29/09/2023
আস্সালামু ওয়ালাইকুম,
আজকে তো ১৩ রবিউল আউয়াল আপনারা সবাই কি আবার ঘুমিয়ে গেছেন?
আগামী বছরের মাইকিং এর আগ পর্যন্ত? আপনাদের কে তো মাইকিং করে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা হয়, রাসূল প্রেমি জাগ রে জাগ মিলাদুন্নবী দিচ্ছে ডাক এই শ্লোগানে।
এই একটা দিন আপনারা প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জাশনে জুলুসে পালন করে কি নবীর শাফায়াত পেয়ে যাবেন ভাবতাছেন? যেটার ব্যাপারে কোরআন হাদিসে কোনো কিছুই নেই।
বরং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) এর মৃত্যু এই ১২ই রবিউল আউয়ালে হয়েছে, মদীনার আনসারী রা, সাহাবাহে কেরামগন কান্নায় পাগল প্রায় হয়ে গিয়েছিলো, (ইনশা আল্লাহ আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আমার নবী জিন্দা নবী)
আপনি কি করেছেন এই ১২ রবিউল আউয়ালে?
এখন কি ঘুমাচ্ছেন? আপনি এই মিলাদুন্নবী পালন করে জান্নাতের আশা করতে পারবেন না, বরং আপনি ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন, নবী (সা.) এর দিকনির্দেশনা মেনে চলুন আপনার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
কুরআন এবং সুন্নাহতে খুব স্পষ্টভাবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলী অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় ব্যাপারে নতুন কিছু সূচনা করাকে স্পষ্টত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:
ভাবার্থ:
“বলুন [হে নবী]: যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১)
ভাবার্থ:
“তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে, তোমরা তার [কুরআন ও সুন্নাহ] অনুসরণ কর, আর তাঁকে [আল্লাহ] ছাড়া আর কোন আউলিয়ার [সেই সব সত্তা যারা আল্লাহর সাথে শরীক করার নির্দেশ দেয়] অনুসরণ করো না…” (সূরা আল আরাফ, ৭:৩)
ভাবার্থ:
“আর এটিই আমার সরল-সঠিক পথ, অতএব তোমরা এ পথেই চল এবং অন্যান্য পথে পরিচালিত হয়োনা, কেননা সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।…” (সূরা আল আনআম, ৬:১৫৩)
এবং নবীজী(সঃ) বলেছেন:
“সবচেয়ে সত্য ভাষণ হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দিকনির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মাদের দিকনির্দেশনা, আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের ব্যাপারে) নব উদ্ভাবিত বিষয়।”
এবং তিনি(সঃ) বলেছেন:
“যে কেউই আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর কোন অংশ নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিম শরীফে অপর এক রিওয়ায়াতে এসেছে:
“যে কেউই এমন কিছু করবে যা আমাদের এই দ্বীনের সাথে মেলে না, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”
মিলাদুন্নবী একটি বিদাত যা মুসলিমদের দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য ফাতিমীয় শিয়ারা চালু করেছিল প্রথম তিনটি শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সময়কাল অতিবাহিত হওয়ার পর। কেউ যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এমন কিছু করে যা রাসূল(সঃ) করেননি কিংবা করতে বলেননি এবং তার উত্তরসূরী খলীফারাও করেন নি, তাহলে তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে সে দাবী করছে যে রাসূল(সঃ) মানুষের কাছে পরিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ব্যাখ্যা করেননি [নাউযুবিল্লাহ], ফলে সে আল্লাহর এই আয়াতকে অস্বীকার করে:
“আজ আমি, তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণ করে দিলাম।” (সূরা আল মায়িদাহ, ৫:৩)
কারণ সে দ্বীনের মধ্যে বাড়তি কিছু সংযোজন করছে এবং দাবী করছে যে তা দ্বীনের অংশ অথচ রাসূল(সঃ) তা [আল্লাহর পক্ষ থেকে] নিয়ে আসেননি।
ভাই চলেন আমরা মিলাদুন্নবী পালন করি রাসূল যেভাবে সোমবারে রোজা রাখার মাধ্যমে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করত, আমরাও ঠিক একই পদ্ধতিতে তাকে অনুসরণ করে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করব। তবেই কেবল আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে আমাদের পূর্ববর্তী গোনাহগুলো মোচন করতে পারব।
দলিলঃ আবু কাত্বাদাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, "রাসূল (সাঃ) কে সোমবারের গুরুত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দেন, এই দিনেই আমি জন্ম লাভ করেছি, এই দিনেই আমার উপর পবিত্র কুরআন নাযিল হয়"। (মুসলিম- ২৬৪০ নং হাদিস) তাইতো এই দিনের গুরুত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলার জন্য রাসূল (সাঃ) সোমবার দিনে রোজা রাখতেন এবং অন্যকেও রোজা রাখতে উৎসাহিত করতেন।
জাযাকাল্লাহ খায়রান।