29/12/2025
শীতল রাতের আকাশে সেদিন চাঁদটা ছিল একটু ফ্যাকাশে, যেন নিজের ভেতরের আলো লুকোতে চাইছে। ছাদের কোণায় বসে ছিল আদনান আর তুলি। দুজনেরই বয়স কম, কিন্তু অনুভূতিগুলো বয়সের চেয়েও বড়। তারা কোনো বড় স্বপ্নের কথা বলছিল না, শুধু আকাশ দেখছিল, তারার সংখ্যা গুনছিল, আর মাঝে মাঝে নীরবে হাসছিল।
তুলির মা প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। স্কুল শেষে সে সোজা বাসায় ফিরত, রান্না করত, মায়ের পাশে বসে থাকত। আদনান জানত এসব কথা, কিন্তু কখনো বেশি প্রশ্ন করত না। সে শুধু প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় তুলির ব্যাগটা ধরত, যেন বোঝাটা একটু হালকা হয়। এই ছোট ছোট কাজগুলোর মধ্যেই ছিল তাদের না বলা ভালোবাসা।
সময় বদলাতে লাগল। তারা বড় হলো। একই স্কুল ছেড়ে আলাদা কলেজে পড়ল। কথা কমে গেল, দেখা আরও কম। কিন্তু রাতে আকাশ দেখলে, দুজনেই অজান্তে সেই পুরোনো ছাদের কথা ভাবত। মাঝেমধ্যে আদনান তুলিকে মেসেজ দিত, “আজ চাঁদটা ঠিক আগের মতোই।” তুলি উত্তর দিত, “হ্যাঁ, এখনো আলো দেয়।”
একদিন বহু বছর পর, তুলির বাবার মৃত্যুর খবরে আদনান ছুটে এলো। কোনো বড় কথা বলল না। শুধু নীরবে পাশে বসে রইল। তুলির চোখ দিয়ে জল ঝরছিল, কিন্তু সে একা ছিল না। সেই মুহূর্তে তুলি বুঝল—ভালোবাসা মানে কেবল সুখ ভাগ করা নয়, দুঃখের ভারটাও একসঙ্গে বহন করা।
পরের রাতে আবার তারা ছাদে উঠল। শহর বদলেছে, তারা বদলেছে, কিন্তু আকাশটা একই আছে। আদনান ধীরে বলল, “আমরা অনেক দূরে চলে গিয়েছিলাম।”
তুলি মাথা নেড়ে বলল, “কিন্তু অনুভূতিগুলো যায়নি।”
এই ভালোবাসায় ছিল না নাটকীয় প্রতিশ্রুতি, ছিল না চমকপ্রদ মুহূর্ত। ছিল সময়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া গভীর বিশ্বাস। দুজন মানুষ, যারা একে অন্যকে সবসময় ধরে রাখেনি, কিন্তু কখনো ছেড়েও যায়নি। আকাশের চাঁদের মতোই—কখনো পূর্ণ, কখনো ফিকে, তবু সবসময়ই নিজের জায়গায় স্থির।