Kaiyum Ahammud Udoy

Kaiyum Ahammud Udoy এটা একটি এডুকেশনাল ও পার্সোনাল ব্লগ।

সুখ পাখিপ্র্যাক্টিসিং ভাই-বোনদের অনেকে আশেপাশের ছেলেমেয়েগুলোর জাহিলিয়াত চর্চা আর লাইফের এনজয়মেন্ট দেখে হতাশ হন। পরকাল...
09/03/2024

সুখ পাখি

প্র্যাক্টিসিং ভাই-বোনদের অনেকে আশেপাশের ছেলেমেয়েগুলোর জাহিলিয়াত চর্চা আর লাইফের এনজয়মেন্ট দেখে হতাশ হন। পরকালের প্রতিদানের কথা ভেবে সবর করেন। যারা ইসলামকে দ্বীন হিসেবে (জীবনব্যবস্থা, কেবল ধর্ম নয়) বেছে নেয় নি তাদের জীবন এত আনন্দময় হতে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

আসলেই কি তাই? ইসলাম থেকে দূরে থাকা মানুষগুলো কি আসলেই এত সুখী? মু'মিনদের সুখ-আনন্দ কি কেবল পরকালের জন্যই বরাদ্দ?

নারে ভাই, নারে বোন। ওরা ওদের কষ্টগুলোকে মেকি উৎফুল্লতা দিয়ে ঢেকে রাখতে চায় বলে, নয়তো ওই কুৎসিত আর্তনাদের প্রতিমূর্তি একবার উন্মোচিত হলে বুঝতে পারতেন ওরা কত দুঃখী। ওদের বড় বড় দুঃখের খাদগুলো ভরাতে কত আয়োজন করে, শেষে ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থতা অনিবার্য। কেননা সুখের যিনি মালিক, তাঁর থেকে ওরা পলায়ন করছে।

যেমন সম্পর্ক। হারাম সম্পর্কের পথে পা বাড়িয়ে "কাছের মানুষের" থেকে কীভাবে প্রতারিত হতে হয়, ওদের জিজ্ঞেস করুন। জিজ্ঞেস করুন ঐ মেয়েটিকে, যে অবৈধ সন্তান গর্ভে নিয়ে চিকিৎসকের দুয়ারে ঘুরে ফিরছে, আর বিলাপ করছে পালিয়ে যাওয়া সঙ্গীটির জন্য। জিজ্ঞেস করুন ঐ ছেলেটিকে, যে আবিষ্কার করে দীর্ঘদিনের বান্ধবীর এক্স বন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠ ছবি। জিজ্ঞেস করুন ঐ মা কে, যার একমাত্র ছেলে "প্রেমের মর্যাদা" দিতে জলে ঝাপ দিয়ে নিজেকে না ফেরার দেশে নিয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করুন ওই বাবাকে, যার রক্ত পানি করা শ্রম দিয়ে গড়ে তোলা কিশোরী মেয়েটি পালিয়ে গেছে স্বল্পদিনের পরিচিত কোন ছেলের হাত ধরে।

বিশ্বাস করুন, আপনি ঐ আশেপাশের স্রোতের জোয়ারে গা ভাসানো ছেলেমেয়েগুলোর কাছে জানতে চাইলে এই চিত্রগুলোই উঠে আসবে। আল্লাহ্‌র কসম, তারা সুখী নয়, তারা সুখী হতে পারে না। জীবনের উদ্দেশ্যকে হাতড়ে বেড়ানো মানুষগুলোকে দুপয়সার সুখের লোভে লালায়িত হয়ে নিজেকে ভাসিয়ে দেয়, তবু সুখ ধরা দেয় না। তাই সকল বস্তুবাদী আয়োজন সুলভ থাকার পরও কেউ আত্মহত্যা করে, কেউ স্ত্রী-সন্তান সব থাকার পরও বিছানায় ঘুমাতে পারে না। নিজেদের সুখী দেখাতে কত প্রতারণা, কত নাটক!! সবের শেষে গিয়ে তারা আশ্রয় খোঁজে ওই গানটাতে—"নিজ ভুবনে চির দুঃখী, আসলে কেউ সুখী নয়……"

আমার এক স্কুলফ্রেন্ডের আপুর (নন-প্র্যাকটিসিং) লেখা একটি নোট পড়লাম। সমাজে মেয়েদের কীভাবে সেক্স অবজেক্ট হিসেবে ট্রিট করা হয় তা নিয়ে। অনেক বয়ফ্রেন্ড তার গার্লফ্রেন্ডকে কেবল সেক্স ম্যাটেরিয়াল হিসেবেই দেখে। মেয়েগুলো যখন সেটা বুঝতে পারে তখন তারা মনঃকষ্টে ভোগে। সেক্সুয়াল অবজেক্টিফিকেশন দাম্পত্য জীবনে সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরায়। লেখাটিতে আপু যেসব কেসের কথা বলেছেন তার প্রায় সবই প্রেম করে বিয়ে করা দম্পতীদের। এ জাতীয় লেখার নিচে অনেক মেয়ে এসে কমেন্ট করে। তাদের বয়ফ্রেন্ড তাদের সাথে কীভাবে প্রতারণা করেছে, ছেলেরা কত খারাপ, নারীদের জেগে উঠতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি……

আপু তার বিপুল জ্ঞান-গরিমা দিয়ে নানাপ্রকার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এসব দেখে আমি মনে মনে একটু সহানুভূতি প্রকাশ করি। এত সহজ একটা সমাধান-ইসলাম, তাকে বেছে নিতে না পেরে এই মানুষগুলো তাদের মগজভর্তি বিদ্যাবুদ্ধি খরচ করে নানা বায়বীয় সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করে, কাজ হয়না কোনটাতেই।

আমরা যারা কেবল আল্লাহ্‌র কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাই, তাদের এত জ্ঞান-গরিমা প্রয়োগ করে সমাধান করা লাগে না। আমরা কেবল এক আল্লাহ্‌র হুকুমের কাছে মাথা নত করে সমাধান করতে পারি। হারাম সম্পর্কের মোহ ত্যাগ আর মাহরাম সংক্রান্ত বিধান মানলেই যে সব সমস্যা চলে যায়, এটা তারা দিনরাত ভেবে বের করতে না পারলেও আমরা পারি। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

আর তাই দ্বীনের পথের মানুষগুলোর জীবন অত কমপ্লেক্স না। তারা তাদের দুঃখ-কষ্ট কেবল আল্লাহ্‌র সমীপেই অর্পণ করে। নন-প্র্যাকটিসিং মানুষগুলোর নানা যন্ত্রণার এসব আলোচনা ঘেঁষে চলতে গিয়ে বারবার আল্লাহ্‌র নিকট কৃতজ্ঞতায় মাথা অবনত হয়ে আসে, যিনি তাঁর নগণ্য বান্দাকে এই সুখের হরিণ খুঁজে ছোটা থেকে রক্ষা করেছেন। ওদের মত বিপর্যস্ত জীবন থেকে বাঁচিয়েছেন। সুবহানআল্লাহ্‌।

অন্তরের প্রশান্তির স্বাদ তারাই পায় যারা এক আল্লাহকে ইলাহ মেনে নিতে পেরেছে। লক্ষ প্রভু আর প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে আল্লাহ্‌ যাদের মুক্তি দিয়েছেন, তারাই স্বাধীন, তারাই সুখী। উভয় জীবনে।

সকল প্রশংসা সেই মালিকের যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

সুখ পাখি
By Jubaer Hossain

প্র্যাক্টিসিং ভাই-বোনদের অনেকে আশেপাশের ছেলেমেয়েগুলোর জাহিলিয়াত চর্চা আর লাইফের এনজয়মেন্ট দেখে হতাশ হন। পর....

চাওয়াগুলোদুনিয়ার চাওয়াগুলো সব পূরণ হবে না বলেই আল্লাহ্‌ জান্নাত নামের কিছু একটা বানিয়ে রেখেছেন। ইচ্ছাপূরণের জায়গা হ...
08/03/2024

চাওয়াগুলো

দুনিয়ার চাওয়াগুলো সব পূরণ হবে না বলেই আল্লাহ্‌ জান্নাত নামের কিছু একটা বানিয়ে রেখেছেন। ইচ্ছাপূরণের জায়গা হল ওটা। না পাওয়ার হিসাব কষতে ব্যস্ত হওয়া অকৃতজ্ঞতা নির্দেশ করে, জান্নাতের স্বপ্নের ওপর ধুলোর আস্তরণের কথা জানিয়ে দেয়।

উমার (রা) এক সাহাবীকে মাংস খেতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি মাংস খাচ্ছেন কেন। ঐ সাহাবী বললেন, "মাংস খেতে খুব ইচ্ছা করছিল।" উমার (রা) রাগতস্বরে বললেন, "তোমার সব ইচ্ছা কি দুনিয়াতেই পূরণ করে ফেলবে নাকি?"

এই তো দর্শন, এই তো জীবন, এই তো দুনিয়া, এই তো কারাগার। কারাগারের বন্দী, বালিশে ফুটো দেখে সেটা বদলে দিতে বলে না। মু'মিনের জন্য দুনিয়া হল কারাগার। কী চাইব আমি? চাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই, কেবল তা ব্যতীত যা বিশ্বজগতের প্রতিপালক ইচ্ছা করেন। চাইতে তো পারেন তিনিই।

মানুষের জীবনে কষ্ট থাকে। স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট। অপূর্ণতার কষ্ট। এই কষ্টগুলো বাকিরা দেখে না। একজন দেখেন, একজন জানেন। তিনি শুনতে পান। তাঁকেই বলব সব কথা। কেন আর দশজন জানবে আমার আর্তি? কেন ফেসবুকের পাবলিক জগতে এসে জানাতে হবে—আমারও কিছু বলার আছে? কষ্টের সময়গুলোয় হাসিমুখে স্রষ্টার দাসত্ব করে যাওয়া—এই তো সবর।

বিশ্বজগতের শাহানশাহের কাছে জীবন-সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছি সেই কবেই। যেদিন নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেছি। পারিনি কেবল ক্রেতার হক মেটাতে। বিক্রিত দ্রব্যের ওপর নিজের অনধিকারটুকু মেনে নিতে। তবু আমার রব্ব আমাকে শাস্তি দেননি। সুযোগ দিয়েছেন। দিয়ে যাচ্ছেন।

স্বপ্ন দেখি আমলনামা ডান হাতে পাওয়ার। বড় দামি সেই স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখি সেই মানুষটার পাশে বসে এক ঝর্ণার পানি খাওয়ার, যিনি আমার জন্য কেঁদেছিলেন যখন আমার অস্তিত্ব ছিল না। ইয়াকুত পাথরের প্রাসাদে বসে এমন একটা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার, যার তুলনা আমার প্রতিপালক দিয়েছেন "প্রবাল ও পদ্মরাগ।"

সূরা আর রহমানে আল্লাহ্‌ মুত্তাকীদের পুরস্কারের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, "উত্তমের বিনিময় উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে?" এই আয়াতটি যখন অনুভব করি চোখ দুটো ভিজে ওঠে, অন্তর আর্দ্র হয়ে যায়। আমি আল্লাহ্‌র জন্য একটা ছোট্ট কষ্ট স্বীকার করব, আর আল্লাহ্‌ সেটাকে লক্ষগুণে বাড়িয়ে প্রতিদান দেবেন না, তাই কি হয়? আল্লাহ্‌র প্রতিদান তো এমনই হয় যা তাঁর মর্যাদার জন্য উপযোগী। তিনি তো বান্দার ক্ষুদ্রতার দিকে তাকান না, বরং নিজের বড়ত্বের দিকে তাকিয়ে পুরস্কার দেন। অল্প বিনিময় দেওয়া যে তাঁর শানের খেলাফ!

