01/05/2022
'দ্য কন্টেন্ডার' (২০০০), কিন্তু বেশ ভালো পলিটিকাল সিনেমা ছিল। এবং স্বভাবতই, সাধারণের রাডারের বাইরে থেকে গেছে। আরো কিছু সাধবাক্য এই সিনেমা পেতে পারে। পাওয়ার ক্ষমতাও এই সিনেমার আছে। পলিটিকাল ড্রামা, তবে গতিটা উত্তেজনাময় থ্রিলারের। আগ্রহী হয়ে উঠবার মতো যথার্থ গল্প আছে, প্রয়োজনীয় বাঁকও আছে গল্পে। রড ল্যুরি'র নিজের লেখা চিত্রনাট্যটার প্রশংসা করতে হয়। রাজনীতির মাঠে; ক্ষমতার নীতি, বৈষম্যের রাজনীতি, নারীবিদ্বেষ, যৌনতার রাজনীতি- এসবের চিত্রায়নে বেশ বাস্তবিকতা আর প্রগাঢ়তা মিশে ছিল (এই উপমহাদেশীয় ওসব দেশ/সমাজ বদলে দেওয়া ফ্যান্টাস্টিক্যাল কিছু তো মোটেও নয়)। আর এসবকে, সিনেমার গল্প এগোনোর সাথে সাথে যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা তো থ্রিলারের মেজাজেই। ওসময় যা বলছিলাম আরকি।
পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার রড ল্যুরি, আগে চিত্রসমালোচক ছিলেন। এতে উপকার যা হয়েছে, প্রত্যাশিত পাড়গুলোকে; চরিত্রদের চেনা বিটগুলোকে বেশ মসৃণভাবে সাবভার্ট করেছেন তিনি। পরিচালনাও বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। নিয়ন্ত্রিত সবকিছুতে। রাজনীতির চিত্রটা যে তিনি দারুণ বুঝেন, তা ওমন খোলাখুলি চিত্রবর্ণনাতেই পরিষ্কার। আর সেই প্রকাশভঙ্গীও চিন্তার উদ্রেক ঘটানোর মতো। তিনি চরিত্রগুলোকে ভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে যথার্থ চরিত্র হিসেবেই গড়ে তুলতে পেরেছেন। প্রত্যেক রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, গোপনীয়তা, কৌশল অবশ্যই আলাদা। আর সেই 'আলাদা' করতে পারার গুণাগুণটাই এতে আছে। আর কাস্টিংও ওমন ফাইন! প্রভাবশালী অভিনয় সকলের। তবে আলাদা করে বলবো গ্যারি ওল্ডম্যানের অভিনয়ের কথা। ভদ্রলোকের যেই চরিত্র, সেই চরিত্রটা যেমন শেকড়জাতভাবে পাবার মতো করে রূপায়ন করেছেন; তাতে অভিভূত হতেই হয়। বলবো; "এটা তার 'লেস টকড গ্রেট পারফরম্যান্স'গুলোর মাঝে অন্যতম!" আপত্তির জায়গা আছে, সিনেমার শেষটা নিয়ে। ড্রামার দানগুলো যতটা উঁচুতে উঠিয়েছেন রড ল্যুরি, সেগুলোর মাটিতে পদার্পণ আকস্মিক এবং ছন্দহীন। সাথে, ওমন এজেন্ডাভিত্তিক উপসংহারে না ঘেঁষে এই সিনেমা আরো সুপিরিয়র হতে পারতো। তবে 'দ্য কন্টেন্ডার' যে, তার জনরার ঐতিহ্যবাহী রীতিতে খুবই উপভোগ্য আর সময়জ্ঞান রাখা এক চতুর ও শক্তিশালী পলিটিকাল ড্রামা; সেই বিষয়ে ভ্রুকটি কাটবার সুযোগ নেই।