21/07/2026
লামিন ইয়ামাল-এর দাদি ফাতিমা, উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো থেকে উত্তর স্পেনের কাটালোনিয়ায় পাড়ি জমান। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই পরিবারের জন্য একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা।
লামিন ইয়ামাল-এর বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর নাগরিক এবং মা শিলা এবানা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা।
স্প্যানিশ সংস্কৃতি ও প্রচলিত তথ্য অনুসারে, “লামিন” এবং “ইয়ামাল” মূলত তাঁদের পরিবারের দুজন নিকটাত্মীয়/বন্ধুর প্রতি সম্মান জানিয়ে রাখা নাম। তাঁর পুরো নাম Lamine Yamal Nasraoui Ebana।
খুব ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় ইয়ামালের শৈশব কাটে রোক্যাফোন্দা এবং গ্রানোয়ের্স-এর মধ্যে যাতায়াত করে। রোক্যাফোন্দা বার্সেলোনার অন্যতম দরিদ্র ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত, যাকে অনেকেই অবহেলার চোখে দেখতো।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে চ্যারিটি ফটোশুটের মাধ্যমে ইতিহাসের এক অদ্ভুত সংযোগ ঘটেছিলো।
ইউনিসেফ ও ডায়ারিও স্পোর্ট-এর উদ্যোগ ছিলো স্থানীয় চ্যারিটির একটি লটারি প্রজেক্ট, যেখানে লটারিতে বিজয়ী পরিবারের শিশুদের সাথে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের ছবি তোলা হতো।
লটারিতে অংশ নিয়ে সুযোগ পান ইয়ামালের মা শিলা। তৎকালীন ২০ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসি একটি প্লাস্টিকের টবে ৬ মাস বয়সী শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছিলেন।
২০২৪ ইউরো চলাকালীন ইয়ামালের বাবা মুনির যখন ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে লিখলেন, "The beginning of two legends", তখন সারা বিশ্ব তা দেখে চমকে যায়।
অনেকেই রসিকতা করে বলেন, মেসি হয়তো ভুল করে নিজের ফুটবলের জাদুকরী ক্ষমতা শিশু ইয়ামালের গায়ে ঢেলে দিয়েছিলেন!🖤
মাত্র ৭ বছর বয়সে রোক্যাফোন্দার স্থানীয় ক্লাব থেকে লা মাসিয়ার স্কাউটদের নজর কাড়েন তিনি। অত্যন্ত কাঁচা প্রতিভা এবং অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং ক্ষমতার কারণে বার্সেলোনা তাঁকে সাথে সাথে অ্যাকাডেমিতে যুক্ত করে।
ইয়ামালকে যুব দলের প্রতিটি বয়সভিত্তিক ধাপ অতি দ্রুত পার হতে হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল, মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে ডেবিউ করে ক্লাবের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়ে তোলেন।
২০২৪ সালের ইউরো কাপে লামিন ইয়ামাল যা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে বিরল।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যে অবিশ্বাস্য বাকানো শটে তিনি গোল করেছিলেন, সেটি টুর্নামেন্টের সেরা গোল নির্বাচিত হয়। ওই গোলের মাধ্যমে ইউরোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন তিনি। তার বয়স তখন ১৬ বছর ৩৬২ দিন।
১৭ তম জন্মদিনের ঠিক একদিন পর স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪-এর ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
ইয়ামালের বিখ্যাত গোল সেলিব্রেশন হলো হাতের আঙুল দিয়ে ‘৩-০-৪’ চিহ্ন তৈরি করা।
এটি মূলত 08304 যা তাঁর জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠার এলাকা রোক্যাফোন্দা-র পোস্টাল কোড।
স্পেনের ওই দরিদ্র এলাকাকে প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হতো, কিন্তু ইয়ামাল বিশ্বমঞ্চে তাঁর পাড়াকে গর্ভের সাথে তুলে ধরেছেন। এমনকি তাঁর বুটেও স্পেন ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পতাকার পাশাপাশি "304" লেখা থাকে।
নিজের উপার্জনের পর তিনি প্রথমেই তাঁর মাকে নতুন বাড়ি কিনে দিয়েছেন। দাদি ফাতিমা ও বাবার জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করেছেন।
ইউরো ২০২৪ চলাকালেও তিনি জার্মানির হোটেল রুমে পড়াশোনা করেছেন এবং মাঠের পারফরম্যান্সের ফাঁকেই নিজের স্কুলিং পাস করার খবর পান!
ধাওয়া করা স্বপ্নের পেছনে পরিবারের আত্মত্যাগ আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি কীভাবে একজন সাধারণ বালককে বিশ্বসেরা মঞ্চে পৌঁছে দেয় লামিন ইয়ামাল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।🖤
Collected.