সেদিন যদি হাসতে পারি, আমি তো সফল হয়ে গেলাম। তুচ্ছ দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়ার হিসেব দিয়ে আমার কী এসে যায়, বল?

চাওয়াগুলো
By Jubaer Hossain

দুনিয়ার চাওয়াগুলো সব পূরণ হবে না বলেই আল্লাহ্‌ জান্নাত নামের কিছু একটা বানিয়ে রেখেছেন। ইচ্ছাপূরণের জায়গা হ.....

অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর...বনী ইসরাঈলের 'আবেদ বারসীসার কাহিনী আমরা কমবেশি অনেকেই জানি। এই কাহিনীর প্রধান শিক্ষা কী...
07/03/2024

অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর...

বনী ইসরাঈলের 'আবেদ বারসীসার কাহিনী আমরা কমবেশি অনেকেই জানি। এই কাহিনীর প্রধান শিক্ষা কী? অনেকে বলেন, নারী-ফিতনার ভয়াবহতা; কেউ বলেন, 'আবেদ হলেও শয়তানের ধোঁকা থেকে মুক্ত নয় কেউই ইত্যাদি।

এগুলো অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয়। তবে আমার কাছে এই ঘটনার সবচেয়ে শিক্ষণীয় যে দিকটি মনে হয়েছে, তা হল- শয়তানকে আন্ডারএস্টিমেট করার পরিণাম। আমাদের প্রায় সবার মধ্যেই কমবেশি এই বস্তুটা বিদ্যমান। আমরা যেন এমন একটা ধারণা নিয়ে থাকি যে শয়তান আমাদের ধোঁকা দেওয়ার সময় জানিয়ে দেবে—এটা আমার ধোঁকা। অথচ ব্যাপারটা পুরো উলটা। শয়তান এমনভাবে ধোঁকা দেবে যেন আমরা বুঝতেই না পারি যে এটা তার ফাঁদ। সে গুনাহের কাজগুলো আমাদের কাছে খুব পজিটিভ ভাবে উপস্থাপন করবে। সে আমাদের ধোঁকা দেবে এমন কাজের মাধ্যমে, যা আমাদের কাছে খুবই ভালোকাজ বলে প্রতীয়মান হবে, অথচ এর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে ইসলামের ট্র্যাক থেকে আমরা বিচ্যুত হয়ে যাব। সত্যি বলতে কী, শয়তানের মারাত্মক ধোঁকাগুলোর বেশিরভাগ এভাবেই হয়ে থাকে। বস্তুত শয়তান তার ধোঁকা নিয়ে এমনভাবে হাজির হয় যে, আপনি তাতে পা দিতে একরকম বাধ্য হন, এক যদি না আল্লাহ্‌ হিফাযত করেন।

পথভ্রষ্টতার সূচনাঃ

ধরুন আপনি খুব ভালো ইসলাম পালন করা কোন ছেলে/মেয়ে। গান শোনেন না, মুভি দেখেন না। এখন শয়তান যদি আপনার কাছে এসে বলে-হলিউডের মুভি দেখ, আপনি কস্মিনকালেও এ কাজ করবেন না। সে কীভাবে ধোঁকা দেবে? সে প্রথমে আপনার কোন বন্ধুর মাধ্যমে আপনাকে প্ররোচনা দেবে ভালো কোন মুভি দেখার জন্য। বন্ধু বলবে, "চল দোস্ত ঐ ছবিটা দেখে আসি" আপনি বলবেন, "আমি মুভি দেখি না। হারামে লিপ্ত হওয়াকে আমি ভয় করি।" বন্ধু বলবে, "দোস্ত এই ছবিতে একটা খারাপ সিনও নেই। এমনকি কোন নারী চরিত্র পর্যন্ত নেই। কোন গানও নেই। কিশোরদের জন্য উদ্দীপনামূলক ছবি। চল দেখে আসি।" আপনি বলবেন "এখন নামাজের টাইম। নামাজ পড়ব।" বন্ধু বলবে, "ওকে। মুভি তো নামাযের টাইমের পরেই।" (বস্তুত শয়তান জানে যে নামাযের টাইমে মুভি হলে আপনি দেখবেন না, তাই সে সেভাবেই উপস্থাপন করল।) যা হোক, নামাযের পর বন্ধুর জোরাজুরিতে আপনি মুভিটা দেখলেন। সত্যিই খুবই ভালো লাগল। এতই ভালো লাগল যে বাসায় এসে আপনি নেটে সার্চ দিলেন এই পরিচালকের আর কী কী শিক্ষামূলক ছবি আছে। দেখা শুরু করলেন। আস্তে আস্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের আর কী ছবি হচ্ছে খুঁজতে লাগলেন। দেখতেও থাকলেন।

এক বছর পর দেখা গেল আপনি হলিউডের মুভিতে আসক্ত। সেই ছবিতে অশ্লীল দৃশ্য আসলেও আপনি স্বাভাবিক বস্তু বলে ধরে নেন। এক বছর আগে কেউ আপনাকে যদি বলত আপনি এক বছর পর এমনটা করবেন, আপনি হয়তো বলতেন "আল্লাহ্‌ মাফ করুন। অমনটা হওয়ার আগে যেন আমার মৃত্যু হয়।" যে আপনি মুভি দেখাকে পাপ গণ্য করে বন্ধুকে রিফিউজ করছিলেন, সেই আপনি আজ হলিউডের মুভি দেখে সেটাকে "অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে" বলে জাস্টিফাই করেন। অথচ এর শুরুটা হয়েছিল আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ এক মুভি দেখার মাধ্যমে।

মুভি দেখা সংক্রান্ত যা বললাম, এগুলো কোন কল্পকাহিনী নয়। আমাদের চারপাশের অনেক ইসলাম পালন করা ছেলেমেয়েই এভাবে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বদলে গেছে। অথচ শুরুটা ছিল হয়তো খুবই সামান্য একটি গুনাহের কাজ দ্বারা। সেই গুনাহের কাজটিকেও হয়তো তিনি 'ভালোকাজ' ভেবেই করেছিলেন।

জিম ভাই গতকাল একটা লেখায় বললেন, মুসলিমদের মধ্যে খেলাধুলার আসক্তি দূষণীয়। নিজেরা খেললেও একটা কথা থাকে, কিন্তু অন্যের খেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টার দেখায় কোন কল্যাণ থাকতে পারে না।

অনেকেই বলবে, কেন? আপত্তি কেন? আমি তো খারাপ কিছু দেখছি না। চিয়ারলিডারদের আইপিএল-বিপিএলও দেখছি না। সাদা পোশাকের টেস্ট ম্যাচ বা লা-লীগাই তো দেখছি মাত্র। সমস্যা কোথায়?

হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আপনি হয়তো গান-বাজনা বা মুভি দেখার মত সরাসরি নিষিদ্ধ কিছুর সাথে জড়িয়ে পড়ছেন না। কিন্তু আপাত নির্দোষ এ বিনোদনের মধ্যে শয়তানের বহু ফাঁদ জাল বিস্তার করে আছে। যেমনঃ প্রথমত, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হওয়া খেলাগুলো আল্লাহ্‌র স্মরণ থেকে গাফেল রাখার মোক্ষম হাতিয়ার।

দ্বিতীয়ত, খেলাগুলো দেশকেন্দ্রিক হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট দলের প্রতি সমর্থন থাকায় অন্তরের মধ্যে কুফরী জাতীয়তাবাদ ব্যাপক আকার ধারণ করে। 'মুসলিম' পরিচয়ের চেয়ে জাতীয়তাবাদী পরিচয় তখন মুখ্য হয়ে ওঠে। অনেক ইসলামপন্থীর মধ্যেও এটা দেখেছি। বাংলাদেশ কোনো খেলায় জিতলে নিজেকে "বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত" বলে প্রকাশ করেন। অথচ এই আচরণ ইসলামের মূলনীতির সাথে কোনভাবেই যায় না।

তৃতীয়ত, কোন অমুসলিম খেলোয়াড়ের খেলা ভালো লাগায় ঐ মানুষের প্রতি ভালোবাসা জন্মাতে পারে, যা আল ওয়ালা ওয়াল বারাহ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিজেকে ইসলামিস্ট বলে পরিচয় দেওয়া অনেককেই দেখেছি মেসি-রোনালদো বলতে অজ্ঞান। উপরন্তু এদের প্রতি আসক্তির কারণে এদের জাহেলিয়াতে পূর্ণ জীবনপ্রণালী দ্বারাও অনেকে প্রভাবিত হয়ে থাকেন। এভাবে শয়তানের প্ররোচনায় কখন যে অন্তরের মধ্যে ইসলামবিরোধী চেতনা লালিত হতে শুরু করবে, আপনি টেরই পাবেন না।

এভাবেই শয়তান ইসলামপন্থীদের পথচ্যুত করতে সাধারণত আপাতনির্দোষ কাজগুলোকেই ব্যবহার করে। "এটা তো গুনাহের কাজ নয়" ভেবে স্ট্রিকটনেস থেকে সামান্য ছাড় দেওয়াই হতে পারে বিরাট ক্ষতির কারণ। আল্লাহ্‌ আমাদের রক্ষা করুন।

