RoZa's Gallery - ツ

  • Home
  • RoZa's Gallery - ツ

RoZa's Gallery - ツ আসসালামু আলাইকুম .... আমার নতুন পেইজে আপনাদের স্বাগতম.....আশা করি সবাই পাশে থাকবেন।.... ইনশাআল্লাহ।🥹❤️
(1)

— "আপনার স্ত্রীর নাম?"রিসেপশনে বসা লোকটার প্রশ্ন শুনে আমি উত্তর দেওয়ার আগেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা শান্ত গলায় বলল...
27/07/2026

— "আপনার স্ত্রীর নাম?"

রিসেপশনে বসা লোকটার প্রশ্ন শুনে আমি উত্তর দেওয়ার আগেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা শান্ত গলায় বলল,

— "উনি আমার স্বামী নন।"

একটা মুহূর্তের জন্য সময় যেন থেমে গেল।

আমি ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালাম।
চার বছর আগে এই মেয়েটাই আমার হাত ধরে বলেছিল,

— "তুমি ছাড়া অন্য কাউকে কোনোদিন স্বামী বলে ডাকব না।"

আজ সে অন্য একজনের স্ত্রী।

আর আমি...
আমি শুধু একজন অপরিচিত মানুষ।

হাসপাতালের করিডোরে নীরবতা নেমে এলো।

সে চোখ নামিয়ে বলল,

— "কেমন আছো?"

আমি ঠোঁটে হাসি এনে বললাম,

— "ভালো। তুমি?"

সে মিথ্যে হাসল।

— "আমিও ভালো।"

আমরা দুজনেই জানতাম, দুজনের হাসিই মিথ্যে।

চার বছর আগে...

আমাদের পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায়।

প্রথমে তর্ক, তারপর বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা।

মেঘলা ছিল খুব সাধারণ একটা মেয়ে।

সে বলত,

— "আমার বড় বাড়ি লাগবে না। শুধু এমন একজন মানুষ চাই, যে কোনোদিন হাত ছেড়ে যাবে না।"

আমি বলতাম,

— "আমি যদি ছেড়ে যাই, তাহলে আমার শ্বাসও থেমে যাবে।"

দুই পরিবারে কথা হয়েছিল।

বিয়ের দিনও ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু বিয়ের মাত্র বিশ দিন আগে বাবা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলেন।

চিকিৎসার জন্য সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেল।

চাকরিটাও হারিয়ে ফেললাম।

মেঘলার বাবা সোজা বলে দিলেন,

— "যে ছেলে নিজের বাবার চিকিৎসা চালাতে পারে না, সে আমার মেয়েকে কীভাবে সুখে রাখবে?"

আমি অনেক অনুরোধ করেছিলাম।

শুধু ছয় মাস সময় চেয়েছিলাম।

কিন্তু কেউ শুনল না।

মেঘলা সেদিন আমার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল,

— "চলো পালিয়ে যাই।"

আমি মাথা নেড়েছিলাম।

— "না। আমি চাই না, তোমার বাবার মাথা নিচু হোক।"

সে রাগে কেঁদে বলেছিল,

— "তাহলে তুমি আমাকে ভালোবাসো না।"

আমি উত্তর দিইনি।

কারণ কিছু ভালোবাসার উত্তর নীরবতাই হয়।

দুই মাস পর তার বিয়ে হয়ে গেল।

আমি দূর থেকে শুধু দেখেছিলাম।

তারপর শহর ছেড়ে চলে গেলাম।

দিন-রাত পরিশ্রম করলাম।

একটা ছোট ব্যবসা শুরু করলাম।

অসংখ্য ব্যর্থতার পর একদিন সফল হলাম।

কিন্তু সাফল্য মানুষকে সবকিছু দেয় না।

কিছু শূন্যতা থেকে যায়।

মেঘলার জায়গাটা ঠিক তেমনই ছিল।
..

আজ এত বছর পর আবার দেখা।

সে হাসপাতালে এসেছে তার শাশুড়িকে নিয়ে।

আমি এসেছি বাবার নিয়মিত চেকআপ করাতে।

হঠাৎ চোখে চোখ।

দুজনেই থেমে গেলাম।

ক্যান্টিনে বসে চা খেতে খেতে সে বলল,

— "তুমি বিয়ে করেছ?"

আমি মাথা নাড়লাম।

— "না।"

সে বিস্মিত হয়ে বলল,

— "কেন?"

আমি মুচকি হেসে বললাম,

— "সব প্রশ্নের উত্তর দিলে গল্প শেষ হয়ে যায়।"

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— "আমি অনেকবার জানতে চেয়েছি, তুমি কেন আমাকে সেদিন থামাওনি।"

আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম,

— "কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসতাম।"

সে অবাক হয়ে তাকাল।

আমি বললাম,

— "ভালোবাসা মানে শুধু নিজের করে পাওয়া নয়। কখনো কখনো ছেড়ে দেওয়াও ভালোবাসা।"

তার চোখ ভিজে উঠল।

— "জানো, বিয়ের দিন কাবিননামায় সই করার আগে শেষবার তোমার ফোনের অপেক্ষা করেছিলাম।"

আমি তিক্ত হেসে বললাম,

— "আমি ফোন করেছিলাম।"

— "সত্যি?"

— "হ্যাঁ। কিন্তু তোমার নম্বর বন্ধ ছিল।"

সে মাথা নিচু করে বলল,

— "বাবা আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিলেন।"

দুজনেই চুপ।

কেউ কাউকে দোষ দিলাম না।

কারণ সময়ের কাছে আমরা দুজনেই হেরে গিয়েছিলাম।

ঠিক তখনই সাত-আট বছরের একটা মেয়ে দৌড়ে এসে মেঘলাকে জড়িয়ে ধরল।

— "মা, দাদু ডাকছে।"

মেঘলা মেয়েটার মাথায় হাত রেখে বলল,

— "এটা আমার মেয়ে, রিধি।"

রিধি আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

— "আঙ্কেল, আপনি কাঁদছেন?"

আমি দ্রুত চোখ মুছে হেসে বললাম,

— "না মা, চোখে একটু ধুলো গেছে।"

মেয়েটা নিজের ছোট্ট রুমালটা আমার হাতে দিয়ে বলল,

— "এটা দিয়ে মুছে নিন।"

আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না।

রুমালটা হাতে নিয়ে শুধু হাসলাম।

বিদায় নেওয়ার সময় মেঘলা ধীরে বলল,

— "হয়তো অন্য কোনো জন্মে আমরা একসঙ্গে থাকব।"

আমি শান্ত গলায় বললাম,

— "না... অন্য জন্মের অপেক্ষা করব না। এই জন্মেই তোমার সুখের জন্য দোয়া করব।"

সে চলে গেল।

আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম।

হাসপাতালের ভিড়ে মানুষ আসছিল, মানুষ যাচ্ছিল।

শুধু একটা জিনিস আর ফিরে এল না—

যে ভালোবাসাটা একদিন বিয়ের আগেই সংসারের স্বপ্ন দেখেছিল।

সেদিন বুঝেছিলাম—

কিছু মানুষের সঙ্গে বিয়ের পর প্রথম দেখা হয়, কিন্তু শেষবারের মতো হারিয়ে যাওয়াটা আসলে তারও অনেক আগে হয়ে যায়।

অনুগল্প: #হঠাৎ_দেখা।
লেখক: #মি_হাসিব

"তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো... তাহলে ঠিক এক বছর আমার জন্য অপেক্ষা করবে।"কথাটা বলেই সুবর্ণা আমার হাত থেকে নিজের হাতটা...
27/07/2026

"তুমি যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো...
তাহলে ঠিক এক বছর আমার জন্য অপেক্ষা করবে।"

কথাটা বলেই সুবর্ণা আমার হাত থেকে নিজের হাতটা আস্তে করে ছাড়িয়ে নিল।

আমি হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

"এক বছর? কেন?"

