15/03/2026
💝আমাদের সাথে সংযুক্ত প্রবাসীদের সুবিধার্থে~
💠লায়লাতুল ক্বদরে নফল নামায
♦️শবে কদরের নামাযের নিয়ত:
نَوَيۡتُ اَنۡ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكۡعَتَىۡ صَلٰوةِ لَيۡلَةِ الۡقَدۡرِ نَفۡلٍ مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَـةِ الۡكَعۡـبَةِ الشَّرِيۡفَةِ اَللّٰهُ اَكۡبَرُ
উচ্চারণ: নাওয়াই্তু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আলা রক্'আতাই সালা-তি লাইলাতিল্ ক্বদ্রি নাফ্লি মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা- জিহাতিল্ কা'বাতিশ্ শারী-ফাতি আল্লা-হু আকবার।
♦️যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে
ইবাদতের উদ্দেশ্যে গোসল করবে আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ পা ধৌত করার আগে ক্ষমা করে দিবেন ইনশা আল্লাহ।
♦️সওয়াব অর্জন:
২৭ তারিখ রাতে দুই রাক'আত নামায আদায় করবে। প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইনশিরাহ্ একবার, সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করবে, সালাম ফেরানোর পর ২৭ বার ‘সূরা কদর' পাঠ করবে। ইনশা-আল্লাহ্ অসংখ্য সওয়াব অর্জনের ক্ষেত্রে এ নামায খুবই উত্তম।
♦উত্তম নামাজ:
কদরের রাতে দুই রাক‘আত করে ১২ রাক'আত নামায আদায় করা উত্তম। প্রথম চার রাক'আতের প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতেহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখলাস পড়তে হবে। এরপর সালাম ফিরিয়ে একশত বার দরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় চার রাক'আতের প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতেহা ও সূরা কদরের পর সূরা এখলাস দশ বার পড়তে হবে। এরপর সালাম ফিরিয়ে একশতবার দরূদ শরীফ পড়তে হবে। তৃতীয় চার রাক'আতে একই নিয়মে সূরা ইখলাস ২৫ বার পড়তে হবে। এরপর একশত বার দরূদ শরীফ পড়ে মোনাজাত করবে।
♦️বিশেষ ফযিলত:
এ রাতে যে ব্যক্তি দুই রাকআত নামাযে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কদর একবার, সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করবে, তিনি শবে কদরের সওয়াব অর্জন করবেন এবং হযরত ইদ্রিস (আ), হযরত শোআ'ব (আ), হযরত দাউদ (আ) ও হযরত নূহ (আ) এর ন্যায় তাকে সওয়াব প্রদান করা হবে। সাথে সাথে তাকে জান্নাতে এমন এক সুবিশাল শহর প্রদান করা হবে, যেটার দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সুবিস্তৃত থাকবে। [ফাদাইলুল আইয়্যামি ওয়াশশুহুরি]
♦️গুনাহ ক্ষমা ও জান্নাত দর্শন:
হুজুর আকরাম (ﷺ) ইরশাদ ফরমান, যে ব্যক্তি শবে কদরে দুই রাক'আত নফল নামায আদায় করবে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস সাতবার করে পাঠ করবে, নামায সমাপ্ত করে নিম্নোক্ত তাসবীহটি সত্তরবার পাঠ করবে—
اَسْتَغۡفِرُ اللّٰهَ الۡعَظِيۡمَ الَّذِيۡ لَآ إلٰهَ إلَّا هُوَ الۡحَيُّ الۡقَيُّوۡمُ وَاَتُوۡبُ إلَيۡهِ
উচ্চারণ: আস্তাগ্ ফিরুল্লা-হাল 'আযী-মাল্ লাযী- লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল্ হাইয়্যুল ক্বাইয়্যু-মু ওয়া আতূ-বু ইলায়হি।
👉ওই ব্যক্তি স্বীয় নামাযের স্থান থেকে উঠার পূর্বে আল্লাহ তা'আলা তার ও তার মাতা-পিতার গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং ফিরিশতাদের হুকুম দেবেন যাতে তার জন্য জান্নাতে ফলের গাছ বপন করতে থাকে, মহল প্রশস্ত করতে থাকে এবং শহর তৈরি করে। এ নামায আদায়কারী যতক্ষণ এগুলো স্বপ্নে দেখতে না পায়, ততক্ষণ তার মৃত্যু আসবে না। [তাফসীরে ইয়াকুব ছারখী]
♦️মৃত্যু সহজ হওয়া:
২৭ তারিখ রাতে যে ব্যক্তি চার রাক'আত নামায আদায় করবে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা তাকাছুর একবার, সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করব।
👉ওই ব্যক্তির উপর মৃত্যু খুবই সহজ হবে। কবরের শাস্তি রহিত করা হবে। তাকে জান্নাতে চারটি স্তম্ভ বা মিনারা প্রদান করা হবে, প্রত্যেক স্তম্ভে হাজারটি মহল থাকবে। [নুযহাতুল মাজালিছ, ১ম খণ্ড]
♦️দোয়া কবুল হওয়ার নামাজ:
২৭ তারিখ রাতে চার রাক'আত নামায আদায় করবে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কদর তিনবার, সূরা ইখলাস পঞ্চাশবার করে পাঠ করবে। নামায সমাপ্ত করার পর নিম্নোক্ত তাসবীহটি পাঠ করে মহান আল্লাহ্ পাকের দরবারে যে দোআ করবে, তাঁর দরবারে তা কবুল হবে।
سُبۡحَانَ اللّٰهِ وَالۡحَمۡدُ لِلّٰهِ وَلَٓا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰه وَاللّٰهُ أكۡبَرُ
উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াল্হাম্দু লিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার।
♦️গুনাহ মাফের নামাজ:
২৭ তারিখ রাতে চার রাকআত নফল নামায আদায় করবে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কদর একবার, সূরা ইখলাস ২৭ বার করে পাঠ করবে।
👉ওই ব্যক্তি গোনাহ থেকে এমনভাবে পূতঃপবিত্র হবে, যেন নিষ্পাপ শিশু সদ্য ভূমিষ্ট হয়েছে এবং তাকে জান্নাতে হাজার মহল প্রদান করা হবে।
📚তথ্যসূত্র:
👍🏻মাসিক তারজুমান-এ আহলে সুন্নাত ওয়াল জাম'আত।
👍🏻বারো মাসের নফল ইবাদাত।
👍🏻গাউসিয়া তারবিয়াতি নেসাব।
👍🏻কোরআন সুন্নাহর আলোকে শবে বরাআত, শবে ক্বদর ও মাহে রমজান।
সালামান্তে~
গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।