রিয়া ও অহংকার জন্মানোঃ

কিছুদিন আগে একটা পোস্টে বলেছিলাম, আমাদের মসজিদের এক বয়স্ক মুসল্লি কিছু কথা বলছিলেন। তা এই যে, যখন একজন মানুষ ইসলাম পালন শুরু করে তখন শয়তান তাকে নানাভাবে ধোঁকা দেয়। প্রথমে শয়তান আমলগুলোকে অগুরুত্বপূর্ণ করে দেখায়। যেমন, "এটা তো খুবই ছোট আমল, এখন না করলেও চলবে।" এই ধোঁকাকে বুঝতে পেরে যখন মানুষ আরো দৃঢ়তার সাথে "আমি এটা এখনই করব" বলে সংকল্প করে, তখন শয়তান অন্যভাবে ধোঁকা দেয়। বলে, "তুমি তো খুবই ভালো ছেলে/মেয়ে। আশেপাশের ছেলেমেয়েরা কত অন্যায়ে লিপ্ত, অথচ তুমি কত ভালোভাবে ইসলাম পালন করছ।"

এভাবেই শয়তান আমাদের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি করে। আমরা যারা ইসলামকে বুঝে পালনের চেষ্টা করি, তারা যেন শয়তানের এ ধোঁকায় পা দিয়ে কোনভাবেই আত্মতুষ্টিতে না ভুগি। আশেপাশের নন-প্রাক্টিসিং মুসলিমদের দেখে কোনভাবেই যেন মনের মধ্যে গরিমা না আসে। কখনোই যেন নিজেকে অন্যদের চেয়ে "উত্তম মুসলিম" না মনে করি। বরং যদি গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারি এটা একমাত্র আল্লাহরই অনুগ্রহ। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতায় আরো বেশি করে তাঁর দাসত্বে মনোনিবেশ করা জরুরি, অথচ অহংকার হল কৃতজ্ঞতার বিপরীত।

হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহ) এর মৃত্যুর পূর্বে শয়তান তাঁকে বলেছিল, "আমি একজন ফেরেশতা। আমি এই বার্তা নিয়ে এসেছি যে, তোমার ইবাদাতে খুশি হয়ে আল্লাহ্‌ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার জন্য ইবাদাত মাফ করে দিয়েছেন। যত সময় বাঁচবে আল্লাহ্‌র ইবাদাত না করলেও চলবে।" আব্দুল কাদির শয়তানের ধোঁকা বুঝতে পারলেন। কেননা তিনি স্মরণ করলেন রাসূল (সা) এর কথা, যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নামায ছাড়েন নি। তখন শয়তান তাঁকে বলল, "আব্দুল কাদির, আজ তুমি তোমার জ্ঞানের কারণে আমার ধোঁকা থেকে বেঁচে গেলে।" বস্তুত এ কথাটিও শয়তানের ধোঁকা ছিল। এই কথার মাধ্যমে সে আব্দুল কাদিরের মনে নিজের জ্ঞানের কারণে অহংকার জন্মানোর চেষ্টা করেছিল। আব্দুল কাদির এবারেও বুঝতে পেরে বলেন, "আমি কখনোই আমার জ্ঞানের কারণে শয়তান থেকে রক্ষা পাইনি, আমি পেয়েছি কেবল আল্লাহ্‌র দয়ার কারণেই।"

আব্দুল কাদির (র) এর মত বুজুর্গ ব্যক্তিকেও শয়তান এভাবে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টারত থাকলে ভেবে দেখুন আমার-আপনার অবস্থা কী হবে!! আমরা প্রতিনিয়তই শয়তানের ধোঁকায় পড়ছি। তবু আমরা উদাসীন, যেন আমরা নিশ্চিত আছি শয়তান আমাকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না!! আমরা আমাদের ঈমান নিয়ে তুষ্ট আছি!! নিজেদের বড় ঈমানদার ভাবছি!! যেখানে সাহাবা (রা) এর অনেকে নিজেদের মুনাফিক ভাবতেন সেখানে আমাদের মত দুর্বলতম ঈমানের লোকদের অন্যের চেয়ে নিজেকে "উত্তম মুসলিম" ভাবা কতটা বোকামি, চিন্তা করে দেখছি কী???

শিরকের সূত্রপাতের প্ররোচনাঃ

আদম (আ) এর মৃত্যুর পর তাঁর প্রচারিত দ্বীনকে মানুষ যখন ভুলে যেতে শুরু করল, শয়তান প্ররোচনা দিল, "হে মানুষেরা, তোমরা অতীতের আবেদদের মূর্তি নির্মাণ কর। তাহলে তাদের মূর্তি দেখলে তোমাদের তাঁদের কথা স্মরণ হবে, তোমরাও ইবাদাত করতে উৎসাহ পারবে।" মানুষেরা তা ই করল। উদ্দেশ্য ছিল অতি মহৎ। কিছুদিন পর শয়তান বলল, "এই মৃতদের শ্রদ্ধা জানাতে তাদের উদ্দেশ্যে খাবার, ফুল উৎসর্গ কর।" মানুষেরা তা ই করল। এভাবে একসময় দেখা গেল তারা মূর্তিপূজা আরম্ভ করেছে। অথচ শয়তান যদি প্রথমেই তাদের বলত, "তোমরা মূর্তিপূজা কর," তাহলে কেউই রাজি হত না।

কী ভয়ংকর ব্যাপার, তাই না!! আজকে আমরা দেখি মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানো, বর্ষবরণ উৎসব, শহীদকে শ্রদ্ধা জানাতে কবরে ফুল, এসব যেন আমাদের মুসলিমদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। অথচ এই ব্যাপারগুলো শিরকের ভয়াবহতা ডেকে আনার মাধ্যম ব্যতীত কিছুই নয়। যা হোক, এই ব্যাপারগুলোর সাথে কীভাবে শিরক জড়িত তা আমরা চিন্তা করলেই বুঝতে পারি। তাই এ বিষয়ে আর কথা বাড়াবো না।

এমনিভাবে ইসলামের সংস্কৃতি ছাড়া অন্য সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে পড়লে কতভাবে যে অন্তরে কুফর আর শিরকের বীজ বোনা হয়ে যায়, আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

আমাদের করণীয়ঃ

শয়তান থেকে বাঁচার প্রধানতম উপায় হলঃ আল্লাহ্‌র কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ্‌র সাহায্য আসবে আমাদের প্রচেষ্টার অনুপাতে। সেই প্রচেষ্টা হল দ্বীনের প্রতি সর্বোচ্চ ডিভোশন, ইসলামের ব্যাপারে কঠোর স্ট্রিকটনেস বজায় রাখা। যেহেতু শয়তান খুব ছোট কোন ব্যাপার দ্বারা তার ধোঁকার কাজ শুরু করে, কাজেই দ্বীনের ছোটখাট বিষয়ে ছাড় দেওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। ইসলামের বিধানের প্রতি পুরোপুরি আপোসহীন মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি কাজের আগে চিন্তা করতে হবে, আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) এ কাজ করতেন কি না। তাছাড়া তিনি করলেও আমরা যে পদ্ধতিতে করছি ঠিক সেই পদ্ধতিতেই করেছেন কি না, যাচাই করে দেখতে হবে। কেননা হালাল কাজও রাসূল (সাঃ) এর পদ্ধতিতে না করা পথভ্রষ্টতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আল্লাহ্‌ আমাদের শয়তানের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখুন এবং দ্বীনের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন।

"আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও; তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।"
সূরা 'আরাফ-২০০

"শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহ্বান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।"
সূরা ফাতির-৬

অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর...
By Jubaer Hossain

বনী ইসরাঈলের 'আবেদ বারসীসার কাহিনী আমরা কমবেশি অনেকেই জানি। এই কাহিনীর প্রধান শিক্ষা কী? অনেকে বলেন, নারী-ফিতনার ভ...

কমপ্লেক্স লাইফভালোভাবে লাইফ লিড করতে আসলে খুব সামান্য পরিমাণ সামগ্রীই লাগে। আমরা নিজেদের জন্য অনেকগুলো কৃত্রিম চাহিদা সৃ...
06/03/2024

কমপ্লেক্স লাইফ

ভালোভাবে লাইফ লিড করতে আসলে খুব সামান্য পরিমাণ সামগ্রীই লাগে। আমরা নিজেদের জন্য অনেকগুলো কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে লাইফকে কমপ্লেক্স করে ফেলি। এই জিনিসটা আমি বুঝেছি অল্পদিন আগে।

আমি আগে স্মার্টফোন ব্যবহার করতাম। ফোনে কতরকম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশান, সেগুলোর আপডেট আর নতুন অ্যাপ ইনস্টল-এসব নিয়ে মাঝেমধ্যেই ব্যস্ত থাকতে হত। মনে হত অ্যাপগুলো সত্যিই খুব প্রয়োজনীয়।

একদিন হঠাৎ সেই ফোন বাদ দিয়ে অল্পদামের একটা সাধারণ সেট ব্যবহার শুরু করলাম। কদিন পর দেখি মোবাইলের পেছনে আমার কোন সময়ই ব্যয় হচ্ছে না। কেবল কল করা আর অ্যালার্ম দেওয়া-মোবাইলের উপযোগিতা এখন আমার কাছে এটুকুই! যেসব অ্যাপকে 'অতি প্রয়োজনীয়' ভাবতাম সেগুলো ছাড়াই দিব্যি চলে যাচ্ছি।

দুনিয়াটাই এমন। একে যতবেশি কাছে টানবেন, এ আপনাকে তত শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে। আপনার সময়গুলো কেড়ে নেবে। আপনার ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেবে, মনের অভাব বাড়িয়ে দেবে, চাহিদা বাড়িয়ে দেবে। ভুলিয়ে রাখবে আপনার রব্বকে, রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাবার দিনটিকে।

সাদাকা করতে যান, একই প্রবলেম উপস্থিত হবে। আপনার আলমারিভর্তি কাপড়। একদিন মনে হল এত কাপড় দিয়ে কী করবেন, গরিবদের দিয়ে দিই। অমনি শয়তান কাপড়গুলোর 'প্রয়োজনীয়তা' তুলে ধরতে উঠেপড়ে লাগবে। মনে হবে—আরে এই কাপড়টা তো প্রায় নতুন, এটা তো আমি পরতে পারি' কিংবা 'এতগুলো দান করে দিলে পরব কোনটা' ইত্যাদি। অথচ ড্রয়ারে রেখে দেওয়ার সময় সেগুলো আপনি ভুলেও পরে দেখতেন না, দেবার সময় এগুলোই কত দরকারি কাপড়! এসব হল কৃত্রিম চাহিদা, এসব হল ইল্যুসন, এসব হল ধোঁকা।

এই ধোঁকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সিম্পল লাইফ লিড করার অভ্যাস করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমের জীবন ছিল কত সিম্পল। তাঁরা একবেলায় চিন্তা করতেন না পরেরবেলায় কী খাবেন। তাঁদের চিন্তা ছিল কেবল এবং কেবলমাত্র আল্লাহ্‌কে কীভাবে সন্তুষ্ট করা যায় তা নিয়ে। ফলে দুনিয়ার পেরেশানি, অন্তরের অভাব আর দারিদ্র্যের দুশ্চিন্তা থেকে আল্লাহ্‌ তাঁদের মুক্তি দিয়েছিলেন।
এবং পরিশেষে, একটি হাদীসে কুদসীঃ
আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন,

"হে আদম সন্তান, আমার ইবাদাতের জন্য তুমি নিজের অবসর সময় তৈরি কর ও ইবাদাতে মন দাও, তাহলে আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র্য ঘুচিয়ে দেব । আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাতকে ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব কখনোই দূর করব না।" [তিরমিযী ২৬৫৪, ইবনে মাজাহ্ ৪১০৭]

দুনিয়াবি কৃত্রিম চাহিদাগুলো যদি আমাদের ইবাদাতের সময়গুলো কেড়ে নেয়, তবে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কীই বা হতে পারে?

