05/08/2026
পৃথিবীর সকল ফেরাউনের বিপরীতে খোদা তৈরি করে রাখে মূসা। গত বছর এইদিনে এমনই এক ফেরাউনের পতন দেখতে, তার জুলুমবাজ শাসন ব্যবস্থার বাক্সে শেষ ফেরাক ঠুকে দিতে দলে দলে আবাবিল পাখির মত লং মার্চের ডাকে রাজ পথে নেমে এসেছিল বাংলাদেশের স্বর্বস্তরের আপামর জনতা। শত-শত মূসা।
শত শত তরুণ, তরুণী, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে রাজপথে, বন্দুকের সামনে অকুতোভয় বুক পেতে দিয়েছে, তা ভুলে যাওয়ার নয়। স্বাধীনতা শব্দটা কত মহৎ, কতো অগ্নিগিরির পথ অতিক্রম করার পর স্বাধীনতাকে ছোঁয়া যায় তা জুলাই না আসলে উপলব্ধি করতে পারতাম না।
একাত্তোর নিয়ে কবি শামসুর রহমান লিখেছিল, "হে স্বাধীনতা, তুমি আসবে বলে ছাঁই হলো গ্রামের পর গ্রাম"
জুলাইয়ের এই স্বাধীনতার মুখ দেখার জন্যেও আমাদের ঝরাতে হয়েছে ১৪০০ এরও বেশী প্রাণ। কত তরতাজা ফুল ঝরে গেল, হায়।
এই স্বাধীনতার কতটুকু সুফল পেয়েছি সেটি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। তবে জুলাই আমাদের যা দিয়েছে তা হলো প্রশ্ন করার সক্ষমতা, রাষ্ট্র যন্ত্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিৎকার করার শক্তি, এবং স্বাধীনভাবে সব অন্যায়ের প্রতিবাদ ও সমালোচনা করার অধিকার।
আজকের দিনে সম্মানের সাথে স্মরণ করতেছি আমাদের সে বিপ্লবী বন্ধুদের যাদের দূর্দম সাহস আর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ২৪ এর স্বাধীনতা এসেছে।
' মুক্তির মন্দির সোপান তলে, কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রুজলে' তোমাদের নাম, তোমাদের ত্যাগ আজীবন অশ্রুজলে লেখা থাকবে আমাদের হৃদয়ে।
২৪ এর ইনসাফের লড়াইয়ে যারা শহীদ হয়েছে তাদের সবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, যারা আন্দোলন শেষে কালের গহব্বরে হারিয়ে গেছে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, যারা চোখ হারিয়েছে, আহত হয়েছে, তাদের সবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
এ দেশ, এই জাতি, আপনাদের এই ত্যাগের কী প্রতিদান দিবে জানিনা। যদি না-ও দেয়, প্রার্থনা করি খোদা যেন আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন।
ফ্যাসিবাদের পতন ও ৩৬ জুলাই এর স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
লেখা | আরিফ হুসাইন
আঁকিয়ে | সজীব