সুবর্ণা মুচকি হেসে বলল,

"কারণ, সময়ের চেয়ে বড় পরীক্ষা আর হয় না। যদি এক বছর পরও তোমার চোখে আমার জন্য একই ভালোবাসা দেখি... তাহলে আমিই তোমার হাত ধরে সবার সামনে দাঁড়াব।"

আমি আর কোনো প্রশ্ন করলাম না।

শুধু বললাম,

"আমি অপেক্ষা করব।"

সুবর্ণা নিজের ফোনটা বন্ধ করে আমার হাতে একটা ছোট্ট কাগজ দিল।

সেখানে শুধু একটি লাইন লেখা ছিল—

"৩৬৫ দিন... তারপর দেখা হবে।"

এরপর সে চলে গেল।

আমি আর তাকে থামাইনি।

প্রথম কয়েকদিন মনে হয়েছিল, ও হয়তো মজা করছে।

কিন্তু এক সপ্তাহ... এক মাস... তিন মাস...

সুবর্ণার কোনো ফোন নেই।

কোনো মেসেজ নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ার সব আইডি বন্ধ।

বন্ধুদের কাছেও কোনো খবর নেই।

অনেকে বলল,

"মেয়েটা তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে।"

কেউ বলল,

"এতদিন কেউ অপেক্ষা করে না।"

কিন্তু আমি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সেই কাগজটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।

দিন গুনতাম।

১০৮...

১৭৯...

২৪৬...

৩০০...

৩৪৮...

অবশেষে এল ৩৬৫তম দিন।

সকাল থেকেই বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা কাঁপুনি।

আমরা প্রথম যেদিন দেখা করেছিলাম, সেই পুরোনো লেকের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।

ঘড়িতে বিকেল পাঁচটা।

পাঁচটা দশ...

পাঁচটা ত্রিশ...

ছয়টা...

সুবর্ণা এল না।

মনে হলো, সব শেষ।

আমি ধীরে ধীরে ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম।

ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ ডাকল—

"এই যে... এত তাড়াতাড়ি হেরে গেলে?"

আমি ঘুরে দাঁড়ালাম।

সামনে সুবর্ণা।

হালকা নীল শাড়ি পরা, চোখে জল, ঠোঁটে সেই চেনা হাসি।

আমি দৌড়ে গিয়ে বললাম,

"তুমি কোথায় ছিলে এতদিন?"

সুবর্ণা উত্তর দেওয়ার আগে আমার হাতে একটি খাম তুলে দিল।

ভেতরে হাসপাতালের কাগজ।

আমি অবাক হয়ে তাকাতেই সে বলল,

"বাবার কিডনির অপারেশন হয়েছিল। বাড়ির সব দায়িত্ব আমার কাঁধে চলে আসে। আমি চাইনি তুমি তোমার স্বপ্ন ছেড়ে আমার কষ্টে জড়িয়ে পড়ো। তাই দূরে ছিলাম।"

আমি রাগ করে বললাম,

"এত বড় কষ্ট একা সহ্য করলে? আমাকে একবারও জানালে না?"

সুবর্ণা চোখের পানি মুছে বলল,

"আমি জানতে চেয়েছিলাম... তুমি আমার অনুপস্থিতিকে ভুলে যাবে, নাকি আমাকে মনে রাখবে।"

আমি শান্ত গলায় বললাম,

"আমি প্রতিদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি।"

সে মৃদু হেসে বলল,

"জানি।"

"জানো?"

"হ্যাঁ।"

আমি বিস্মিত।

সুবর্ণা বলল,

"প্রতিদিন দূর থেকে তোমাকে দেখেছি। তুমি যে চায়ের দোকানে বসতে, যে মসজিদে নামাজ পড়তে, যে বইয়ের দোকানে যেতে—সব জানতাম। শুধু সামনে আসিনি।"

আমার চোখ ভিজে উঠল।

"তাহলে আজ এলে কেন?"

সুবর্ণা ব্যাগ থেকে আরেকটি ছোট বাক্স বের করল।

ভেতরে দুটি আংটি।

সে কাঁপা কণ্ঠে বলল,

"কারণ আজ ৩৬৫ দিন পূর্ণ হয়েছে। আজ আর তোমাকে অপেক্ষা করানো অন্যায় হবে।"

আমি হেসে বললাম,

"তাহলে এবার?"

সুবর্ণা নিজের হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

"এবার অপেক্ষা নয়... সারাজীবন একসাথে হাঁটার পালা।"

কয়েক মাস পরে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে আমাদের বিয়ে হলো।

বাসর রাতে আমি মজা করে জিজ্ঞেস করলাম,

"শোনো, যদি আমি ৩৬৪ দিন অপেক্ষা করে চলে যেতাম?"

সুবর্ণা মুচকি হেসে উত্তর দিল,

"তাহলে আমি সারাজীবন নিজেকেই ক্ষমা করতে পারতাম না। কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা পরীক্ষা নেওয়ার জন্য নয়, বিশ্বাস করার জন্য।"

আমি তার হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম,

"তাহলে প্রতিশ্রুতি দাও..."

সে তাকাল।

আমি হাসলাম।

"এবার থেকে আর কোনো অপেক্ষা নয়।"

সুবর্ণা মাথা আমার কাঁধে রেখে ফিসফিস করে বলল,
অপেক্ষা শেষ হয়েছে... এখন থেকে শুধু আমরা।"

অনুগল্প: #অপেক্ষা।
লেখক: #মি_হাসিব

"আপনার পকেট থেকে টাকাটা পড়ে গেছে।"মেয়েটার কথা শুনে আমি নিচে তাকালাম।মাটিতে কোনো টাকা পড়ে নেই।সে নিজের হাতেই একটা পাঁচ...
27/07/2026

"আপনার পকেট থেকে টাকাটা পড়ে গেছে।"
মেয়েটার কথা শুনে আমি নিচে তাকালাম।

মাটিতে কোনো টাকা পড়ে নেই।
সে নিজের হাতেই একটা পাঁচশো টাকার নোট বাড়িয়ে ধরে আছে।

আমি শান্ত গলায় বললাম,

— "ওটা আমার না।"

মেয়েটা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

— "আমি ভেবেছিলাম..."