কমপ্লেক্স লাইফ
By Jubaer Hossain

ভালোভাবে লাইফ লিড করতে আসলে খুব সামান্য পরিমাণ সামগ্রীই লাগে। আমরা নিজেদের জন্য অনেকগুলো কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি ....

মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর লোকটিকে জিজ্ঞেস করতে পারবে সে কন্সার্টে যাবে কিনা?আপু,ছোট্ট একটা বাচ্চা, বয়স দুই কি তিন, বীরদর্পে...
06/03/2024

মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর লোকটিকে জিজ্ঞেস করতে পারবে সে কন্সার্টে যাবে কিনা?

আপু,

ছোট্ট একটা বাচ্চা, বয়স দুই কি তিন, বীরদর্পে হাটা দিল রাস্তা পার হবে বলে। তুমি পিছন থেকে ধরে ফেললে। সে যতই দাবী করুক সে সব গাড়ি চেনে এবং সে দেখেশুনে পার হতে পারবে তুমি কি তাকে ছেড়ে দেবে? সে এবার যদি বলে রাস্তা তো পার হবার জন্যেই তবুও কি তুমি তাকে ছেড়ে দেবে? আমি হলে ছাড়তামনা। কারণ হয়ত সে পার হতেও পারে কিন্তু সম্ভাবনা বেশি যে সে পড়ে যাবে বা খুব জোরে চলা একটা ট্রাকের সাথে ধাক্কা খাবে। এমনও হতে পারে বাচ্চাটাকে বাচাঁতে গিয়ে একটা গাড়ি হার্ডব্রেক করলো আর সেটা উলটে গেল। ব্যস্ত রাস্তা হলে তো কথাই নেই সেটাকে পিছন থেকে আরো কয়েকটা গাড়ি ধাক্কা মারবে। এ সব কিছুই যে হবে এমন কথা নেই কিন্তু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কারণ দু’তিন বছরের একটা শিশুর নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই। সে যতই দাবী করুক তার সামর্থ্যের কথা – আসলে তার সেটা নেই এবং সে সেটা জানেনা। আমরা মানুষেরা আসলে এই ছোট্ট বাচ্চাটার মত ভাবি, আমরা জানি আমাদের জন্য কি ভালো; আসলে জানিনা।

সুর আসলে কি? খেয়াল করলে দেখা যাবে এটা আসলে সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি – এ সাতটা নোটের অসংখ্য পারমুটেশন-কম্বিনেশন। কিভাবে সাজালে এটা মনকে ছুঁয়ে যাবে তা খুব মেধাবী কিছু মানুষের বিমূর্ত সৃষ্টি। এটা কিন্তু টেইলর-মেড, এমনভাবে ডিজাইন করা যেন তা মানুষের মনে দাগ ফেলে, তাকে আলোড়িত করে। প্রাকৃতিক সুর যেমন ঝর্ণার শব্দ বা পাখির ডাক মানুষকে মুগ্ধ করে, কিন্তু মনকে ঘন্টার পর ঘন্টা ভুলিয়ে রাখেনা। এই সুর মানুষের আত্মার জন্য সেই কাজ করে যা মদ শরীরের জন্য করে, সেটা হল ভুলিয়ে রাখা। গান-বাজনা মানুষকে সেই অমোঘ সত্যটা ভুলিয়ে রাখে যে এই পৃথিবীর সময় খুব কম, একে ছেড়ে আমাদের চলে যেতে হবে অন্য ধামে। আর সেখানে ভালো থাকার জন্য আমাদের অনেক কিছু করতে হবে – জানতে হবে, শিখতে হবে, মানতে হবে। কিন্তু কাউকে যদি ভুলিয়ে রাখা যায় সেই অবধারিত সত্য সম্পর্কে তবে সে না সতর্ক হবে না তার উচিত কাজগুলো সে করবে। তুমিই বল গান আর ক্বুরান কি এক সাথে শোনা যায়? কোন গানের অনুষ্ঠানের শুরুতে কি কেউ ক্বুরান তিলাওয়াত করে? তোমাকে আল্লাহর বাণী ক্বুরান থেকে দূরে রাখার জন্যই যে নিত্য-নতুন সুর আবিষ্কৃত হয় তা কি তুমি বোঝনা? এক মিউজিক তুমি কতবার শুনতে পারবে – কয়েকশ বার? হাজারবার? তারপর তুমি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাবে। তোমার মন নতুন কম্বিনেশন খুঁজবে। তোমার অসম্ভব প্রিয় সুরটি তোমার অসহ্য লাগবে। অথচ তুমি কি জান সুরা ফাতিহা একজন মানুষ শুধু ফরজ নামাজেই ১৭ বার পড়ে, নফল মিলিয়ে তা ৩০ ছাড়িয়ে যায়। এটা সে ৩৬৫ দিন পড়ে, বছরের পর বছর পড়ে, তাও কিন্তু বিরক্তি আসেনা – একি নেহায়েত কাকতালীয় ব্যাপার?মজার ব্যাপার হল নেশার যেমন স্তর বাড়ে সুরের ক্ষেত্রেও তাই। যে সিগারেট দিয়ে শুরু করে সে গাঁজা, চরস, কোকেইন, হিরোইন ধরে। মাদকের মানও বাড়ে, মাত্রাও। ঠিক তেমনি তুমি যদি ওয়ার্ল্ড মিউজিকের ক্রমবিবর্তন দেখ তাহলে দেখবে সুর শেষ হয়েছে অসুরে (ডেথ, থ্র্যাশ, ব্ল্যাক, স্লাজ মেটাল) আর ভালোবাসা শেষ হয়েছে ঘৃণা আর উন্মাদনায়। হালের ইংরেজি ব্যান্ডের গানগুলোর মধ্যে ধ্বংস, ধর্ষণ আর ধর্মহীনতার কেতন ওড়ে। এরা আল্লাহকে অস্বীকার করে কিন্তু শয়তানকে পূজা করে, অনুকরণ করে। শয়তানকে গানের কথায় ধারণ করে, স্টেজের অঙ্গভঙ্গীতে, মিউজিক ভিডিওগুলোতে, এলবামের কাভারে, পরণের গেঞ্জিতে, মুখের মুখোশে। এনিগমা থেকে শুরু করে আয়রন মেইডেন, ব্ল্যাক সাবাথ, লেড যেপেলিন… আর কত বলব?

বিলাস, ব্যভিচার, মাদক কিন্তু সঙ্গীতের হাত ধরে আসে। তুমি কি কখনো তোমার বাবাকে বলতে পারবে – "I want a double boom…. Together in my room"? অথচ এমটিভিতে এগান শুনতে শুনতে তুমি সেই গায়িকার উদ্দাম নাচ দেখছ, তোমার বাবাও হয়ত দেখছে, কেউ কিছু মনে করছে না। খুব বেশি লজ্জা লাগলে তুমি এক টিভিতে দেখছ, তোমার বাবার টিভি অন্য ঘরে। তোমাকে কি কেউ বলতে সাহস পাবে – "আসো আমার ঘরে, আমরা ঘরের দরজা বন্ধ করে রাত কাটাই"? জেমস কিন্ত বলছে "চাল চালে আপনি ঘর" তুমি শুনছ, সুরের তালে তালে মাথা দুলাচ্ছ। কত নোংরা একটা কথা সুন্দর সুরে গিটার বাজিয়ে বলায় তোমার কত ভালো লাগছে! তোমার স্কুল পড়ুয়া ছোট বোনটি কি কখনো তোমার সামনে অন্য কোন ছেলেকে বলতে সাহস পাবে "আসো আমার শরীরে হাত দাও, আমাকে চুমু খাও"? অথচ সেই মেয়েটি যখন গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে নাচের তালে তালে দশটা ছেলের দিকে তাকিয়ে গাইছে "যারা যারা টাচ মি টাচ মি, কিস মি কিস মি" তুমি খুশিতে হাততালি দিচ্ছ।

তুমি দাবি করতে পার তুমি ক্লাসিকাল গান শোন, এ সব গা-গরম গান তোমার ভালো লাগেনা। তুমি না হয় উতরে গেলে কিন্তু তোমার ভবিষ্যত প্রজন্ম? আমার বোন রবীন্দ্র শোনে সবসময়, কিন্তু ভাগ্নে শোনে রিহানা! তুমি যদি বাঁধে ছোট একটা গর্ত করে অল্প পানি আসতে দাও তবে সেই ছোট্ট ছিদ্র কিন্তু ছোট্ট থাকবেনা, বড় হবে। যে বাঁধ ভাঙার আওয়াজ আজ চারদিকে পাওয়া যায় তার শুরু কিন্তু ছোট্ট একটা ফাটল দিয়েই।

পঞ্চাশের দশকে সারা পৃথিবীতে বছরে যে ক’টা এলবাম বের হত আজ শুধু বাংলাদেশেই তার চেয়ে বেশি বের হয়। পঞ্চাশের দশকে সারা পৃথিবীতে বছরে যে ক’টা রেপ হত আজ শুধু বাংলাদেশেই তার চেয়ে অনেক বেশি হয়।

শিল্প-সংষ্কৃতি অনেক এগিয়েছে, মানুষের মানসিকতা? জগজিত সিং-এর কন্সার্টের টিকিট বিক্রি হয় ১০,০০০ টাকায়। সেইসময় কুড়িগ্রামে একটা মেয়ে না খেতে পেয়ে গলায় দড়ি দেয়। এই ১০,০০০ টাকার মধ্যে কি সেই মেয়েটাকে শুষে খাওয়া টাকা নেই?

