21/10/2021
ফেমিনিজম বা নারীবাদ কেন এখন হাস্যকর?
প্রতিটি প্রতিবাদ কিংবা অধিকরণের আলাদা আলাদা দুটি পর্যায় থাকে। সে আলাদা পর্যায়ে আলাদা দু ধরনের মানুষের বিচরণ থাকে। এমন সব অধিকরণের প্রতিবাদে জ্ঞানী বা বোধসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা থাকে সীমিত। আর অবুঝ-জ্ঞানহীন মানুষের সংখ্যা থাকে বেশী।
এই দুই ধরনের মানুষের কারণে একটা প্রতিবাদ দর্শক নামক জনগণের সামনে দুটি আলাদা রূপে উপস্থাপিত হয়। জ্ঞানী মানুষের কারণে প্রতিবাদ হয়ে উঠে গ্রহণযোগ্য আর জ্ঞানহীন মানুষের কারণে প্রতিবাদ হয়ে উঠে হাস্যকর।
ফেমিনিজম এর বিষয়টাও এর ব্যতিক্রমে এগুইনি। প্রথমের দিকে কিছু কিছু নারীবাদের আচার ব্যবহারে অন্য দশ জনগোষ্ঠী নারীদের অধিকারে সোচ্চার না হলেও তরুণ সমাজ ঠিকই পাশে এসে দাড়িয়েছিলো। এমনকি আমি নিজেও আমার আয়ত্তে থাকা নারীদের অধিকার আদায় করে দিতে এখনো কাজ করে যায়।
কিন্তু, আন্দোলনের ২য় পক্ষের লোকেদের মত কিছু জ্ঞানহীন মানুষের বিচরণ এখন বেড়েই চলেছে। তাদের জ্ঞানের আকার সীমিত, কথা বলার মার্জিত সীমা শূন্যের কোটায়, এবং তারা সবসময় এক প্রকার সমস্যা সৃষ্টির মন-মানসিকতা পোষণ করে। এই সংখ্যা শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না, কিছু কিছু সাকার জাতীয় পুরষও নারীদের যেকোনো বিষয় নিয়ে অতি উৎসাহী হতে গিয়ে বিষয়গুলোকে মানুষের কাছে হালকা করে তোলে।
এবার আসুন, কেনো এসব বললাম?
আমাদের কাছে একটা বিষয় যখন আসে সেটাকে আমরা এমনভাবে প্রচার করি, এত বেশী সে বিষয় নিয়ে নন্দিত এবং নিন্দিত কথা বলতে শুরু করি যে, সেই মূল বিষয়টায় মানুষের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠে।
নারীবাদের বিষয়টাও এখন একই হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ ধর্মীয় জ্ঞান দিতে থাকে এমন মানুষকে যেমন আপনার খুব সহজেই বিরক্ত লেগে উঠে। ব্যাকডেটেড মনে হয়। তেমনি আপনারা যারা সবকিছুতেই নারীবাদী নারীবাদী হয়ে উঠেন, তাদেরও একইভাবে বিরক্তিকর এবং ব্যাকডেটেড মনে হয়।
অধিকরণের কিছু পন্থা আছে। সেই পন্থায় এগুতে থাকেন। একটা অধিকার আন্দোলন হিংসে বিদ্বেষ দিয়ে অর্জন করতে যত যুগ সময় লাগে, ভালোবাসার সাথে অর্জন করতে তত যুগের শতভাগের একভাগ সময়েরও প্রয়োজন হয়না।
কি করবেন তাহলে?
আমরা নেগেটিভ জিনিসগুলোকে খুব সহজে মানুষের সামনে আনতে পছন্দ করি। তাই আমরা সবসময় মারমুখী হয়েই থাকি। আজ থেকে এক মাস জুড়ে দেশের সব নারীরা একটা কাজ করে দেখুন তো। কাজটা হবে নেগেটিভের মত পজেটিভ দিকগুলোকেও সবার সামনে এনে উপস্থিত করুন ।
এই যেমন ধরুন- একটা মানুষ/ছেলে বাসের ভীড়ে আপনার গায়ে হাত না দিয়ে বরং আপনার গায়ে যাতে কেউ হাত দিতে না পারে তাই আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আপনাকে গার্ড দিলো, সেই মানুষ/ ছেলেটিকে সবার সামনে সম্মান দিয়ে পরিচয় করিয়ে দিন, আবার ধরুন বখাটে ছেলেদের মাঝে কেউ একজন আপনার আপন ভেশে আপনাকে রাস্তা পার করিয়ে দিলো, কিংবা এমন যেকোনো সুন্দর মুহুর্তটাকে নিয়ে লিখুন-সেসব ইতিবাচক দিকগুলোকে মানুষের কাছে তুলে আনুন।
দেখুন, এক মাস পরের দিনগুলো এর চেয়ে অধিক সুন্দর হয়ে যাবে। এই কাজের পেছনে তেমন কোনো তিক্ত বক্তব্য কিংবা কঠিন কোনো অস্ত্র নেই। আছে শুধুই ভালোবাসা বা ভালো মনোসংযোজন। একজন একজন করে পিটিয়ে কিংবা শাস্তি দিয়ে একটা সুন্দর সমাজ কিংবা জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করা কখনোই সম্ভব না।
কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সেটা খুব সহজেই সম্ভব।
ভালো কাজের প্রতিদানটি শুধু দিন, দেখবেন প্রতিটি পুরুষ প্রতিটি নারীর ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।
-রম্যভাই
(এখানে যা কিছু নিয়ে কথা বলা হয়েছে তা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং মতামত মাত্র। আপনাদের কারো যদি ভালো না লেগে থাকে। তাহলে সময় নিতে পারেন। ভাবতে পারেন। যদি এর চেয়ে উত্তম কোনো পন্থা পান। অবশ্যই সবার কাছে পৌঁছে দিবেন)