।
সে তখন উদ্বেগাকুল তার
মায়ের ছোট্ট কুটিরে গিয়ে
অাঁতিপাতি করে খোঁজ করে
দেখল যে, টেবিলের উপর
একটি খাম পড়ে আছে। খামের
উপরে মায়ের কাঁপানো হাতে
লেখা ‘বাবা মতিন, আমার
জীবনের অন্তিম সময়ে মৃত্যুর
কাছাকাছি এসে তোমাকে
একটি কথা জানাতে চাই যে,
আমার একটি চোখ না থাকার
জন্য তুমি এবং তোমার স্ত্রী-
বাচ্চারা ভয় পায় বলে তোমার
বাসায় না যাওয়ার জন্য অনুরোধ
করেছিলে, সেজন্যই
তোমাদের থেকে আমি
নিজেকে দূরে রেখেছিলাম।
তবে একটা বিষয় জেনে রাখা
তোমার দরকার, যা আমি
তোমাকে কখনো বলিনি। আজ
মৃত্যুর পূর্বক্ষণে বলে যাওয়া
সঙ্গত মনে করেই এই চিঠিটি
লিখে যাচ্ছি, তাহলো, তুমি
যখন খুব ছোট ছিলে তখন খেলার
ছলে তোমার বাম চোখটি
খোঁচা খেয়ে অন্ধ হয়ে
গিয়েছিল। তোমার সেই অন্ধত্ব
আমার জীবনকে করেছিল
বিষণ্ণ। শেষ পর্যন্ত নিজের
জীবনকে তুচ্ছ করে তোমার
ভবিষ্যত জীবন সুখী ও সুন্দর করার
জন্যই নিজের চোখটি
তোমাকে দান করেছিলাম।
সে কারণেই আমার বাম চোখটি
ছিলনা।
সুখে থেকো ... ইতি তোমার
দুঃখিনী মা।.... এ চিঠিটি পড়ার
পর থেকে মায়ের চিঠি হাতে
ধরে বাকরুদ্ধ হয়ে দু’টি চোখে
নিজের মহাপাপী অন্তরের
অনুশোচনায় অবিরল ধারায় অশ্রু
গড়িয়ে পড়ছিল দু’গন্ড.....

05/04/2017

"যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিলো,
আমি কোন কথা বলিনি,
কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।
তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে
নিয়ে গেল,
আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি শ্রমিক নই।
তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,
আমি তখনও চুপ করে ছিলাম, কারণ আমি ইহুদি নই।
আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,
আমি টু শব্দটিও উচ্চারণ করিনি, কারণ আমি ক্যাথলিক নই।
শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না,
কারণ, কথা বলার মত তখন আর
কেউ বেঁচে ছিল না।"

-কবি মারটিন নেমলার

লিখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। পড়ার পর অনুগ্রহ করে লাইক না দিয়ে শেয়ার করবেন। যেন অন্যরাও পড়তে পারেন। একটা লাইকের চেয়ে অন্ততঃ ...
01/04/2017

লিখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। পড়ার পর অনুগ্রহ করে লাইক না দিয়ে শেয়ার করবেন। যেন অন্যরাও পড়তে পারেন। একটা লাইকের চেয়ে অন্ততঃ একজন পাঠকের পড়াটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। )

ইউফ্রেটিস নদীর উত্তর দিকে অবস্থিত সিরিয়ার একটি শহর রাকা।(Ar Raqqah) । সেখান থেকে খলিফা হারুন উর রশীদের দরবারে একটি চিঠি আসলো। চিঠিতে লিখা- শহরের বিচারক একমাস যাবত অসুস্থ। বিচারকাজ স্থবির হয়ে আছে। খলীফা যেন খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেন।

খলীফা ফেরত চিঠি পাঠালেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন বিচারক শহরে আসছে।

ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই রাকা শহরে নতুন বিচারক এসে কাজে যোগ দিলেন।
বিচার কাজ শুরু হয়েছে। প্রহরীরা একজন বৃদ্ধা মহিলাকে হাজির করলো। মহিলার অপরাধ-সে শহরের রেস্তোরা থেকে একঝুড়ি রুটি আর এক শিশি মধু চুরি করতে গিয়ে একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়েছে।

