04/02/2026
এই শিশুটিকে গৃহকর্মী হিসেবে আনা হয়েছিল আরেক এলিট শিশুর দেখাশোনার জন্য। অভিযোগ ছিল, কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। সেই অভিযোগের শাস্তি হিসেবে টানা তিন মাস তাকে বাসায় আটকে রেখে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।
ভিডিওতে শিশুটি বলে:- “ম্যাডাম মেরেছে। আমাকে বাবুদের দেখতে নিয়ে আসছিলো। আমি বসে থাকতাম, তাই মারতো। খাইতে দিতো না। গরম খুন্তির ছ্যাঁ*কা দিতো।”
ভিডিওটা দেখে গা শিউরে ওঠে। মানুষ এমনও হয়?
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের এমডি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী গরম খুন্তি দিয়ে শিশুটির শরীরজুড়ে ছ্যাঁ*কা দিতেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। বাসার নিচে নামলেই দারোয়ান দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। শেষদিকে শিশুটির পরিবারকে ফোন করে ডেকে আনা হয়। ছয় ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর শিশুটিকে সামনে হাজির করা হয়। হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি সাদা কাগজ। তাতে লেখা, আমাদের মেয়েকে সুস্থভাবে বুঝে পেয়েছি, আমাদের কোনো দাবি নেই।
পাশে ছিল বহিরাগত কয়েকজন মানুষ। কথায় ও ইঙ্গিতে ভয়ভীতি।
আজ আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রীসহ চারজনকে হাতকড়া পরিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে কি, ন্যায়বিচার হয়ে গেছে? ধনী হেরে গেছে গরিবের কাছে?
আমার মনে হয় না। আমি জানি, এদেরও মুক্তি মিলবে। আগেও মিলেছে। প্রায় সবাই মিলেছে। এই সমাজে গরিব শুধু নির্যাতিতই না, অনেক সময় টাকার চাপে সব ভুলে যেতে বাধ্য হয়।
এ কারণেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ সরকারের উচিত এমন আইন করা, যেখানে গৃহকর্মী বা যে কোনো মজলুমের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে মামলা করবে। কোনো আপোষ নয়। কোনো মামলা তুলে নেওয়ার সুযোগ নয়। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিচার না হওয়ার এই সংস্কৃতিই এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
আপনি কি মনে করেন, এই এমডির স্ত্রী জানতেন না গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিলে শাস্তি হতে পারে?
তইনি জানতেন, জেনেই করেছেন। কারণ তিনি এটাও জানতেন, টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করা যায়।
এই শিশুটির চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া এক ফোঁটা পানির দৃশ্য এখনো চোখে ভাসছে। যদি শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার না হয়, তাহলে এই সমাজটাই অভিযুক্ত থাকবে।