আমি তার কথা শেষ করতে দিলাম না।

— "আমি গরিব হতে পারি, কিন্তু অন্যের টাকা নিজের বলতে শিখিনি।"

কথাটা বলেই আমি বাসে উঠে পড়লাম।

সেদিনই প্রথম দেখা।

এরপর প্রায় প্রতিদিন একই সময়ে একই বাসে দেখা হতে লাগল।

সে জানালার পাশে বসত।

আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম।

কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতাম না।

শুধু চোখাচোখি হলে হালকা একটা হাসি।

একদিন বাসটা মাঝরাস্তায় নষ্ট হয়ে গেল।

সব যাত্রী নেমে হাঁটছে।

হঠাৎ সে আমার পাশে এসে বলল,

— "সেদিনের জন্য দুঃখিত। আপনাকে ভুল বুঝেছিলাম।"

আমি হেসে বললাম,

— "মানুষকে পোশাক দেখে বিচার করা খুব সহজ।"

সে মাথা নিচু করল।

ধীরে ধীরে কথা বাড়তে লাগল।

জানলাম, তার নাম মেহর।

সে একটি হাসপাতালে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করে।

আর আমি?

আমি শহরের একটি ছোট প্রকাশনীতে প্রুফরিডার।

বেতন এত কম যে মাসের শেষ সপ্তাহে হিসাব কষে চলতে হয়।

কিন্তু সেই কথাটা আমি কখনো তাকে বলিনি।

কারণ আমি করুণা চাইনি।

এক বিকেলে মেহর বলল,

— "চলুন, আজ কফি খাই।"

আমি মুচকি হেসে বললাম,

— "আজ নয়।"

সত্যিটা ছিল—

আমার মানিব্যাগে তখন বাসভাড়ার টাকাটুকু ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

পরদিন সে আবার বলল।

আমি আবারও অজুহাত দিলাম।

এভাবে অনেকবার।

একদিন সে রাগ করে বলল,

— "আপনি কি আমাকে এড়িয়ে চলছেন?"

আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিলাম,

— "না... আমি শুধু চাই না, আমার অভাবের বিল অন্য কেউ দিক।"

মেহর প্রথমবারের মতো নিশ্চুপ হয়ে গেল।

তারপর ধীরে বলল,

— "আপনি জানেন, আমি কেন আপনার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছিলাম?"

আমি মাথা নাড়লাম।

সে বলল,

— "কারণ সেদিন পাঁচশো টাকার নোটটা আপনার না জেনেও আপনি নিতে চাননি। তখন বুঝেছিলাম, আপনার অভাব আছে... কিন্তু লোভ নেই।"

আমি কিছু বললাম না।

সেদিনের পর আমরা আর দামি কফিশপে যাওয়ার কথা বলিনি।

রাস্তার পাশের দশ টাকার চা-ই আমাদের দেখা করার জায়গা হয়ে গেল।

সেখানে কোনো লজ্জা ছিল না।

কোনো অভিনয় ছিল না।

শুধু দুজন মানুষের সত্যি কথাগুলো ছিল।

মাসের শেষে একদিন আমি বললাম,

— "আজ চায়ের দাম আমি দেব।"

মেহর হেসে বলল,

— "আজ দিতে পারবেন?"

আমি পকেট থেকে ভাঁজ করা কয়েনগুলো বের করে বললাম,

— "আজ পারব। কারণ এই টাকাটা ধার নয়, আমার পরিশ্রমের।"

সে চুপচাপ আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

তার চোখে করুণা ছিল না।

ছিল সম্মান।

সেদিন বুঝেছিলাম—

সব অভাব মানুষ মুখে বলে না।

কিছু অভাব মানুষ লুকিয়ে রাখে শুধু নিজের সম্মানটুকু বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

আর সত্যিকারের ভালোবাসা সেই অভাব পূরণ করতে আসে না... সে আসে, মানুষটার আত্মসম্মানকে আগলে রাখতে।

অনুগল্প: #না_বলা_অভাব।
লেখক: #মি_হাসিব

— "তিন বছর আগে তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলে। আজ আমি তোমার কাছে ভালোবাসা চাইতে আসিনি... শুধু একটা সুযোগ চাই।"ক্যাফের ভেতর...
27/07/2026

— "তিন বছর আগে তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলে। আজ আমি তোমার কাছে ভালোবাসা চাইতে আসিনি... শুধু একটা সুযোগ চাই।"

ক্যাফের ভেতর মুহূর্তেই নীরবতা নেমে এলো।

সামনে বসে থাকা মেয়েটা ধীরে ধীরে কফির কাপটা নামিয়ে আমার দিকে তাকাল।

তার চোখে অবাক হওয়ার চেয়ে অপরাধবোধটাই বেশি ছিল।

আমি চেয়ার টেনে বসে বললাম,

— "ভয় পেও না। কোনো অভিযোগ করতে আসিনি।"

তিন বছর আগে আমি ওকে ভালোবাসার কথা বলেছিলাম।

তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে চাকরির জন্য ঘুরছিলাম।

ওর বাবা সরাসরি বলেছিলেন,

— "স্বপ্ন দিয়ে সংসার চলে না।"

সেদিন অপমান নিয়ে চলে এসেছিলাম।

তারপর আর কখনো ওর সামনে দাঁড়াইনি।

সময় বদলেছে।

আমি নিজের ছোট্ট একটা প্রকাশনী গড়ে তুলেছি।

বড়লোক হইনি।

কিন্তু নিজের পরিচয় তৈরি করেছি।

একদিন হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওর একটা পোস্ট দেখলাম।

ও লিখেছিল—

"জীবনে কিছু সিদ্ধান্ত খুব দেরিতে ভুল মনে হয়।"

আমি কোনো মন্তব্য করিনি।

কিন্তু কয়েক দিন পর হঠাৎ ওরই ফোন।

— "একবার দেখা করতে পারবে?"

সেই কারণেই আজ এই ক্যাফেতে বসা।

ও ধীরে ধীরে বলল,

— "আমি সেদিন তোমাকে ফিরিয়ে দিতে চাইনি। বাবার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস ছিল না।"

আমি শান্ত গলায় বললাম,

— "আমি জানি।"

ও অবাক হয়ে তাকাল।

— "জানো?"

— "হ্যাঁ। কারণ ভালোবাসলে মানুষ ঘৃণা করতে পারে না।"

ওর চোখ ভিজে উঠল।

— "তাহলে আজ কেন এসেছ?"

আমি একটু হেসে বললাম,

— "তোমাকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয়। একটা সুযোগ চাই।"

— "কীসের সুযোগ?"

— "আবার নতুন করে পরিচয় হওয়ার সুযোগ। এবার অতীতের দুইজন মানুষ হিসেবে নয়... বর্তমানের দুইজন মানুষ হিসেবে।"

ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— "যদি আবার কষ্ট দিই?"

আমি উত্তর দিলাম,

— "কষ্ট তো একবার পেয়েছি। কিন্তু কিছু মানুষকে দ্বিতীয়বার বিশ্বাস না করলে জীবনই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।"

কয়েক মাস ধরে আমরা আবার কথা বলতে শুরু করলাম।

কেউ অতীত নিয়ে ঝগড়া করিনি।

কেউ পুরোনো হিসাব মেলাইনি।

আমরা শুধু বর্তমানটাকে চিনেছি।

একদিন সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে ও বলল,

— "তুমি জানো, আমি এত দিন কী ভেবে ভয় পেতাম?"

— "কী?"

— "তুমি হয়তো আমাকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না।"

আমি মুচকি হেসে বললাম,

— "ভালোবাসায় ক্ষমা না থাকলে, সেটা শুধু সম্পর্ক হয়... ভালোবাসা হয় না।"

ও আমার হাতটা আলতো করে ধরল।

— "তাহলে এবার আমিও একটা সুযোগ চাই।"

আমি হেসে বললাম,

— "কীসের?"

