08/12/2024
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আসসালামু আলাইকুম।
আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় *হজ্জ কাফেলা,২০২৩,এ আমরা হজ্জ পালনের উদ্দেশ্য মক্কায় গিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। যারা হজ্জে যাচ্ছেন বা যাবেন, অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা জানতে চান। আমি অতি ক্ষুদ্র মানুষ। এই বিষয়ে সত্যিই কিছু জানিনা। আমি আমার কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি। আমার ভুল ক্ষমাপ্রার্থী। আর যারা হজ্জে যাচ্ছেন, তাদের হজ্জ আল্লাহ তায়ালা সহজ ও কবুল করুন। আমিন।
আমরা যখন ২০২৩এ হজ্জের উদ্দেশ্যে নিবন্ধন করি,তার আগে থেকেই কিছু মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকি। যেমন,
১, প্রথমেই উত্তম ভাবে নিয়ত করেছি। এই সময় মনোবল ঠিক রাখতে হয়। বাজারে হজ্জের উপর অনেক বই,গাইড পাওয়া যায়। এগুলো পড়েছি আর দিন গুনেছি।কভে আসবে সেই দিন, যেদিন আমি কাবা দেখব।
২, উমরাহ আদায় করার পর, ছেলেদের মাথা মুন্ডন অর্থাৎ ন্যাড়া করতে হয়।আর, মেয়েদের এক ইঞ্চি বা এক কর চুলের অগ্রভাগ কাটতে হয়। আমি নিবন্ধন করার আগে থেকেই নিয়ত করেছিলাম যে প্রথম উমরাহ আদায় করেই চুল কাটবো। তার আগে আর চুল কাটবো না। কথাটা হাস্যকর হলেও এটাই সত্যি। আল্লাহ তায়ালা আমার আশা পূর্ণ করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
৩, সৌদি আরবে প্রচুর গরম ও রোদ থাকে। হজ্জের সময় গাড়ি তেমন পাওয়া যায় না। প্রচুর হাঁটতে হয়। তাই, আমি মাঝে মাঝেই দুপুর বেলায়, রোদের মধ্যে হাঁটতে বের হতাম। আমি খুবই অলস। হাঁটতে পারিনা। কখনো দশ মিনিট, কখনো পনের মিনিট, এভাবে প্রায় আধা ঘণ্টা, এক ঘন্টা হাঁটতাম। সত্যিই, এতে, আল্লাহ পাক আমার হাঁটা সহজ করে দিয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ
৪, মক্কায় গিয়ে অনেক হাজিগন খেতে পারেন না। চিড়া,মুড়ি খেয়ে এক রকম বাঁচেন। তাই, আমিও চিড়া খাওয়ার চেষ্টা করতাম।কিন্তু পারতাম না। গ্যাস হত। আমার আপা, তিন কেজি চিড়া দিয়ে দিলেন। পরে দেখলাম, ওখানে প্রচুর সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। বাংগালি হোটেলের অভাব নাই। তাছাড়া দুটো খেজুর খেয়ে, জমজমের পানি পান করলে আর ক্ষুধা লাগেনা। যত কম খাওয়া যায়, তত ওয়াশরুমের সামনে লম্বা লাইনে কম দাঁড়াতে হবে। আর, যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা শুকনো ফল সাথে রাখবেন। জমজমের পানি তো আছেই। চিড়া আর খেতে হইনি আমার।
৫, আমি আরেকটা কাজ করতাম। আল্লাহ তায়ালার কাছে কি কি চাইবো, যখন যা মনে পড়তো, সব একটা খাতায় লিখতাম। বিভিন্ন হুজুরের মোনাজাত লিখে রাখতাম। আমার পরিবার, আত্মীয় স্বজনের নাম লিখে দোয়া লিখতাম। এবং যারা দোয়া পৌঁছাতে বলতো, তাদের নামও লিখে রাখতাম। পরে যদি মনে না থাকে তাই লিখতাম। আমি যখন মোনাজাতে এই নোট বুক পড়তাম, তখন পাশের জনও এইটা পড়ত।
৬, কারো কাছে আমার কোন দেনা পাওনা আছে কিনা, কিংবা কারো সাথে খারাপ আচরণ করেছি কিনা তার জন্য ক্ষমা চাইতাম।
৭, আমি সব সময় দোয়া করতাম যেন, আমরা একটা উত্তম কাফেলার সঙ্গী হই। এবং আমার সাথে যারা এক কক্ষে থাকবেন, তারা যেন ভালো মানুষ হয়। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই ভালো দুজন বোন পেয়েছিলাম।
৮, আমরা যখন মক্কায় গিয়ে নতুন নতুন বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি, তখন মনে হয়েছে এই বিষয়ে কিছু জানাশোনা বা পড়াশোনা করে আসলে ভালো হত। অচেনা দেশ, নতুন পরিবেশ, নতুন আবহাওয়া , মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। সৌদি আরবের ভাষা আরবি। ছোট ছোট আরবি কথোপকথন জানা থাকলে ভালো হয়। হঠাৎ রাস্তা ভুলে যাওয়া, কিংবা উমরাহ করার পর স্যালনের খোঁজ, তার দরদাম, গাড়ি ভাড়া করা, বাজার করা কিছুটা আরবিতে বলতে পারলে ভালো হয়।বাকিটা উনারা সাহায্য করেন।উনারা হাজিদের খুবই সম্মান করেন।
পরের অংশে লিখব, প্রাথমিক প্রস্তুতি। ইনশাআল্লাহ।
****লিপি হক*****