প্রযুক্তির কল্যাণে সুর ছড়িয়ে পড়েছে, তবে অসুরই বেশি। ললিতকলা মানুষকে বন্য করেছে, সভ্য করেনি। প্যারিস হিলটনকে কি তোমার সভ্য মনে হয়? ম্যাডোনাকে? ব্রিটনি স্পিয়ার্স? তোমার ভাই এল্টন জনের চমৎকার অনুকরণ করতে পারে, সে যে শুধু গানই নিয়েছে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নেয়নি কিভাবে নিশ্চিত হলে?

তুমি বলতে পারো এগুলো বাণিজ্যিকধারার গান। কিন্তু একটা জিনিসের বাণিজ্যিকিকরণ কখন হয়? যখন তা অনেক মানুষ কেনে। "সোনা বন্ধু তুই আমারে ভোঁতা দা দিয়া কাইট্যালা" টাইপের গান শুনে আর ভিডিও দেখে তৈরি হয় ঐ সব নরপশু যারা তিন বছরের বাচ্চাকেও রেহাই দেয়না। আমরা মুখ ফুটে কখনো এদের বাঁধা দিইনি। এই নোংরা বাণিজ্যিকিকরণের দায় তো আমাদের সুশীল সঙ্গীতের উপরেও বর্তায়, তাই নয় কি? তুমি হয়তো বলতে পারো রাগ ভৈরবীর তবলার বোল শুনে তোমার আত্মিক উন্নতি হয়। কিন্তু আমার যে সেই বোলের সাথে একজন নাচনেওয়ালীর কোমর দুলানো দেখতে ইচ্ছে করে। সপ্তাহখানেক পর সেই কোমর ধরে দেখতে ইচ্ছে করে। আর এই সমাজে আমার মত লোকই যে বেশি। বিশ্বাস করলে না? সুনীলের "সেই সময়" পড়ে দেখতে পার। আমাদের আজকের সমাজের সুপারস্টার বাঈজীদের উদ্ভব হল কিভাবে জানতে পারবে।

তুমি যদি ধর্মগুলোর মধ্যে Corruption pattern খেয়াল করে তাহলে দেখবে হিন্দুদের খোল-করতাল দিয়ে কীর্তন, খ্রিষ্টানদের পিয়ানো-গিটার দিয়ে ক্রিসমাস ক্যারল আর বাউলদের ঢোল-দোতারা দিয়ে মুর্শিদী গান সবগুলোতেই সঙ্গত-সহ-সঙ্গীতকে উপাসনার স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে। আমরা এখন গানের সুরে মিলাদ করি। বাদ্যযন্ত্র যে হারাম এই বোধটা আমাদের ভিতর থেকে চলে গেলে আমাদের মসজিদগুলোতে দেখবে বাঁশি বাজিয়ে ডাকছে কিংবা হারমোনিয়াম বাজিয়ে মিলাদ। ওরা কি বলবে জানো? আমরা তো খারাপ কিছু করছিনা, আল্লাহর গুণগান করছি।

আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তার কোন কিছুই absolute evil নয়। সুর-বাদ্যযন্ত্রেরও ভালো দিক আছে, যেমন তা আমাদের ভালোলাগার একটা আবেশ দেয়। কিন্তু এটা আমাদের বিশ্বাস যে ইসলামের নিষিদ্ধ করা জিনিসগুলো আমাদের যতটুকু ভালো করে, তারচেয়ে খারাপ করে অনেক বেশি। আর সে জন্যই আমাদের বৃহত্তর ভালোর কথা চিন্তা করে আল্লাহ আমাদের সেটা নিষেধ করেছেন। তুমি হয়তো সেই শ্রেণীর মধ্যে পড়না বাদ্যযন্ত্র যাদের পশুর শ্রেণীতে নামিয়ে দেয়। কিন্তু একবার যখন কোন জিনিস নিষিদ্ধ হয় তখন তা পুরো মানব জাতির জন্যেই হয় – কোন ব্যক্তি বিশেষের জন্য তার অনুমতি থাকেনা। কেউ শরিয়তি নিয়মেরঊর্ধ্বে নয়। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সুর আর ধর্ম একসাথে চলেনা। গানের আসর থেকে উঠে গিয়ে নামায পড়তে দেখেছ কাউকে? শিল্পীদের? শ্রোতাদের?

তুমি ভাবতে পারো কেন তুমি অন্যদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাবে শাস্তি পাবে? এটাই তো ইসলাম। তুমি তোমার ভালোলাগাকে আল্লাহর ভালোলাগার কাছে সঁপে দিলে। তোমার ইচ্ছেকে তাঁর ইচ্ছের অধীন করে দিলে। তুমি এই আশায় বুক বাঁধলে যা তুমি ছেড়েছ তার চেয়ে বহুগুণে তুমি ফেরত পাবে। একেই বলে আত্মসমর্পণ অর্থাৎ ইসলাম।

গান শোনা ইসলামে একদম হারাম তা বলা যাবেনা। মা শিশুকে গান গেয়ে ঘুম পাড়াতে পারে। স্ত্রী ভালোবেসে স্বামীকে গান শোনাবে তাতে দোষের কিছু নেই। ঈদ-বিয়ে ইত্যাদি পরবে ছোটরা গান গেতে পারে যাতে নোংরা কথা থাকবেনা, খুব বেশি বাজনা থাকবেনা।

কিন্তু আমাদের যে কথাটা মনে রাখতে হবে সৃজনশীলতা মানুষকে দেয়া আল্লাহর অনেক বড় দান। এ দিয়ে পরমাণু বিদ্যুত তৈরি হয়েছে বটে, হিরোশিমা-নাগাসাকিও কিন্তু এরই অবদান। মোজার্টের সৃজনশীলতায় কার কি উপকার হয়েছে জানিনা, ইবনুল কাইয়িমের লেখা পড়ে অনেক মানুষ তাদের বিশ্বাস রক্ষা করতে পেরেছে। যে সৃজনশীলতা ধ্বংসের পথ খুলে দেয় তাকে আমরা চাইনা। যে শিল্পের পরিণাম একটা কল্যাণ আর শত অকল্যাণ তা থেকে দূরে থাকাই ভালো।

মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর লোকটিকে জিজ্ঞেস করতে পারবে সে কন্সার্টে যাবে কিনা? আমরা সবাই কিন্তু দিনকে দিন মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছি। ওর সময় হয়ে এলো বলে। আর আমাদেরটা আমরা জানিনা। যদি মরণকে সত্যি মানো তবে এমন কিছু করো যা মরণের পরেও কাজে আসবে। আর সেগুলো করতে গেলে দেখবে সময় কত কম। সময় আসলেই কম।

মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর লোকটিকে জিজ্ঞেস করতে পারবে সে কন্সার্টে যাবে কিনা?
By Sharif Abu Hayat Opu

আপু, ছোট্ট একটা বাচ্চা, বয়স দুই কি তিন, বীরদর্পে হাটা দিল রাস্তা পার হবে বলে। তুমি পিছন থেকে ধরে ফেললে। সে যতই দাবী ....

আমাদের আত্মপ্রতারণা[১]এটা প্রায়ই খুব গর্ব করে দাবি করা হয়, একুশ শতকে মানুষ অনেক এগিয়ে গেছে, অনেক উন্নত হয়েছে, তবে স্...
06/03/2024

আমাদের আত্মপ্রতারণা

[১]

এটা প্রায়ই খুব গর্ব করে দাবি করা হয়, একুশ শতকে মানুষ অনেক এগিয়ে গেছে, অনেক উন্নত হয়েছে, তবে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে “এগিয়ে যাওয়া” কিংবা “উন্নতি” – এই শব্দগুলোর অর্থ খুব একটা পরিষ্কার না, এই শব্দগুলো খুবই বিমূর্ত অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন, বিবর্তনবাদের চোখ দিয়ে দেখলে সাদারা কালোদের থেকে উন্নত, কারণ সাদারা নাকি কালোদের থেকে বেশি বিবর্তিত! এই থিওরিটি বিক্রি করে উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপিয়ান জাতিগুলো সাম্রাজ্যবাদের যে ধারা সূচনা করেছিল তার লাগাম আজ আমেরিকার হাতে। মারামারি করে যে বা যারা টিকে থাকতে পারে তারাই সেরা- এটাই এই থিওরির সোজাসাপ্টা কথা। এই থিওরি এখন না চললেও ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন মতবাদে কিন্তু একই উদ্দেশ্যে সাম্রাজ্যবাদ রয়ে গেছে, শুধু নাম হয়েছে “war on terror”।

বর্তমান সমাজে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিকেও অনেক বড় উন্নতি হিসেবে দেখা হয়। আমাদেরকে বইতে বোঝানো হয়েছে যে উন্নত দেশ হল আমেরিকা, ব্রিটেন- কারণ হিসেবে বুঝেছি সেখানকার লোকজন হরদম এসির বাতাস খায়, গাড়িতে আর প্লেনে চলে, উচু বিল্ডিং এ থাকে- তবে এসির বাতাসে যতই অপকর্ম হোক, সেটা উন্নতির সংজ্ঞাকে বাধাগ্রস্ত করছে না।

আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিরা উন্নত বলতে বুঝিয়ে থাকেন পশ্চিমা দেশগুলোকে, কারণ সেসব দেশে আছে “গণতন্ত্র”, “ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ”, “liberalism”, “ফ্রিডম”, “বাকস্বাধীনতা”, “জেন্ডার ইকুয়ালিটি”, এসব থাকা সত্ত্বেও হয়ত সে দেশটি চরম ভাবে অনাচার আর পাপাচারে লিপ্ত। আমার এক বন্ধু কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিল।

Name the country that–

recruits huge people in army who was born from s***m bank.

is affected by unemployment problem.

contains lowest number of 15+ virgins.

earns about 55% revenue from P**n industry.

has the highest number of Divorce & lowest number of Family (in percentage).

