Blowing Mind

Blowing Mind This page is for entertaining audience. Audience are the first priority of this page. Please inbox u

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : সাতসন্ধ্যার পর টিউশানিতে ছিলাম। হঠাৎ মাহিদ ভাইয়ের কল। রিসিভ করতেই তার উচ্ছসিত কণ্ঠ শোনা ...
11/05/2026

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : সাত

সন্ধ্যার পর টিউশানিতে ছিলাম। হঠাৎ মাহিদ ভাইয়ের কল। রিসিভ করতেই তার উচ্ছসিত কণ্ঠ শোনা গেল,

"আজান কই তুমি?"

"টিউশানিতে আছি ভাই।"

"টিউশানিতে মানে? হাসপাতালে যাওনাই?"

"আমি কেন হাসপাতালে যাব ভাই? আমার তো কিছু হয়নি।"

"আরে মিয়া তুমি কি কিছু জানো না?"

"না তো ভাই, কী হয়েছে?"

"তুমি আসলেই জানো না?"

"ভাই কিছু বলার থাকলে বলেন নাহলে ফোন রাখছি। কয়দিন পরে স্টুডেন্টের পরীক্ষা। পড়ানোতে মন দেই।"

"মিয়া তুমি আছো পড়ানো নিয়া ওইদিকে তোমার নাইকা হাসপাতালে।"

আমার শরীরে যেন চার হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল। হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে গেল প্রায় তিনগুণ। মস্তিষ্কে প্রশ্নের ফুয়ারা বইতে শুরু করল। আমার নাইকা হাসতাপালে মানে! কার কথা বলছেন তিনি!

"মাহিদ ভাই আমি আজান। আপনি কাকে কল দিছেন?"

"তোমারেই কল দিছি। একটু আগে মেসে আসার সময় রাস্তায় দেখি অনেক মানুষের ভীড়। ভীড়ের মাঝখানে একটা দামি গাড়ি এক্সিডেন্ট করে পড়ে আছে। ওইটা সেই গাড়ি যেইটা দিয়া ধনীর দুলালি আইসা তোমার সাথে দেখা করে। মাইনষের মুখে শুনছি গাড়িটা একটা মেয়ে চালাচ্ছিল। তারে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হইছে।"

কথাগুলো শুনে আমি আর দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। মনে হচ্ছিল এখনি বুঝি টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যাব। আমার এহেন অবস্থার কারণ বুঝে উঠার মানসিকতা আপাতত নেই। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, যে মেয়েটির সাথে আমার কোনো সস্পর্ক নেই, কয়দিন আগে যার নাম পর্যন্ত জানতাম না, সেই মেয়েটির দুর্ঘটনার কথা শুনে আমার অবস্থা এত খারাপ হচ্ছে কেন?

কাঁপাকাঁপা গল্প জানতে চাইলাম, "কোন হাসপাতালে আছে ভাই?"


কীভাবে যে তিনতলা থেকে নেমেছি কিচ্ছু জানি না।
মনে হলো যেন উড়ে এসেছি। তারপর রাস্তায় বেরিয়ে রিকশাকে সিগন্যাল দিব সেই ফুসরতও নেই।

স্যান্ডেলটা খুব প্যারা দিচ্ছিল। সেটা হাতে নিয়ে পাগলের মতো ছুটলাম। প্রায় সাড়ে সাত মিনিট টানা দৌড়ের পর হাসপাতালের করিডোরে এসে আয়রার ড্রাইভারের সাথে দেখা হলো। লোকটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। বললাম,

"কীভাবে হলো?"

"আমি বারবার মানা করছি, বলছি ম্যাডাম আমি থাকতে আপনে কষ্ট করবেন ক্যান? আমারে দেন, আমি আপনেরে বাড়ি পৌঁছায় দেই। ম্যাডাম শুনলেন না আমার কথা। আমাকে নামিয়ে দিয়ে নিজেই ড্রাইভ করতে গেলেন। তাতেই.."

বলতে বলতে কাঁদার চেষ্টা করল লোকটা। আমি দায়িত্বরত ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, এখন সে বিপদমুক্ত। অনুমতি নিয়ে রুমে গিয়ে দেখি তকতকে পরিষ্কার বিছানায় হেলান দিয়ে বসা আয়রা।

বললাম, "আসব?"

"হুমম।" বলে অনুমতি দিলো। কিন্তু আমার দিকে তাকালো না। আয়রার মাথায় ব্যান্ডেজ। চেহারা অনেকটা মলিন। চোখে নির্লিপ্ত ভঙ্গি। যেন কিছুতেই কিছু যায় আসে না। আমি দু'পা এগোলাম।

"কী ভেবেছেন বলুন তো? আপনি কি কাউকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না?"

এরকম প্রশ্নের জন্য হয়তো আয়রা প্রস্তুত ছিল না। সে আমার মুখের দিকে তাকালো। তারপর ধীর স্বরে বলল,

"কী করেছি আমি?"

"কে বলেছিল পাকনামো করে নিজে গাড়ি চালাতে? এখন যদি আরো বড়ো ধরণের এক্সিডেন্ট হত, তাহলে ঘটনা কোথায় যেত বলতে পারেন?"

"কোথায় আবার যেত, আমি মরে যেতাম তাইতো?"

"এত সহজে কথাটা বলে দিলেন? জীবন কি এতই সহজ?"

"সহজ না বুঝি?"

"মোটেই না। মানুষ বাঁচার জন্য কত লড়াই করছে। আর আপনি মরার কথা ভাবছেন। আপনার কিছু হলে বাকিদের কী হবে জানেন?"

"কার কী হবে?"

"কার কী হবে মানে? আপনার জীবনের সাথে আর কত মানুষ কতভাবে জড়িয়ে আছে তা কি আপনি জানেন? আমার তো মন চাচ্ছে ইচ্ছেমতো আপনাকে বকে দেই।"

এইবার আয়রার মুখে হাসি ফুটল। সে শুকনো হেসে বলল,

"তাই?"

"জি হ্যাঁ। আপনি যদি সাধারণ কেউ হতেন তাহলে অবশ্যই বকে দিতাম।"

"নিজের ইচ্ছের কথা তো বললে, আমার কী ইচ্ছে করছে জানতে চাইবে না?"

"কী ইচ্ছে করছে?"

আয়রা মৃদু হাসলো।

"ডাক্তার যখন আমার মাথায় ব্যান্ডেজ করছিল, তখন বলেছিল ব্যথার কথা না ভেবে অন্যকিছু ভাবতে। এতে ব্যথা কম অনুভূত হবে। আমার তখন বাটারস্কচ কোন আইসক্রিমের কথা মাথায় এসেছে।"

আমি এক মুহূর্ত দেরি না করে বেরিয়ে যেতে শরু করলাম।

"আরেআরে কোথায় যাচ্ছো?" বলে হাঁক দিলো আয়রা। আমি থমকে ফিরে তাকালাম। তারপর মৃদু হেসে বেরিয়ে গেলাম।


হাসপাতালের লিফট নয়তলায় ছিল। সেটা পাঁচতলায় নামবে। তারপর সেটাতে করে আমি নিচতলায় যাব এত ধৈর্য আমার ছিল না। আমি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলাম।

হাসপাতাল থেকে বেরোতেই একটা দোকানে গেলাম। সেখানে কোন আইসক্রিম আছে কিন্তু বাটারস্কচ নেই। আশেপাশের দোকানগুলোতেও ভ্যানিলা আছে কিন্তু কোথাও বাটারস্কচ নেই।

পাক্কা এক ঘন্টা খোঁজাখুঁজির পর একটা ছোট্ট দোকানে অবশেষে কাঙ্খিত বাটারস্কচ আইসক্রিম পাওয়া গেল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো যখনি আইসক্রিমটা কিনতে যাব, পকেট হাতড়ে দেখি মোটমাট সাঁইত্রিশ টাকা আছে। শার্ট-প্যান্টের সব পকেট খুঁজে আরো একটি দুই টাকার কয়েন পাওয়া গেল। কিন্তু উনচল্লিশ টাকায় এই আইসক্রিম কেনা যাবে না।

অবশেষে হাতের মোবাইল বন্ধক রেখে আইসক্রিমটা কিনে নিলাম। দোকানি ভূত দেখার মতো তাকিয়ে রইল। সামান্য একটা আইসক্রিমের জন্য কেউ তার মোবাইল বন্ধক রেখে দিবে এটা হয়তো সে কল্পনাও করেনি কোনোদিন।


হাসপাতালে পৌঁছুতে প্রায় সাড়ে চার মিনিট সময় লাগলো। ঘামে ভিজে যখন পাঁচতলায় উঠলাম তখন আমার মুখে তৃপ্তির হাসি। আইসক্রিম গলতে শুরু করার আগেই চলে আসতে পেরেছি।

আয়রার রুমে ঢুকতেই যাব, দেখি ভেতরে সেই ছেলেটা; যে আজ আয়রাকে নিতে গিয়েছিল। আয়রা বিছানায় আগের মতোই বসা। ছেলেটা তার কাছ ঘেঁষে বসেছে। তার হাতে লাল গোলাপের তোড়া। সেটা আয়রার কোলের উপর রেখেছে ছেলেটা। তারপর নিজের একটি হাত আয়রার হাতের উপর রেখে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে। আয়রা চুপচাপ শুনে যাচ্ছে।

আর আমি দাঁড়িয়ে আছি ঠিক দরজার সামনে। আমার হাতদু'টো পেছনে। হাতে আছে মাত্র ষাট টাকা দামের কোন আইসক্রিম। যেটা এখন টপটপ করে গলে পড়ছে। পড়ুক। এই সামান্য আইসক্রিমের তুলনায় ওই ফুলের তোড়া অনেক বেশি দামি। সামনে দামি জিনিস থাকতে কমদামি জিনিসের কথা কে ভাবে? আমি নাহয় একঘন্টা যুদ্ধ করে আইসক্রিমটা এনেছি। তাতে কী? এটার দাম তো ষাটই, তাই না?


