Silent Sounds

Silent Sounds I am a shadow, Who are you? I am a meadow, You too? I am a song, Who are you? I am a wrong, You too?

হজ্বের উপলব্ধি ১৩আমার হজ্ব ঠিক কখন ফরজ হয়েছিল? আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু আমি নিজে নিজে যখন হিসেব করতে বসি তখন মনে হয় ক...
11/08/2026

হজ্বের উপলব্ধি ১৩

আমার হজ্ব ঠিক কখন ফরজ হয়েছিল? আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু আমি নিজে নিজে যখন হিসেব করতে বসি তখন মনে হয় কি গাফেল আমি! অনেক আগেই বোধহয় আমার হজ্ব ফরজ হয়ে গেছিল। আমি বুঝতেই পারলাম না। 😰😰

ঘটনাটা খুলে বলি।

হজ্বের যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখন বেশ লেকচার শুনতে শুরু করলাম। শুনতে শুনতে জানতে পারলাম হজ্ব একজন মুসলিমের উপর কখন কিভাবে ফরজ হয়। তো সেই অনুযায়ী হিসেব করতে বসলাম।

ষোল হাজার টাকা বেতন দিয়ে যে চাকরি শুরু করেছিলাম সেই চাকরি একসময় খুব ভালো একটা ইনকাম ফোর্স হয়ে উঠলো। জীবনে খেয়ে পরে দায়িত্ব চিকিৎসা সামাজিকতা সেরে হাতে উদ্বৃত্ত থাকা শুরু হলো। এই সময়ের হঠাৎ অফার এলো জায়গা কেনার। হিসাব নিকাশ করে দেখা গেল কিস্তি দেয়া সম্ভব। তো জায়গায় ইনভেস্টমেন্ট শুরু হলো।

সেই ইনভেস্টমেন্ট হতে হতে মাস্টার্সে ক্লাস নেয়া শুরু করলাম। নতুন কিছু আয় যোগ হলো। সবাই পরামর্শ দিলো ডিপিএস করো। এই করতে করতে অষ্ট্রেলিয়া আসার সময় হয়ে গেল। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমতে স্কলারশিপের কারণে প্লেন ফেয়ার ছাড়া তেমন কোন বড় খরচ লাগলোই না। দেশ থেকে আসার সময় উল্টো জমানো অর্থ নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিলাম। তার উপর আছে বিয়ের গহনা।

একবারো ভাবলাম না আচ্ছা হিসেব করে দেখি আমাদের জন্য হজ্ব ফরজ হয়েছে কিনা। একবারো ভাবলাম না জীবনে যত যাই ই করি না কেন আল্লাহর ঘরে যাওয়াটাই প্রথম কাজ যখন সেটা ফরজের আওতায় চলে আসে। আর হজ্ব তো কোন খরচ নয়, সেটা ইনভেস্টমেন্ট। দুনিয়ার সেরা ইনভেস্টমেন্ট...

কেন এত গাফিলতি?

"শুধু গাফলতে শুধু খেয়ালের ভুলে দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে"

ফররুখ ঠিক বলেছেন। জ্ঞানের অভাব। বোঝার অভাব। কনভেনশনাল চিন্তা। সব কাজ শেষ করে তারপর হজ্ব করতে যাবো। বাবা শ্বশুর আনকেল আম্মা চাচী সবাই বৃদ্ধ বয়সে হজ্ব করেছেন এবং এটাই স্বাভাবিক।‌ এইসব ভাবা...

আর এইসব যখন ভাবছিলাম বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। যদি হজ্ব করার আগে মরে যেতাম? যদি আর্থিক অবস্থা অবনতি হতো? যদি অসুস্থ হয়ে যেতাম? যদি অন্য কোন বিপদ হতো?

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন। যে জীবন দুনিয়ার হাজারো কাজের মাঝে তাকে প্রায়োরিটি দিতে শিখেনি সেই জীবনকে তিনি অবারিত রহমত দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।‌ এবং অবশেষে কাবায় পৌঁছানোর নিমন্ত্রণ করেছেন। তার অথিতি করেছেন। কি করে এই শুকরিয়া আদায় করবো?

কাবার সামনে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ব্লাক আউট ছিলাম। বার বার নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিলাম আরো আগে কেনো আসিনি? কেন যে স্রষ্টাকে এক এবং অদ্বিতীয় বলে স্বীকার করে নিয়েছিলাম তার সাথে দেখা করতে এত দেরী হলো কেন? বিশ্বাসের সাথে রিকনসিলিয়েশনের জন্য কি আমার আরো আরো আগে আসা উচিত ছিলো না?