ও নিচু স্বরে বলল,

— "তোমার জীবনের বাকি পথটা তোমার পাশে হেঁটে যাওয়ার সুযোগ।"

আমি কোনো উত্তর দিলাম না।

শুধু ওর হাতটা শক্ত করে ধরলাম।

কারণ কিছু উত্তর শব্দে নয়...
দুইটা হাত একসঙ্গে ধরে রাখলেই বুঝে নেওয়া যায়।

অনুগল্প: #একটা_সুযোগ

"আপনার মেয়েকে নিতে গাড়ি নিয়ে আসতে পারিনি... তাই ভাঙা সাইকেলটাই নিয়ে এসেছি।"ঘরের সবাই চুপ হয়ে গেল।তানিয়ার বাবা ধীরে...
22/07/2026

"আপনার মেয়েকে নিতে গাড়ি নিয়ে আসতে পারিনি... তাই ভাঙা সাইকেলটাই নিয়ে এসেছি।"

ঘরের সবাই চুপ হয়ে গেল।

তানিয়ার বাবা ধীরে বললেন,

"তুমি কি এটা মজা ভেবেছ?"

রাফি মাথা নাড়ল।

"না। আমার জীবনে মজা করার মতো কিছু নেই।"

"তাহলে এই অবস্থায় আমার মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছ কেন?"

"কারণ আমি তাকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসার কথা লুকিয়ে রাখতে শিখিনি।"

"ভালোবাসা দিয়ে সংসার চলে?"

"না। সংসার চলে পরিশ্রম দিয়ে। আর সেই পরিশ্রম করার সাহস আমার আছে।"

"চাকরি আছে?"

"না।"

"নিজের বাড়ি আছে?"

"না।"

"ব্যাংকে টাকা আছে?"

"না।"

"তাহলে কী আছে তোমার?"

রাফি এক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল,

"কথা রাখার সাহস আছে।"

তানিয়ার বাবা হালকা হেসে বললেন,

"সাহস দিয়ে সংসার হয় না।"

"ঠিক বলেছেন। তাই আমি কথা দিতে নয়, সময় চাইতে এসেছি।"

"কত সময়?"

"এক বছর।"

"আর যদি এক বছর পরও কিছু করতে না পারো?"

"তাহলে আমি নিজেই আর কখনো তানিয়ার সামনে দাঁড়াব না।"

তানিয়া কাঁপা গলায় বলল,

"আমি অপেক্ষা করব।"

রাফি তার দিকে তাকিয়ে শুধু বলল,

"অপেক্ষা করো, কিন্তু নিজের স্বপ্নগুলো থামিয়ে রেখো না।"

সেদিন ভাঙা সাইকেল নিয়েই সে ফিরে গেল।

পরদিন থেকে শহরের প্রতিটা অফিসে সিভি জমা দিল।

কোথাও উত্তর এল না।

বন্ধুরা বলল,

"যা, বিদেশে চলে যা।"

কেউ বলল,

"ভালোবাসা দিয়ে পেট ভরে না।"

রাফি শুধু একটা কথাই বলত,

"একদিন এই কথাগুলোর উত্তর কাজ দিয়ে দেব।"

চাকরি না পেয়ে সে খাবার ডেলিভারির কাজ শুরু করল।

সারাদিন সেই ভাঙা সাইকেল চালাত।

রোদে, বৃষ্টিতে, ঝড়ে।

একদিন ডেলিভারি দিতে গিয়ে সাইকেলের চেইন ছিঁড়ে গেল।

কাস্টমার রাগ করে অর্ডার বাতিল করল।

রাফি রাস্তার পাশে বসে সাইকেলটা ঠিক করার চেষ্টা করছিল।

তানিয়া এসে বলল,

"চলো, আমি একটা নতুন সাইকেল কিনে দিই।"

রাফি মাথা নাড়ল।

"না।"

"কেন?"

"আজ যদি তোমার টাকায় সাইকেল কিনি, কাল সবাই বলবে তোমার টাকায় সংসারও চালাই।"

"মানুষের কথা এত ভাবো কেন?"

"কারণ আমি চাই, একদিন তোমার বাবা গর্ব করে বলুন—আমার জামাই নিজের চেষ্টায় দাঁড়িয়েছে।"

তানিয়া চুপ করে গেল।

কয়েক মাস পর রাফি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেল।

বেতন খুব বেশি নয়।

তবু তার মুখে হাসি ছিল।

প্রথম বেতন হাতে পেয়ে সে মায়ের ওষুধ কিনল।

বাবার পুরোনো ঋণের কিছু টাকা শোধ করল।

তারপর সাইকেল মেরামত করাতে গেল।

মিস্ত্রি বলল,

"নতুন একটা কিনে ফেলেন।"

রাফি হেসে বলল,

"এটা শুধু সাইকেল না। আমার কঠিন দিনের সঙ্গী।"

এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিন সে আবার তানিয়াদের বাড়ির সামনে দাঁড়াল।

এবারও সঙ্গে সেই সাইকেল।

তবে আগের মতো ভাঙা নয়।

নিজের টাকায় মেরামত করা।

তানিয়ার বাবা দরজা খুলে বললেন,

"আবার এলে?"

রাফি একটা খাম এগিয়ে দিল।

"এটা কী?"

"আমার চাকরির নিয়োগপত্র। আর প্রথম এক বছরের সঞ্চয়ের হিসাব।"

তিনি খাম খুলে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

"গাড়ি আনোনি?"

রাফি হেসে বলল,

"আজও না।"

"কেন?"

"যে সাইকেলটা আমার সবচেয়ে কঠিন সময়ে আমাকে ছেড়ে যায়নি, তাকে আমি সুখের দিনে ছেড়ে দিতে পারিনি।"

তানিয়ার বাবা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে সাইকেলের হ্যান্ডেলে হাত রাখলেন।

"জানো, আমি এই সাইকেলটাকে দেখে তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।"

রাফি শান্ত গলায় বলল,

"আর আমি এই সাইকেলটাকেই শক্তি বানিয়েছিলাম।"

তিনি তানিয়াকে ডেকে বললেন,

"মা, যার পাশে ভাঙা সাইকেল ছিল, সে ভেঙে পড়েনি। সে আমার মেয়েকেও কোনোদিন ভেঙে পড়তে দেবে না।"

তানিয়ার চোখে জল চলে এল।

রাফি মৃদু হেসে বলল,

"মানুষ গাড়ি দেখে সম্মান দেয়, কিন্তু একটা ভাঙা সাইকেল আমাকে শিখিয়েছে—গন্তব্যে পৌঁছাতে বাহন নয়, ইচ্ছেটাই সবচেয়ে বড়।"

সেদিন ভাঙা সাইকেলটা আর শুধু একটি পুরোনো যান ছিল না। সেটা হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা, আত্মসম্মান আর হার না মানা একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

অনুগল্প: #ভাঙা_সাইকেল।

'স্যার কফিনের ভেতরের লাশটা চোখ খুলেছে!"ধুর মরা মানুষ চোখ খোলে না।"'দারোয়ান কাঁপতে কাঁপতে উত্তর দিল,আমি নিজের চোখে দেখেছ...
22/07/2026