বুড়ি কি জানেনা , খলীফা হারুনের রশীদের রাজ্যে চুরি করা কতবড় অন্যায়। এ জন্য আইনত চোরের হাতকাটা যাবে, জরিমানা হবে, জেলদন্ড হবে।

বিচারক জিগ্গাসা করলেন-
আপনি চুরি করেছেন?
জ্বি হুজুর আমি চুরি করেছি।

আপনি কি জানেন, চুরি করা কতবড় অপরাধ? কত বড় পাপ?
জ্বি জানি। অনেক বড় অপরাধ। ক্ষমার অযোগ্য।

জানেন,এজন্য আপনার কতবড় শাস্তি হতে পারে?
জ্বি জানি। আর্থিক জরিমানা, জেলজরিমানা এমনকি আমার হাতও কাটা যেতে পারে।

তবে এসব জেনেও কেন আপনি চুরি করেছেন?
কারণ, আমি গত এক সপ্তাহ ধরে অভুক্ত। শুধু আমি অভুক্ত হলেও কথা ছিলো। সাথে আমার এতিম দু নাতিও না খেয়ে আছে। তাই চুরি করেছি। আমার আর কোনো উপায় ছিলোনা হুজুর।

বিচারক এবার পুরো দরবারঘরে চোখ বুলালেন। তারপর বললেন- কাল যেন নগর প্রধান, খাদ্যগুদাম প্রধান, শরিয়া প্রধান , পুলিশ প্রধান, সমাজ হিতৈষি সহ গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন। যথাসময়ে রায় দেয়া হবে।

বিচারকের নির্দেশ পেয়ে পরদিন সকালে সবাই হাজির। বিচারকও যথাসময়ে উপস্থিত হলেন। রায় ঘোষণা হলো-

চুরি করার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণীত হওয়ায় মোট ৫০টি চাবুক, ১০০ দিনার রৌপ্যমুদ্রা জরিমানা আর অনাদায়ে ১ বছরের কারাদন্ড ধার্য্য করা হলো। তবে বৃদ্ধা মহিলা কোন চলচাতুরীর আশ্রয় না নিয়ে অকপটে সত্য কথা বলার জন্য হাত কাটা মওকুফ করা হলো।

এবার বিচারক প্রহরীকে চাবুক আনার নির্দেশ দিয়ে নিজে বিচারকের চেয়ার থেকে নীচে নেমে এসে বৃদ্ধা মহিলার পাশে দাঁড়ালেন।

প্রহরীকে বললেন- যে নগরে একজন বুভুক্ষু মহিলা না খেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় চুরি করতে বাধ্য হয়-সেখানে তো সবচেয়ে বড় অপরাধী সে দেশের খলীফা। আর খলীফার প্রতিনিধি হয়ে আমি বিচার করতে এসেছি।-তাঁর অধীনে আমি যেহেতু চাকরী করি। তাই ৫০ চাবুকের ২০টি আমার হাতে মারাই হোক। আর এটাই বিচারকের আদেশ। আদেশ যেন পালন করা হয়। বিচারক হিসাবে চাবুক মারতে আমার ওপর যেন বিন্দুমাত্র করুনা অথবা দয়া না দেখানো হয়।

বিচারক হাত বাড়িয়ে দিলেন।দুহাতে পরপর ২০টি চাবুক মারা হলো। চাবুকের আঘাতে হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। এরপর বিচারক পকেট থেকে একটা রুমাল বের করলেন।

একজন রুমালখানা দিয়ে বিচারকের হাতে বাঁধার জন্য এগিয়ে গেলে-বিচারক নিষেধ করেলেন।

এরপর, বিচারক বললেন- যে শহরে নগর প্রধান, খাদ্যগুদাম প্রধান সহ অন্যান্য সমাজ হিতৈষীরা একজন অভাবগ্রস্থ মহিলার ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করতে পারেনা। তারাও অপরাধী। তাই বাকি ৩০ টি চাবুক সমানভাবে তাদেরকেও মারা হোক।

