11/02/2025
শতাব্দী ভব Shatabdi Vobo (Matal Vobo) শুধু একজন কবি নন, তিনি মুক্তচিন্তার প্রতিচ্ছবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক সাহসী নাম। ঢাকা স্ল্যাম আয়োজিত ২০২৩ সালের প্রথম বাংলাদেশ স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন এই কবি আবারও দেখিয়ে দিলেন, সত্যের পক্ষে থাকা মানেই লড়াই, আর সেই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার জন্য বুকের ভেতর অটুট সাহস থাকা জরুরি।
একটি বইমেলায় বই বিক্রি হবে, আর সেটিকে ঘিরে হামলা হবে, এটি কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। তসলিমা নাসরিনের “চুম্বন” বইটি প্রকাশ করেছে ভব’র সব্যসাচী প্রকাশনী, আর সেটিই ছিল উগ্র মৌলবাদীদের লক্ষ্য। একদল উগ্রপন্থী, যারা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে বরাবরই সন্ত্রাসী আচরণ করে, তারা স্টল ঘিরে ধরে শতাব্দী ভবকে হেনস্তা করে, তাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করে, শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। ভিডিওতে দেখা গেছে, তাকে কান ধরে মাফ চাইতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে— কিন্তু ভব একজন মুক্তমনা বীরের মত সেসব তোয়াক্কাও করে নি, ভয়ও পায় নি।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরও শতাব্দী ভব দমে যাননি। উগ্র মৌলবাদীদের চোখে চোখ রেখে তিনি যে শক্তি ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রমাণ করে, স্বাধীন মতপ্রকাশের লড়াই এভাবেই চলবে। সেই মুহূর্তে “জয়বাংলা” ও “জঙ্গীবাদ নিপাত যাক” স্লোগান তুলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন—এই দেশ ধর্মান্ধ জঙ্গীবাদীদের নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের, এটি ভাষা শহীদদের, এটি স্বাধীনতার।
এখানে প্রশ্ন থেকে যায়—এই মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর এত সাহস আসে কোথা থেকে? কেন তারা মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে এই বর্বরতা চালানোর সুযোগ পায়? তসলিমা নাসরিনের বই বইমেলায় থাকবে কি থাকবে না, এটি নির্ধারণের অধিকার কারও নেই। বইমেলা হলো মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার উন্মুক্ত মঞ্চ, আর সেই মঞ্চে জঙ্গীবাদীদের জায়গা নেই।
শতাব্দী ভবের প্রতি রইলো লাল সালাম। তার মতো সাহসী কণ্ঠস্বরই দেখিয়ে দেয়, বাংলাদেশ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা প্রতিটি মানুষকেই আজ গর্জে উঠতে হবে—তসলিমার বই থাকবে, কারণ মুক্তচিন্তা থাকবেই। শতাব্দী ভবের মতো সাহসীদের কণ্ঠ কখনো স্তব্ধ হবে না।
শতাব্দী ভবের মতো সাহসী মানুষেরা আমাদের দেখিয়ে দেয়—উগ্র মৌলবাদীদের ভয়ে মাথা নিচু করলে চলবে না, তাদের মোকাবিলা করতে হবে বুক টানটান করে। যারা মনে করে ভয় দেখিয়ে, হেনস্তা করে, প্রকাশ্যে অপমান করে মুক্তচিন্তা রোধ করা যাবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। এই বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশ ভাষা শহীদদের বাংলাদেশ, এখানে জঙ্গী-উগ্রবাদীদের কোনো জায়গা নেই।
সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি জনগণেরও এগিয়ে আসতে হবে। এসব ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে বুঝিয়ে দিতে হবে—এ দেশ ১৯৭১-এ যেমন হায়েনাদের পরাজিত করেছিল, তেমনি ২০২৫-এও করবেই। যারা বইমেলায় হামলা চালিয়ে নিজেদের বিজয় মনে করছে, তারা শিগগিরই বাঁশডলা খেয়ে বুঝবে, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের ঠাঁই নেই।
এখন সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর, সময় এসেছে এই মৌলবাদী দানবদের ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করার। বাংলাদেশ কোনো তালেবানি রাষ্ট্র নয়, আর হবেও না! শতাব্দী ভবের মতো সাহসী মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের সবাইকে বলতে হবে—
জয় বাংলা!
মৌলবাদ বিনাশ হোক!!
মুক্তচিন্তা অমর হোক!!!