27/03/2025
হারিয়ে যাওয়া আলোর গল্প
রাত তখন গভীর। হাসপাতালের কোল্ড ওয়ার্ডের বাইরে একা বসে আছে অর্ণব। চারপাশ নিস্তব্ধ, মাঝে মাঝে কেবল একটা হালকা ঠান্ডা বাতাস তার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। তার চোখে জল নেই, কিন্তু বুকের ভেতর শূন্যতা একদম গিলে ফেলছে তাকে।
ভিতরে বিছানায় শুয়ে আছে মেঘলা। চোখ বন্ধ, মুখে শান্তির ছোঁয়া, যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু এই ঘুম আর ভাঙবে না। ডাক্তার কিছুক্ষণ আগেই বলল, “আমরা আর কিছু করতে পারলাম না।”
অর্ণব বুঝতে পারছে না কীভাবে সব শেষ হয়ে গেল এত তাড়াতাড়ি। কিছুদিন আগেও তো সব ঠিক ছিল! মেঘলার হাসি, তার অভিমান, তার আদুরে কণ্ঠ—সবই তো ছিল!
সে মনে করতে লাগল—
সেদিন বিকেলে মেঘলা বলেছিল,
“অর্ণব, তুমি কি জানো? আমি যদি একদিন হঠাৎ হারিয়ে যাই, তুমি কাঁদবে?”
অর্ণব হেসে বলেছিল, “তুমি হারাবে না। তুমি আমার জীবন। আমি তোমাকে কখনো হারাতে দেব না।”
কিন্তু মেঘলা জানত না, কিছু হারানো মানুষের হাতে থাকে না।
দুই মাস আগে ধরা পড়েছিল মেঘলার ক্যান্সার। ডাক্তাররা বলেছিল, খুব কম সময় বাকি আছে। অর্ণব তখন পাগলের মতো ছুটেছিল, দেশের সেরা ডাক্তার, বিদেশের চিকিৎসা—সব চেষ্টাই করেছিল। কিন্তু জীবন সবসময় চেষ্টার মূল্য দেয় না।
আজ মেঘলা নেই।
অর্ণব ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। জানালার বাইরে আকাশটা আজ তার মনের মতোই শূন্য, একটাও তারা নেই। সে বুঝতে পারল, ভালোবাসার মানুষ চলে গেলে পৃথিবীটা একই থাকে, কিন্তু জীবনটা বদলে যায়।
হয়তো মেঘলা এখন কোনো এক আলোর জগতে আছে, যেখানে কষ্ট নেই, যন্ত্রণা নেই।
অর্ণব আস্তে করে ফিসফিস করে বলল, “তুমি হারিয়ে গিয়েও আমার ভেতরে রয়ে গেলে, মেঘলা।”
তারপর চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল, যেখানে মেঘলার বিদায়ী হাসিটা এখনো ভাসছে…