16/08/2015
সবকিছু নিয়ে ফাযলামো করতে করতে জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার-ফেস্টুনেও একই ফরম্যাট কপি-পেষ্ট করতে হবে? এক কোণায় বঙ্গবন্ধু'র ছবি নামেমাত্র রেখে অলি-গলি-তস্য গলির উঠতি-পড়তি-বাড়ন্ত নেতা'রা নিজেদের হাসিমাখা চাঁদ মুখ ঝুলিয়ে ব্যানারে তাদের জমকালো উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন। তা দিক, কিন্তু 'শোক দিবস উদযাপন পরিষদ', 'শোক দিবস উদযাপন কমিটি'... এই জাতীয় অসভ্যতার মানে কি? 'উদযাপন' শব্দটা 'শোক' শব্দটার সাথে কিভাবে যায়? '১৫ই আগস্ট - জাতীয় শোক দিবস সফল হোক'... এটার মানেই বা কি? শোক দিবস কি করে 'সফল' করা যায়? বেদী'তে পুষ্পার্ঘ্য দিতে গিয়ে ঠেলা-ঠেলি করা এদেশের রাজনীতির পুরোনো রোগ। কেক কাটা হোক বা শুভেচ্ছা জানানোর ফুলের তোড়া... কোন ছবিতে শরীর যদি থাকে ১০ জনের, মাথা থাকবে ২০জনের আর হাত অন্তত ৫০টা ! যে যেদিকে পারছেন মাথা বা হাত ঢুকাতেই হবে। এই মাথা আর হাত গুলোই হলো 'অপ-রাজনীতি'র মাথা আর হাত, এর শরীর কিন্তু সবসময় লুকানোই থাকে!
বঙ্গবন্ধু'র ছবি বা প্রতিকৃতিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সেলফি তোলা, শোক দিবস 'সফল'ভাবে 'উদযাপন' শেষে উদরপুর্তির জন্যে রাখা বিরিয়ানি'র প্যাকেটে বঙ্গবন্ধু'র ছবি ছাপানো... এগুলো শ্রদ্ধা জানানো নয়। এই বোধ না থাকলে কারো যেমন রাজনীতি করার দরকার নেই, তেমন টাইপের রাজনীতিবিদেরও প্রয়োজন নেই এই দেশের। ঢাউস সাইজের কালো গাড়ি'র কালো কাঁচের ভেতর থেকে নেতা-নেত্রী'রা দেখছেন তো এসব? দেখে থাকলে এই ফাযলামোগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা করছেন না কেনো? জাতির পিতা'র ছবি'র যত্র-তত্র অপব্যবহার রোধে একটা শক্ত আইন করা এখন সময়ের দাবি।