30/01/2022
সারা বিশ্বে মহিলারা ঈদ, বিবাহ এবং অন্যান্য উত্সব অনুষ্ঠানে আলংকারিক মেহেদি করে, যে কোন অনুষ্ঠানে মেহেদী ছাড়া যেনো চলেইনা, কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে কীভাবে মেহেদি আমাদের সংস্কৃতির এত বড় অংশ হয়ে উঠেছে? আসুন জেনে নেই।
প্রস্তুতি এবং আবেদন
আমরা বাজারে বা বিভিন্ন শপিং মলে সাজানো অবস্থায় যে মেহেদী দেখি তা কৃতিম মেহেদী, যা রাসায়নিক ভাবে ব্যবসার জন্য তৈরী করা হয়। । যে মেহেদির রং জোট বেশি সবুজ সেই মেহেদী তত বেশি অর্র্গানিক। যা ব্যবহারে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। তাজা পাউডার মিশ্রণের রঙ একটি প্রাণবন্ত গভীর সবুজ হওয়া উচিত এবং পুরানো পাউডারটি সামান্য বাদামী হতে পারে। তারপরে মিশ্রণটি শরীরে প্রয়োগ করা হয় এবং কয়েক ঘন্টার জন্য স্পর্শ না করে রেখে দেওয়া হয়। যখন পেস্টটি ধুয়ে ফেলা হয়, এটি একটি সুন্দর কমলা-বাদামী নকশা ছেড়ে যায় যা কয়েক দিনের মধ্যে বিবর্ণ হয়ে যায়।
সাধারণত, মেহেদির একটি গাঢ় ছায়া প্রায়ই পছন্দ করা হয় কারণ এটি তৈরি নকশাকে উন্নত করে। কিছু কোম্পানি একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক P-P-Phenylenediamine (PPD) এর রঙ বাড়াতে যোগ করে। দুর্ভাগ্যবশত, ২০০৬ সালে আমেরিকান কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস দ্বারা রাসায়নিকটিকে বছরের সেরা অ্যালার্জেন হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং এটি গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বা ফোস্কা সৃষ্টি করতে পারে।
মেহেদির উৎপত্তি:
মেহেদী আসলে মেহেদী গাছের পাতা গুঁড়ো করে পাওয়া যায়। এই মেহেদির ব্যবহার ৯০০০ বছর আগে থেকে । প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার শেষ রাজত্বকারী রাণী ক্লিওপেট্রা তার শরীরকে সাজাতে এবং নিজেকে সুন্দর করার জন্য মেহেদি ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়।
এই ইতিহাসের কারণে , একটি শিল্প হিসেবে মেহেদি ব্যবহারের এর সাথে কিছু কুসংস্কারও যুক্ত রয়েছে। আমাদের দেশে এটি বিশ্বাস করা হয় যে, কনের হাতে মেহেদি যত গভীর হবে, স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক তত ভাল হবে। অনেক ঐতিহ্যবাহী মেহেদি নকশা সমৃদ্ধি, প্রেম, আনুগত্য, উর্বরতা এবং সৌভাগ্যের গোপন প্রতীক। আমাদের দেশের মেয়েরা যেকোন অনুষ্ঠানে মেহেদী পড়তে খুবই পছন্দ করেন।
মেহেদির ব্যবহার - বছরের পর বছর ধরে:
মেহেদী যে শুধু অনুষ্ঠানে মেয়েরা হাতেই পড়তে ভালোবাসে তাই নয় কিন্তু মেহেদী ওষুধ হিসেবেও কাজ করে।
তীব্র গরমের মধ্যে মেহেদী থেকে শীতল ছোয়া পাওয়া যায়। বহু বছর আগেতো তীব্র গরমের মধ্যে মানুষ হাতে পায়ে মেহেদী লাগিয়ে রাখতো। ধীরে ধীরে যুগের কল্যানে এখন মেয়েদের একটি অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মেয়েরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নেইল পলিশের বিকল্প হিসেবে এটিকে ব্যবহার করে থাকেন। আর মেহেদী সবচেয়ে হালাল একটি প্রসাধনী যা ব্যবহারে আমাদের মুসলিম মেয়েরা ইবাদত করতে পারেন।
আবার অনেক ক্ষেত্রে এখনো যদি হাতে পায়ের নখের বিভিন্ন সমস্যার জন্য মেহেদী ব্যবহার করা হয়।
মেহেদী গাছের চামড়া অনেক পুরাতন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মেহেদিতে চুলের যত্ন:
- মেহেদী দিয়ে হাত রাঙানো ছাড়াও,মেহেদী অনেক ভাবে ব্যবহার হয়। গাছের মেহেদীপাতা বাটা মাথার চুলে লাগালে মাথা হয় খুশকি মুক্ত এবং চুল হয় মসৃন এবং সাইনি । মেহেদী চুল পড়া কমায় । মেহেদী মাথার ত্বক ঠান্ডা রাখে, নিয়মিত মাথায় মেহেদী লাগালে চুল অকালে পাকা বন্ধ হয়। মুলতানের হেয়ার স্টাইলিস্ট এবং বিউটিশিয়ান আফশান নকভি বলেন, “বাজারে যত ধরণের রাসায়নিক রং পাওয়া যায় মাথায় ব্যবহারের জন্য তার চেয়ে গাছের অর্র্গানিক মেহেদী ভালো । এটি ব্যবহারে কোন ক্ষতি হয়না বরং এটি মাথা ঠাণ্ডা রাখে, উকুন মেরে ফেলে।
- এখন বাজারে অনেক রকম কোম্পানি অনেক রকম টিউব মেহেদী বিক্রি করেন যা ব্যবহারের ফলে আমাদের শরীরে অনেক রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আসুন আমরা অর্র্গানিক মেহেদী ব্যবহার করি সুস্থ থাকি।
মেহেদী নিয়ে আপনার কোন মতামত থাকলে নিচের কমেন্টে জানান।