07/05/2026
পর্ব ১: প্রথম দেখা
ঢাকার এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে, আরিব দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো এক বইয়ের দোকানের সামনে। হাতে তার প্রিয় লেখকের নতুন উপন্যাস। হঠাৎ পাশ থেকে ভেসে এলো নরম কণ্ঠ,
— “মাফ করবেন, বইটা কি শেষ কপি?”
আরিব তাকিয়ে দেখল মেয়েটিকে। সাদা সালোয়ারে ভেজা চুল, চোখে অদ্ভুত এক শান্তি। মেয়েটির নাম নীরা। সে বইটি অনেকদিন ধরে খুঁজছিল। আরিব কিছুক্ষণ দ্বিধায় থেকে হেসে বইটা তার হাতে তুলে দিল।
নীরা অবাক হয়ে বলল,
— “আপনি নেবেন না?”
— “আবার পাওয়া যাবে। কিন্তু আপনার হাসিটা মনে হয় আর পাওয়া যাবে না।”
কথাটা শুনে নীরা লজ্জা পেল। বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি। দোকানের টিনের চাল থেকে টুপটাপ শব্দ পড়ছিল। দু’জন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করতে লাগল। বই, গান, আর পুরোনো সিনেমা— কত মিল তাদের!
বৃষ্টি থামার পরও কেউ যেতে চাইছিল না। শেষমেশ নীরা বলল,
— “আচ্ছা, আবার যদি দেখা না হয়?”
আরিব একটু ভেবে নিজের নম্বর লিখে দিল বইয়ের ভেতরের পাতায়।
— “তাহলে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।”
সেদিন রাতে নীরা বই খুলতেই নম্বরটার পাশে ছোট্ট একটা লাইন দেখতে পেল—
“কিছু মানুষ হঠাৎ এসেও হৃদয়ে চিরদিন থেকে যায়।”
নীরা অজান্তেই হাসল। আর সেখান থেকেই শুরু হলো তাদের গল্প।
পর্ব ২: কাছাকাছি আসা
দিন যেতে লাগল, আরিব আর নীরার কথাও বাড়তে লাগল। প্রথমে শুধু মেসেজ, পরে দীর্ঘ ফোনকল। রাত গভীর হলেও তাদের গল্প শেষ হতো না। নীরা অবাক হতো, কীভাবে একটা মানুষ এত সহজে তার মনের কথা বুঝে ফেলে।
এক সন্ধ্যায় আরিব নীরাকে নিয়ে গেল বুড়িগঙ্গার পাড়ে। আকাশে তখন কমলা রঙের সূর্য ডুবছে। নদীর হাওয়ায় নীরার চুল বারবার উড়ে যাচ্ছিল। আরিব চুপচাপ তাকিয়ে ছিল।
— “এভাবে কী দেখছেন?” নীরা হেসে জিজ্ঞেস করল।
— “ভাবছি, কিছু দৃশ্য হয়তো চোখে না রেখে হৃদয়ে জমিয়ে রাখা উচিত।”
নীরা মাথা নিচু করল। তার বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত কাঁপুনি হচ্ছিল।
সেদিন তারা অনেক হাঁটল। আরিব নিজের স্বপ্নের কথা বলল— একদিন ছোট্ট একটা ক্যাফে খুলবে, যেখানে বই আর গানের আয়োজন থাকবে। নীরা বলল, সে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র দেখতে চায় কারও হাত ধরে।
আরিব হঠাৎ থেমে বলল,
— “তাহলে একদিন সমুদ্রের ধারে যাব আমরা।”
“আমরা”— শব্দটা শুনে নীরার চোখে আলাদা ঝিলিক ফুটে উঠল।
সেই রাতে বাসায় ফিরে নীরা বুঝল, সে ধীরে ধীরে আরিবের প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। আরিবও জানত, তার প্রতিটা সকাল এখন নীরার “শুভ সকাল” মেসেজ দিয়েই শুরু হয়।
চলবে/////