উত্তরটা আমেরিকা ওরফে ইউনাইটেড স্টেট অফ জাহেলিয়া। অজ্ঞাত কারণে আতেল বুদ্ধিজীবিরা এ ব্যাপারগুলোকে এড়িয়ে যান যদিও তারা জানেন, এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মানুষ, তার চিন্তাচেতনা এবং কাজকর্ম সমাজেরই প্রোডাক্ট। ব্রিটেনের ধর্মনিরপেক্ষ উদারপন্থী সমাজে দিনে হাজারখানেক ধর্ষণ হয়, পারিবারিক বন্ধন সেইসব দেশে হুমকির মুখে, আমেরিকার মত জায়গায় প্রচুর বেকার আর এডিক্টেড ছেলেমেয়ে; চারিত্রিক অধপতন তো আছেই। সেখানে ফ্রিডম অফ স্পিচ এর ভাল প্র্যাকটিস হয় “ফ্রিডম অফ ইনসাল্টে”, জাতিসংঘে যখন রেসিজমের বিরুদ্ধে কনফারেন্স করে তখন ইসরায়েলের অপকর্মের কথাগুলো ড্রাফট রেজুলেশন থেকেই বাদ দিতে হয় সে উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোরই চাপে। এদেশের আতেল বুদ্ধিজীবিরা এসব খুব ভাল করে জানলেও তারপরও তারা গৎবাধা বুলি আওড়াতেই থাকে, সম্ভবত ওই দেশগুলো থেকে ডিগ্রি আনার সময়কার পরিষ্কার রাস্তাঘাট, চকচকে টাইলসের টয়লেট আর তকতকে হাসপাতালের স্মৃতি তারা ভুলতে পারেন না, শুধু ভুলে যান তাদের ব্যর্থতাগুলো তাদের ত্রুটিপূর্ণ মতাদর্শেরই ফলাফল। এরা হল তারা যারা গ্রামের মোড়লের হেনাদেরকে দোররা মারার কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে কলাম লিখতে থাকে কিন্তু যখন বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তার এয়ারক্রাফট নিয়ে “দোররা” মারতে থাকে তখন তারা সেখানে জঙ্গিবাদ খুজতে থাকেন।

সমস্যা তাই থেকেই যায়, কোন দেশকে আমরা উন্নত বলব? জাপানের মানুষদের অনেক উন্নত মনে হত, পরে একসময় শুনলাম তাদের মধ্যে নাকি আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, তখন মনে হল, যে জীবনব্যবস্থা জীবনের প্রতিই বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে সে জীবন উন্নত হয় কেমন করে?

[২]

আমাদের সমাজটা ২০১১ সালেও অজ্ঞানতা আর মূর্খামীর যুগে বসে আছে, এ অজ্ঞানতা আর মূর্খামী গুহা মানবদের যুগ(যদি থেকে থাকে) থেকে উচু দালানে এসির বাতাস হয়ে আসছে। পুনম পান্ডেরা কোন কিছু চিন্তা ভাবনা না করে সস্তা জনপ্রিয়তা আর টাকার লোভে কাপড়-চোপড় খুলে ফেলে আর আমরা তাকে নিয়ে নাচতে থাকি। আমাদের সমাজে পরকীয়ায় জন্য নিজ সন্তান আর পরিবারকে বাদ দিয়ে কখনও স্বামী, কখনও বা স্ত্রী ছুটে যাচ্ছে আরেকজনের কাছে, আনিসুল হকও শিখিয়ে দিচ্ছে “এ এক অপ্রতিরোধ্য ভালবাসা”। কোন একটা ছেলের যখন কোন মেয়েকে ভাল লাগছে তখন সে আগপাশ না ভেবে সেই মেয়েকে একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান ভেবে ছুটে যাচ্ছে, মেয়েটাকে না পেলে হয়ত ১৪ ফেব্রুয়ারি নিজের গায়ে আগুন দিচ্ছে, কিংবা মেয়েটিকেই মেরে ফেলছে। তবে হিন্দি সিরিয়াল আর সিনেমার প্রেমকাহিনী পরিবারের সবাই বসে উপভোগ করবে, নিজেদের জীবনে ঘটলে পরে তাদের মাথায় দুশ্চিন্তার উদ্রেক হয়, চিন্তার উদ্রেক হয় না।

যে মানুষটার টাকা দরকার সে ঘুষ খেয়ে হোক বা লাশ নয় টুকরা করে হোক সে তার টাকা আদায় করেই ছাড়ছে-চিন্তা করছে না কাজটা করা কি ঠিক নাকি ভুল। শেয়ার বাজারে একটা মানুষ যে গতিতে টাকা পয়সা বিনিয়োগ করবে তার থেকে বেশি গতিতে সে টাকা পয়সা হারানোর পর তার হুশ ফিরবে, তারপর চোখের সামনে যা পড়বে সে তখন তা ভাঙ্গাভাঙ্গি করবে। এদেশের লোকজন সবচেয়ে বেশি প্রতারণার শিকার রাজনীতিবিদদের হাতে, তবু ৫ বছর পরপর তারা ঠিকই ভোট দিচ্ছে আর ভাবছে, “বাহ! গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করলাম!” মাস খানেক পর যাকে সে ভোট দিয়েছে তাকে আবার গালাগাল দিতে একটুও দেরি করছে না! সে ভোট দেবে, গালিও দেবে, যেটা সে করবে না তা হল কাজটা করার আগে একটুখানি চিন্তা।

বিশ্ব মোড়ল আমেরিকার আচরণও এর ভিন্ন রকম কিছু নয়, যখন কোন দেশে তাদের স্বার্থ ব্যাঘাত ঘটে তখনই তারা সে দেশে আল-কায়েদা বসিয়ে দেয় আর বলে “আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সদা তৎপর”। বিশ্বের বোকা জনগণকে দেখানো হয়, আমেরিকা যাচ্ছে সে অঞ্চলের লোকজনকে স্বাধীন করতে। তবে লোকজন এখন ব্যাপারটা বোঝে যে এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, এটা ইসলামের বিরুদ্ধে।

[৩]

আমাদের ‘ধ্বজ’ মিডিয়াগুলো অনেক কাজের! তারা খবর ছাপে, টকশো আয়োজন করে কিন্তু সেই পুরানো প্যাচালগুলোই পাড়তে থাকে। আমরা কেউ কি খেয়াল করে দেখেছি যে আমরা একটি লুপে আটকা পড়ে গিয়েছি??? আমরা নির্দিষ্ট কিছু ধারণার বাহিরে যেতে পারছি না? আমরা সে গণতন্ত্রের কথা বলছি অনেক বছর ধরে, আমরা সেই সংস্কৃতি, জাতীয়তাবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি আওড়ে বেড়াচ্ছি, সরকার পতন করছি, নতুন সরকার আসছে কিন্তু অবস্থার কোন সত্যিকার পরিবর্তন কি আসলে হয়েছে? আমাদের আসলে কি প্রয়োজন সেটা কি ভেবে দেখেছি নাকি যা মাথায় আসছে তাই করছি?

[৪]

সমস্যার কারণ হল আমাদের corrupted mindset. আমরা আজ সবকিছু বিচার করি কিন্তু ভুল পাল্লাতে। সমস্যা আজ সমস্যা নয়, সমস্যা হল আমাদের চিন্তাপদ্ধতি। আজ আমরা আমাদের ভাল মন্দকে সত্যের উপর প্রাধান্য দিয়ে বসে থাকি। যা আমাদের পছন্দ নয় তা সত্য হলেও অস্বীকার করি, যা আমাদের পছন্দ তা সত্য না হলেও সেটা বিশ্বাস করতে ভালবাসি।

আমরা উপাসনা করি আমাদের প্রবৃত্তির। আমরা যখনই কোন কাজ করছি প্রথমেই চিন্তা করছি আমাদের স্বার্থের কথা, কাজটির সত্যতা বা সঠিকতার কথা নয়। আমরা বারবার যে ভুলটা করছি তা হল, আমাদের সত্যের উপরে স্থান দিচ্ছি আমাদের কামনা-বাসনার।

আমরা বারবার মৌলিক একটা আলোচনা বারবার এড়িয়ে যাচ্ছি, আমরা যা কিছু বিচার করি তার সবটাই আমাদের ভাল-লাগা বা ভাল না-লাগার বা মেনে নিতে পারা-না পারার ভিত্তিতে কিংবা সমাজ থেকে শিখিয়ে দেয়া কিছু ধারণার ভিত্তিতে, সত্যের ভিত্তিতে নয়। আমাদের কি ভেবে দেখা দরকার নয় আমরা কি সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারছি এবং সবকিছুকে সঠিকভাবে বুঝতে পারছি কিনা?

আমরা কি subjective ভাবে চিন্তা করি নাকি objectively? ইসলামে ফ্রি মিক্সিং নেই বলে ইসলামকে ব্যাকডেটেড বলছি? ইসলামে চোরের শাস্তি হাত কাটা, উন্নত বিশ্বে জরিমানা- বলে ইসলাম নিষ্ঠুর? ইসলাম পারিবারিক বন্ধনকে খুব গুরুত্বের সাথে এবং ইসলামে ব্যাভিচারের শাস্তি দোররা মারা- এজন্য ইসলাম বর্বর? আমরা পশ্চিমাদের মত লিভ টুগেদারে বিশ্বাস করি না বলে তারা এগিয়ে আছে আর আমরা পিছিয়ে আছি? আমাদের মেয়েরা পশ্চিমাদের মত খোলামেলা কাপড় না পরে শরীর ঢেকে চলে বলে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত, আর তারা স্মার্ট? liberated? ইসলামে কর্পোরেট পতিতাদের স্থান নেই বলে নারী ‘স্বাধীনতা’র ভারি অভাব? ইসলামে মদ খাওয়া যায় না তাই ইসলামে সহনশীলতার অভাব? ইসলামে হোমোসেক্সুয়ালিটি নেই, উন্নত বিশ্বে আছে- এই জন্যে ইসলামে দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ?

ইসলামে গণতন্ত্র নেই বলে ইসলামের শাসন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ? ইসলামে ফ্রি-মার্কেট ইকোনমি নেই বলে ইসলাম একুশ শতকে যায় না? “যা-ইচ্ছে-তাই” করার স্বাধীনতা নেই বলে ইসলাম বর্জন করে সেকুলার হতে হবে? একুশ শতক মানেই ব্রিটিশ-আমেরিকান-ফরাসী নীতি আর ইসলাম মানেই সেকেলে?

***

আমার প্রিয় একজন লেখক এভাবে লিখেছেন,

– Would we consider the development of China wrong because it was not entirely built upon the free market model, even though it’s on course to become the largest economy on the planet within 30 years?

– Would it be wrong for Indian companies to offer free medical alternatives to its poor because Capitalism abhors state intervention in the economy?

– Would we consider state handouts to the poor wrong because Capitalism advocates leaving the wellbeing of citizens to the market?

– Would we consider caliphate has failed just because it was not built upon the secular democratic model though it successfully ruled thousands of people with justice?