'স্যার কফিনের ভেতরের লাশটা চোখ খুলেছে!"
ধুর মরা মানুষ চোখ খোলে না।"

'দারোয়ান কাঁপতে কাঁপতে উত্তর দিল,
আমি নিজের চোখে দেখেছি, স্যার... একবার না... দু'বার। আমি কাছে যেতেই ও চোখ বন্ধ করে ফেলল।"

ইমরান আর কোনো কথা বললেন না।
তিনি টর্চ হাতে মর্গের ভেতরে ঢুকলেন।

দুজন কনস্টেবলও পেছনে পেছনে এল।
মর্গের শেষ মাথায় কালো কাঠের কফিনটা পড়ে আছে।
তার গায়ে সাদা কাগজে লেখা—

নাম : নীলা
বৈবাহিক অবস্থা : বিবাহিত।

ইমরান ধীরে ধীরে কফিনের ঢাকনা খুললেন।
ভেতরে সাদা শাড়ি পরা এক তরুণীর নিথর দেহ।
চোখ বন্ধ। ঠোঁট বিবর্ণ।

হাত দুটো বুকের ওপর রাখা।
সবকিছুই স্বাভাবিক।
ইমরান দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"এই লাশটাই?"

দারোয়ান মাথা নাড়ল।
"জি... কিন্তু একটু আগেও ওর চোখ খোলা ছিল।"

ইমরান ঠান্ডা গলায় বললেন,
"ভয় পেলে অনেক কিছুই চোখে পড়ে।"

তিনি ঢাকনা বন্ধ করতে যাবেন, ঠিক তখনই—
খিলখিল করে একটা নারীর হাসি শোনা গেল।
কফিনের ভেতর থেকে।

শব্দটা এতটাই স্পষ্ট যে তিনজনই একসঙ্গে পিছিয়ে গেল।
একজন কনস্টেবল কাঁপা গলায় বলল,

"স্যার... শব্দটা লাশের ভেতর থেকেই এসেছে..."
ইমরান আবার ঢাকনা তুললেন।
লাশ আগের জায়গাতেই আছে।
কিন্তু এবার তার সিঁথিতে টকটকে লাল সিঁদুর।

মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও সেখানে কিছু ছিল না।
ইমরান ফিসফিস করে বললেন,

"কে সিঁদুর পরিয়ে দিল?"
কেউ উত্তর দিল না।

মর্গের সিসিটিভি মনিটরে চোখ পড়তেই সবাই থমকে গেল। কফিনের পাশে তারা তিনজন দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—
কফিনের পাশে চারজন দাঁড়িয়ে।

চতুর্থজন সাদা শাড়ি পরে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ধীরে ধীরে সে মুখ তুলল।তার কপালজুড়ে লাল সিঁদুর।

চোখ দুটো অস্বাভাবিক কালো।
পরের মুহূর্তেই মনিটর ঝিরঝির করে নিভে গেল।

হঠাৎ মৃত নারীর ঠোঁট আস্তে আস্তে নড়ল।
স্পষ্ট শোনা গেল—

"আমার বিয়ে এখনো শেষ হয়নি..."
এক ঝটকায় কফিনের ঢাকনা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। ভেতর থেকে শুরু হলো আঁচড়ানোর শব্দ।

খররর... খররর... খররর...
শব্দটা ক্রমেই জোরে হতে লাগল।

মনে হচ্ছিল, কাঠের ভেতর থেকে কেউ মরিয়া হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে।

তারপর হঠাৎ সব থেমে গেল।
পুরো মর্গ নিস্তব্ধ।

শুধু দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চলছে।
ইমরান সাহস সঞ্চয় করে আবার ঢাকনাটা খুললেন।
কফিন খালি।
লাশ নেই।

শুধু এক মুঠো লাল সিঁদুর ছড়িয়ে আছে।
আর সেই সিঁদুরের ওপর আঙুল দিয়ে লেখা—

"আজ রাতেই আমি আমার স্বামীকে ফিরিয়ে নেব।"
ঠিক তখনই মর্গের বাইরে থেকে এক নারীর চিৎকার ভেসে এলো।

একজন নার্স দৌড়ে এসে কাঁপা গলায় বলল,
"স্যার... যে মহিলার লাশটা এখানে ছিল... তার স্বামী একটু আগে হাসপাতালে এসেছে।"

ইমরান দ্রুত জিজ্ঞেস করলেন,
"কোথায় সে?"

নার্সের ঠোঁট কাঁপছিল।
সে শুধু আঙুল তুলে মর্গের দরজার দিকে দেখাল।
সবাই ঘুরে তাকাল।
দরজার সামনে এক ভেজা পায়ের ছাপ।

একটা...

দুইটা...

তিনটা...

পায়ের ছাপগুলো ধীরে ধীরে মর্গের ভেতরে ঢুকছে।
কিন্তু সেখানে কেউ নেই।
শেষ পায়ের ছাপটা এসে থামল সেই খালি কফিনের সামনে। তারপর অদৃশ্য কারও হাত যেন বাতাসে সিঁদুর ছিটিয়ে লিখল—

"আমি এসে গেছি..."

চারদিকে আবার সেই খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে উঠল।
আর মর্গের সব আলো একসঙ্গে নিভে গেল।

অন্ধকারের ভেতর ইমরান চিৎকার করে উঠলেন,

"সবাই টর্চ জ্বালাও!"
একসঙ্গে তিনটা টর্চ জ্বলে উঠল।
মর্গ ফাঁকা।

কিন্তু খালি কফিনটার ঢাকনা আবার ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
ধাপ...

কেউ স্পর্শ করেনি।
তবু বন্ধ হলো।

একজন কনস্টেবল কাঁপা গলায় বলল,

"স্যার... আমরা এখান থেকে বের হয়ে যাই।"
ইমরান দৃঢ় গলায় বললেন,

"কেউ বের হবে না। আগে পুরো হাসপাতাল তল্লাশি করো। ওই লাশ এখানেই আছে।"
কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসপাতালের প্রতিটি করিডোর, ওয়ার্ড আর সিঁড়ি খুঁজে দেখা হলো।

কোথাও কোনো মৃতদেহ নেই।
ঠিক তখনই রিসেপশন থেকে ফোন এলো।

"স্যার... একজন লোক আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।"ইমরান নিচে নেমে দেখলেন, ত্রিশ-চৌত্রিশ বছরের এক যুবক চেয়ারে বসে আছে।

মুখ শুকনো।চোখ লাল।
লোকটা উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

"আমি রায়হান... নীলার স্বামী।"
ইমরান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

"আপনার স্ত্রীর লাশ মর্গ থেকে নিখোঁজ।"
রায়হানের মুখে কোনো বিস্ময় দেখা গেল না।
বরং সে ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে বলল,

"আমি জানতাম... ও ফিরবে।"

ইমরান ভ্রু কুঁচকে বললেন,
"মানে?"

