23/01/2026
আলোকিত মানুষ চাই, তিনি বলতেন ‘শেখ হাসিনা’র ‘সুসময়ে’, ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ চালাতেন। এখন স্যার জ্বলেন না, কেন? ঝুঁকি নিতে চান না। শিক্ষা, সংস্কৃতি ধ্বসে জাতির ক্রান্তি লগ্নে তিনি চুপ। বোঝা যায় কে আলোকিত, কে সুবিধাবাদী!
শিক্ষক হতে হলে নৈতিকতা সহ সকল বিষয়ে 💯তে 💯 পাওয়ার যোগ্যতা লাগে। এ কথা সাঈদ স্যারের জানা উচিৎ ছিলো ঢাকা কলেজে বাংলার শিক্ষক হবার আগেই। গত কমপক্ষে ৪৫ বছর ধরে একজন অনৈতিক শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বাংলার শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করেছেন। তাঁকে অবসরে যাবার বিনীত অনুরোধ করছি।
মনে পড়ছে ‘৮৭ থেকে ‘৮৯ সালের মধ্যে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ৩ দিন ব্যাপী উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসর। প্রতিদিন থাকতো বরেণ্য শিক্ষকদের রাগভিত্তিক পরিবেশনা। ফুরিয়ে গেলো কেনো? কেন বুলবুল একাডেমি বিক্রি হয়ে যায়? কেন ‘বাফা’ ভাড়াটেদের অর্থ আয়ের উৎস হবে? প্রশ্ন উঠতে পারে; বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কি হবে?
তিনি তাঁর সকল দায়িত্ব ‘ছায়ানট’ এবং ‘উদীচী’কে বুঝিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। বাঙালি জাতি পথ খুঁজে নেবে। কারণ শিক্ষক হতে হলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে বাকচাতুর্য নয়, নৈতিকতা, নৈতিক শিক্ষা দরকার সবার আগে। আমার জানামতে ‘ছায়ানট’ এবং ‘উদীচী’ সেই মানের প্রতিষ্ঠান, যারা গড়েছেন লায়েকা বশীর এর মতো শিক্ষক। তাই ধর্মান্ধরা আঘাত হেনেছিলো মানুষ গড়ার আদর্শ এ দু’টি প্রতিষ্ঠানে। এবং শেষে আঘাত এলো এ শিক্ষকের মেধা-মনন বিকাশের পথ বন্ধ করে দিয়ে। প্রথমটি ছিলো মব সন্ত্রাস, দ্বিতীয়টি ব্যার্থ সরকার এবং ধর্মান্ধ শিক্ষা বিভাগের ব্যার্থতা।
অধ্যাপক লায়েকা বশীর প্রশ্নে সারা দেশ যখন উত্তাল, তখন কোথায় শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ? কোথায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র? উত্তর জানতে চাই। কেউ বলতে পারেন তিনি একা কি করবেন, আমি বলবো দেশবরেণ্যে শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ, শিক্ষক ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়, অধ্যাপক অজয় রায়, অধ্যাপক জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আবুল বারাকাত, দেশবরেণ্য নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা নাট্যজন মামুনুর রশীদ কি প্রতিবাদ করেন নি? সে সময় কোথায় ছিলেন সাইদ স্যার? তাঁর বিরুদ্ধে আমি কি প্রথম লিখছি? শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একসময় বাংলাদেশে অনেকের জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তবে তিনি তা কাজে লাগিয়ে চট জলদি সরে পড়েছেন। এখন কি আড়াল থেকে তামাশা দেখছেন!?
বাংলাদেশে শিক্ষা, সংস্কৃতির মান ‘০’ থেকেও অনেক নীচে নেমেছে বলে মনে করি। আর শিক্ষকের মান? সে না হয় আপনারা বলুন? বাংলাদেশে বোরখাধারী মেয়েরা নকল করে, প্রক্সি দিয়ে নাকি সেরা ছাত্রী। আর বোরখায় মুখ ঢাকলেও ম্যাডামকে খুব সুন্দর বলে মার্কস বাড়িতে নেয়া ছাত্ররা নাকি সেরা। ওদের নামে জয়জয়কার। সারা বছর শ্রম দিয়ে, নিজ প্রতিভায় উজ্জ্বল হয়েও মেধা তালিকার তলানীতে মানবতার শিক্ষার্থীরা। না, এ বিপর্যয় মেনে নিতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়ার ভাষায় এটি সংঘটিত অপরাধ। এর বিচার প্রত্যাশা করছে বাঙালি জাতি।
এক বন্ধু বলেছেন; ❝উনি ভালো মানুষ কিন্তু ভালো জাতের না।❞ বন্ধুটিকে বলেছি; ভালোমানুষ হবার প্রথম শর্ত হওয়া উচিৎ ভালো জাতের হওয়া, নইলে মানুষ তাদের ভন্ড বলে, সাবধানে দুরে থাকে। একজন শিক্ষকের উচিৎ নয় এ রকম চরিত্র নিয়ে শিক্ষক হওয়া। শিক্ষক হতে হলে নৈতিকতা সহ সকল বিষয়ে 💯তে 💯 পাওয়ার যোগ্যতা লাগে। এ কথা সাঈদ স্যারের জানা উচিৎ ছিলো ঢাকা কলেজে বাংলার শিক্ষক হবার আগেই।
