04/05/2025
এই পারো নাতো বিয়ে করেছিলে কেন?
কথাটা শুনে কষে একটা চড় মারলো আরিফ।
- কি বললি তুই? আমি পারিনা? আমি পারিনা তো আমার কাছে চাস্ কেন? যাকে পাস্ তাকে দিয়ে তোর চুলকানি মেটাতে পারিস না?
- স্বামী থাকতে আমি যার তার কাছে যাব কেন? আমি কি বেশ্যা নাকি?
- হ্যাঁ, তুই বে'শ্যা। তোর মা-বোন সব বে'শ্যা। তোর চৌদ্দগুষ্টি বে'শ্যা, খা'নকি, ন'টি কোথাকার!
সজোরো একটা ঘুষি মারলো রিনির যোনিতে। পুলিশের হাত বলে কথা! তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে সশব্দে কেঁদে উঠলো রিনি। শরীরটাকে কুণ্ডলী পাকিয়ে অসহায়ের মত বিছানায় পড়ে থাকলো কিছুক্ষণ। রাগে ফুঁসছে আরিফ। যেন আবার মারবে। ব্যথাটা সামলে নিয়ে বিছানার পাশে পড়ে থাকা ওর গোলাপী মোলায়েম নাইটিটা শরীরে গলিয়ে নিয়ে দরজা খুলে পাশের ঘরে চলে গেল। মেয়ের পাশে শুয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে রিনি।
প্রতিবার দুই-তিন মিনিটেই আরিফের দম ফুরিয়ে যায়। কখনো কখনো তাও না। তীব্র অতৃপ্তির কষ্ট নিয়ে সে সারারাত ছটফট করতে থাকে। ব্যস্ততার অজুহাতে দিনের পর দিন আরিফ তার কাছে আসেনা। সামান্য ঝগড়া হলেই টানা পনেরো দিন কথা বলেনা। কখনো কখনো আরও বেশি।
রিনি ঢাকায় আরিফের কাছে গেলেও সে ব্যস্ত থাকে। রাতে রিনিকে এড়িয়ে যায়। ক্লান্তি বা ঘুমের বাহানায়। প্রতিবার রিনি সেই তীব্র ক্ষুধা নিয়েই আবার ফিরে আসে নিজের ফ্ল্যাটে।
রিনিদের পাশের বাড়ীতে তার বান্ধবী ছিল সুনীতা। তার বড়বোন অনীতার যখন বিয়ে হয়, তখন রিনি বিয়ের প্রায় পুরোটা সময়ই ছিল সুনীতার সাথে। বিয়েবাড়িতে। বরটা দেখতে মোটেই ভালো না। মাথায় টাক, বড় বড় কাঁচাপাকা মোচ, ইয়া ভুঁড়ি! বুকের লোম পর্যন্ত পাকা! বিয়ের পর সুনীতার এক দীদা বলেছিল, "হা ভগবান!! এত কচি একটা মেয়ে, আর তার বর কিনা এই! দেবরদেরকে দিয়ে কোন রকমে জীবনটা চলে যাবে আর কী!"
কথাটার মানে তখন রিনি বোঝেনি। এখন হাড়ে হাড়ে বোঝে। কেন বিবাহিতা মেয়েরা পরকীয়া করে, তাও এখন খুব বোঝে। শরীরের বিষয়টা ঠিকমত বুঝে ওঠার আগেই আরিফ বিয়ের সতেরো দিনের মাথায় চলে গেল বিদেশে। শান্তি মিশনে। এক বছরের জন্য। পরের মাসে রিনি জানতে পারলো, কুহু তার পেটে।
পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবনে রিনি পুরোপুরি শারীরিক সুখ পেয়েছে মোটে চারদিন। গতবছর মার্চে। তখন আরিফ এসেছিল। সেই চারটা দিন রিনির কাছে স্বপ্নের মত মনে হয়েছিল। প্রতি রাতেই আরিফ তাকে খুব আদর করতো। রিনির ভাবতে অবাক লাগছিল, এই আরিফই কি সেই আরিফ? এত পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব হল? সেদিন যাবার সময় আরিফ রেডি হচ্ছিল।
- আমার প্যান্টের পকেটে কোন ট্যাবলেট পেয়েছিলে?"
- না তো! কেন? কোন ট্যাবলেট ছিল কি?
রিনির মনে হয়েছিল, আরিফ বোধহয় কোন যৌনউত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে থাকবে। সেজন্যই এতটা সময় নিতে পারে।
অথছ আজকের আরিফ কতটা পরিবর্তনশীল।
আরিফ এইবার যাওয়ার সময় নতুন ড্রাইভার রেখে গেছে। বয়স উনত্রিশ কি ত্রিশ। ছেলেটা প্রায় সময় রিনির দিকে তাকিয়ে থাকে। ড্রাইভিং করে যখন গাড়ি চালায়, তখন আড় চোখে রিনির দিকে তাকিয়ে থাকে। রিনি তখন খুব বিরক্ত লাগে। এভাবে তাকালে গাড়ি এক্সিডেন্ট হতে পারে।
আজ সকালে রিনি যখন নিচে নামলো, ড্রাইভার ছেলেটা ওপাশ থেকে তাকে বেশ লক্ষ্য করছিল। রিনি ভিতরে ভিতরে সব কিছু বুঝতে পারে। আসলে ছেলেটার মতিগতি ভাল না। তাই সে ঠিক করলো এ ছেলেকে চাকরিতে রাখা যাবে না।আইডিতে একটিভ না হলে গল্প পাবে না। আমার সব পর্ব একসাথে পড়তে আমার আইডিতে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিয়ে একটিব হোন পাবেন।
রাতে কুহু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর একা একা রিনির মোটেও ভাল না। আজ দুদিন হল আরিফও ফোন দেয় না। তাদের কোন খবর নেয় না। রিনি আরিফের মোবাইলে ফোন দিলেও লাইন কেটে আসে।তারপর আবার ট্রাই করলো, এবার কয়েকবার রিং হলেও আরিফ ফোন টা ধরলো না। শেষে একবার ধরে বললো, সে এখন বিজি আছে। মাঝে মাঝে রিনি যৌন উত্তেজনা পাগল হয়ে উঠে। তখন তার পৃথিবীটা বিষাদময় লাগে। আজও তেমন টা হচ্ছে। হঠাৎ রিনির বেলকনিতে চোখ ফেলতেই দেখলো,,,, ড্রাইভার ছেলেটি উপরের বারান্দায় দিকে তাকিয়ে আছে। রিনির মন আরো উদাসীন হয়ে উঠলো,, সে ভাবলো ছেলেটিকে ডাকবে সে....
#পর্ব- ০১
Cine Bangla Media