রাতে ঘুমাতে পারছিলাম না।
কেন জানি না এলোমেলো লাগছিল সবকিছু।
এপাশ-ওপাশ করতে করতে বিছানাটাকেও যেন বিরক্ত লাগতে শুরু করেছিল। আর থাকতে না পেরে উঠে মাহিদ ভাইয়ের রুমে নক করলাম।

"ভাই আসব?"

"আসো। দরজা খোলা আছে।"

ঢুকে দেখি ভাই বই হাতে বসা। উনি এমনই। রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত বইপত্র পড়েন। হাতের বইটা ভাঁজ করে রাখতে রাখতে বললেন,

"বিকেলের মৃত্যু পড়ছিলাম। এই নিয়া চারবার পড়া হবে, বুঝছো? ববি রয়রে এত ভাল্লাগে আমার কী যে বলব! অ্যাই তুমি পড়ছো তো বইটা?"

বলতে বলতে হঠাৎ থেমে চেয়ে দেখলেন আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি।

"কী হইছে আজান? কোনো সমস্যা?"

আমি উনার কাছে বসলাম। কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না। মাহিদ ভাই বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি হয়তো আমার সমস্যা ধরতে পেরেই বললেন,

"শুনো ভাই, জীবনে মাঝেমাঝে কাকতালীয় অনেক কিছুই ঘটে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা কেউ বাস্তবতার বাইরে যাইতে পারব না। আমরা তো সিনেমায়ও অনেক নাইকা দেখি। তুমি ধরে নাও তোমার নাইকাও সিনেমার। যারে দেইখা ভালোলাগা হয়, কিন্তু ভালোবাসতে যাইয়ো না।"

চলবে...

#গল্প #চাঁদের_গায়ে_ধূসর_কলঙ্ক
#ইয়াছিন_নাইম

10/05/2026

New story Coming from Tomorrow.


And keeps eye for more update

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : ছয়মেসে ফিরে দেখি একগাদা ফুলের সাথে একটি চিরকুট। আয়রা লিখেছে,"এত অস্থির কেন আজান? কেন এত ...
10/05/2026

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : ছয়

মেসে ফিরে দেখি একগাদা ফুলের সাথে একটি চিরকুট। আয়রা লিখেছে,

"এত অস্থির কেন আজান? কেন এত ছটফট করো বলো তো। তোমাকে এত অস্থির মানায় না। তুমি শান্ত, নীরব, কোমল। তুমি যেমন, তেমনি সই।"

লেখাটুকু পড়ে রাগে নিজের মাথা নিজেই ফাটাতে ইচ্ছে করল। কেমন খারাপ মেয়ে দেখুন তো। এতদিন ঠিকই আমার উপর নজর রেখেছে। আমি যে ছটফট করছি সেসব জেনেও একটাবার সামনে আসেনি। আমাকে কষ্ট দিয়ে খুব মজা লাগে তাই না? সময় আসুক, আমিও দেখাব মিস আয়রা। একবার সুযোগ পাই। তারপর আমিও দেখাব প্রতিশোধ কীভাবে নিতে হয়। নিজে একটু সুন্দরী আর পয়সাওলা বলে ভেবেছে যেভাবে খুশি আমাকে কষ্ট দিতে পারবে তাই না?


প্রায় আটদিন পর আয়রার দেখা পেলাম।
একটা সস্তা টং দোকানের সামনে কমসেকম পঞ্চাশজন লোক ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে। এলাকার সবাই হা করে তাকিয়ে দেখছে, একটি অতি সুন্দরী মেয়ে প্রায় দশ কোটি টাকা দামের গাড়িতে করে এসে দশ টাকা দামের চা খাচ্ছে। তার মুখোমুখি বসে আমি।

আয়রা আজকে শাড়ি পরেছে। গাঢ় হলুদ শাড়ি। হলুদ রং আমার একদমই পছন্দ ছিল না। এটাকে আমি গু কালার বলে উপহাস করতাম। কিন্তু আজ আয়রার পরনে হলুদ দেখে এই রঙের প্রতি আমার ধারণা পাল্টে গেছে। আজ থেকে আমার প্রিয় রং হলুদ।

"তোমার কি অস্বস্তি লাগছে?" বলে কপাল কুঁচকে তাকালো আয়রা। তারপর বলল, "এজন্যই বলেছিলাম একটা ভালো রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসি। কিন্তু তুমি শুনলে না। এখন দ্যাখো, মানুষ কেমন তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।"

"আমি ভাবিনি এমন কিছু হবে।"

"ভাবতে হবে আজান। তুমি বুদ্ধিমান ছেলে। বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে।"

"কে বলেছে আমি বুদ্ধিমান?"

"আমি বলেছি। আয়রা কখনো ভুল কথা বলে না। তোমার ইগো ঠাণ্ডা হলে চলো অন্য কোথাও গিয়ে বসি। কিছু জরুরি কথা বলার আছে।"

কিন্তু কোথাও যেতে হলো না। তার আগেই আরেকটা কোটি টাকা দামের গাড়ি এসে থামলো। গাড়িটা দেখে আয়রার মুখের হাসি যেন নিমিষেই উবে গেল। চট করে উঠে দাঁড়ালো সে। তার চোখে অবিশ্বাস আর ভয়। কিছুটা চমকে উঠেছে সে।

গাড়ি থেকে বেরিয়ে এল একটা অতি সুদর্শন পুরুষ। মাটিতে পা রেখে চোখের সানগ্লাস সরিয়ে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে তাকালো সে৷ তারপর এগিয়ে এসে নিচু আওয়াজে বলল,

"তুমি এখানে কী করছো?"

আয়রা পাল্টা প্রশ্ন করল, "তুমি না লন্ডনে থাকার কথা? দেশে আসলে কবে?"

"আজই এসেছি। ভেবেছিলাম তোমাকে সারপ্রাইজ দেব। তুমি নিজেই আমাকে সারপ্রাইজড করে দিয়েছ।"

"কি...কিন্তু তুমি দেশে এসেছ কেন?"

"তার আগে বলো তুমি এখানে কী করছো?"

আয়রা কিছুটা থতোমতো খেয়ে বলল, "একটা জরুরি কাজে এসেছিলাম।"

"জরুরি কাজ? এই বস্তিতে?" বলে ব্যাঙ্গ করে তাকালো ছেলেটা। উপহাস করে বলল, "কী এমন জরুরি কাজ শুনি?" তারপর আমার দিকে আঙুলের ইশারা করে বলল, "এটা কে, দেখে তো তোমার কোনো কর্মচারীও মনে হচ্ছে না। এসব থার্ডক্লাস নাগরিকদের সাথে কী কাজ তোমার?"

"এভাবে বলছো কেন?"

"বলব না? এদের দিকে তাকাও তো। আশপাশে যারা আছে তাদের সাথে কি তোমার যায়? তুমি থাকবে ফাইভ স্টার হোটেলে। তা না বস্তিতে এসেছ। আর এসব চা কে খায়? ময়লা পানিতে দুধ চিনি মেশালেই সেটা চা হয়ে যায় নাকি?"

ভীড়ের মাঝখান থেকে একজন বলে উঠল, "ও স্যার, চা নিয়া কোনো কথা কইবেন না। আপনেরা নামিদামি হোটেলে গিয়া যা মন চায় খাইতে পারেন। কিন্তু আমাগো লাইগা চা-ই সব।"

"শাট আপ। তোমাকে কথা বলতে কে বলেছে ইতর কোথাকার!"

"ও স্যার গালি দিতাছেন ক্যান?"

আয়রা বলল, "কী করছো তুমি!"

"আমি কিছু করছি না। আমি তো তোমাকে নিতে এসেছি। চলো।"

"কোথায়?"

