28/12/2024
গ্রামটা সবসময়ই ছিল শান্ত। কিন্তু এক ঘটনার পর থেকেই সেখানে অশান্তির কালো ছায়া নেমে আসে। অর্পিতা নামে এক মেয়ে, যার হাসি দিয়ে পুরো গ্রামকে আলো করে রাখত, তার জীবন এক রাতে থেমে যায়। চারজন বর্বর তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়ংকরভাবে নির্যাতন করে। তার মৃতদেহ পাওয়া যায় গ্রামের পুরোনো কুয়োর পাশে। সেইদিন থেকেই কুয়োটা হয়ে যায় অভিশপ্ত।
অর্পিতার মৃত্যুর পর থেকেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। প্রথমে সেই চারজন অপরাধীর নেতা রাহুল। এক রাতে সে ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাত, চারদিকে সবকিছু স্তব্ধ। হঠাৎ তার ঘরে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। বাতাসের সঙ্গে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে অর্পিতার ছায়া। তারচোখ জ্বলজ্বল করছে, যেন আগুন জ্বলছে ভেতরে। রাহুল চিৎকার করতে চাইলেও শব্দ বের হয়নি। অর্পিতা তার ঘাড় ধরে ছিঁড়ে ফেলে। সকালে তার লাশ পাওয়া যায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন অবস্থায়। রক্ত দিয়ে দেয়ালে লেখা ছিল, "আমাকে ভেবেছিলে দুর্বল?"
এরপর একে একে শুরু হয় বাকিদের মৃত্যু। দেবেশ, অরুণ, এবং রাকেশ- সবাই অর্পিতার অভিশাপ থেকে বাঁচতে পারেনি। প্রত্যেকের মৃত্যু ছিল অস্বাভাবিক, ভয়ংকর। কেউ নিজের ঘরে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে, কেউ খোলা মাঠে রক্তমাখা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রত্যেকের মৃত্যুস্থলে রক্তের অক্ষরে লেখা থাকত, "তোমার সময় শেষ।" গ্রামের লোকেরা ভয়ে কাঁপতে থাকে। তারা বুঝতে পারে, অর্পিতার আত্মা ফিরে এসেছে প্রতিশোধ নিতে। কেউ কুয়োর কাছে যেতে সাহস পায় না। মাঝে মাঝে গভীর রাতে কুয়ো থেকে ভেসে আসে চিৎকার আর কান্নার শব্দ।
একদিন গ্রামের পুরোহিতরা আত্মাকে শান্ত করার জন্য কুয়োর কাছে যায়। মন্ত্রপাঠ শুরু হতেই হঠাৎ কুয়ো থেকে বেরিয়ে আসে এক কালো ছায়া। সেটা ধীরে ধীরে রূপ নেয় অর্পিতার। তার শরীর ছিন্নভিন্ন, চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। সে চিৎকার করে বলে, "তোমরা আমাকে বিচার দিতে পারোনি। আমি আমার বিচার নিজেই করেছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের শাস্তি হবে, আর যারা চুপ থেকেছে, তাদেরও রেহাই নেই!"সেইদিনের পর থেকে গ্রামে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতেই থাকে। কেউ অন্যায় করলেই কুয়োর পাশে দেখা যায় অর্পিতার ছায়া। রাত্রি গভীর হলে কেউ কেউ এখনো শুনতে পায় তার ভয়ংকর ফিসফিস, "আমাকে আবার কষ্ট দিও না..."
কুয়োটা আজও সেই একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ সেখানে যায় না। রাত হলে গ্রামটা ডুবে যায় ভয়ের এক অন্ধকারে। অর্পিতা এখনো রয়েছে, তার প্রতিশোধ শেষ হয়নি।
#নিশি_দানব_দৈত্য