11/03/2026
নারায়ে হায়দারি
ইয়া আলি 💚
🌸২১শে রমাদ্বানুল মুবারক সৈয়্যদুনা মাওলা আলী শেরে খোদা মরতুদ্বা (রা) এর দিবস🌸
🟡 নাম ও পরিচয়:
শাহান শাহে বেলায়ত, দরইয়া সাখাওয়াত, দস্ত কুদরত, সাহেবে কারামাত, মাওলায়ে কায়েনাত, আমীরুল মু'মিনীন, ইমামুল মুসলিমীন, হায়দারে কারার, সাহেবে যুলফিকার (রা)-এর নাম মােবারক আলী। উপনাম আবুল হাসান, এবং আবূ তােরাব, তাঁর উপাধী আসাদুল্লাহিল গালিব (আল্লাহর বিজয়ী সিংহ)। তিনি স্বয়ং আবু তােরাব (মাটি ওয়ালা) উপাধীটি বেশী ভালবাসতেন, যেহেতু স্বয়ং নবী করীম (ﷺ) তাঁকে এ নামে ডেকেছেন। তাঁর উপাধি ছিলো مرتضی ও حیدر,اسد اللہ পিতার নাম- আবু তালিব। কুরাইশ বংশের হাশেমী গােত্রের সন্তান। বাল্যকাল থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর তত্ত্বাবধানে বড় হন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাচাত ভাই এবং জামাতা ছিলেন।
🔹হাদীস বর্ণনা:
হযরত আলী (রা) এর ফজীলতের উপর আল্লামা শাসমুদ্দিন মুহাম্মদ যাহাবী (রা) فتح المطالب فی مناقب علی بن ابی طالب নামক স্বতন্ত্র একটি পুস্তক রচনা করেন। তিনি তাবুক অভিযান ব্যতীত সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ৩৫ হি. সনে ২৪ যিলহজ্ব খলিফা নিযুক্ত হন। তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের সাগর এবং বেলায়তের সম্রাট ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৪৮৬টি। যৌথভাবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন ২০টি এবং এককভাবে বুখারী ৯টি ও মুসলিম ১৫টি হাদিস বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে অসংখ্য সাহাবী এবং তাবেয়ী হাদিস বর্ণনা করেন।
🟡হুজুর কারীম (ﷺ) ও হযরত আলী (রা) এর মহাব্বাত:
উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ একটি সেনাদল প্রেরণ করেন। আলী ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উম্মে আতিয়্যাহ বলেন, আমি শুনলাম, রাসূলুল্লাহ দু'হাত তুলে দু'আ করছেন, হে আল্লাহ! আলীকে পুনরায় না দেখিয়ে আমাকে মৃত্যু দিও না।
🔸হযরত বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্বের সময় নবী করীম (ﷺ)-এর সাথেই ছিলাম, তিনি রাস্তায় নেমে লােকদের জমায়েত করার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং হযরত আলীর হাত ধরে বললেন,
✨আমি কি মু'মিনের প্রাণের চেয়েও অধিক মালিক নই? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, তিনি বলেন, ‘আলী (রা) সে ব্যক্তির ওলী যে ব্যক্তির আমি মাওলা হই, ওহে আল্লাহ ! ‘আলী (রা) এর সাথে যে বন্ধুত্ব রাখে আপনি তার সাথে বন্ধুত্ব রাখুন আর যে ‘আলীর সাথে শত্রুতা রাখে আপনি তার সাথে শত্রুতা রাখুন”।
🔶হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত নবী করীম (ﷺ) হযরত আলীর দিকে তাকিয়ে এরশাদ করেন,
“ওহে ‘আলী (রা)! তুমি দুনিয়ার-আখেরাতের সরদার, তোমার বন্ধু আমার বন্ধু, আর আমার বন্ধু আল্লাহর বন্ধু, এবং তােমার শত্রু আমার শত্রু, আর আমার শত্রু আল্লাহর শত্রু। আর দোযখের শাস্তি তার জন্যে, আমার পরে যে তােমার প্রতি দুশমনি রাখে”
🔶হযরত আম্মার ইবন ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন,
يا على طوبى لمن أحبك وصدق فيك وويل من ابغض وكذب فيك