"ফার্মহাউসে।"

"আমি এখন যেতে পারব না।"

"ফার্মহাউসে যেতে পারবে না। বস্তিতে তো ঠিকই বসে আছো।"

"বিহেইভ ইয়োর সেল্ফ। আমি বিনা কারণে আসিনি। নিজের প্রয়োজনে এসেছি। আর এখন তোমার সাথে ফার্মহাউসে যেতে পারব না।"

বলে নিজের গাড়িতে করে চলে গেল আয়রা। ছেলেটা রাগে গজগজ করতে করতে নিজের গাড়ি করে চলে গেল। আমি বোকার মতো চেয়ে থাকলাম শুধু। কেন জানি না ছেলেটাকে দেখার পর থেকে অস্বস্তি লাগছে। সহ্য করতে পারছি না। ছেলেটা যখন আয়রার সাথে জোরে কথা বলছিল, ইচ্ছে করছিল দেই ঠাস করে বসিয়ে। মেয়েমানুষের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয় দেখিয়ে দেই একেবারে।

চলবে...

লেখা : ইয়াছিন নাইম

09/05/2026

#চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক
চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : পাঁচ

"খাবার কেমন ছিল মিস্টার... আজান?"

আমার মুখোমুখি এসে বসল আয়রা। এখন তার পরনে স্লিভলেস কালো গাউন। ভেজা চুল থেকে শ্যাম্পুর ঘ্রাণ আসছে। এখন অনেক ফ্রেশ লাগছে তাকে। তার চাহনি আর কথা বলার ভঙ্গি এমন, যেন আমরা বহু বছর ধরে পরিচিত। ভোর হতে বেশি দেরি নেই। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।

আয়রা আবার বলল, "খাবার কি পছন্দ হয়নি?"

আমার জবাব দিতে ইচ্ছে করল না। আরে খেলে তো পছন্দ হবে! আমি খাইনি। কেন খাব? যে আমাকে এতগুলো মানুষের সামনে অপমান করল তার দেওয়া খাবার কোন দুঃখে খেতে যাব আমি? এটা ঠিক যে খিদের জ্বালায় অস্থির লাগছে আমার। কিন্তু তারমানে তো এই না যে, যারতার দেওয়া খাবার খেয়ে ফেলব। সে কী ভেবেছে? এত অপমান করে ভালোভালো দু'টো খেতে দিলেই আমি সব ভুলে যাব? এ তো জুতা মেরে গোরু দানের মতো ব্যাপার হয়ে গেল। দরকার হলে না খেয়ে মরে যাব, তবুও ওর কিছু খাব না।

এদিকে বড়োবড়ো দু'টো এসি পাল্লা দিয়ে চলছে। আমার হাড় পর্যন্ত শীতল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আয়রার তেমন কিছুই হচ্ছে না। সবচে' বড়ো কথা, আমার শরীর কাপড়ে ঢাকা। কিন্তু আয়রা যে গাউন পরে আছে তাতে শরীরের অর্ধেক কাপড়ের বাইরে। তাও সে স্বাভাবিকভাবেই বসা। তার চোখ দেখে মনে হচ্ছে আমাকে কাঁচুমাচু হয়ে কাঁপতে দেখে সে খুব মজা পাচ্ছে। তাইতো কৌতূকের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে বারবার। ঠোঁটের কোণে সামান্য মিষ্টি হাসি আছে কি?

"তোমার কি ঠাণ্ডা লাগছে?"

বলে মৃদু হেসে তাকালো আয়রা। তারপর মার্বেলের রাউন্ড শেপ টেবিলের উপর থেকে সাদা রিমোট হাতে তুলে নিলো। রিমোট চাপতেই এসি দু'টো বাতাস করা বন্ধ করে দিলো। তারপর কিছুক্ষণ আমাকে দেখল চুপচাপ। বলল,

"তোমার মনেহয় ঘুম পাচ্ছে। রেস্ট করো তাহলে, গুডনাইট।"

বলে আয়রা চলে গেল। আমি আরকিছু ভাবতে পারছিলাম না। একে তো খিদার জ্বালা তারউপর ঘুম৷ সুতরাং আর দেরি না করে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম আয়রা মাতাল হয়ে আমাকে দৌড়াচ্ছে। আর আমি জুতা হাতে নিয়ে ছুটে পালাচ্ছি।


পরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙলো ততক্ষণে সকাল দশটা বেজে গেছে। জানতে পারলাম আয়রা অফিসে চলে গেছে। আমিও মেসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। বারোটায় একটা কৌচিং সেন্টারে ক্লাস করাতে হবে। এরপর আরো দু'টি টিউশানি।


সারাদিন ছাত্র পড়িয়েই কাটলো আমার। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য আয়রার কথা মাথা থেকে সরাতে পারছিলাম না। আয়রার ভেজা চুল, কালো গাউন, কৌতূক মেশানো চোখ, আর ঠোঁটের কোণে আড়াল করা মুচকি হাসি সবকিছু যেন আমার চোখে ছাপা হয়ে গেছে। মাথা থেকে সরাতে পারছিলাম না কিছুতেই।

রাতে যখন মেসে ফিরলাম তখন প্রায় দশটা বাজে। ঘরে ঢুকতেই মাহিদ ভাই উত্তেজিত ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে বললেন,

"ব্যাপার কী কউ তো মিয়া? কাল সারারাত কই ছিলা?"

মাহিদ ভাইকে সত্যিটা বললাম। সব শুনে রীতিমতো গর্ব করে বললেন,

"কী বলো মিয়া! তোমার তো কপাল খুলে গেছে!"

"কীভাবে খুলেছে ভাই? এখানে কপাল খোলার কী আছে?"

"আরে মিয়া তুমি কিন্তু বোকা আছো কিচ্ছু বুঝো না। তোমার জায়গায় আমি থাকলে ঘটনা ঘটায় ফেলতাম।"

কী ঘটনা ঘটাতেন সেটা জানতে চাওয়ার আগেই ঘরে আরেক ছোটোভাই ঢুকল। তার চোখেমুখে কৌতূহল। আমার সামনে এসে বলল,

"ভাই, একটা মেয়ে আপনারে খুঁজতে আসছিল।"

"মেয়ে? কোন মেয়ে? আমার কোনো স্টুডেন্ট?"

"না ভাই, স্টুডেন্ট না। অনেক সুন্দরী মেয়ে। খুব দামি একটা গাড়ি নিয়ে আসছিল। তোমার নাম্বার চাইছে।"

"তুই আমার নাম্বার দিছিস?"

"হ্যাঁ ভাই। আমারে পাঁচশো টাকা বকশিস দিছে।"

"তোরে কে বলছে আমার নাম্বার দিতে?"

"ওমা! এত সুন্দর একটা মেয়ে চাইলো আর আমি দিমু না?"

বলে কতকটা অবাক হয়েই চলে গেল ছেলেটা। মাহিদ ভাই আবারো উত্তেজিত হয়ে বললেন,

"দ্যাখছো মিয়া? কইছিলাম না তোমার কপাল খুলছে? আমাগোরে ভুইলা যাইয়ো না কিন্তু।"

এসব কথার মাথামুণ্ডু কিছুই আমার বোধগম্য হলো না। আমি গোসল করতে চলে গেলাম৷


এরপর কেটে গেছে সাতটি দিন।
আয়রার সাথে একটাবারও দেখা হয়নি।
আয়রাও আমার কোনো খোঁজ নেয়নি।

প্রথম প্রথম আমি তেমন ভাবিনি এসব নিয়ে। তবে মাঝেমাঝে যখন টিউশানি শেষে রাস্তায় এসে দাঁড়াতাম তখন মনে হত যেন এখনি আয়রা ঢুলতে ঢুলতে এসে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমঘুম কণ্ঠে বলবে,

"অ্যাই আমাকে বাসায় নিয়ে চলো... নিয়ে চলো না প্লিজ..."

কিন্তু কোনোদিনই এমনটা হয়নি। মাঝে কয়েকদিন ইচ্ছে করেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেছি। তবে তাই বলে ভাববেন না আমি আয়রার জন্য দাঁড়িয়েছি। ওর প্রতি আমার কোনো ফিলিং নেই। আমি এমনি দাঁড়িয়েছি। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছিল, প্রাকৃতিক হাওয়া আমার মনকে প্রশান্তি দিচ্ছিল।

আজও সেরকমই দাঁড়িয়ে থাকা।
তবে আজ মনেহয় একটু বেশি সময়ই হয়ে গেছে।
এখানে এসে দাঁড়িয়েছিলাম রাত ৯টায়। এখন বাজে ১২টা। মেসের বড়োভাই কয়েকবার ফোন দিয়ে তাগদা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মেসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে একটা লোক আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে। আমি তাকে আয়রা ভেবে ভুল করেছিলাম।

রাত যখন আরো বাড়ল তখন ঠিক করলাম আয়রার বাসায় যাব। হতে পারে মেয়েটা অসুস্থ। এটা ঠিক সে আমাকে বিনা দোষে অপমান করেছে। কিন্তু তাই বলে কি একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকবে আর আমি তাকে দেখতে যাব না? এতটা সেলফিশ আমি নই।


আয়রার বাসার বৃদ্ধ লোকটা আমাকে চিনতে পারল। ঘুমঘুম চোখে আমার দিকে চেয়ে বলল,

"কী চাই?"

