Mohammad Zahidul Islam

Mohammad Zahidul Islam When the righteous are in danger, they rise again, but when the wicked are in danger, they fall. I am not God. I am not a prophet. I am not made of light. Thanks.
(1)

I am human so I can make mistakes. I'm sorry if I made a mistake. Stay well, keep well.

30/08/2026
26/08/2026

গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি: সংকট, অবনতি ও ঝুঁকির বিশ্লেষণ

গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি একেবারে “ধ্বংস হয়ে গেছে”—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া তথ্যগতভাবে সঠিক হবে না। তবে অর্থনীতি গভীর ঝুঁকি ও দুর্বলতার দিকে এগিয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং রাজস্ব সংকট একসঙ্গে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) জুলাই ২০২৬-এ সতর্ক করেছে যে বাংলাদেশ এখনও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত সমস্যার মধ্যে রয়েছে, এবং ব্যাংকিং খাতের চাপও উচ্চ পর্যায়ে আছে।

১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গেছে

বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা এখন প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক পতন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে।

সরকারের বাজেটভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২২–২৩ অর্থবছরের ৫.৭৮ শতাংশ থেকে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৪.২২ শতাংশে নেমে আসে এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা প্রায় ৩.৪৯ শতাংশে নেমেছে বলে অনুমান করা হয়েছে।

IMF আরও সতর্ক করেছে যে FY2027-এ প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং কার্যকর সংস্কার না হলে মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এর অর্থ কী?

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে গেলে—

- নতুন কর্মসংস্থান কমে যায়;
- ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে;
- মানুষের আয় বৃদ্ধির গতি কমে;
- দারিদ্র্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের চাপ বাড়ে;
- সরকারের রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে যায়।

অর্থাৎ, অর্থনীতি শুধু সংখ্যায় ধীর হচ্ছে না; এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবিকায়ও পড়ছে।

২. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় এখনও বড় সমস্যা

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে দৃশ্যমান সংকট হলো ক্রয়ক্ষমতার অবনতি।

IMF-এর ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে থাকার কথা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জ্বালানি, গ্যাস, সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এর ফলে বাজারে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক পরিবহন খরচ বেড়ে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

যখন বেতন বাড়ার তুলনায় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ে, তখন প্রকৃত অর্থে মানুষের আয় কমে যায়।

ফলে—

- নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সঞ্চয় কমে;
- ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ে;
- ছোট ব্যবসার বিক্রি কমে;
- পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়;
- দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ে।

৩. জ্বালানি সংকট অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে

বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে—

- আমদানি ব্যয় বেড়েছে;
- বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে;
- ভর্তুকির চাপ বেড়েছে;
- পরিবহন ব্যয় বেড়েছে;
- শিল্প উৎপাদনের খরচ বেড়েছে।

IMF বলেছে, উচ্চ আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য ও সরবরাহ বিঘ্ন বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি, আমদানি ব্যয় এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

এটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ জ্বালানি ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ খাতে থাকে না; কৃষি, পরিবহন, শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।

৪. ব্যাংকিং খাত এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক কাঠামোগত সমস্যা এখন ব্যাংকিং খাত।

IMF স্পষ্টভাবে বলেছে যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের চাপ এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ও আর্থিক খাত পরিষ্কার করার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা দরকার।

ব্যাংক দুর্বল হলে—

- ভালো ব্যবসায়ীও সহজে ঋণ পায় না;
- বিনিয়োগ কমে;
- শিল্প সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়;
- আমানতকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে;
- সরকারকে দুর্বল প্রতিষ্ঠান রক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

অর্থাৎ ব্যাংকিং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি পুরো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে নিচে টেনে নিতে পারে।

৫. সরকারের রাজস্ব দুর্বল, কিন্তু ব্যয়ের চাপ বাড়ছে

বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা হলো সরকারের পর্যাপ্ত রাজস্ব আদায় করতে না পারা।

IMF-এর মতে, রাজস্ব সংগ্রহ শক্তিশালী না হলে সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। একই সময়ে জ্বালানি ভর্তুকি এবং অন্যান্য সরকারি ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

এখানে সরকার একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে—

রাজস্ব বাড়াতে গেলে নতুন কর বা VAT-এর চাপ বাড়তে পারে।

আবার রাজস্ব না বাড়ালে উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যয় চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