রায়হান পকেট থেকে একটা ছোট্ট সিঁদুরের কৌটা বের করল।কৌটার ঢাকনা খুলতেই ভেতরে একটুও সিঁদুর নেই। সে ফিসফিস করে বলল,

"মারা যাওয়ার আগে নীলা বলেছিল, 'আমার সিঁদুর কেউ মুছে দিতে পারবে না।
আমি নিজেই ফিরে এসে পরে নেব।'"

ঠিক তখনই হাসপাতালের সব টেলিভিশন একসঙ্গে নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।

কোনো চ্যানেল নেই।
শুধু ঝিরঝির শব্দ।

তারপর ধীরে ধীরে একটা ছবি স্পষ্ট হলো।
হাসপাতালের ছাদ।

সাদা শাড়ি পরা একটা নারী দাঁড়িয়ে আছে।
তার লম্বা চুল মুখ ঢেকে রেখেছে।
সে খুব ধীরে মাথা তুলল।

তার কপালজুড়ে টকটকে লাল সিঁদুর।
হঠাৎ সে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আঙুল তুলল।

সরাসরি রায়হানের দিকে।

তারপর ঠোঁট নড়ল।
"আমি অপেক্ষা করছি..."

টেলিভিশনগুলো একসঙ্গে বিস্ফোরণের মতো শব্দ করে নিভে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে হাসপাতালের ছাদ থেকে একজন নিরাপত্তাকর্মীর আতঙ্কিত চিৎকার শোনা গেল—

"কেউ একজন কার্নিশে দাঁড়িয়ে আছে!"
ইমরান আর রায়হান দৌড়ে ছাদে উঠলেন।
ছাদে পৌঁছে তারা থমকে গেল।

কার্নিশের ওপর দাঁড়িয়ে আছে নীলা।
সাদা শাড়ি বাতাসে উড়ছে।

কপালে রক্তের মতো লাল সিঁদুর।
সে ধীরে ধীরে রায়হানের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,

"চলো... এবার আমাদের বাসায় ফিরি..."

রায়হান যেন সম্মোহিত হয়ে তার দিকে হাঁটতে শুরু করল। ইমরান তার হাত শক্ত করে ধরে চিৎকার করলেন,

"রায়হান! ওদিকে এক পা-ও বাড়াবে না!"
রায়হান থেমে গেল।
কিন্তু নীলা হাসল।

সেই হাসির সঙ্গে সঙ্গেই কার্নিশের ওপর আরও একজন নারীর অবয়ব দেখা দিল।

তারপর আরও একজন।
আরও একজন।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ছাদের চারপাশে একই মুখের, একই সাদা শাড়ির, একই লাল সিঁদুর পরা অসংখ্য নারী দাঁড়িয়ে রইল।

তারা সবাই একসঙ্গে বলল—

পরবর্তী পর্ব লোডিং...?
এই পযর্ন্ত কেমন হয়েছে কমেন্ট করুন।

সবার আগে গল্প পরতে চাইলে লেখকের ফেসবুক আইডিটা ফলো দিন :👉 মি. হাসিব

গল্প: #মৃত_বউয়ের_সিঁদুর।
পর্ব: ( ১ )
লেখক: #মি_হাসিব

"তোমাকে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেব।"আমার প্রেমিকার অভিনয় করবে।""মানুষ টাকা দিয়ে প্রেমও ভাড়া করে?""প্রেম না, একটা সম্প...
21/07/2026

"তোমাকে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেব।"
আমার প্রেমিকার অভিনয় করবে।"

"মানুষ টাকা দিয়ে প্রেমও ভাড়া করে?"

"প্রেম না, একটা সম্পর্ক। মাত্র ত্রিশ দিনের জন্য।"

"তারপর?"

"তারপর দুজন দুজনের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়ে যাব।"

মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, "একটা শর্ত আছে।"

"বল।"

"ত্রিশ দিন শেষ হলে কেউ কাউকে ফোন করবে না, খুঁজবে না, আটকাবে না।"

ছেলেটা হাত বাড়িয়ে বলল, "চুক্তি?"

মেয়েটা হাত মিলিয়ে বলল, "চুক্তি।"

পরদিন থেকেই অভিনয় শুরু হলো।

ছেলেটার নাম নিলয়। মেয়েটার নাম তিশা।

প্রথম দিন কফিশপে বসে নিলয় বলল, "হাসো।"

"কেন?"

"পাশের টেবিলের লোকগুলো আমাদের দেখছে। প্রেমিক-প্রেমিকা যদি এমন মুখ করে বসে থাকে, সবাই সন্দেহ করবে।"

তিশা জোর করে হাসল।

নিলয় বলল, "না, এভাবে না। মন থেকে হাসো।"

"মন তো ভাড়ায় দিইনি।"

নিলয় হেসে ফেলল।

ধীরে ধীরে দুজনের দেখা হওয়া প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেল।

সকালের শুভেচ্ছা, দুপুরের খোঁজ, রাতের 'ঘুমিয়ে পড়ো'—সবই ছিল অভিনয়ের অংশ।

একদিন বৃষ্টিতে ভিজে তিশার জ্বর এলো।

নিলয় ওষুধ নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে বলল, "দরজা খোলো।"

"তুমি কেন এসেছ?"

"প্রেমিকার অভিনয় করছি। অসুস্থ হলে দেখতে আসতেই হয়।"

তিশা দরজা খুলে বলল, "এত রাত পর্যন্ত বসে থাকবে?"

"জ্বর কমা পর্যন্ত।"

"অভিনয়ের জন্য এত কিছু?"

নিলয় মৃদু হেসে বলল, "হয়তো।"

সেদিন রাতেই প্রথমবার তিশার মনে প্রশ্ন জাগল—সবকিছু কি সত্যিই অভিনয়?

কয়েকদিন পর তিশা অফিসে অপমানিত হয়ে কান্না করছিল।

নিলয় ফোন করে বলল, "কোথায়?"

"ভালো নেই।"

"লোকেশন পাঠাও।"

কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিলয় পৌঁছে গেল।

তিশা বলল, "এত দ্রুত এলে কীভাবে?"

"তুমি কাঁদছ, আর আমি বসে থাকব?"

"চুক্তিতে তো এসব লেখা ছিল না।"

"হয়তো কিছু অনুভূতি কোনো চুক্তি মানে না।"

সেদিন তিশা কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

দিনগুলো দ্রুত কেটে যাচ্ছিল।

দুজনেই বুঝতে পারছিল, অভিনয় আর অভিনয় নেই।

তবু কেউ মুখ খুলছিল না।

কারণ দুজনেই জানত—ত্রিশ দিনের শেষে বিদায় বলতেই হবে।

অবশেষে শেষ দিন এল।

নিলয় টাকার খামটা বাড়িয়ে দিল।

"এটা তোমার প্রাপ্য।"

তিশা খামটা হাতে নিয়ে আবার ফিরিয়ে দিল।

"আমি এটা নিতে পারব না।"

"কেন?"

"কারণ আমি শুধু অভিনয় করিনি। আমি ভুল করে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছি।"

নিলয় অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে রইল।

তারপর ধীরে বলল, "আমি প্রতিদিন নিজেকে বুঝিয়েছি এটা অভিনয়। কিন্তু তুমি অন্য কারও সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বললেও আমার রাগ হতো। তুমি অসুস্থ হলে আমার ঘুম হতো না। তুমি হাসলে মনে হতো দিনটা সুন্দর। এগুলো কোনো অভিনয় নয়।"

তিশার চোখে পানি চলে এল।

"তাহলে এতদিন কিছু বলোনি কেন?"