"আপনাদের ম্যাডাম কোথায়?"

"ম্যাডাম বাড়িতে নাই।"

"কখন আসবে?"

"তা তো বলে যায়নাই। একসপ্তাহ আগে যে গেছে এরপর আর যোগাযোগ হয়নাই।"

"এক সপ্তাহ ধরে বাসায় ফিরেনি! কী বলেন! তো এতদিন ধরে আপনারা কী করছেন? খোঁজার চেষ্টা করেননি? পুলিশে খবর দেননি?"

"পুলিশে খবর দিব কেন? ম্যাডাম নিজেই তো গেছে।"

"আরে কোথায় গেছে, কবে আসবে কিচ্ছু জানেন না তাও এইভাবে বসে আছেন। আপনারা কি মানুষ? তার যদি কোনো বিপদ হয়ে থাকে?"

"বিপদ হবে কেন?"

"আশ্চর্য! একটা মেয়ে এক সপ্তাহ ধরে বাড়ি ফেরেনি আর আপনি বলছেন বিপদ হবে কেন!"

"আরে যান তো বিরক্ত কইরেন না। যান যান।"

বলে লোকটা আমার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলো। সারাটা রাত এখানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম আমি৷ চিন্তায় চিন্তায় আমার ঘুম উবে গেছে। সকালে টিউশানির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ঠিক করলাম টিউশানি শেষে ফেরার পথে থানায় যাব৷ আরকিছু না হোক, অন্তত মিসিং কেস তো করতেই হবে। জলজ্যান্ত একটা মেয়েমানুষ হঠাৎ উধাও হয়ে যাবে এটা তো হতে দিতে পারি না!

কিন্তু কলটা আসলো টিউশানি শেষ হওয়ার আগেই। মেসের এক ছোটোভাই কলে জানালো,

"কই ভাই তুমি? এক সুন্দরী তোমার জন্য একগাদা ফুল দিয়ে গেছে।"

চলবে...

লেখা : ইয়াছিন নাইম

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : চারশুধুমাত্র গরিব বলে আজ আমাকে অপমানিত হতে হলো। অনুষ্ঠানে আয়রা যখন আমাকে ছোটো করে কথাগুল...
08/05/2026

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : চার

শুধুমাত্র গরিব বলে আজ আমাকে অপমানিত হতে হলো। অনুষ্ঠানে আয়রা যখন আমাকে ছোটো করে কথাগুলো বলল, তখন লজ্জায় অপমানে মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল।

ঠিক করলাম বড়োলোকের কোনো অনুষ্ঠানেই আর যাব না। বিশেষ করে আয়রার চোখের সামনে তো ভুলেও যাব না। যেই মেয়েকে আমি বিপদের হাত থেকে রক্ষা করলাম। সে আমাকে এভাবে ছোটো করল সবার সামনে! হোক সে সুন্দরী। হোক অনেক টাকার মালিক। তাই বলে কি আমার আত্মসম্মান নিয়ে খেলবে?

মনেমনে দোয়া করলাম ওই মেয়ের সাথে আর কোনোদিন যেন দেখা না হয়। কিন্তু ভাগ্য যে আমার সাথে ভিন্ন খেলা শুরু করেছে তা আমি তখনও টের পাইনি।

রাগে, দুঃখে, কষ্টে আমি আয়রার দেওয়া পাঁচশো টাকার নোটটা পকেট থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে দিলাম। আর তখনি আমার চোখে পড়ল একটা বিশেষ জিনিস, যেটা এর আগে খেয়াল করিনি।

টাকার উপর বাংলায় কীসব যেন লেখা। নোটটা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দেখি সেখানে লেখা,

"কী ভেবেছ আমি তোমাকে চিনতে পারব না? তুমি আসলেই অনেক বোকা। ১১ নাম্বার রোডে অপেক্ষা করো, আমি আসব।"

লেখাটুকু পড়ে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। আয়রা এটা কেমন খেলা খেলল আমার সাথে? সে আমাকে চিনতে পেরেছে! তারমানে গত রাতের সব কথা তার মনে আছে! তাহলে সেটা মুখে বলল না কেন? টাকায় লিখে দেওয়ার মানে কী?

আমি পড়লাম চিন্তার সাগরে। এখন আমার কী করা উচিত? অপেক্ষা করব তার জন্য? না কি চলে যাব? অনুষ্ঠানে সবার সামনে আমার সাথে যা করল, একা পেলে আরো কী যে করবে কে জানে!

আয়রার সাথে দেখা করব না ঠিক করে হাঁটা শুরু করলাম।
সে তো শুধু একটা মেয়ে নয়, আস্ত একটা আতঙ্ক। না বাবা, এই মেয়ের সাথে আর দেখা করা যাবে না। ওরা বড়োলোক মানুষ। যখন যা খুশি করতে পারে। কিন্তু আমি? আমার চাল নেই চুলো নেই। ওদের সাথে পাল্লা দিতে গেলে মুখ থুবড়ে পড়ব। এরচে' আমি আমার রাস্তায় থাকি সেটাই ভালো হবে।

কিন্তু ১১ নাম্বার রোডের সামনে আসতেই বাঁধলো বিপত্তি। কেন জানি না মনে হলো আমার দাঁড়ানো দরকার। এত পাওয়ারফুল একটা মেয়ে। সে তো শুধুশুধু আমাকে ডেকে সময় নষ্ট করবে না। নিশ্চয়ই তার কোনো মতলব আছে। কিন্তু কী মতলব সেটা আন্দাজ করতে পারছি না। আমাকে একা রাস্তায় অপেক্ষা করতে বলার কারণ কী থাকতে পারে? আমার মতো ছাপোষা একজনের সাথে তার কী এমন কাজ থাকতে পারে?

কিছুতেই যখন কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না তখন ঠিক করলাম অপেক্ষা করব। আরকিছু না হোক অন্তত টাকাটা ফিরিয়ে দিয়ে বলব, "টাকা দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না মিস আয়রা। অন্তত আমাকে আপনি কিনতে পারবেন না। তাছাড়া আপনার টাকা আছে বলে যাকে খুশি আপনার জুতা খুলে দিতে বলবেন এটাও ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না।"

কিন্তু যখন সত্যিসত্যি আয়রার সাথে দেখা হলো, তখন সেরকম কিছুই বলতে পারলাম না।


অন্ধকার গলিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। তখন রাত প্রায় এগারোটা। এলোমেলো পা ফেলে একজন ছায়ামূর্তি এগিয়ে আসতে দেখা গেল। অবয়ব দেখে বুঝলাম সেটা আয়রা। আজকেও টলছে। তারমানে আজকেও মদ গিলেছে। তবে হয়তো কালকের মতো অতো বেশি খায়নি।

আয়রা যখন আমার সামনে এসে মাতাল চোখে আমার দিকে তাকালো, তখন আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। একটা মানুষ এত সুন্দরী কীভাবে হতে পারে? এবং টু বি অনেস্ট, এই অবস্থায় ওকে দেখে আবারো কিছুটা লজ্জা লাগলো আমার। যেমনটা কাল রাতেও লেগেছিল। আমার বুক কাঁপতে শুরু করেছে। একটা মেয়েমানুষকে এতটা অশালীন লাগতে পারে কীভাবে! আয়রার চোখদু'টোও যেন অশ্লীল কবিতাবাক্য করে বেড়াচ্ছে। যার ফলে আমার নিশ্বাস ঝড়ো হাওয়ার মতো কুণ্ডুলি পাকিয়ে উঠছে বারবার।

আয়রা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলল, "জানতাম তুমি অপেক্ষা করবে।"

"আমাকে এখানে অপেক্ষা করানোর মানে কী?"

"মানে খুব সোজা। তুমি আমাকে বাসায় পৌঁছে দিবে।"

"কীহ!"

আয়রা মৃদু হাসলো।

"হ্যাঁ, এটা তোমার ডিউটি। টাকা যত লাগে আমি দেব কোনো সমস্যা নেই।"

"আপনার টাকার পরোয়া আমি করি না।"

"করতে হয়। টাকা ছাড়া জীবন চলে না মিস্টার আজান।"

"আপনি আমার নাম জানলেন কীভাবে?"

