20/08/2024
ক্ষমতাচ্যুত হবার পর Sajeeb Wazed জয় সাহেবের (ভদ্রতা বজায় রাখলাম) যে মতিভ্রম হবার অবস্থা হইছে সেইটা ওনার বিগত কিছুদিনের ভিডিও বক্তব্যে ব্যাপকভাবে প্রকট… সেই সাথে যুক্ত হইলো এই ছবিটা কভার ফটো দিয়ে নিজেকে লজ্জিত করার ব্যাপারটা…
এই ছবিটা ব্যবহার করাটা ওনার জন্য কেন লজ্জাজনক সেটা একটু ব্যাখ্যা করি…
তিনি হয়তো ভাবতেছেন, আহা! তার কোন ত্যাগী নেতা বা তার লীগীয় কোন আর্টিস্ট হয়তো এটা এঁকেছেন…
তিনি যদি একটু খোঁজ নিতেন তাহলে জানতে পারতেন দুষ্কৃতিকারীরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত মিউজিয়ামে আগুন দেবার পর, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীগন তাদের পক্ষে যতখানি সম্ভব হইছে ততখানি পরিষ্কারের চেষ্টা করে গেছে, সেই সাথে হুমকি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীগণ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দিন-রাত সেই রাস্তা ও বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গেছে, তারা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করেছে রঙ ও তুলির মাধ্যমে সেই জায়গার সংস্কার করার…
খোঁজ নিলে হয়তো তিনি আরো জানতে পারতেন যে সেই যায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে যেসব শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেখানে আঁকতে গিয়েছিলো তারা সবাই সরাসরি স্বৈরাচারী খু*নী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে শ্লোগান তোলা, গ্রাফিতি করা, পুলিশের গুলি খাওয়া শিল্পী ও কার্টুনিস্ট… তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগীয় আর্টিস্ট না…
যেই ছড়াকারের ছড়া সেখানে লেখা হয়েছে তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগীয় ছড়াকার না… বরং, আন্দোলনে সমর্থন ও অংশ নেয়া ছড়াকার…
তিনি খোঁজ নিলে জানতে পারতেন, সবদিকের হুমকি ও গালি খাওয়ার সম্ভাবনা উপেক্ষা কইরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি সন্মান প্রদর্শন কইরা যারা সেখানে এইসব কার্যক্রমে অংশ নিছে তারা কোন লীগ, দল, পার্টি বা ইউনিয়নের না… তারা বাংলাদেশের, যেমনটা বঙ্গবন্ধু নিজেও…
এই ছবি কভার ফটো দেয়াটা ওনার জন্য অনেকটা নিজের গালে নিজে চপেটাঘাত করার মত… সেই সাথে ওনার দলের দুঃসাহসিক (!) হাতি ও পাতি নেতাকর্মীদের গালেও চপেটাঘাতের মত… ওনাদের লজ্জা হওয়া উচিত কারণ অসীম ক্ষমতার অধিকারী বলে নিজেদের আখ্যায়িত করা লীগীয় নেতাকর্মীরা ইতিহাসের এত গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থাপনা নিরাপদ রাখতে পারে নাই, চরমভাবে ব্যর্থ হইছে… এবং সেটার দায়ভার তাদের উপরও বর্তায়…
আরেকটু খোঁজ নিলে তিনি এটাও জানতে পারতেন যে শোক প্রকাশের উছিলায় যদি লীগের নেতাবৃন্দ এই রাস্তায় প্রবেশ করতেন, তাহলে তারা দেখতে পাইতেন তাদের চরম পর্যায়ে লজ্জা ও বিবেককে (যদি কিছু অবশিষ্ট থাইকা থাকে) দংশিত করার জন্য সেই রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে লিখে রাখা হইছে জুলাই আন্দোলনে নির্মমভাবে খু*ন হওয়া শত শত শহীদের নাম…
আমার পক্ষে যতখানি সম্ভব হইছে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শালীনভাবে লেখাটা লিখলাম… হুমকি, ধামকি, গালি, তালি যা ইচ্ছা তা দিবার পারেন… আর সর্বোচ্চ পারবেন হয়তো মাইরা ফেলাইতে… তাতে শহীদের সংখ্যা হয়তো আরেকটা বাড়বে, সেই সাথে বাড়বে আমাদের সন্মান আর মনোবল… আর ছাত্র জনগণের বাড়বে আপনাদের প্রতি ঘৃণা আর অসন্মান…
জী ধন্যবাদ…