18/12/2018
বাংলাদেশ ১২৯ অল-আউট (সাকিব ৬১, আরিফুল ১৭, কটরেল ৪/২৮, পল ২/২৪)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩০/২, ১০.৫ ওভার (হোপ ৫৫, পল ২৮*, মাহমুদউল্লাহ ১/১৩)
ও. ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী
প্রথমদফা এগিয়ে এনে এ ম্যাচ শুরুর সময় ঠিক করা হয়েছিল দুপুর দুইটায়, ফ্লাড-লাইট সংক্রান্ত ঝামেলায়
সেটা এগিয়ে আনা হলো এরপর সাড়ে বারটায়। তবে সিলেটে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে উইন্ডিজের
ব্যাটিংয়ের পর মনে হতেই পারে, দুপুর দুইটার সময় শুরু হলেও ফ্লাডলাইটের প্রয়োজনই পড়তো না যেন
তাদের! এভিন লুইস, শেই হোপ, নিকোলাস পুরান ও কিমো পলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সিলেটে
বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছে উইন্ডিজ। ১৩০ রান-তাড়ায় ৫৫ বল বাকি রেখেই জিতে গেছে
সফরকারীরা, এর আগে এতো বল বাকি রেখে কখনও জেতেনি তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এর চেয়ে
বেশি বল বাকি রেখে জয়ের রেকর্ড আছে শুধু নিউজিল্যান্ডের। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারেই উইন্ডিজ তুলেছে
৯১ রান, টি-টোয়েন্টিতে যেটিও যৌথ রেকর্ড।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিব আল হাসানের ৪৩ বলে ৬১ রানের ইনিংসের পরও ১২৯ রানে
গুটিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ, এক ওভার বাকি থাকতেই। ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মূল ক্ষতিটা করেছেন
পেসার শেলডন কটরেল। জোর করে খেলতে যাওয়া শটে অতি আক্রমণের মানসিকতা স্পষ্ট ছিল
বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের মাঝে, কাল হয়েছে সেটিই। সাকিবকে সে অর্থে সঙ্গই দিতে পারেননি
কেউ!
পেস বনাম স্পিন
টেস্টের পর ওয়ানডেতেও উইন্ডিজ কাবু হয়েছে স্পিনে, তাদের পেসাররাও জ্বলে উঠতে পারেননি
সেভাবে। টি-টোয়েন্টিতে বদলে গেল সেই চিত্রটা। সিলেটের উইকেটে ওশ্যান থমাস ও শেলডন
কটরেলের শর্ট বলে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের পর সাকিবও আউট হয়েছেন
একইভাবে- শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে। তামিম ও সৌম্য কটরেলের বাউন্সারে ধরাশায়ী, থমাসকে
তেঁড়েফুঁড়ে মারতে এসেও বল নিচের দিকে রাখতে পারেননি লিটন। কটরেলের স্লোয়ারে ছয়ের পর
সাকিবও শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে খাড়া ওপরে তুলেছেন ক্যাচ। ১০ম ওভারে ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে দিয়ে
স্পিন এনেছিল উইন্ডিজ, আর বাংলাদেশ দুইদিক থেকেই বোলিং ওপেন করিয়েছে স্পিন দিয়ে। ফলটা
সুবিধার হয়নি, দ্বিতীয় ওভারে মিরাজ গুণেছেন ১৯ রান (৪ লেগবাইস সহ ২৩), ২ ওভারে এই অফস্পিনার
দিয়েছেন ৩৭ রান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্পিন ছাপিয়ে জয়টা উইন্ডিজ পেসেরই!
সাকিবের সঙ্গী কই?