"হি-হি... আমি আরো অনেক কিছু জেনেছি। ধরো আমাকে ধরো।"

বলে পড়েই যাচ্ছিল৷ আমি না চাইতেও তাকে জাপটে ধরলাম। তা না হলে রাস্তায় পড়ে হয়তো নাক-মুখ ফেটে যেত। আয়রা আবারো মৃদু হাসলো।

"জানতাম তুমি আমাকে পড়কে দেবে না।"

"এমন করছেন কেন? আপনার গাড়ি কোথায়?"

"গাড়ি বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।"

"তাহলে আপনি যাবেন কীভাবে?"

"তুমি নিয়ে যাবে আমাকে।"

"আমি!"

"হ্যাঁ, সেজন্যই তো অপেক্ষা করতে বলেছি।"

"এই আপনার মতলব কী হ্যাঁ? তখন অনুষ্ঠানে এত অপমান করলেন আর এখন বলছেন বাসায় পৌঁছে দিতে। পারব না আমি।"

"আমার মাথা ঘুরছে। বমি করব আমি। ওয়াক... ওয়াক... না না করব না, করব না। আমি কিন্তু কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাচ্ছি। এইযে আমার বাসার অ্যাড্রেস এখানে নিয়ে যেও আমাকে।"

বলে আয়রা আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। তার একটি হাত আমার কোমড়ের সাথে জড়ানো। অন্য একটি হাত দিয়ে আমার কাঁধে এত জোরে ধরেছে, যে আমার কাঁধে তার লম্বা নখ বসে গেছে।

"আরে ছাড়ুন। সোজা হন, কেউ দেখলে কী ভাববে!"

"হুমম... হুমমমম.."

আয়রা আর স্বাভাবিক নেই। তার শরীরের পুরো ভর এখন আমার ওপর। আয়রার মুখের লালা পড়ে আমার কাঁধ পুরো আঠালো হয়ে গেছে। এদিকে প্রায় পঞ্চান্ন কেজি ওজনের প্রায় বাইশ বছরের মেয়েটিকে সামলাতে আমি একরকম হাঁপিয়ে উঠছি। সে যে কেন এমন করছে কিছুই বুঝতে পারছি না। নিজের গাড়ি থাকতে আমার মতো একজনকে বিপদে ফেলার কোনো মানে হয়?

ঠিকানামতো যখন পৌঁছালাম তখন আমার চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। এতবড়ো বাড়ি এতদিন শুধু স্বপ্নেই দেখেছি। এই প্রথম সরাসরি ভেতরে ঢুকার সুযোগ হলো।

একজন বয়স্ক লোক এসে আমাদেরকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। কিন্তু তিনি আয়রাকে স্পর্শ করেননি। আমিই ধরেধরে বিছানা পর্যন্ত নিয়ে গেলাম। মেয়েটা পড়েপড়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। বয়স্ক উনি চাদর দিয়ে আয়রার শরীর ঢেকে দিলেন। এতটুকু পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু চলে আসতে চাইলেই বাঁধলো আসল বিপত্তি। বৃদ্ধ লোকটা একরকম না না করে উঠে বললেন,

"এখনি যেতে পারবেন না। ম্যাডামের ঘুম ভাঙুক তারপর যাবেন।"

কেন যেতে পারব না জানতে চাইলে তিনি বললেন,

"ম্যাডামের সাথে এসেছেন, যদি কিছু মিসিং থাকে!"

আমার মাথায় আরো একবার বর্জ্রাঘাত হলো। আমি উপকার করেছি, কই আমাকে ধন্যবাদ দিবে তা না করে উল্টো আমাকে চোর বানিয়ে দিচ্ছে! আরে ওর ম্যাডামের সাথে কী এমন আছে যে আমি চুরি করব? তাছাড়া আমাকে কি চোরের মতো লাগে দেখতে?


অনেক জোরাজুরি করেও বৃদ্ধ লোকটার সাথে পেরে উঠলাম না। উনি একরকম আমাকে বন্দি করে রেখে দিলেন। এখন আমার সামনে কমসেকম বিশ পদের খাবার রাখা। গোরুর গোশত ভুনা, বড়ো মাছের মাথা, গলদা চিংড়ি, পোলাও, মাছের রোস্ট সহ কত রকমের মিষ্টান্ন আমি বলে শেষ করতে পারব না। এতকিছু নাকি আমার জন্য! আমি এতকিছু খেতে পারব নাকি!

পোলাও থেকে ধোঁয়া উড়ছে অনবরত। ভাজা ইলিশের ঘ্রাণে ঘর ভরে গেছে। এত খাবার সামনে রেখে আমি বসে আছি। কারণ এখনও আয়রার মতলব বুঝে উঠতে পারছি না। সে কী কারণে আমাকে এখানে আসতে বাধ্য করেছে? মতলব কী তার? আমি একজন ছাপোষা মানুষ। আমার সাথে কী কাজ থাকতে পারে তার?

বসেবসে আকাশ-পাতাল ভাবছি এমন সময় বৃদ্ধ এসে বললেন,

"ম্যাডাম ডেকেছেন আপনাকে। খাওয়া শেষ করে আসুন।"

চলবে...

লেখা : ইয়াছিন নাইম

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : তিনমেয়েটিকে দেখামাত্র আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল।আমি যেন নিজের চোখকেই অবিশ্বাস করতে শু...
08/05/2026

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : তিন

মেয়েটিকে দেখামাত্র আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল।
আমি যেন নিজের চোখকেই অবিশ্বাস করতে শুরু করলাম।

এটাও কি সম্ভব? একদিন আগে যেই মেয়েটা মাতাল হয়ে আমার কাঁধে মাথা রেখেছিল সে আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আর তাকে খুশি করার জন্য উপস্থিত নামিদামি মানুষেরা কী আহ্লাদই না দেখাচ্ছেন!

জন্মদিনের অনুষ্ঠান জমে উঠেছে। জোহরা একটু পরে কেক কাটবে। জোহরার বাবা একটা মাইক নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করলেন,

"আমরা এখনি অনুষ্ঠান শুরু করব। এতক্ষণ যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম তিনি আমার বস মিস আয়রা।"

বলে তিনি মেয়েটিকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সবাই উৎসুক ভঙ্গিতে আয়রার দিকে তাকিয়ে আছেন। আর আয়রা খুবই আত্মবিশ্বাসের সাথে সবার মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে। সে এমনিতেই প্রশংসা করার মতো সুন্দরী। তারউপর জমকালো পোশাকে আরো অপরূপ দেখাচ্ছে। একবার তার দিকে তাকালে চোখে ধাঁধা লেগে যায়।

জোহরার বাবা আরো বললেন,

"আয়রা ম্যাডামকে নিয়ে একটি কথা না বললেই নয়, তিনি এত অল্প বয়সে যতটুকু সফলতা অর্জন করেছেন তা হয়তো আমরা সরাজীবনেও পারব না।"

সবাই হাততালি দিতে শুরু করল।

"ম্যাডামের কারণেই আমাদের কোম্পানি বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান পজিশনে আসতে পেরেছে..."

এরকম আরো অনেক কথা বললেন জোহরার বাবা। সবাই হাততালি দিয়ে বাহবা জানাচ্ছে। এদিকে এত মানুষের ভীড়ে আমার দমবন্ধ লাগতে শুরু করেছে। সবাই কত সুন্দর জামাকাপড় পরে এসেছে। একেকজনের দিকে তাকাইলেই বোঝা যায় এটা বড়োলোকের পার্টি। এত পয়সাওলাদের ভীড়ে আমি একজন সামান্য একটা চেকশার্ট, স্যান্ডেল, দেড়শো টাকা দামের ঘড়ি পরা... এখানকার ওয়েটারদের পোশাকও আমার চেয়ে ঢের বেশি সুন্দর।

নিজেকে ভিনগ্রহের প্রাণী মনে হতে লাগলো। ঠিক করলাম চলেই যাব। এত গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের মাঝে আমি একজন আছি না চলে গেছি সেটা কেউ খেয়ালই করবে না।

কিন্তু ওইযে বলে, কপালে থাকলে খণ্ডানো যায় না। আমার কপালেও অন্যকিছু লেখা ছিল। তাইতো চলে যাবার জন্য পা বাড়াতেই ডাক পড়ল। এবং ডাকলো আরকেউ না, এই অনুষ্ঠানের সবচে' গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আয়রা।

"এইযে শুনো!"

আমার বুকটা ধুপ করে উঠল। আমি আয়রার দিকে তাকালাম। দেখি সে-ও আমার দিকে চেয়ে। তবে কি সে আমার চিনে ফেলেছে? কাল রাতে আমি তাকে সামান্য একটা মেসঘরের শক্ত বিছানায় ঘুম পাড়িয়েছি এজন্য আমাকে শাস্তি দিবে না তো?

আয়রা আবার বলল, "কী হলো, কথা শুনতে পাওনি?"

