13/05/2024
ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দেবেন মা, অর্থাভাবে থমকে আছে অস্ত্রোপচার, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গুজরা গ্রামের বাসিন্দা দিনমুজুর জাহাঙ্গীর আলম ও শেফালী আক্তারের মেঝ ছেলে শাহীন (২৫)। তার দুটি কিডনি নষ্ট। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শাহীনের শরীরে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পারলে, তাকে বাঁচানো যাবে না।
ঢাকায় সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে শাহীনের পাশে তার মা শেফালী আক্তার।
পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে শাহীন দ্বিতীয়। অসুস্থ বাবা-মাকে নিয়ে সাত জনের সংসার। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন শাহীন। সেখান থেকে যা উপার্জন, তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
এদিকে শাহীনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে তার বাবাও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
দুই বছর আগে শাহীনের জন্ডিস ধরা পড়ে। একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন শাহীন ও তার পরিবার। তাতে আকাশ ভেঙে পড়ে তাদের মাথায়। শাহীনের বাবাও দিনমজুর। তিনিও উচ্চ রক্তচাপের রোগী।
এতদিন আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে শাহীনের চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস করে আসছেন তিনি।
বর্তমানে ঢাকায় সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করে কোনমতে জীবন বেঁচে আছে শাহীনের। ডাক্তার কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ অবস্থায় ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতেও প্রস্তুত মা শেফালী আক্তার।
কিন্তু এর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তাদের। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের জীবন বাঁচাতে সবার কাছে তাই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সবাই।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, শাহীনের কিডনি প্রতিস্থাপন করতে অপারেশন ও বিভিন্ন ফি বাবদ ৮-১০ লাখ টাকা খরচ হবে। একটি কিডনি ও অপারেশনের টাকা যোগার করার জন্য দীর্ঘ দুই বছর বিভিন্ন মাধ্যমে ধরনা দিলেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে ছেলেকে বাঁচাতে সবার কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছেন তিনি।
শাহীনের মা শেফালী আক্তার বলেন, ‘আপনারা পাশে দাঁড়ালে, ছেলেকে আমি আমার কিডনি দেব।’
এ অবস্থায় সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদ জানিয়েছে শাহীনের পরিবার।