১৯ রানে ২ উইকেট যাওয়ার পর নেমেছিলেন সাকিব, তাকে রেখে প্রথমে ফিরলেন সৌম্য। স্ট্রেইট
ড্রাইভে চার মেরে শুরুটা ভালই ছিল মুশফিকের, তবে সিঙ্গেল চুরি করতে গিয়ে ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটেছে
তার, ৪৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ঝড় সামাল দিতে এসেছিলেন, সফট-
হ্যান্ডেই খেলছিলেন, একমাত্র বাউন্ডারিও পেয়েছেন আউটসাইড-এজে। কটরেলের ব্যাক অফ আ লেংথের
বলটা বেশ কাছে ছিল শরীরের, সেটা কাট করতে গিয়েই ধরা পড়েছেন উইকেটের পেছনে শেই হোপের
হাতে।
আরিফুলের ঝোঁক ছিল শুধু শট খেলার দিকেই। ১৫তম ওভারে টানা পাঁচ ডট (শেষটিতে হতে পারতেন রান-
আউট) দেওয়ার পর শেষ বলে চার মারলেও পরের ওভারেই স্লগ করতে গিয়ে ধরা পড়লেন ডিপ মিডউইকেটে।
সাইফউদ্দিন দ্বিতীয় বলে ব্রাথওয়েটকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন লং-অনে।
পরিস্থিতি-বিরুদ্ধ
সাকিব যেন ব্যাটিং করছিলেন ভিন্ন কন্ডিশনে, পরিস্থিতি ছুঁয়ে যাচ্ছিল না তাকে। ডট দিয়ে শুরু করা
ইনিংসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মেরেছিলেন চার- প্রথমটি এজড হলেও পরেরটি দারুণ ড্রাইভে এক্সট্রা
কাভার দিয়ে। সাকিব এরপর খেলে গেলেন সহজাত এক ইনিংস। চিকি শট খেললেন, আলগা বলকে শাস্তি
দিলেন, জোরের ওপর খেললেন। ১৬তম ওভারের শেষ বলে ফ্যাবিয়েন অ্যালেনকে লং-অন দিয়ে ইনিংসের
প্রথম ছয় মারলেন, টি-টোয়েন্টিতে ৮ম ফিফটি পেয়ে গেছেন তার আগেই। তবে তাকে সঙ্গটাই দিতে
পারলেন না কেউ সেভাবে। বোলিংয়েও প্রায় একই দশা, অন্যপ্রান্তে অন্যরা যখন পিষ্ট হচ্ছেন হোপদের
তোপে, প্রথম ৩ ওভারে সাকিব দিয়েছিলেন মাত্র ১৬ রান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য যথেষ্ট হয়নি সেটা, ১১তম
ওভারে এসে তিনি গুণেছেন ১৬ রান, উইন্ডিজ জিতেও গেছে সে ওভারেই।
হোপ-ঝড়
ওয়ানডে সিরিজে ছিলেন দুর্দান্ত, টি-টোয়েন্টিতেও এভিন লুইসের সঙ্গে শুরুটা দুর্দান্ত করলেন শেই
হোপ। লুইস ফিরেছিলেন, তবে সিলেটে ঝড় থামানোর আগে হোপ করলেন ২৩ বলে ৫৫ রান। ১৬ বলে পূর্ণ
করলেন ফিফটি, যুবরাজ সিংয়ের ১২ ও কলিন মানরোর ১৪ বলের পর যা তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি টি-
টোয়েন্টিতে। উইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটিতে হোপ ছাড়িয়ে গেলেন ক্রিস গেইলকে, ২০১৫ সালে
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউনে ১৭ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি। হোপের ফিফটি
বাংলাদেশের বিপক্ষেও দ্রুততম ফিফটি, ২০১৫ সালে ম্যালকল ওয়ালার ফিফটি ছুঁয়েছিলেন ২০ বলে।
পুরান-পলের ‘প্রমোশন’
১ ওভার বাকি রেখেই বাংলাদেশকে অল-আউট করে দেওয়ার পর মাঠেই শিমরন হেটমায়ারদের সঙ্গে একটা
ছোটখাট মিটিং করে ফেললেন উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট। সেটা ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে
কিনা, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়। তবে ব্যাটিং অর্ডারে চমক দেখালেন তিনি। তিনে পাঠানো হলো
নিকোলাস পুরানকে, এর আগে ৫ ইনিংসে পাঁচের ওপরে ব্যাটিং করেননি যিনি। তিনে এলেন কিমো
পল, এর আগে ছয় ইনিংসে সাতের ওপরে ব্যাটিং করেননি যিনি। পুরান অপরাজিত থাকলেন ১৭ বলে ২৩
রানে, পল করলেন ১৪ বলে ২৮। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই জয় নিশ্চিত করলো উইন্ডিজ।