"আমাকে বলছেন?"

"হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি। এসো এদিকে।"

আমি দুরুদুরু বুক নিয়ে এগিয়ে গেলাম। এদিকে সবাই এখন ড্যাবড্যাব করে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আয়রা ম্যাডাম কেন আমাকে ডেকেছেন সেটা বোঝার চেষ্টা করছেন সবাই। আমার দম আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা। এতক্ষণ কেউ আমাকে খেয়াল করছিল না তাই একটু অস্বস্তি লাগলেও মানিয়ে নিচ্ছিলাম। কিন্তু এখন সবার নজর আমার ওপর৷ খেয়াল করলাম আমার হাঁটু কাঁপতে শুরু করেছে। হাঁত কাঁপছে। গলা দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছে না। এখন তেমন গরম নেই তাও আমার কপাল ঘামছে। মনেমনে নিজেকেই দোষারোপ করতে শুরু করলাম। কেন যে বড়োলোকের পার্টিতে এসেছি! নিজেকে এখন সার্কাসের বানর মনে হচ্ছে।

আমি ধীরে এগোচ্ছি দেখে আয়রা কিঞ্চিৎ ধমক দিলো, "আরে এখানে এসে বসো।"

বলে মেঝের দিকে ইশারা করল। আমি বুঝে উঠতে পারলাম না আয়রা আমাকে তার পায়ের কাছে বসতে বলছে কেন? তখন আয়রাই সব পরিষ্কার করে দিলো। বলল,

"আমার পা মচকে গেছে। জুতাটা খুলে দাও তো একটু।"

আমার মাথায় যেন বর্জ্রপাত ঘটল। আয়রা আমাকে জুতা খুলে দেওয়ার জন্য ডেকেছে! আমার টাকা না থাকতে পারে, দামি পোশাক না থাকতে পারে কিন্তু তাই বলে কি আত্মসম্মানও নেই?এতজন মানুষের সামনে আমাকে দিয়ে জুতা খুলাবে!

"কী হলো? খুলো!"

আমি মাথা নিচু করে বললাম, "আমি ওয়েটার বা এখানকার কর্মচারী নই ম্যাডাম.."

পুরো কথা বলার আগেই আয়রা পাঁচশো টাকার নোট আমার সামনে ধরে বলল,

"বুঝেছি। ধরো এটা রাখো। এবার খুলে দাও।"

"ম্যাডাম আমি এই টাকা নিতে পারব না।"

"কেন পারবে না? আরো বেশি টাকা লাগবে? তোমাকে দেখে তো মনে হয় না এর বেশি পাওয়ার যোগ্যতা আছে।"

আমি হতবাক হয়ে আয়রার দিকে চেয়ে রইলাম।

তখনই পরিস্থিতি সামাল দিকে জোহরার বাবা আমার কানের কাছে এসে বলেন,

"আরে আজান, ম্যাডামের কথা অমান্য করো না। টাকাটা নিয়ে নাও। আর ম্যাডাম যা বলছেন করো। জুতাই তো খুলবা, এটা আর এমন কী কাজ? তাড়াতাড়ি করে দাও, ম্যাডামের পায়ে ব্যথা করছে।"

আমার মনে হলো যেন এই পৃথিবীতে আমার মতো অসহায় আর কেউ নেই। কেন গরিব হয়ে জন্ম নিলাম এটা ভেবে কষ্ট লাগলো খুব। কিন্তু এখন ওদের কথা শোনা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই টাকাটা পকেটে রেখে আয়রার পায়ের কাছে বসে পড়লাম। আয়রা আমার হাঁটুর উপর তার পা রাখলো। ততক্ষণে আমার চোখদু'টো ঘোলাটে হতে শুরু করেছে। ঘোলা চোখেই আয়রার পায়ের হাই হিল জুতা খুলতে শুরু করলাম।

"আরেআরে কী করছো!" বলে চেঁচিয়ে উঠল আয়রা।

"একটুর জন্য দিয়েছিলে জুতাটা নষ্ট করে। এই জুতার দাম জানো? তোমাকে বিক্রি করলেও এরকম একজোড়া জুতা কেনা যাবে না।"

কথাগুলো চুপচাপ শোনা ছাড়া আমার আরকিছু করার ছিল না। বিষ খেয়ে হজম করার মতো যন্ত্রণা অনুভব করলাম। কেউ দেখে ফেলার আগেই চোখের জল মুছে নিয়ে খুব যত্ন করে আয়রার জুতা খুলে দিলাম।

তারপর আর এই অনুষ্ঠানে মানায় না। বড়োলোকদের অনুষ্ঠান, তারাই আনন্দ করুক। আমি একটা গরিব অসহায় ছেলে, কোনোমতে টিউশানি করে জীবন চালাই। আমার কপালে কি এত আনন্দ সয়?

চলে আসার সময় আয়রা আবার আমাকে ডাক দিলো।

"এই শুনো!"

আমি ফিরে তাকালাম।

"বলুন ম্যাডাম।"

"লেখাপড়া করোনি?"

"করেছি ম্যাডাম। আমি অনার্স..."

"লেখাপড়া করলে তো জানার কথা কোথায় কীভাবে যেতে হয়। পোশাক সেন্স থাকাটা জরুরি। এখানে এতবড়ো একটা বার্থডে পার্টি চলছে আর তুমি এরকম একটা সস্তা শার্ট আর স্যান্ডেল পরে চলে এসেছ।"

খেয়াল করলাম সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

আমি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে চলতে শুরু করলাম। আয়রা আমাকে পোশাক সেন্সের কথা বলেছে। আরে পোশাক থাকলে তো পরব! একটা শার্ট আর এক প্যান্ট বারবার ধুয়েধুয়ে পরি। পরনের শার্টটা জোহরার বাবা গত ইদে উপহার দিয়েছিলেন। এই কমদামি শার্টই আমার একমাত্র সম্বল। আয়রা তো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছে। সে কীভাবে বুঝবে আমার কষ্ট? জীবন কতটা কঠিন সেটা জানতে হলে গরিব ঘরে জন্ম নিতে হয়। বই পড়ে আর অট্টালিকায় থেকে কিছু শেখা যায় নাকি? জীবনকে জানতে হলে অভাবে পড়তে হয়। ফাঁকা হাঁড়ির দিকে হা করে চেয়ে থাকতে হয়। বিশটা টাকা বাঁচানোর জন্য প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটতে হয়। আয়রা ওসবের কী বুঝবে!

তবে আমি আর কোনোদিন কোনো বড়োলোকের অনুষ্ঠানে যাব না। কোনোদিন আয়রার সামনেও যাব না। সে হয়তো গতকাল রাতের কথা ভুলে গেছে কীভাবে মাতাল হয়ে রাস্তায় ঘুরেবেড়াচ্ছিল। আমি তাকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিয়ে সারারাত বাইরে মশার কামড় খেয়েছি। দরকার নেই মনে পড়ার৷ মনে পড়লে, আমাকে চিনতে পারলে হয়তো কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করবে। কিন্তু আমি তো টাকার জন্য সাহায্য করিনি। আয়রার জায়গায় অন্য যেকোনো মেয়ে হলেও আমি সেটাই করতাম।

আমি চাই না আয়রা আমার সম্পর্কে জানুক। চাই না আর কোনোদিন তার সাথে দেখা হোক।

চলবে...

(1k কমেন্ট হলে আজ রাত ১১টায় পরবর্তী অংশ দিব)

লেখা : ইয়াছিন নাইম

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : দুইআজকে কোটিপতির পার্টিতে যাচ্ছি। পকেটে আছে দু'টো বিশ টাকার নোট আর গতকালের মাতাল মেয়েটির...
08/05/2026

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : দুই

আজকে কোটিপতির পার্টিতে যাচ্ছি। পকেটে আছে দু'টো বিশ টাকার নোট আর গতকালের মাতাল মেয়েটির স্মৃতি...

আমি জামাকাপড় পরে রেডি হচ্ছিলাম। আজকে আমার স্টুডেন্ট জোহরার জন্মদিন। আমি সাধারণত কোলাহল পছন্দ করি না। তাই অনুষ্ঠান এড়িয়েই চলি। কিন্তু জোহরা আমাকে বারবার করে বলে দিয়েছে ওর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমাকে থাকতেই হবে। নাহলে ও আর আমার কাছে পড়বে না। সুতরাং চাকরি বাঁচানোর জন্য হলেও ওই অনুষ্ঠানে আমাকে থাকতে হবে।

জোহরা কোটিপতির মেয়ে। ওদের অতিথিরাও আসবে সেরকমই। শুধু আমি একজন গরিব, একরকম হতদরিদ্র৷ একটা ভালো পোশাক পরে যাবো সেই সামর্থও আমার নেই। অগত্যা যা আছে তাই দিয়েই রেডি হচ্ছি। একটা নীল চেক শার্ট, জিন্স প্যান্ট আর একজোড়া হাওয়াই স্যান্ডেল। এই শেষ৷ ও হ্যাঁ, গতবছর কেনা আড়াইশো টাকা দামের একটি ঘড়ি।

আমি যখন আয়নায় নিজের চুল দেখছি তখনি আমার ঘরে ঢুকলেন মাহিদ ভাই। এক টুকরো সাদা কাগজ এগিয়ে দিলেন আমার দিকে। আমি বললাম,

"কী এটা?"

