23/02/2026
🎬 “নামহীন ঘর”
শহরের এক কোণায় একটা পুরনো অ্যাপার্টমেন্ট।
লোকজন বলে — ওই ঘরে কেউ বেশিদিন থাকে না।
কারণ কেউ চিৎকার শুনেছে এমন না।
কেউ কিছু অদ্ভুত দেখেছে তাও না।
সমস্যা একটাই —
ওই ঘরে থাকলে মানুষ বদলে যায়।
রুম ৭১৩।
নতুন ভাড়াটিয়া আসে।
চুপচাপ, সাধারণ একজন মানুষ।
প্রথম রাতে কিছুই হয় না।
দ্বিতীয় রাতে —
সে খেয়াল করে, দেয়ালে একটা হালকা দাগ আছে।
মনে হয় আগে ছিল না।
তৃতীয় রাতে —
দাগটা একটু বড়।
চতুর্থ রাতে —
সে বুঝতে পারে দাগটা আসলে আকার নিচ্ছে।
মুখের মতো।
সে নিজেকে বোঝায় —
“ঘুমের অভাব… আলো-ছায়ার খেলা…”
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় আয়নায়।
আয়নায় সে নিজেকে দেখে —
কিন্তু প্রতিফলন এক সেকেন্ড দেরিতে নড়ে।
প্রথমে সে ভাবে কল্পনা।
তারপর একদিন সে হঠাৎ হাত তোলে—
আয়নার মানুষটা হাত তোলে না।
শুধু তাকিয়ে থাকে।
সেই রাতে দরজায় টোকা পড়ে।
টক… টক…
দরজা খুলে কেউ নেই।
ফিরে এসে দেখে —
দেয়ালের দাগটা এখন পুরো মুখ।
চোখ দুটো ফাঁকা।
আর তার নিচে লেখা —
“তুমি তো অনেক আগেই এসেছো।”
ধীরে ধীরে তার স্মৃতি বদলাতে থাকে।
সে মনে করতে পারে না কবে এখানে উঠেছে।
কাজে যায় না।
ফোনে কারও নাম নেই।
বন্ধুদের নম্বর ফাঁকা।
একদিন বিল্ডিং ম্যানেজার দরজা ভাঙে।
ঘর খালি।
ধুলো জমা।
মনে হয় বহুদিন কেউ ছিল না।
কিন্তু দেয়ালে এখন পরিষ্কার একটা দাগ —
একটা মানুষের ছায়া।
যেন কেউ ভেতর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল।
রুম ৭১৩ আবার ভাড়া দেওয়া হয়।
নতুন ভাড়াটিয়া আসে।
প্রথম রাতে কিছুই হয় না।
দ্বিতীয় রাতে সে দেয়ালে ছোট্ট একটা দাগ দেখে।
শেষ লাইন:
“কিছু ঘর মানুষকে গিলে খায় না…
মানুষকে বদলে দেয়।
তারপর তার জায়গায় নিজেকে রেখে দেয়।”