অধ্যাপক লায়েকা বশীরের মত আদর্শ শিক্ষক এর প্রতি অবিচারের দাবী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর মুখে শুনতে চেয়েছি। গত দু’বছরে সবকিছু জ্বলেপুড়ে শেষ। বঙ্গবন্ধু্, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, ঢাবি, চবি, সাবি সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠা্ন শেষ। শেষ হলো চারুকলা অনুষদ, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, ধানমন্ডি ৩২ সহ সকল শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রগুলো। গুঁড়িয়ে দেয়া হলো পুরো দেশের শিল্পাঙ্গনগুলো। প্রথমে লুট করে, পরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো শ্রমিকদেরের আয়ের উৎস ওই কল কারখানা।
পুড়লো ছায়ানট, উদীচী, সহ গোটা বাংলাদেশ। প্রতিবাদ করাতো দুরের কথা, তার টিকিটিও দেখিনি। লায়েকা বশীর একজন আদর্শ মানবই নন। গুণী বাবার মতই সকলগুনে গুনান্বিতা একজন দেশসেবী। তাঁর বাবা ছিলেন কথা সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ, অনুবাদক, এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহা পরিচালক। জন্মেছিলেন ভারতের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে। বাংলাদেশকে ভালোবেসে চলে এসেছিলেন। এই কি তার প্রতিদান?
তাঁর কন্যা লায়েকা বশীর একাধারে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষক, UAP বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক, একজন সমাজ বিজ্ঞানী, সফল নাট্যকর্মী, সংগঠক, নারীদের এগিয়ে দেবার বিষয়ে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ যাঁর, তাঁর প্রয়োজনে নেই শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এ আমাকে অবাক করেনি, কারণ তাঁকে সামনে থেকে দেখেছি কি করে স্বার্থবাজ হতে হয়। এ বিষয়ে জাতির জানা দরকার, আগামীতে লেখার ইচ্ছে রইলো। তবে তার আগেই সাঈদ স্যারের পেটোয়া বাহিনী আমার বলার বা লেখার শক্তি থামিয়ে দিলেও আমি অবাক হবো না।
লায়েকা বশীর সম্প্রতি অন্যায় ভাবে বহিস্কৃত হয়েছেন শিক্ষক পদ থেকে। হেনস্তা হয়েছেন, হেনস্তা করেছে তাঁরই ধর্মান্ধ শিক্ষার্থী ফাহমিদা তাবাসসুম, সহ UAP বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবাদী মহল। দেশের সরকারী শিক্ষা বিভাগ নিরব, শিক্ষা বিষয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এতো কথা বলেন, আমি জানতে চাই তিনি কবে মুখ খুলবেন? খুব বেশী হারাতে হবে তাঁকে? বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র কি একটি রাজাকারের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেনি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র কি জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা নয়? জামাত, শিবির, মৌলবাদীদের আখড়া নয়? কি জবাব দেবেন তিনি??
অনলাইনে একটি শব্দেও তাকে পেলাম না। যতবার নাম খুঁজেছি আবদুল্লাহ নামের এক জঙ্গি সন্ত্রাসীর কথা বা লেখা ছবি ভেসে উঠেছে। না শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কোথাও নেই। অতীতেও তাই হয়েছে। তবে সবকিছু স্বাভাবিক হবার পরে তিনি আবারো গল্পে মেতে উঠেছেন কোন শিক্ষার্থীকে নিয়ে।
দেশজুড়ে এতো কান্না, হাহাকার, মব সন্ত্রাস, হিন্দু নিধন, ঘরবাড়ী লুট আর ধ্বসের পরেও শিক্ষক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিরব কেনো? ওয়েব সাইট এখনো বলছে তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। কোন শিক্ষক সম্পর্কে কটুক্তি করতে চাই না। জানিনা, কোন মহল তাকে খুশী করার জন্য এখনো শিক্ষক বলেন? আমি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে ঘৃ… করছি।
প্রিয়জন এ আমি আমার নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতার কথা লিখছি, বলছি, মানে বলার চেষ্টা করছি। আপনারা চাইলে আরো লিখবো। বন্ধু আপনার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে ভুলবেন না। আমার প্রত্যাশা সব আঁধার পেরিয়ে, শোষণ, আঘাত সয়ে, শোক ভুলে আবার উঠে দাঁড়াবো আমরা। উঠে দাঁড়াবে বাংলার সকল শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণ কেন্দ্রগুলো। ততোদিন পর্যন্ত সকলের মিলিত প্রাণের কলরব উঠুক। একত্রিত হোক আমাদের সংহতি।
আকাশ আনোয়ার । অস্ট্রেলিয়া
#শিক্ষা #লায়েকাবশীর #আবদুল্লাহ #আবুসায়ীদ #লায়েকা