এরপর বিচারক, নিজ পকেট থেকে বের করা রুমালের ওপর ৫০টি রোপ্য মুদ্রা রাখলেন। তারপর উপস্থিত সবাইকে বললেন- যে সমাজ একজন বয়স্ক মহিলাকে চোর বানায়, যে ঘরে এতিম শিশু উপবাস থাকে সে সমাজের সবাই অপরাধী। তাই এখানে উপস্থিত সবাইকে -১০ দিনার রোপ্য মুদ্রা জরিমানা করা হলো। এবার মোট ৫০০ দিনার রোপ্য মুদ্রা থেকে ১০০টি রোপ্যমুদ্রা জরিমানা বাবদ রেখে বাকি ৪০০ রোপ্যমুদ্রা থেকে ২০টি চুরি যাওয়া দোকানের মালিককে দেয়া হলো। আর বাকি ৩৮০ টি বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে বিচারক বললেন- এগুলো হলো আপনার ভরণপোষনের জন্য। আর আগামি মাসে আপনি বাগদাদে খলিফা হারুন উর রশীদের দরবারে আসবেন, খলীফা আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

পরের মাসে বৃদ্ধা মহিলা খলীফার দরবারে গিয়ে দেখেন- খলীফার আসনে বসা লোকটিকে যেন কেমন চেনা চেনা মনে হয়। তারপর ভয়ে ভয়ে খলীফার আসনের দিকে এগিয়ে যান। একেবারে কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, লোকটি আর কেউ না, এতো সেদিনের সেই বিচারক।

খলীফা চেয়ার থেকে নেমে এসে বলেন-
আপনাকে আর আপনার এতিম দু নাতিকে উপোস রাখার জন্য সেদিন বিচারক হিসাবে ক্ষমা চেয়েছিলাম, আর আজ দরবারে ডেকে এনেছি- প্রজা অধিকার সমুন্নত করতে না পারা একজন অধম খলীফাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন বুড়ীমা।

এ মহান খলীফা মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ৮০৯ সালে ইরানের খোরাশান প্রদেশের তোস শহরে ইন্তেকাল করেন।

ইতিহাসে যিনি "The Just " হিসাবেই পরিচিত।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। ছবি'র এ অসহায় ৮ আর নয় বছরের দুটো বোন সুমি আর প্রিয়া। ওদের অপরাধ ওরা ক্ষুধার যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে শুধু একটা রুটির অর্ধের চুরি করেছিলো। (Sumi and priya, 8 years bangladeshi child brutally beaten by public for stealing half a loaf bread in hunger!- Source +The Daily Star) ।

ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার একটি বিখ্যাত পাঁচতারা হোটেলের নীচে। নাগরিক শোভা বর্ধনে যে শহরে কয়েক মিলিয়ন টাকা আলোয় ভাসিয়ে দেয়, যে শহরে কয়েক ঘন্টার বিনোদনের চাকচিক্যে নগরবাসীরা প্রায় ছয়কোটি টাকা বিকিয়ে দেয়-সেই শহরেই এই দু অসহায় শিশু ক্ষুধার যন্ত্রণায় একটি রুটির অর্ধেক চুরি করে -অন্যায়ের প্রতিরোধকারি জনতার হাতে নির্মম,নিষ্ঠুরভাবে প্রহারের স্বীকার হয়।

এখানে ব্যাংক চুরি হয়, ব্রীজ চুরি হয়, খাম্বা চুরি হয়, শেয়ার মার্কেট চুরি হয়, আইন চুরি হয়, আদালত চুরি হয়, ম্যাকাপ চুরি হয়, পত্রিকা চুরি হয়, ঠ্যাং চুরি হয়, পদ চুরি হয়, মুক্তিযু্দ্ধ চুরি হয়, সার্টিফিকেট চুরি হয়, লাশ চুরি হয়- আরো কত কিছু চুরি হয়। সে প্রসঙ্গে না যাই।

শুধু বিক্ষুদ্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচার জন্য ওদের অসহায় ,ভয়ার্ত, ভীতবিহ্বল চোখ দুটো আর একবার দেখি -আর দেখি ওদের মিনতি।

এ দুটো শিশু জানেনা, নির্বাচন কেন হয়, ওরা বুঝেনা ভোট কি। ওরা জানেনা লতিফ কোথায় কুতুবগিরি করছে- ওরা জানেনা দেশের সরকার প্রধান কে/ কি কিভাবে ফটো শেশান করেছে না সত্যি আলোচনায় বসেছে? তিস্তা কি তিস্তার পানি কি, তাও বুঝেনা। কার বেতন কত , এতো বেতনে কি হয় তাও জানেনা। মন্ত্রি মহোদয়ের ঘনঘন সেলফি দেয়ার মাজেজা কি তাও বুঝেনা। কোন মন্ত্রি কেন কাকে ,কত বয়সে বিয়ে করলো -কোন পত্রিকা কিভাবে তা ফলাও করলো তাও ওরা জানেনা। কে কত টাকা খরচ করে গরু, ছাগল, উট, দুম্বা,ভেড়া জবাই দিলো, কে কত বড় আয়োজনে পুজোর প্যান্ডেল সাজালো তাও ওরা বুঝেনা। ওরা শুধু বুঝে সারা দিনের পর কেবল অর্ধেক রুটি আর আজলা ভর্তি জল।