"ওইযে মেয়েটাকে তোমার ঘরে জায়গা দিয়েছিলে, যাবার সময় কাগজে নাম্বার লিখে দিয়ে গেছে। বলেছে যোগাযোগ করতে। তোমাকে সাহায্য করবে।"

আমি কাগজটা টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেললাম। ভাই প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন, "কী করলা আজান! আরে মেয়েটা তোমারে টাকাপয়সা দিয়া সাহায্য করত!"

"লাগবে না ভাই। আমি প্রতিদানের আশায় উপকার করিনি। সে বিপদে ছিল তাই সাহায্য করেছি। এরপর আর তার সাথে দেখা হোক তা আমি চাই না।"

"কেন চাও না? কী সমস্যা তোমার হ্যাঁ?"

আমি কোনো জবাব না দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। একটু পর পার্টি শুরু হয়ে যাবে।


পার্টিতে এসে আমার মাথা ঘুরে গেল। আমি যতটা না ভেবেছিলাম তারচেয়ে অনেক বেশি আয়োজন করা হয়েছে। লাইটিং, বেলুন, মিউজিক, মানুষজন আরো কত কী! বাতাসে হরেক রকম খাবারের গন্ধ। স্টেজে বিশাল সাইজের কেক রাখা। কেকের উপর আবার একটা মেয়ে পুতুল দাঁড়িয়ে আছে। এতবড়ো কেক আর এত বড়ো অনুষ্ঠান আমি জীবনে প্রথম দেখলাম।

অনুষ্ঠানে সবার মধ্যমণি আমার তেরোবছরের স্টুডেন্ট জোহরা। তার চারপাশে আরো কিছু ছেলেমেয়ে। সবাই কেক কাটা দেখার জন্য প্রস্তুত। জোহরা ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কেক কাটছে না। জোহরার বাবা বারবার উদ্বিগ্ন হয়ে প্রবেশ পথের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি জোহরার বাবাকে বললাম,

"আঙ্কেল, আপনারা কি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন?"

"হ্যাঁ, আসলে আমার বস আজকের পার্টিতে আসার কথা। উনি আসলেই কেকটা কাটব।"

এতটুকু বলতেই গাড়ির হর্ণের আওয়াজ শোনা গেল। জোহরার বাবা ফুলের তোড়া নিয়ে দৌড়ে গেলেন। নিশ্চয়ই জোহরার বাবার বস চলে এসেছেন। আমি ভাবছি জোহরার বাবার এত টাকা, এত ক্ষমতা। তার বস যিনি, তার কত ক্ষমতা হবে! তিনি নিশ্চয়ই আরো অনেক বেশি টাকার মালিক হবেন!

আমার দৃষ্টি পড়ল ভিড়ের দিকে।

গাড়ির দরজা খুলল...সবাই ঝুঁকে পড়ল...আমি পাথর হয়ে গেলাম...

আর সবার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যিনি ফুলের তোড়া হাতে এগিয়ে আসছেন, তাকে একজনর দেখলাম আমি। সঙ্গেসঙ্গে আমার বুকের ভেতর কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেল। আমি যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারলাম না।

ঠিক দেখছি তো আমি? না কি কাল সারারাত ঘুম হয়নি বলে ভুলভাল দেখছি? এ যে সেই মেয়ে, যে আমার কাঁধে মাথা রেখেছিল! যাকে আমি কোলে করে, রিকশায় তুলে আমার মেসে একরাত রেখেছিলাম! এই মেয়ে জোহরার বাবার বস!

চলবে...

এরপর কী হতে চলেছে? মেয়েটি আজানকে চিনতে পারবে? না কি অজানাই থেকে যাবে? জানব পরবর্তী পর্বে। কাল রাত ঠিক ৯টায়।

লেখা : ইয়াছিন নাইম

ফলো করেন ফলো পাবেন
07/05/2026

ফলো করেন ফলো পাবেন

"হেই হ্যান্ডসাম...এক হাজার টাকা দিচ্ছি আমার বাসায় চলো।"বলেই আমার হাত খামচে ধরল ওয়েস্টার্ণ ড্রেস পরা অচেনা একটি মেয়ে। তার...
07/05/2026

"হেই হ্যান্ডসাম...
এক হাজার টাকা দিচ্ছি আমার বাসায় চলো।"

বলেই আমার হাত খামচে ধরল ওয়েস্টার্ণ ড্রেস পরা অচেনা একটি মেয়ে। তার লম্বা নখগুলো আমার হাতে সুচের মতো বিঁধল।

"দেখুন আপনি যা ভাবছেন আমি সেরকম ছেলে নই।" বলে কিছুটা দূরে সরে যেতে চাইলাম। কিন্তু সে আমাকে ছাড়লোই না। আরো শক্ত করে ধরে আরো কিছু টাকা দিয়ে বলল, "এবার চলো।"

তারপর জবাবের অপেক্ষা না করেই আমার কাঁধে মাথা এলিয়ে দিলো।

আমি এতক্ষণ রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। টিউশানি শেষ করতে আজ একটু বেশিই রাত হয়ে গেছে। তাই রিকশা পাচ্ছিলাম না। অন্ধকার গলিটায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম আকাশের যা অবস্থা, তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে পারলে বাঁচি। এমন সময় এই ঝামেলা। চেনা নেই জানা নেই কোত্থেকে এসে মেয়েটি আমাকে ধরেছে। এবং রীতিমতো আমার কাঁধে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে ঘুমাচ্ছে!

"এইযে শুনুন! আপনার টাকা আপনি রাখুন, আমি আপনার সাথে যেতে পারব না।" বলে মেয়েটিকে জাগানোর চেষ্টা করলাম। সে তাকালোই না। শুধু "হুমমম?" বলে বিরক্তি প্রকাশ করে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বাচ্চা শিশুর মতো ঘুমঘুম গলায় বলল, "নিয়ে চলো না আমাকে... আমার বাসায় নিয়ে চলো। তোমাকে আমি আরো টাকা দিব।"

বলে রীতিমতো নাক ডাকতে শুরু করেছে। তার মুখের লালা আমার কাঁধে লেপ্টে যাচ্ছে। মুখ থেকে মদের বিকট গন্ধ বেরোচ্ছে। আমি বললাম, "এই আপনি মদ খেয়েছেন?"

কিন্তু মেয়েটি কোনো জবাব দিলো না। আমি একটু ভালোভাবে তাকে দেখার চেষ্টা করলাম। টাইট-ফিটিং স্কার্টে বড্ড অশালীন লাগছে মেয়েটিকে।

কিছুটা দূরে মেইন রোড দেখা যায়। তার পাশেই ফুটপাথ। সেখানে বস্তা বিছিয়ে কয়েকটি পথশিশু নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। আমি এই মাতাল মেয়েটিকে কোনোরকমে এনে ফুটপাথে শুইয়ে দিলাম। আরো কিছুটা দূরে তিনটি যুবক ছেলে বসা। সম্ভবত গোল হয়ে বসে নেশা করছে। আমাদেরকে দেখে একবার তাকিয়েছিল। তারপর আবার নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আমি যখন চলে আসব তখন মেয়েটি আবার আমার হাত খামচে ধরল। এবার তার নখ লেগে আমার চামড়া ছিলেছে নিশ্চিত। অতি সাবধানে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। মেয়েটিকে ফুটপাথে শুইয়ে দিয়ে ফেরার পথ ধরলাম। ঠিক করলাম হেঁটেই বাসায় যাব। আকাশের যা অবস্থা যেকোনো সময় ঝপ করে বৃষ্টি নামতে পারে। তখন আবার কাকভেজা হয়ে ফিরব।


কিছুটা পথ যাওয়ার পর আমার মোবাইলে একটা নোটিফিকেশন আসলো। দেখি মেসের বড়োভাই মেসেজ দিয়েছেন, "কই তুমি? রাতের এগারোটা বাজে। আর দশ মিনিট পর গেইট তালা মারবে। তাড়াতাড়ি আসো নাহলে আজকের রাতটা বাইরেই কাটাতে হবে।"

আমি চলার গতি বাড়ালাম। এবং তখনি একটা নিউজ আমার সামনে এলো, "কৌচিং থেকে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার তরুণী।"

মনে পড়ে গেল মাতাল মেয়েটির কথা যাকে ফুটপাথে রেখে এসেছি। তার সামনেও তো কয়েকটা ছেলে নেশা করছিল। ছেলেগুলোকে দেখে ভালো মনে হয়নি। এত রাতে মেয়েটিকে একা ফেলে এসে কি তবে ভুল করে ফেললাম?