"ভয় পেয়েছিলাম। যদি শুধু আমি ভালোবেসে থাকি?"

তিশা কাঁদতে কাঁদতে বলল, "আমিও একই ভয় পেয়েছিলাম।"

নিলয় টাকার খামটা ছিঁড়ে ফেলল।

"আজ থেকে কোনো চুক্তি নেই।"

"তাহলে?"

"যদি রাজি থাকো, আজ থেকে বেতনের প্রেমিকা নয়... সারাজীবনের সঙ্গী হবে?"

তিশা হেসে বলল, "এই প্রস্তাবের জন্য কোনো টাকা লাগে না। শুধু একটা সত্যিকারের হৃদয় লাগে।"

নিলয় হাত বাড়িয়ে দিল।

তিশা সেই হাত শক্ত করে ধরে বলল,

"প্রেমের অভিনয় শেষ হলো। এবার সত্যিকারের প্রেম শুরু হোক।"

অনুগল্প: #প্রেম।

"লাশটা পুড়বে না।"রহিম কাঁপা গলায় বলল, "চার ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে। তিনবার কাঠ বদলানো হয়েছে। কেরোসিনও ঢালা হয়েছে। কিন্...
21/07/2026

"লাশটা পুড়বে না।"
রহিম কাঁপা গলায় বলল, "চার ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলছে। তিনবার কাঠ বদলানো হয়েছে। কেরোসিনও ঢালা হয়েছে। কিন্তু দেহে আগুন ধরছে না।"

গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ কাদের আলী সামনে এগিয়ে এলেন।

"আবার আগুন দাও।"

আরেকবার মশাল ছোঁয়ানো হলো।

কাঠ জ্বলে উঠল।

শিখা আরও উঁচু হলো।

কিন্তু মৃতদেহটা যেন আগুনকে চিনতেই পারছে না।

তার গায়ের সাদা কাপড় পর্যন্ত পুড়ল না।

চারদিকে চাপা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল।

"এটা অশুভ লক্ষণ।"

"এমন কখনো দেখিনি।"

"এখান থেকে চলে যাও।"

কেউ আর চিতার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহস পেল না।

ঠিক তখনই একটা বিকট শব্দ হলো।

চিতার মাঝখান থেকে মৃতদেহটা ধীরে ধীরে উঠে বসল।

একজন যুবক ভয়ে দৌড় দিতে গিয়ে পড়ে গেল।

কয়েকজন কালেমা পড়তে শুরু করল।

মৃতদেহটা চারপাশে তাকাল।

তার চোখের সাদা অংশ নেই।

দুই চোখই রক্তের মতো লাল।

তার ঠোঁট ধীরে ধীরে নড়ল।

"রক্ত চন্দ্র উঠলেই... সবাই ফিরবে।"

কেউ কথা বলতে পারল না।

সে আবার বলল,

"যারা আমাকে মাটির নিচে পাঠিয়েছিল... এবার তারা মাটির নিচ থেকেই ডাক শুনবে।"

হঠাৎ তার মুখে একটা ভয়ংকর হাসি ফুটে উঠল।

তারপর সে নিথর হয়ে পড়ে গেল।

এইবার আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো দেহটাকে গ্রাস করে ফেলল।

মিনিটখানেকের মধ্যেই সব শেষ।

যেন কিছুই ঘটেনি।

শুধু চিতার পাশে কালো ছাইয়ের ওপর অদ্ভুত একটা চিহ্ন দেখা গেল।

রক্তের মতো লাল রঙে আঁকা একটা পূর্ণ চাঁদ।

চাঁদের মাঝখানে সাতটা দাগ।

কেউ চিহ্নটার অর্থ জানল না।

সেদিন রাত থেকেই গ্রামের পরিবেশ বদলে গেল।

প্রতিটি বাড়িতে ভয়।

সূর্য ডুবলেই মানুষ দরজা-জানালা বন্ধ করে দিচ্ছে।

রাত গভীর হলে দূর থেকে অদ্ভুত কান্নার শব্দ ভেসে আসতে লাগল।

কেউ সেই শব্দের উৎস খুঁজে পেল না।

তৃতীয় রাত।

ফজরের আজানের আগেই গ্রামের পুরোনো কবরস্থানের দিক থেকে প্রচণ্ড শব্দ শোনা গেল।

লোকজন লাঠি, টর্চ নিয়ে ছুটে গেল।

গিয়ে সবাই স্তব্ধ।

একটা নয়।

দুইটা নয়।

পুরো কবরস্থান যেন রাতারাতি উল্টে গেছে।

প্রতিটি কবর ফেটে খোলা।

মাটি ছড়িয়ে আছে চারদিকে।

গ্রামের লোকজন একে একে কবরের ভেতর তাকাল।

সব কবর খালি।

একটাও লাশ নেই।

শুধু প্রতিটি কবরের ভেতরে পড়ে আছে একমুঠো কালো ছাই।

আর সেই ছাইয়ের ওপর লেখা—

"ফিরেছি।"

লেখাটা কী দিয়ে লেখা হয়েছে, কেউ বুঝতে পারল না।

দেখতে রক্তের মতো।

কিন্তু শুকায় না।

মুছেও যায় না।

ঠিক তখনই কবরস্থানের পাহারাদার হারুনকে দেখা গেল।

সে এক কোণে বসে কাঁপছে।

তার চুল পুরো সাদা হয়ে গেছে।

কেউ জিজ্ঞেস করল,

"কী হয়েছে?"

হারুন কাঁপা গলায় বলল,

"আমি দেখেছি..."

"কী দেখেছ?"

"সব কবর একসঙ্গে খুলেছে।"

"তারপর?"

"লাশগুলো নিজেরাই উঠে দাঁড়িয়েছে।"

সবাই একে অন্যের দিকে তাকাল।

কেউ বিশ্বাস করল না।

হারুন কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"ওরা হাঁটছিল না..."

"তাহলে?"

"ওরা মাটির ওপর ভেসে যাচ্ছিল।"

এই কথা বলেই হারুন অজ্ঞান হয়ে পড়ল।

ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশে কালো মেঘ জমল।

দুপুর হলেও চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল।

লোকজন আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।

ধীরে ধীরে সূর্যের সামনে একটা লাল বৃত্ত ফুটে উঠল।

গ্রামের সবচেয়ে বৃদ্ধা নারী হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন,

"রক্ত চন্দ্রের শুরু হয়ে গেছে..."

কথাটা শেষ হতেই কবরস্থানের মাঝখানে থাকা শত বছরের পুরোনো বটগাছটা প্রচণ্ড শব্দে দুই টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ল।

গাছের শিকড়ের নিচ থেকে বেরিয়ে এল একটি লোহার সিন্দুক।

সিন্দুকে কোনো তালা নেই।

শুধু রক্তের মতো লাল অক্ষরে লেখা—
পরবর্তী পর্ব লোডিং....!

গল্প: #রক্তচন্দ্র।
পর্ব: ( ১ )
লেখক: #মি_হাসিব

19/07/2026

I got over 200 reactions on one of my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉

"আপনি কি বরপক্ষের কেউ?"প্রশ্নটা শুনে আরিফ মৃদু হেসে বলল, "না... আমি কনের অতীত।" চারপাশের মানুষ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়...
19/07/2026

"আপনি কি বরপক্ষের কেউ?"
প্রশ্নটা শুনে আরিফ মৃদু হেসে বলল, "না... আমি কনের অতীত।" চারপাশের মানুষ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

মঞ্চে বসে থাকা তানিয়ার চোখ হঠাৎ আরিফের ওপর পড়তেই তার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।

আরিফ ধীরে ধীরে মঞ্চের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

"একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে?"

