10/09/2024
দুই যুগ পর
অনেকদিন পর আজ হারানো
কবিতার খাতাটা খুঁজে পেলাম
ধুলো ঝেড়ে পাতা উল্টাতে গিয়ে মনে পড়লো
অনেক কিছুই।
পাতার ভাঁজে ভাঁজে ডুব সাতাঁরে
ব্যস্ত হয়ে পড়লো স্মৃতির গাঙ্গচিল।
মনে পড়লো - লিখেছিলাম দুই যুগ আগে।
যখন আমার উদ্দাম যৌবন।
ঘুম কেড়ে নিয়েছিল আয়ত দুটো চোখ।
মাসকারা আইলাইনারে আঁকা,
নেকাব দিয়ে ঢাকা চেহারার আনত দৃষ্টির তুমি।
নামটা - নামটা যেন কি ছিল?
কিন্তু আমার বাঁ হাতের কব্জির ওপর ব্লেডের কাঁটা দাগটা
এখনো মিলিয়ে যায় নি!
ঘটনা ঘটিয়েছিলাম সেদিন
যেদিন আমি পথ আটকানোর পরে ও
ফোন নাম্বারটা দিলেনা
কব্জীতে গভীর সরলেখা এঁকেছিলাম
তোমার নজরের সামনেই,
আতঙ্কিত হয়ে আমার ক্ষত চেপে ধরে
হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলে।
কেদেঁছিল দুচোখ ভরে,
বকেছিলেও আমাকে অনেক।
অথচ স্মৃতির অলিতে গলিতে হারিয়ে গেছে তোমার নামটা।
কি অদ্ভুত! তাই না!
মনে পড়ে সে রাতেই,
আমার শুন্য কবিতার খাতাটা ভরে গিয়েছিল।
তোমার স্পর্শ, শরীরের সুবাস চোখের অশ্রু,
লেপটে যাওয়া মাসকারা
কোনটাই আমার কবিতার আক্রমন থেকে বাদ পড়েনি।
অথচ, কবিতা গুলো কোনদিন তোমাকে শোনাতে পারিনি।
সেদিনের পর থেকে তোমার ফোন নাম্বার টাও বন্ধ ছিল
নামটা কি তুমি বলেছিলে বা বলো নি ঠিক মনে পড়ছে না
কিন্তু আমি তোমার নামটা যেন কিভাবে জেনেছিলাম?
দেখা আমাদের হয়েছিল
দুমাস পর।
তোমার হাতে তখন কোটা আন্দোলনের প্ল্যাকার্ড,
আর আমার হাতে পানির আট দশটা বোতল।
জানতে চেয়েছিলে হাতের অবস্থা কি?
তোমার হাসিটাকি দেখেছিলাম সেদিন? নাকি দেখিনি?
কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
তক্ষুনি শুরু হয়েছিলা গুলি।
পুলিশের গুলিতে আহত
তোমার রক্তাক্ত শরীরটা নিয়ে যখন ছুটছিলাম,
তুমি তখন বাঁচার জন্য আকুতি করছিলে।
যখন পৌছালাম হাসপাতালে,
ডাক্তার জানালো -
তোমার জীবন ঘড়িটা থেমে গেছে অনেক আগেই।
তখন আর নিতে পারিনি -
তোমার নামটা তখন কে যেন বলেছিল?
বোঝার আগেই হাসপাতালের মেঝেতে আমি।
মাত্র উনিশটা রাবার বুলেটের ক্ষত আমার পিঠ।
জ্ঞান ফিরেছে - অন্য দৃশ্যপটের বাংলাদেশ।
আর তুমি ?
তোমার নামটা?
ও হ্যা - মনে পড়েছে - “মুক্তি”।
জহির বাবু
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