22/10/2025
রমেশ শীল ছিলেন অবিভক্ত বাংলার কবিগানের অন্যতম রূপকার। জন্মেছিলেন ১৮৭৭ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের বোয়ালখালী থানার অন্তর্গত গোমদণ্ডী গ্রামে। তাঁর বাবা চণ্ডীচরণ শীল ছিলেন একজন নরসুন্দর ও কবিরাজ। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বাবার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে রমেশ শীলের স্কুলজীবন শেষ হয়ে যায়।
রমেশ শীল ছিলেন অবিভক্ত বাংলার কবিগানের অন্যতম রূপকার। জন্মেছিলেন ১৮৭৭ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের বোয়ালখালী থানার অন্তর্গত গোমদণ্ডী গ্রামে। তাঁর বাবা চণ্ডীচরণ শীল ছিলেন একজন নরসুন্দর ও কবিরাজ। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বাবার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে রমেশ শীলের স্কুলজীবন শেষ হয়ে যায়।
তখন পরিবারের সব দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। তাঁর নিজের লেখনীতে সে কথার উল্লেখ পাওয়া যায়।
রমেশ শীল ভাগ্যান্বেষণের জন্য মিয়ানমারের রেঙ্গুন শহরে যান এবং সেখানে একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজে যোগ দেন। পরে একটি দোকানের মালিকও হন।
কিন্তু স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি পাঁচ বছরের মধ্যেই নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে এসে বাবার পেশা নরসুন্দরের কাজের পাশাপাশি কবিরাজ হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই কবিরাজি করতে করতেই কবিগানের প্রতি তিনি গভীরভাবে অনুরাগী হয়ে ওঠেন।
ঐতিহ্যগতভাবে কবিগানের প্রধান বিষয় পৌরাণিক হলেও রমেশ শীল সমকালের নানা ঘটনা এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে গানের বিষয়বস্তু করতেন।
তাঁর জীবনকালে সংঘটিত অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলন, চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, সূর্য সেনের আত্মাহুতি, দুর্ভিক্ষ, দেশ বিভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা, ভাষা আন্দোলন, সামাজিক অবিচার, দুর্নীতি, মহাজনি শোষণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনি গান বেঁধেছেন এবং সেসব গেয়ে জনগণের মনে প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত করেছেন। আগে কবিগান ছিল শুধু চিত্তবিনোদনের মাধ্যম, কিন্তু রমেশ শীল একে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ারে পরিণত করেন। এ রকম সংগ্রামী ভূমিকার কারণে তিনি ১৯৫৪ সালে কারাবরণ করেন এবং ১৯৬২ সালে সরকার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত মাসোহারা হারান।
রমেশ শীলের আরেকটি বড় অবদান হলো মাইজভাণ্ডারী গান রচনা। তাঁর রচিত মাইজভাণ্ডারী গান আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন।