18/04/2026
পরীক্ষার আগে ‘অতিরিক্ত চাপ’ অনেক শিশুর মধ্যে ভীতি তৈরি করে- যা তাদের শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় অনেক শিক্ষার্থী, পরীক্ষা থাক বা না থাক, এক ধরনের অজানা ভয় ও চাপে ইতিমধ্যেই ডুবে গেছে। আমরা কি অজান্তেই “নকল” নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা ও আতঙ্ক তৈরি করে তাদের আরও ভীত করে তুলছি? শুধু ভয় দেখিয়ে বা দোষারোপ করে সমস্যার সমাধান হয় না। বরং এতে শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হয়, এবং দীর্ঘমেয়াদে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হয়।
যে কোনো দেশে পরীক্ষায় নকল কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়;
এটি একটি কাঠামোগত (systemic) চ্যালেঞ্জের অংশ।
তাই শুধু “নকল রোধ” নয়- মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
একটি সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি-
** শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা।
** মুখস্থনির্ভর মূল্যায়নের পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্ন প্রবর্তন।
** সৃজনশীল কারিকুলাম ও উন্মুক্ত প্রশ্নভিত্তিক পরীক্ষা।
** ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন।
** কোচিং নির্ভরতা হ্রাস ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি।
** সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ শিক্ষা জোরদার।
** অভিভাবকদের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করা।
** পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ভীতিমুক্ত তদারকি।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়-
প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি কি শুধু নকল ধরার জন্য, নাকি পাঠদান ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্যও?
যেখানে প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ-সংকটে ঘামে ভিজে পড়ে, সেখানে সিসি ক্যামেরা দিয়ে নকল ধরার চেয়ে
প্রথমে প্রয়োজন স্বস্তিদায়ক, মানবিক শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আমাদের বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে-
~ শহরের শিক্ষার্থীর সাথে গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিশুর প্রতিযোগিতা কতটা সমতাভিত্তিক?
~ যে বাবা রিকশা চালিয়ে বা মা দিনমজুরি করে সন্তানের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে- আমরা কি সেই স্বপ্নের পাশে আছি?
~ যে মেয়েটি ডাক্তার বা সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়- তার জন্য আমাদের সহায়তা কতটা বাস্তব?
~ উন্নত বিশ্বে যেখানে স্কলারশিপ ও সহায়ক ব্যবস্থা আছে- আমরা সাধারণ কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য কতটা কার্যকর উদ্যোগ নিতে পেরেছি?
আমাদের ভাবতে হবে বারবার নকল শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কি অজান্তেই কোমলমতি শিশুদের “অপরাধী” হিসেবে দেখতে শিখছি কিনা?
অন্যদিকে, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখনও অনেক মেয়েশিশু অল্প বয়সে বিয়ের ঝুঁকিতে- সেখানে আমাদের কার্যকর সহায়তা কতটা বা কি করছি?
আমরা কি শুধু নকল বন্ধ করতে চাই-
নাকি দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, সমতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই?
স্মরণ রাখা প্রয়োজন-
শিক্ষার্থীরা সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু নয়;
সঠিক নীতি, সহায়ক পরিবেশ ও ন্যায়সংগত সুযোগ পেলে তারাই হতে পারে টেকসই সমাধানের প্রধান শক্তি।