18/05/2026
আজকাল ঘরে ঘরে ইভেন্ট কোম্পানি তৈরি হচ্ছে। সমস্যা ইভেন্ট করা না সমস্যা হলো, এখন এমন অনেকেই এই ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকছে যারা ইভেন্টের “E” পর্যন্ত বোঝে না। শুধু বড় স্টেজ, আলো আর ব্যানার দেখলেই কেউ আয়োজক হয়ে যায় না। আর সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো আমাদের কথিত কিছু “বড় ভাই” এসব মানুষদেরই মাথায় তুলে রাখে। যারা মৌলিক কিছু তৈরি করতে পারে না, অন্যের কনসেপ্ট আর ডিজাইন নকল করেই নিজেদের বড় প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তাদেরকেই আবার উৎসাহ দেওয়া হয়। চুপ ছিলাম অনেকদিন। কিন্তু যখন দেখি সৃষ্টিশীলতার নামে নির্লজ্জ কপি-পেস্ট সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে, তখন আর না লিখে থাকতে পারলাম না।
একটি ভালো আয়োজনের পেছনে থাকে পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা, দায়িত্ববোধ আর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।একটা নতুন আইডিয়া মাথায় আনা সহজ কিন্তু সেই আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেওয়া, সেটাকে ঘিরে হাজার মানুষের আবেগ তৈরি করা, আর একটি “কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড”-এর মতো বিশাল আয়োজন দাঁড় করানো এটা কেবল তারাই বুঝবে, যারা দিন-রাত মাঠে থেকে কাজ করে।একটা অ্যাওয়ার্ডের পেছনে শুধু একটা ট্রফি থাকে না, থাকে অসংখ্য মানুষের নির্ঘুম রাত, সৃজনশীল চিন্তা, ব্যর্থতা, সংগ্রাম আর অগণিত পরিশ্রম।একটা ইউনিক কনসেপ্ট দাঁড় করাতে কতবার ভেঙে পড়তে হয়, কতবার নতুন করে ভাবতে হয় সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
কষ্টটা তখনই সবচেয়ে বেশি লাগে, যখন দেখি আমাদের রক্ত-পানি করা মেধা, শ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে তৈরি করা সেই ইউনিক কনসেপ্ট, ডিজাইন আর অ্যাওয়ার্ড কিছু মানুষ হুবহু নকল করে নিজেদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। না আছে কোনো মৌলিকতা, না আছে সৃজনশীল সাহস শুধু অন্যের তৈরি স্বপ্ন চুরি করে বাহবা নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, এবারও আমাদের মূল কনসেপ্ট এবং ডিজাইন কপি করে একটি আয়োজন করা হয়েছে। অথচ এর আগেও যখন তারা আমাদের ডিজাইন নকল করেছিল Ceramic Expo Bangladesh, তখন আমরা আইনি নোটিশ পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষের কাছে সৃজনশীল সততা বোধহয় কোনো মূল্যই রাখে না। এখন আবার নকল করেছে International Business Award
আজকাল অনেকেই ভাবে, বড় স্টেজ বানালেই বড় আয়োজন হয়ে যায়।
কিন্তু সত্যিটা হলো একটা আয়োজনের আসল পরিচয় তার আলো কিংবা ব্যানারে না, তার চিন্তাধারায়। মৌলিকতা ছাড়া কোনো কাজ কখনো ইতিহাস তৈরি করতে পারে না।
আমরা অনুরোধ করবো যেকোনো অ্যাওয়ার্ড শো, ইভেন্ট বা সম্মাননায় অংশ নেওয়ার আগে আমন্ত্রিত অতিথি, পারফর্মার, ক্রিয়েটর এবং শিল্পীরা যেন একটু সচেতন হন। কার ডাকে যাচ্ছেন, তারা কতটা ক্রিয়েটিভ, কতটা সৎ, আর তারা নিজেরা কিছু তৈরি করেছে নাকি শুধু অন্যের স্বপ্ন কপি করেছে সেটা বুঝে নেওয়াও দায়িত্বের অংশ। কারণ সস্তা হুজুগে সাময়িক করতালি পাওয়া যায়, কিন্তু নিজের সম্মান আর অবস্থান ধরে রাখা যায় না। নকল করে হয়তো কিছুদিন আলোচনায় থাকা যায়, কিন্তু মৌলিকতা, সততা আর সৃষ্টিশীলতার যে সম্মান তা কখনো চুরি করা যায় না। যারা সত্যি মন থেকে ক্রিয়েটিভ কাজকে ভালোবাসেন, যারা নতুন কিছু সৃষ্টি করার সাহস রাখেন, আমি বিশ্বাস করি তারা কখনো এই “চুরির সংস্কৃতি”-কে সমর্থন করবেন না। কারণ একজন সৃষ্টিশীল মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মৌলিকতা। আর সেটাই কোনোদিন নকল করা সম্ভব না।