এটাই ওদের স্বাধীনতা, এটাই ওদের মানচিত্র,এটাই ওদের পতাকা।

আজ একজন খলীফা হারুণ উর রশীদের মতো শাসকের কথা বারবার মনে পড়ছে। যিনি একজন প্রজার দুঃখে কাতর হয়ে নিজেই চাবুকের ঘা হাত পেতে নিয়েছিলেন আর সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে অন্যকেও চাবুকের আঘাত দিয়ে জরিমানা করেছিলেন।

আর যে দেশ, যে শহর, যে মানবতাবাদী, যে কবি, যে লেখক, যে সংগঠক, যে সমাজ, যে সমাজ হিতৈষী, যে বিচারক, যে আদালত এই ছোট দুটি শিশুকে বুভুক্ষু রাখে, তারপর ওদের চোর বানায়- তাদের প্রত্যেকের হাতে আজ চাবুক মারবে কে?

কেউ নেই। এ এক মোহগ্রস্থ, গড্ডালিকায় গা ভাসিয়ে দেয়া আত্মম্ভরিত সমাজ। এখানে The Just আর নেই, এ সমাজে এখন শুধু The Dust রাই রয়ে গেছে।

ক্ষমা করো সুমি ,ক্ষমা করো প্রিয়া

10/09/2015

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলছি.. ৪% সরকারী
চাকুরীজিবীর বেতন ১০০% বৃদ্ধির আগে বাকি ৯৬%
( বেকার + বেসরকারী চাকুরীজিবী) বিশেষ কোন
ট্রাইবুনালের আওতায় এনে গনহারে ফাসিতে ঝুলিয়ে
দিন। তাদের অপরাধ.... ১. কেন তারা ফাস করা প্রশ্ন
কালেক্ট করতে পারেনি বা করেনি..? ২. কেন তারা
শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময়টাতে রাজনীতি না করে
পড়ালেখার পেছনে নষ্ট করেছে..? ৩. কেন তাদের কোন
প্রভাবশালী নেতা/ এমপি / মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বা
আত্বীয়তার সম্পর্ক নেই..? ৪. কেন তারা লক্ষ টাকা ঘুষ
দেয়ার মতো সামর্থ্য রাখেনা.? ৫. কেন তাদের বাপ বা
দাদারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি..? ৬. কেন তারা
উপজাতি নই..? - সরকারী চাকুরীর ৫৬% কোটার মধ্যে
স্থান না পাওয়া ৪৭% শিক্ষিত যোগ্য ও
মেধাবীবেকারকে ধুকিয়ে ধুকিয়ে মারার চাইতে
একেবারে ফাসি দিয়ে দেয়াটাই বেটার। - সব বেকারকে
ফাসিতে ঝুলিয়ে দিলে বেকার ও দারিদ্রমুক্ত
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আপনা আপনিই
বাস্তবায়িত হয়ে যাবে।

05/05/2015
03/02/2015

এ যেন এক জীবন্ত চিতা,,
কি ভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। আমরা হতবাক.......বিপন্ন মানুষ। আগুনে ঝলশে যাচ্ছে জীবন নামের মানুষের আকৃতি। পোড়া রোগী কোনদিন ভাল হয় না। সারা জীবন জ্বলতে হয়। জ্বালাতন ভোগ করে তার সংশার। আমরা দেখছি এই আগুনে পুড়ে যাওয়া কত মানুষ প্রতিবন্ধীতার জীবন বেছে নিবে। খালি হচ্ছে মা..............স্ত্রীর বুক। শিশুদের আহাজারিতে কেপে উঠছে আকাশ । বাতাশে লাশের গন্ধ, পোড়া মানুষের গন্ধ।

Address

7th Floor, Beyond Buffet, Gulshan Pink City Shopping Center, 15 Gulshan Ave
Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Huminity & infinity. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category