***

আমরা মানতে পারছি না বলেই ইসলামে “বাড়াবাড়ি” আছে? আমাদের ঠিক “পছন্দ” হচ্ছে না বলে ইসলামে কি যেন নাই? আমাদের ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক বলে ইসলামকে বাদ দিয়ে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে prioritize করতে হবে? পশ্চিমাদের জীবনাদর্শ এবং তাদের দালাল বুদ্ধিজীবিদের কেচ্ছা-কাহিনীর সাথে ইসলামের মিল নেই বলে আজ ইসলামকে বাদ দিয়ে পশ্চিমাদের থেকে সব কিছু নিলে আমরা স্মার্ট হয়ে যাব?

আজকে আমরা যখন ইসলামকে দেখি তখন কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে ইসলামকে মেপে দেখি, যখন দেখি তার সেকুলার মূল্যবোধ যেমন personal freedom, human rights, democracy ইত্যাদির সাথে ইসলাম যায় না, তখনই ইসলামকে লেবেল লাগিয়ে দিই “ব্যাকডেটেড”। হতে পারে আমাদের মাপকাঠিতেই ভুল আছে, কিন্তু এই মৌলিক আলোচনায় না গিয়েই আমরা “ফতোয়া” দিতে দেরি করি না। প্রচলিত সেকুলার সমাধানগুলোর সাথে ইসলামের সমাধানগুলোর মিল নেই বলেই ইসলামের কার্যকারিতা হারিয়ে গেছে- মিডিয়াগুলো কি আমাদেরকে এটাই শেখাচ্ছে না? ইসলামকে কি আমরা স্বার্থ, সেকুলারিজম আর ফ্রিডমের লেন্স দিয়ে দেখছি না?

[৫]

উন্নতি এবং সভ্য জাতির আলোচনায় ফিরে আসি। একটা মানুষ বা জাতি আসলে কখন উন্নত হবে? উন্নতির মাপকাঠি টাকাপয়সা বা প্রযুক্তিগত বিদ্যা নয়, কিংবা নিজেদের মত করে সংজ্ঞায়িত করা কিছু নৈতিকতার ভিত্তিতে নয়, কিংবা পশ্চিমা জীবনব্যবস্থা, মতাদর্শ বা মতবাদকে আদর্শ ধরেও নয়। সে মানুষ বা জাতিই প্রকৃত উন্নত যে সত্যকে চিহ্নিত করেছে, গ্রহণ করেছে এবং সত্য ধারণাকে তার বিশ্বাস, জীবনব্যবস্থা এবং কাজকর্মের ভিত্তি হিসেবে নিরঙ্কুশ চিত্তে গ্রহণ করেছে।

কি সে সত্য যা একটা মানুষ বা জাতির জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে পারে? আমরা যদি আমাদের দিকেই দেখি তাহলে দেখব প্রত্যেকটা মানুষের কাজ-কর্ম নির্ধারিত হয় তার জীবনদর্শনের উপর। অর্থাৎ একটা মানুষ তার জীবনকে কিভাবে দেখে, “সে কিভাবে এসেছে”, “সে কোথা থেকে এসেছে” “এবং কেন এসেছে”, এই প্রশ্নগুলোর ভিন্নতার উপর মানুষের জীবনযাত্রার হেরফের করে।

যেমন একটা মুসলিম ছেলে একটা মেয়েকে দেখলে তার দৃষ্টি নত করবে যদিও বা মেয়েটি ভয়ংকর সুন্দর হয়! typical সেকুলার লিবারেল সোসাইটির প্রোডাক্ট যে ছেলে সে একটা সুন্দর মেয়েকে দেখলে বন্ধুদের দেখিয়ে বলবে , “দেখ দেখ চিকস দেখ”। আরও খারাপ কিছু করতে উৎসাহ দেয় এরকম আদর্শও পৃথিবীতে আছে। খ্রিস্টান একটা ছেলে বাইবেল খুলে হয়ত সমাধানই পাবে না যে একটা মেয়েকে একটা খ্রিস্টান ছেলের কিভাবে দেখা উচিত।

জীবনদর্শনের ভিন্নতা যখন মানুষের জীবনব্যবস্থার মধ্যে প্রতিফলিত হয় তখন কি মানুষের স্বাভাবিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত একটি চিন্তা বা প্রশ্ন আসার কথা নয় যে কোন জীবনদর্শনটি আসলে সত্য?

[৬]

মানুষকে পশু থেকে যে ব্যাপারটি স্বকীয় করে সেটা হল চিন্তা, লেজ নয়। পশু চিন্তা করে না, মানুষ করে। এটা ছাড়া আর বাকি সব কিছুতেই অনেক মিল, বেচে থাকার জন্য যে প্রয়োজনীয় জাগতিক জ্ঞান সেটা মানুষের যেমন আছে সেটি পশুরও আছে। আমাদের বাসার সামনে গত অনেকদিন ধরে অনেকগুলো কুকুর নিজেদের মাঝে খুব পাকায়। তারা খায়, ঘুমায়, দৌড়ায় আর মারামারি করে। আমার প্রবল সন্দেহ এই মারামারির পেছনে দুইটা কারণ – একটা হল কোন বিরোধপূর্ণ টেরিটরির উপর কর্তৃত্ব স্থাপন সংক্রান্ত, আরেকটি নারী ঘটিত।

আমরা মানুষরা যদি চিন্তা না করি তাহলে আমরা এই কুকুরের মতই। কুরআনে আল্লাহ তা’আলা অনেকবার বলেছেন সবকিছু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে এবং গভীরভাবে চিন্তা করতে।

"তারা কি তাদের মনে ভেবে দেখে না যে, আল্লাহ নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথরূপে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।" [৩০:৮]

"তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?" [৪৭:২৪]

এবং নিষেধ করেছেন বাপ-দাদার অন্ধ অনুকরণ না করতে, নিষেধ করেছেন ট্রেডিশনের সাথে গা ভাসিয়ে না দিতে,

"আর যখন তাদেরকে কেউ বলে যে, সে হুকুমেরই আনুগত্য কর যা আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে কখনো না, আমরা তো সে বিষয়েরই অনুসরণ করব। যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি। যদি ও তাদের বাপ দাদারা কিছুই জানতো না, জানতো না সরল পথও।" [২:১৭০]

এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ না করতে,

"আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?” [৪৫:২৩]

আমাদের কথাই কি বলা হচ্ছে না?

[৭]

শুধুমাত্র “আমাদের ভাল লাগে না” এই যুক্তিতে আমরা কোন কিছুকে ত্যাগ করতে পারি না। আমরা এজন্যও কোন কিছুকে আকড়েও ধরে রাখতে পারি না এই যুক্তিতে যে এটা আমাদের “করতে ভাল লাগে” বা এটা আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের জানতে হবে কোনটা আসলেই সত্য। সত্যকে অস্বীকার করার মধ্যে স্মার্টনেসটা কোথায়? সত্য না জেনে অন্ধকারে বসে থাকাটা কিভাবে ভাল হতে পারে?

তাই কোন ধারণা বা আদর্শ বা বিশ্বাসকে যখনই আমরা “judge” করতে যাব তখনই আমাদের মাথা থেকে পুরোন সব ধ্যান ধারণা ঝেড়ে ফেলে তারপর judge করা দরকার। আমাদের বিচার করতে হবে একটা আইডিয়া কতটুকু সত্য, আইডিয়াটি আমাদের স্বার্থ উদ্ধার করছে কিনা সেটা আলোচনার বিষয় নয়, আইডিয়াটি প্রচলিত ধারণা বা ঐতিহ্যের সাথে সাথে সাংঘর্ষিক কি না সেটাও ভাবার বিষয় নয়, কেননা আমাদের প্রচলিত ধারণাগুলোও ভুল হতে পারে। আমাদের দেখতে হবে, আইডিয়াটির বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি (intellectual foundation) কতটুকু সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।

তাই আমরা যখন ইসলাম বা অন্য কোন কিছুকে গ্রহণ করব প্রথমেই দেখতে হবে সেটি সত্য ধারণা থেকে এসেছে কিনা।

ইসলামকে বিচার করতে হলে তাই প্রথমেই যে আলোচনাটি আসবে তা হল সৃষ্টিকর্তা আসলেই আছেন কিনা, ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে বা গণতন্ত্র আছে কিনা বা ইসলাম নারীদেরকে পশ্চিমাদের মত করে দেখে কিনা– সেই আলোচনা নয়। বরং সৃষ্টিকর্তা আছে কি নেই এর জন্য এমন একটি উত্তর প্রয়োজন যা মানুষের যুক্তি-চেতনার (rational thinking and human reasoning) সাথে মানানসই, এটা ভিন্ন জীবনাদর্শ বা সংস্কৃতির সাথে মানানসই হওয়া কিংবা আবেগপ্রবণ মনকে স্যাটিসফাই করা জরুরি নয়।

ট্রেডিশনাল নাস্তিকরা বলে থাকে, ইউনিভার্সের কোন সৃষ্টিকর্তা নেই, কারণ তার শুরুই নেই এবং শেষও নেই। বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন খুব সোজা সাপ্টা ভাষায়, স্টিফেন হকিং এর মত পেচান নি।

“Universe is just there and that’s it.”

কথাটা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। আমরা যখন আমাদের চারপাশ দেখি এবং ভাবি তাহলে আমরা দেখব আমাদের এই বিশ্বজগতে কোন কিছুই এমনি এমনি হয় না, সব কিছুর পিছনে একটা কারণ আছে, দর্শনের ভাষায় বলে “কার্যকরণ সুত্র” বা “law of causality”। যেমন-এই লেখাটা আপনি হয়ত পিসিতে বসে পড়ছেন, এই পিসিটা এমনি এমনিই হাজির হয়নি, সেটা কেউ তৈরি করেছে এবং এটা চালাতে ইলেকট্রিসিটি লাগে। ইলেকট্রিসিটি এমনি এমনি পাওয়া যায় না, তাকে টারবাইন ঘুরিয়ে উৎপাদন করতে হয়। টারবাইন বেচারাকেও কষ্ট করে কোন মেকানিক্যাল ফোর্স দিয়ে ঘুরাতে হয়। সে ফোর্স আবার এমনি এমনি আসবে না, সেটা আসবে তেল-গ্যাস জ্বালিয়ে …

এটা একটা চেইনের মত, প্রত্যেকটি ঘটনা (effect) এর পিছনে একটি কারণ (cause) থাকে। ট্রেডিশনাল নাস্তিকরা এটা অস্বীকার করে না, তারাও স্বীকার করে সবকিছুর পেছনে কারণ থাকে। কিন্তু তাদের যে দাবিটি ত্রুটিপূর্ণ তা হল, কারণ(cause) এবং ঘটনা(effect) এর এই চেইনটির পেছনের দিকে যেতে থাকলে তার কোন শেষ নেই অর্থাৎ অসীম, এই চেনের কোন শুরু বা শেষ নেই।

আসলে কি এটা সম্ভব?