এই দুই সমস্যার মাঝখানে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

৬. বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এখনও পুরোপুরি কাটেনি

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও রপ্তানি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। এগুলো কিছুটা সহায়তা করলেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

জ্বালানি ও অন্যান্য আমদানি ব্যয় বাড়লে—

- ডলারের চাহিদা বাড়ে;
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ে;
- টাকার বিনিময় হার দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে;
- আমদানি করা পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

IMF-এর মতে, রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কঠোর নীতি ও বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।

৭. বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে সামনে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে

অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে নতুন বিনিয়োগের ওপর।

কিন্তু উচ্চ সুদ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, অনিশ্চয়তা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং জ্বালানি সমস্যার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে চাপ তৈরি হয়েছে।

IMF-এর বিশ্লেষণে দুর্বল বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের সমস্যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিনিয়োগ কম থাকলে আজকের সমস্যা শুধু আজকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কয়েক বছর পর তার ফল হিসেবে দেখা যায়—

- বেকারত্ব বৃদ্ধি;
- শিল্প সম্প্রসারণে স্থবিরতা;
- উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া;
- রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা হারানো।

৮. গত ছয় মাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন: অর্থনীতির ঝুঁকিগুলো একসঙ্গে সক্রিয় হয়েছে

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একক কোনো সমস্যা নয়—বরং কয়েকটি সমস্যা একই সময়ে কাজ করছে।

প্রধান চাপগুলো হলো:

১. প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া
২. উচ্চ মূল্যস্ফীতি
৩. জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি
৪. ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা
৫. রাজস্ব সংকট
৬. বিনিয়োগের স্থবিরতা
৭. বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ

এই সমস্যাগুলো একে অপরকে আরও শক্তিশালী করছে।

উদাহরণস্বরূপ, ব্যাংক দুর্বল হলে বিনিয়োগ কমে। বিনিয়োগ কমলে প্রবৃদ্ধি কমে। প্রবৃদ্ধি কমলে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব কমে। রাজস্ব কম হলে সরকার উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়। আবার জ্বালানি ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতি বেড়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে।

অর্থাৎ, অর্থনীতি এখন একটি চাপের চক্রে প্রবেশ করার ঝুঁকিতে রয়েছে।

চূড়ান্ত মূল্যায়ন

গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি “একদিনে ধ্বংস” হয়নি। কিন্তু অর্থনীতির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নতুন বাহ্যিক ধাক্কা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনটি শব্দে বলা যায়:

ধীর প্রবৃদ্ধি — উচ্চ ব্যয় — দুর্বল আর্থিক খাত

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, যদি—

- ব্যাংকিং খাত সংস্কার না হয়;
- রাজস্ব আদায় না বাড়ে;
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে;
- জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয়;
- বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়ে;

তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফাঁদে আটকে যেতে পারে।

তবে একই সঙ্গে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, অর্থনীতি এখনও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা হারায়নি। শক্তিশালী ব্যাংক সংস্কার, দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, রাজস্ব সংস্কার এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে পারলে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

মূল কথা: বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে ধ্বংস হয়ে গেছে—এ কথা তথ্যের ভিত্তিতে বলা ঠিক নয়; কিন্তু এটি একটি গুরুতর দুর্বলতার পর্যায়ে রয়েছে এবং কার্যকর সংস্কার না হলে আগামী কয়েক বছর আরও কঠিন হতে পারে।

01/03/2026

We are deeply shocked and saddened by the martyrdom of Iran’s Supreme Leader, Ayatollah Ali Khamenei, in an airstrike reportedly carried out by joint U.S.–Israeli forces on Sunday. Inna Lillahi wa inna ilayhi raji’un.

We extend our heartfelt condolences to the freedom-loving people of Iran during this time of profound grief.

The attack on Iran represents an unprovoked act of aggression against a sovereign nation and risks triggering further escalation, thereby deepening instability across the Middle East region. In moments of crisis, diplomacy must prevail, and international law must be upheld without exception.

The failure of global leaders—particularly those within the region—to safeguard peace and stability will remain a shameful chapter in history.

We strongly urge all concerned parties to immediately cease military actions, exercise maximum restraint, and return to dialogue. The international community, including the United Nations, must act swiftly and decisively to preserve peace and security worldwide.

Address

59 Road 03 Ranavola
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mohammad Zahidul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Mohammad Zahidul Islam:

Shortcuts

Share