যেখানে মেয়েটিকে রেখে গিয়েছিলাম সেখানে এসে দেখি ছেলেগুলো এবার মেয়েটির সামনে চলে এসেছে। আমি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বললাম,

"এই তোমরা এখানে কেন? সরো এখান থেকে!"

ওদের একজন ময়লা দাঁত খিঁচিয়ে বলল, "যামু ক্যান? এইটা কি আপনের বাপের জায়গা?"

বাকিরাও খিকখিক করে হেসে উঠল। আমি বললাম, "জায়গা আমারও না তোমাদেরও না। সরো এখান থেকে।"

"আর যদি না যাই?"

"দ্যাখো আমি কোনো ঝামেলা চাই না। আমি শুধু ওকে নিয়ে যাবো। তারপর তোমরা এখানে থেক আমার কোনো আপত্তি নেই।"

"উনারে নিবেন ক্যান? উনি তো ঘুমাইতাছে।"

"ঘুমাচ্ছে না৷ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। আমি গাড়ি খুঁজতে গিয়েছিলাম কিন্তু পাইনি। তাই ধরেধরে নিয়ে যাব।"

"উনি আপনের কী হয়?" জানতে চাইলো ওদের একজন। বাকিরাও ভীষণ আগ্রহ নিয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি কী করব বুঝতে না পেরে বললাম, "আমার বউ হয়।"

"বউ যে তার প্রমাণ কী?"

"প্রমাণ বাসায় আছে। চলো আমাদের বাসায় চলো। ওর বাবা পুলিশ অফিসার তার কাছ থেকেই জেনে নিও।"

"উনার বাপে পুলিশ? আইচ্ছা প্রমাণ লাগবো না নিয়া যান নিয়া যান।"

বলে ওরা গুঞ্জন করতে করতে চলে গেল। পুলিশের মিথ্যে গল্প বলে ওদেরকে তো সরানো গেল। এখন এই নেশাখোর মেয়েটিকে একটা নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

"এইযে শুনছেন? এইযে!" ডাকলাম আমি। মেয়েটি "হুমম?" বলে সাড়া দিলো শুধু। তাকে ধরে দাঁড় করাতে গিয়ে আমার প্রাণ যায়যায় অবস্থা। সে আমার কাঁধে মাথা রেখে আবার নাক ডাকতে শুরু করেছে। এভাবে সামনে আগানো সম্ভব না। কিন্তু ডাকাডাকি করেও উপায় হচ্ছে না। ওদিকে নেশাখোর ছেলেগুলো আবার চলে এসেছে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আঁড়চোখে আমাদেরকেই দেখে যাচ্ছে। এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি সরে পড়া যায় ততই ভালো। কিন্তু এই মেয়ে তো নড়তেই চাচ্ছে না। আমাকে এমনভাবে জাপটে ধরেছে যেন আমি তার কোলবালিশ!

উপায় না পেয়ে মেয়েটিকে কোলেই তুলে নিলাম। সে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বিড়বিড় করতে লাগলো, "চলো আমার বাসায়। আমি তোমাকে আরো টাকা দিব। অ্যাই, চলো না..."

আমি আবার সেই অন্ধকার গলিতে এসে ঢুকলাম। এবং সৌভাগ্যবশত একজন অটোচালক দেবদূতের মতো আমাদের সামনে এসে ব্রেক কষলেন। মাথাটা সামনের দিকে বের করে বললেন,

"মামা, কী করছেন আপনে? মামি এমুন করতাছে ক্যান?"

"কিচ্ছু করিনি মামা, দয়া করে আমাদেরকে নিয়ে চলেন।"

"নেওনের লাইগাই তো আইছি। কই যাইবেন?"

আমি থমকে গেলাম। কোথায় যাবো সেটা তো ঠিক করিনি! মেসে মেয়েমানুষ নিয়ে উঠা অসম্ভব। আবার রাস্তায়ও থাকা যাবে না। কতদিকে কত বিপদ ওত পেতে আছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তাহলে যাব কোথায়?

আমি কোনোরকমে মেয়েটিকে রিকশায় তুলে নিজেও উঠে বসলাম। তারপর মেসে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলতেই অটোরিকশা চলতে শুরু করল।


মেসের সামনে গিয়ে বড়োভাই মাহিদকে কল দিলাম। মাহিদ ভাই শুয়ে পড়েছিলেন। তিনি কোনো অবস্থাতেই এত রাতে বাইরে আসতে রাজি না। অনেক মিনতির পর ভাই যখন বাইরে আসলেন তখন তার চোখ ছানাবড়া। আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছি। আর আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে মাতাল একটি মেয়ে। মাহিদভাই বোকার মতো বললেন,

"এইটা কে?"

"চিনি না ভাই।"

"চিনো না তাইলে তোমার কাঁধে মাথা রাখছে কেন?"

আমি সংক্ষেপে ঘটনা বুঝিয়ে বললাম। সব শুনে ভাই বললেন, "দেখে তো পয়সাঅলার মেয়ে মনে হচ্ছে। তুমি কিন্তু বিপদে পড়বা আজান।"

"বিপদেই তো আছি ভাই। মেয়ের তো হুঁশ নেই। এই অবস্থায় ফেলে আসতে পারিনি। ভাই যেভাবেই হোক আজকের রাতটা ওকে মেসে রাখার সুযোগ দেন।"

"আরে মিয়া পাগল হইছো? জানাজানি হইলো ইজ্জত থাকবে না।"

"কেউ জানবে না ভাই। আজকের রাতটা ওকে আমার ঘরে জায়গা দেন। প্লিজ ভাই প্লিজ।"

"আর তুমি কই থাকবা?"

"আমি বাইরে থাকব। সকাল হতেহতে আশা করি ওর নেশা কেটে যাবে। তখন ওকে বের করে দিয়েন।"

"কিন্তু..."

"কোনো কিন্তু না ভাই। প্লিজ আমার কথা রাখেন।"

মাহিদ ভাই কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, "আচ্ছা নিয়াসো।"

আমি কোনোরকমে মেয়েটিকে আমার ঘর পর্যন্ত নিয়ে এলাম। তাকে আমার খাটে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে এলাম। আসার সময় ভাইকে বললাম, "ভাই, আমি যে ওকে এখানে এনেছি এটা বলার দরকার নেই।"

"কী বলো মিয়া? এতবড়ো উপকার করবা আর জানতেও দিবা না?"

"না ভাই, আমার ক্রেডিট লাগবে না।"

"আরে মিয়া বড়োলোকের মেয়ে, খুশি হয়ে টাকাপয়সা দিতে পারে।"

"লাগবে না ভাই। ওর জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে হলেও আমি তা-ই করতাম।"

"আইচ্ছা, ঠিক আছে।" বলে তিনি নিজের ঘরে চলে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে রইলাম। আজকের রাতটা বাইরেই কাটাতে হবে। মশা জ্বালাতন করবে যদিও। তবে আমার অভ্যেস আছে। মাঝেমাঝে ফিরতে দেরি হলে ভেতর থেকে তালা মেরে দেয়। তখন আমি বাইরেই থাকি। আজকেও নাহয় তা-ই করব!


ভোরবেলা যখন ঘুমে ঢলুঢলু হয়ে রাস্তার পাশে বসে আছি ঠিক তখন দেখলাম মেসের গেট থেকে বেরিয়ে আসছে সেই মেয়েটি। এখন আর তাকে মাতাল মনে হচ্ছে না। চোখ-মুখে কেমন যেন চনমনে চঞ্চল ভাব। গেট থেকে বেরিয়ে চারপাশে ভালোভাবে তাকালো সে। তারপর আমার পাশ দিয়ে হেঁটে চলে গেল। আমাকে ঠিকমতো খেয়ালই করল না। আজকের পর সে হয়তো ভুলেই যাবে এক রাতে নেশা করে একটি ছেলের হাত ধরেছিল সে। ছেলেটির কাঁধে মাথা রেখেছিল। সেই ছেলেটি তাকে কোলে তুলে, অটোরিকশায় করে এনে আশ্রয় দিয়েছিল এই পুরনো ভাঙাচোরা মেস-বিল্ডিংয়ে।

চলবে...

এরপর কী হতে চলেছে? ওদের দেখা হবে আর? মেয়েটি কি আজানকে চিনতে পারবে তখন? জানতে হলে কমেন্টে "আজান" লিখুন। তাহলে আজ রাত এগারোটায় ২য় পর্ব পোস্ট করব।

চাঁদের গায়ে ধূসর কলঙ্ক | পর্ব : এক

ইয়াছিন নাইম

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Blowing Mind posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share