আমাদের চারপাশে যা দেখি সবকিছুরই শুরু আছে, অনাদি থেকেই exist করে বসে আছে এমন কিছুই আমাদের নেই, কারণ প্রতিটি বস্তুর অস্তিত্ব অন্য কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল। তাই ইউনিভার্সের শুরু নেই ধারণাটি আমাদের কার্যকরণ সুত্রকে লঙ্ঘন করে।

আমরা আরও যদি দেখি তাহলে দেখব যা কারণ এবং ঘটনার যে চেইনকে নাস্তিকরা অসীম বলছে তা কি আদৌ সম্ভব? ধরি, একটি অসীম(infinite) সংখ্যক সৈন্যের একটি লাইন। নিয়মটা এমন, যে প্রত্যেক সৈন্য তার ডান পাশের সৈন্যের নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত গুলি করবে না, পাশের সৈন্যটিও তার ডান পাশের সৈন্যের নির্দেশ পেলে গুলি করবে না, পাশেরটিও তার পাশের সৈন্যের অপেক্ষায় বসে আছে … এভাবে এই অপেক্ষা চলে যাবে অসীম পর্যন্ত … … …

প্রশ্ন হল, কোন সৈন্যের কাছে কি আদৌ গুলির নির্দেশ পৌছবে?

পৌছবে না, কারন এটি অসীমে চলে যাবে, তাই ঘটনাটিই ঘটবে না।

ঠিক একইভাবে আমাদের ইউনিভার্সের ক্ষেত্রেও। সব কিছুর পেছনে একটি কারণ আছে, সে কারণের পেছনে আরেকটি কারণ আছে, তার পেছনে আরেকটি কারণ … এভাবে অনেকদূর চলে যেতে পারে কিন্তু অসীমে যেতে পারবে না, কারণ অসীমে চলে গেলে এই চেইনের শুরুই পাওয়া যাবে না, বর্তমান ঘটনাগুলো ঘটবে না, বা ঘটতে লাগবে অসীম সময়, অসীম সময়ের পরের ঘটনা ঘটে না? বাস্তবজগতে অসীম বলে কিছু নেই, এটি একটি সুপ্ত(potential) ধারণা, বাস্তব (actual) ধারণা নয়।

তাই ইউনিভার্সের একটি শুরু আছে, শুরু না থাকলে এই কারণ-ঘটনা-কারণ এই চেইনের অস্তিত্বে আসাই সম্ভব নয়, ইমাম গাজ্জালি পুরো ব্যাপারটা হলো লিখেছেন অনেকটা এই ভাবে,

কোন কিছু যখন অস্তিত্বে আসতে শুরু করে তার পেছনে একটি কারণ থাকে, এমনি এমনি কিছু হয় না। (whatever begins to exist has a cause)

ইউনিভার্সের শুরু আছে। (universe began to exist)

তাই ইউনিভার্সের পেছনে কারণ আছে। (so, universe has a cause)

আমরা যেহেতু আগে প্রমান করেছি কারণ এবং ঘটনার সম্পর্কের যে চেইন তার একটি শুরু আছে, যেহেতু তার শুরু আছে, তাই শুরুতে যা আছে তার পেছনে কিছু নেই, অর্থাৎ এমন একটি কারণ থাকতেই হবে যার পেছনে আর কোন কারণ নেই, ধরি সে কারণটি হল X, এর পেছনে কোন কারণ নেই (uncaused cause)।

যেহেতু ইউনিভার্সের পেছনে কারণ আছেই, তাই এই ‘X’ ইউনিভার্স নয়। এই প্রথম কারণটি এমন কিছু যা অবশ্যি তাই ইউনিভার্সের মতও নয় (ইউনিভার্সের মত হলে তার কারণ থাকবে), এই কারণটির (X) পেছনে কোন কারণ নেই তাই সেটি স্বনির্ভর এবং তার কোন শুরু নেই এবং যেহেতু সেটি সবসময় অস্তিত্বে ছিল (ever-existing) তাই অন্যসব কিছুই সেটি থেকে এসেছে এবং তাই সেটিই হল সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা।

কুরআনে আল্লাহ পাক নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন এইভাবে,

"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নিএবং তার সমতুল্য কেউ নেই।" [১১২:১-৪]

আল্লাহ আরও বলেছেন,

"তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?না তারা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না।" [৫২:৩৫]

খুব সহজ-সরল যুক্তি, নাস্তিকদের ‘নবী’ রিচার্ড ডকিন্সের মত জটিল নয়! ইউনিভার্স নিজে নিজেকে সৃষ্টি করতে পারে না, এমনি এমনিও আসতে পারে না, সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সেক্ষেত্রে আর কিভাবে ইউনিভার্স আসতে পারে??

কুরআনঃ

রাসূল(সাঃ) এর কাছে যখন কুরআন নাযিল হল তখন তিনি এ কথা বললেন না যে, “তোমাদের কুরআন মেনে চলতে হবে কারণ এই আমি বলছি কুরআন মানতে হবে”, যেমনটি আমেরিকা করে থাকে! তিনি বললেন, কুরআন কে মানতে হবে কারণ কুরআন হচ্ছে সত্য।

"সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।" [১০:৯৪]

এই কথাটা কুরআনে আরও অনেকবার বলা হয়েছে। এটা যে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত এ কথা বললেই তো তা সত্য হয়ে যাবে না, তা প্রমাণ করার দায়ভারও কিন্তু কুরআনের উপরে বর্তায়। এ বিষয়টি কুরআনে এড়ানো হয় নি।

"এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।" [২:২৩]

"যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে এর অনুরূপ কোন রচনা উপস্থিত করুক।" [৫২:৩৪]

আল্লাহ এখানে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন কুরআনের মত করে অন্তত একটি সূরা লিখে নিয়ে আসতে। কুরআনের মত মানে হল কুরআনের মত কোন একটি “সাহিত্যকর্ম” তৈরি করে আনতে।

কুরআন নিয়ে বছরের পর বছর অনেক বিশ্লেষণ হয়েছে। কুরআনের এই চ্যালেঞ্জটি আমাদের বোঝা প্রয়োজন। সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন রকম শ্রেণীবিভাগ থাকে। যেমন আরবীতে এটা দুই প্রকার-কবিতা এবং গদ্য। কবিতার মধ্যে আছে ১৬ রকম প্যাটার্ন। আর গদ্য আছে ২ প্রকার।

কুরআন এমন একটি সাহিত্যকর্ম যা কবিতা বা গদ্য কোন ক্যাটাগরিতেই পড়ে না, অর্থাৎ আরবী সাহিত্যের এই ১৬+২=১৮টি ক্যাটাগরির বাহিরে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ক্যাটাগরি, ১৯নম্বরে গিয়ে পড়ছে। আল্লাহ বলছেন, যদি এই কুরআন আল্লাহ না লিখে থাকেন তাহলে অবশ্যই কোন মানুষ লিখেছে। বাকি ১৮ রকম ক্যাটাগরি যদি মানুষের হয়ে থাকে সেগুলো মানুষ যেমন লিখতে বা সৃষ্টি করতে পারে তেমনি কুরআন যদি মানুষের হয়ে থাকে তাহলে সেটিকেও অনুকরণ করা যাবে, তাই তিনি কুরআনের মত করে অর্থাৎ কুরআনের সাহিত্য বিন্যাস(literary genre/form) নকল করে কিছু লিখে এনে প্রমাণ করতে বললেন যে এটি কোন মানুষের লেখা গ্রন্থ।

এ চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে আরবী ভাষায় আছে ২৮টি বর্ণ এবং কিছু ব্যাকরণগত নিয়ম-কানুন, এগুলো স্বাধীন, সবার কাছে উন্মুক্ত। কুরআন এগুলো দিয়েই লেখা হয়েছে, কাজেই অন্য সাহিত্যকর্মের ধরণ যেমন অনুকরণযোগ্য, ঠিক তেমনি কুরআনও সেগুলোর মতই অনুকরণযোগ্য হবে, কারণ যদিও বা কুরআনের সাহিত্যরীতি বা বিন্যাসটি ভিন্ন তা আরবীতেই লেখা হয়েছে।

কিন্ত যদি না হয়, তাহলে বুঝতে হবে, এই কুরআন লেখা মানুষের স্বাভাবিক ক্ষমতার বাহিরে অর্থাৎ এটি কোন মানুষের লেখা নয়। যেহেতু ভুত-প্রেত বলে কিছু নেই, মানুষও লেখে নি, কাজেই একমাত্র বৈধ যে অপশনটি থেকে যাচ্ছে তা হল এটি সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে এসেছে।

তাই আল্লাহ বলে দিয়েছেন,

"আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।" [২:২৪]

১৪০০ বছরে কুরআনের এই চ্যালেঞ্জটি কেউ সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে পারেনি, যা দ্ব্যর্থহীন ভাবে নির্দেশ করে কুরআন কোন মানুষের রচনা নয়!

সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কুরআনে আল্লাহ বলছেন,

"বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে।" [১৮:২৯]

[৮]

“আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।" [৫১:৫৬]

ইসলাম হল সত্য- এটা একবার প্রমাণ হওয়ার পর ইসলামকে আর অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই, কেউ ঔদ্ধত্যবশত করতে পারেন,

"তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।এবং বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব। না, তিনি সত্যসহ আগমন করেছেন এবং রসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছেন।" [৩৭:৩৫-৩৭]

সেক্ষেত্রে আল্লাহ বলে দিয়েছেন,

"যারা দুষ্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ।" [৪৫:২১]

সত্য জানার পরেও যদি আমরা যদি স্বার্থে আঘাত হানবে বলে, ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে, ভাল লাগছে না বলে সেটা গ্রহণ না করে অন্ধকারের মাঝে সফলতার চিত্র আকার ভান করি সেটা কি আমাদের নিজেদের সাথে প্রতারণা করা হয় না?

আমাদের আত্মপ্রতারণা
By Zim Tanvir

[১] এটা প্রায়ই খুব গর্ব করে দাবি করা হয়, একুশ শতকে মানুষ অনেক এগিয়ে গেছে, অনেক উন্নত হয়েছে, তবে স্থান-কাল-পাত্র ভে...

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kaiyum Ahammud Udoy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share