তানিয়া কাঁপা গলায় বলল,

"এখানে কোনো ঝামেলা কোরো না, প্লিজ।"

আরিফ পকেট থেকে একটি ছোট্ট আংটির বাক্স বের করল।

"এই আংটিটা মনে আছে? তুমি বলেছিলে, 'বিয়ের দিন এটা আমার হাতে পরিয়ে দেবে।' আজ তুমি অন্য কারও কনে। তাই ভাবলাম, আংটিটা ফেরত নিয়ে যাই।"

তানিয়ার চোখ ভিজে উঠল।

কিন্তু আরিফের চোখে কোনো জল ছিল না।

শুধু ছিল ভেঙে যাওয়া বিশ্বাসের নিঃশব্দ মৃত্যু।

সে আংটির বাক্সটা নিজের পকেটে রেখে মৃদু হেসে বলল,

"ধন্যবাদ। আজ বুঝলাম, সব ভালোবাসার শেষ ঠিকানা বিয়ে নয়... কিছু ভালোবাসার শেষ ঠিকানা প্রতারণা।"

কথাগুলো বলেই সে বিয়ের আসর থেকে বেরিয়ে এল।

বাইরে ঝুম বৃষ্টি।

লোকজন ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

আরিফ ছাতা খুলল না।

বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন বুকের ভেতরের আগুনটাকে আরও জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।

দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল।

প্রথমে বন্ধুত্ব।

তারপর প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা।

একদিন তানিয়া বলেছিল,

"আমি যদি একদিন হারিয়ে যাই, তুমি কি আমাকে খুঁজবে?"

আরিফ হেসে উত্তর দিয়েছিল,

"পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত খুঁজব।"

সেই কথাটা সত্যি করেছিল সে।

তানিয়ার জন্য নিজের চাকরির বেতনের বেশির ভাগ টাকা খরচ করত।

তানিয়ার জন্মদিনে দামি ফোন কিনে দিয়েছিল।

বাবার চিকিৎসার কথা বলে টাকা চাইলে বিনা প্রশ্নে পাঠিয়ে দিয়েছিল।

একসময় নিজের মোটরসাইকেলটাও বিক্রি করে তাকে সাহায্য করেছিল।

বন্ধুরা সাবধান করেছিল।

"মেয়েটা তোমাকে ব্যবহার করছে।"

আরিফ বিশ্বাস করেনি।

সে বলেছিল,

"সবাই একরকম হয় না।"

কয়েক মাস পর তানিয়া জানাল, তার পরিবার বিয়েতে রাজি।

শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।

আরিফ আনন্দে বাড়িতে বিয়ের কথা জানাল।

মা নিজের গয়না বের করে বললেন,

"এগুলো আমার বউমাকে দেব।"

বাবা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করলেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই তানিয়ার আচরণ বদলে গেল।

ফোন ধরত না।

মেসেজের উত্তর দিত না।

ব্যস্ততার অজুহাত দিত।

তারপর একদিন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেল।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর আরিফ জানতে পারল, শহরের এক ব্যবসায়ীর ছেলের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে।

সেদিনই সে বিয়ের আসরে গিয়েছিল।

শুধু একটা উত্তর জানতে।

কেন?

বিয়ের কয়েকদিন পর তানিয়া নিজেই একবার ফোন করেছিল।

আরিফ ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল,

"আমাকে ঘৃণা করো?"

আরিফ শান্ত গলায় বলেছিল,

"ঘৃণা করার মতো সময় আমার নেই।"

"আমি বাধ্য ছিলাম।"

"বাধ্য মানুষ প্রতারণা করে না, সত্যিটা বলে।"

এই ছিল তাদের শেষ কথা।
..

পাঁচ বছর কেটে গেল।

আরিফ নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলল।

দিন-রাত পরিশ্রম করে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি দাঁড় করাল।

দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে কাজ করতে শুরু করল।

সংবাদপত্রে তার সাফল্যের গল্প প্রকাশিত হলো।

একদিন একটি প্রতিষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সে দেখল, সামনের সারিতে মাথা নিচু করে বসে আছে তানিয়া।

অনুষ্ঠান শেষে তানিয়া এগিয়ে এল।

মুখে আগের সেই উজ্জ্বলতা নেই।

চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ।

"কেমন আছো?"

আরিফ হালকা হেসে বলল,

"আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। তুমি?"

তানিয়া উত্তর দিল না।

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

"যাকে বিয়ে করেছিলাম, সে শুধু আমার বাবার সম্পত্তির জন্য বিয়ে করেছিল। সবকিছু নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে আমাকে তালাক দিয়েছে। এখন আমি একা।"

আরিফ নীরবে শুনল।

তার মনে কোনো আনন্দ হলো না।

প্রতিশোধের তৃপ্তিও না।

শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল।

"জানো, আমি অনেক রাতে ঘুমাতে পারি না। বারবার মনে হয়, তোমার সঙ্গে যা করেছি, তার শাস্তিই হয়তো পাচ্ছি।"

আরিফ বলল,

"মানুষ ভুল করে। কিন্তু কিছু ভুলের মূল্য খুব বেশি।"

তানিয়ার চোখে জল।

"তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পেরেছ?"

"হ্যাঁ।"

"তাহলে... আবার কি নতুন করে শুরু করা যায়?"

আরিফ নিজের মানিব্যাগ থেকে একটি ছবি বের করল।

ছবিতে তার স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়ে হাসছে।

"আমার জীবন থেমে থাকেনি, তানিয়া। যে চলে যায়, তার জন্য জীবন অপেক্ষা করে না।"

তানিয়া ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।

"তোমার স্ত্রী খুব ভাগ্যবতী।"

আরিফ মৃদু হেসে বলল,

"না। আমিই ভাগ্যবান। কারণ এবার আমি এমন একজনকে পেয়েছি, যে ভালোবাসার বদলে ভালোবাসাই দিয়েছে।"

তানিয়া ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।

বিদায় নেওয়ার আগে বলল,

"তুমি সুখে থেকো। এটাই আমার শেষ প্রার্থনা।"

সে চলে গেল।

আরিফ জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

আকাশে সূর্য ডুবছে।

একটা সময় সে ভাবত, তানিয়াকে ছাড়া তার জীবন অন্ধকার হয়ে যাবে।

আজ সে বুঝেছে, অন্ধকার কখনো স্থায়ী হয় না।

মিথ্যে ভালোবাসা মানুষকে ভেঙে দেয়, কিন্তু সত্যিকারের শিক্ষা দিয়ে যায়।

আর যে মানুষ সেই শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়ায়, শেষ পর্যন্ত জয় তারই হয়।

অনুগল্প: #মিথ্যা_ভালোবাসা।

Address

Barishal

Telephone

+8801942111750

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when RoZa's Gallery - ツ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to RoZa's Gallery - ツ:

Shortcuts

  • Want your establishment to be the top-listed Arts & Entertainment?

Share