18/06/2026
একজন মানুষ তার স্ত্রীকে কখন সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে জানেন?
যখন সে অনুভব করে—বাইরের পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে গেলেও, ঘরে ফিরে অন্তত একজন মানুষ তাকে বুঝবে, তার ক্লান্তিকে সম্মান করবে, আর তার ছোট ছোট চেষ্টাগুলোর মূল্য দেবে।
এক বৃদ্ধ লোকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছিল। বয়স প্রায় নব্বই ছুঁইছুঁই..উনষাট বছর ধরে একই ছাদের নিচে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো—তাদের সংসারে কখনো বড় কোনো অশান্তি হয়নি। না ছিল অহংকারের লড়াই, না ছিল প্রতিযোগিতা কে কাকে হারাবে।
সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “চাচা, এত বছর দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখার রহস্য কী?”
লোকটি মুচকি হেসে বললেন, “আমরা কেউই একে অপরের কাছে বড় হতে চাইনি; বরং প্রয়োজনীয় হতে চেয়েছি।”
সাংবাদিক অবাক হয়ে বললেন, “মানে?”
বৃদ্ধ বললেন, “আজকাল অনেক সংসার অভাবের কারণে ভেঙে যায় না, বরং কৃতজ্ঞতার অভাবে শেষ হয়ে যায়।
এরপর তিনি একটু থেমে আবার বললেন,
“আমি যখন কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতাম, আমার স্ত্রী কখনো আমাকে জেরা করত না—কেন দেরি হলো, কেন ফোন ধরোনি। বরং এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে বলত, ‘অনেক কষ্ট হয়েছে তাই না?’ এই একটা বাক্য মানুষের অর্ধেক ক্লান্তি দূর করে দেয়।”
সাংবাদিক বললেন, “শুধু এই কারণেই এত ভালোবাসা টিকে গেল?”
বৃদ্ধ হেসে বললেন, “না, আরও একটা জিনিস ছিল..
"আমি বাজার থেকে সামান্য কিছু আনলেও সে এমন খুশি হতো, যেন আমি অনেক বড় কিছু করেছি।”
“মানুষ আসলে প্রশংসার কাঙাল। বাইরে সবাই সমালোচনা করে, কিন্তু ঘরে যদি অই একজন মানুষ-ই আপনার চেষ্টার মূল্য দেয়, তাহলে জীবনটা সহজ হয়ে যায়।”
সাংবাদিক বললেন, “বর্তমানে তো অনেকেই বলে—ভালোবাসা সময়ের সাথে কমে যায়।”
বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ভালোবাসা কমে না, কৃতজ্ঞতা কমে যায়। মানুষ তখন শুধু ভুলগুলো দেখতে শুরু করে। স্ত্রী ভাবে—স্বামী কিছুই করে না। স্বামী ভাবে—স্ত্রী আমাকে বোঝে না।
“সংসার টিকে থাকে না সৌন্দর্যে, টিকে থাকে সম্মানে। টিকে থাকে এই অনুভূতিতে—‘আমি এই মানুষটার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’”
সাংবাদিক শেষ প্রশ্ন করলেন, “আপনার স্ত্রীকে সবচেয়ে সুন্দর কখন লাগে?”
বৃদ্ধ চোখ নিচু করে বললেন,
“যখন সে আমার ক্লান্তি বুঝে চুপচাপ পাশে বসে থাকে। মানুষ তখনই সবচেয়ে সুন্দর লাগে, যখন সে আপনাকে শান্তি দেয়।”
দাম্পত্য জীবন মানেই প্রতিদিন নতুন নতুন ভালোবাসার কথা না; কখনো কখনো এটি শুধু একজন আরেকজনের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হয়ে থাকার নাম....