“ওহে ‘আলী ! সুসংবাদ তার জন্যে যে তােমার সাথে মুহাব্বত রাখে, তােমাকে সত্যায়িত করে, ধ্বংস তার জন্যে যে তােমাকে ঘৃণা করে এবং তােমার ব্যাপারে মিথ্যা বলে”
🔶 আল-হারেস বলেন, ‘আলী (রা) বলেন, আমার ব্যাপারে দুই ধরনের লােক ধ্বংস হবে; মিথ্যুক-ঘৃণাকারী এবং অতিশয় ভক্তিকারী।
🔸উম্মে সালামা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ -কে বলতে শুনেছি- যে আলীকে গালি দেয় সে আমাকেই গালি দেয়।
🟡হুজুর কারিম (ﷺ)-এর পতাকাবাহক:
জাবির ইবন সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলাে, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কিয়ামতের দিন আপনার পতাকা কে বহন করবে? তিনি বললেন, আর কে? কিয়ামতে আমার পতাকা সেই বহন করবে, যে দুনিয়ায় তা বহন করে অর্থাৎ আলী ইব্ন আবু তালিব।
বদর যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের যুলফিকার তলােয়ার আলীকে দান করেছিলেন। এরপরে তিনি তা আলীকে স্থায়িভাবে দিয়ে দেন।
আলী (রা) বাইআতুর রিজওয়ানের ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন।
কাতাদাহ বলেন, “বদর যুদ্ধসহ অন্যান্য সকল যুদ্ধেই ‘আলী (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পতাকাবাহক ছিলেন।
আবু হুরাইরা (রা) সহ অন্যান্যরা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের দিন বলেন, “নিশ্চয়ই আমি আগামীকাল এমন ব্যক্তির হাতে পতাকা দেব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালােবাসে আর যাঁকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালােবাসেন। তাঁর হাতেই বিজয় সংঘটিত হবে।
🟡রসূল (ﷺ)এর ভাষায় আলী (রা):
ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (র) বলেন, সাহাবীয়ে রাসূল (ﷺ) এর মধ্যে হযরত আলীর মত ফযীলত আর কারাে বেলায় বর্ণিত হয়নি। যেমন-
✨হাদীস নং-১
হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ﷺ) থেকে এরশাদ করেছেন,
يا على الناس من شجرة شتی و آنا وانت من شجرة واحدة
“ওহে ‘আলী ! মানুষ বিভিন্ন বৃক্ষ হতে, তুমি আর আমি একই বৃক্ষ হতে”।
✨হাদীস নং-২
হযরত আলী হলেন সৈয়্যদুল আরব, হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, ‘আরবের সরদারকে ডেকে নিয়ে এসাে, তখন উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়শা (রা) আরয করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি ‘আরবের সরদার নন? তাঁর উত্তরে নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেন,
أنا سيد ولد ادم وعلى سيد العرب
“আমি বনী আদমের সরদার, আলী (রা) আরবের সরদার।"
✨হাদীস নং-৩
ইবনে হাজর আসক্বালানী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আবদুর রহমান ইবন আবদুর রব (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করছেন, নবি কারিম (ﷺ) এরশাদ করেছেন,
إن الله ولی وانا ولی المؤمنين ، من کنت مولاه فعلی مولاة -
“নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা আমার মালিক, আর আমি মু'মিনের মালিক, আমি যার মালিক, হযরত আলী (রা) তার মালিক”
✨হাদীস নং-৪
হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন,
على باب حطة من دخل منه كان مؤمنا و من خرج منه كان كافرا .
“হযরত আলী হিত্বত্বার দরজার মত, যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করেছেন সে প্রকৃত মু'মিন, আর যে বের হয়ে গেছে সে কাফির”