আফসোস! হৃদয় যতদিন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল কাবার সামনে দাঁড়ানোর তারিখ ঠিক করতে পারিনি। যখনই হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল শূন্যতা শূন্যতার ঘরের মাঝে নিজের অস্তিত্ব প্রতিধ্বনিত হতো প্রতি মূহুর্তে পাগল হয়ে গেলাম, কোথায় গেলে শান্তি পাই? আল্লাহর প্রয়োজন টের পেতে শুরু করলাম। অবাক হয়ে দেখলাম যে বাগান সাজাবো বলে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলাম সেই বাগান এই লহমায় ভেঙে চুরে নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে! এক মূহুর্তের ধনী আমি ভিখিরি হয়ে যেতে পারি। এক নিমিষেই সব ধূলোয় মিশে যেতে পারে!

তো কিসের জন্য এত মোহ এত আলাভোলা হয়ে থাকা?

তাহলে এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সত্যি কথা যে ভগ্ন হৃদয় তার প্রভুর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? মহান আল্লাহ আমাদের দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণায় নিমজ্জিত করেন যেন আমরা তার কাছে ফিরে আসি?

হয়তো এটাই আমার জন্য লেখা ছিল। আমি দুঃখের সাগরে ভাসতে ভাসতে আল্লাহর মেহমান হয়ে । ভিখিরি হয়ে। মিসকীন মুসাফির হয়ে তার কাছে পৌঁছাবো। তা না হলে কি করে বুঝতাম জীবনের মানে কি? জীবনে কার মুখাপেক্ষী হয়ে হয়? মানুষ ক্ষণিকের সঙী মাত্র...

আসলেই তো আমি কি? আল্লাহর সামনে একজন ভিখিরি। আমার কেউ নেই আমার কিচ্ছু নেই। আমি তুচ্ছ ক্ষুদ্র নগন্য। আর তুচ্ছ তার রক্ষাকবচ সর্বোচ্চ উচ্চতার প্রভু মহান রব। আল্লাহ তাআলা।

এই যে এত কথা লিখছি, কেন? পাঠক, হিসেব করতে পারলে হিসেবের সময় এলে এখনই হিসেবে করতে বসে পড়ুন। আপনার জন্য হজ্ব ফরজ হয়েছে কিনা! হজ্ব ফরজ হলে ওমরাহ করবেন না। ফরজ কাজ শেষ করে যত ইচ্ছে নফল করুন। আর হিসেবে করে যদি দেখেন আপনার হজ্ব ফরজ হয়নি, দোয়া করতে থাকুন। আশা করি আমার মতো গিলটি ফিলিংস এ ভুগতে হবে না: কেন এত দেরী করে ফেললাম কাবার সামনে আসতে! যদি দেরী না করতাম জীবন আরো অনেক সহজ হতো। বরকতময় হতো।

জানি না কি ভুলে হীরা ফেলে কাঁচ তুলে ভিখিরি সেজেছি আমি
আমার সেই ভুল প্রভু ভেঙে দাও।

হে আল্লাহ! আমাদের ছোট বড় সব গুনাহ মাফ করে দিন। আমীন।

উম্মে সালমা টুঅং ১২/০৭/২০২৬

হজ্বের উপলব্ধি ১২শুকরিয়া মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে। কেন? কারণ আমাদের যে দুজন কে আল্লাহ দুপরিবার দুই জায়গা দুই ...
07/08/2026

হজ্বের উপলব্ধি ১২

শুকরিয়া মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে। কেন? কারণ আমাদের যে দুজন কে আল্লাহ দুপরিবার দুই জায়গা দুই পরিবেশ থেকে এনে একসাথে করেছেন, তাদের কে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ্ব একসাথে করার তৌফিক দান করেছেন।

জীবন খুবই ঠুনকো। তারচেয়ে ও বেশি ঠুনকো মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক। জগতের কাছের কোন সম্পর্ক ই ছিন্ন করা যায় না। কিন্তু স্বামী স্ত্রীর মত সবচেয়ে কাছের সবচেয়ে নিকটবর্তী একটি সম্পর্ক খুব তাড়াতাড়ি ছিন্নভিন্ন করা যায়। শয়তান সবসময় ওৎ পেতে থাকে কখন সে ছোবল মারবে এবং সংসার ভেঙ্গে দেবে।

এইসব অতি সাধারণ বাস্তবতার নিরিখে আমাদের একসাথে বেঁচে থেকে একসাথে থেকে একসাথে হজ্ব করা মহান আল্লাহর একটি বিশেষ অনুগ্রহ। তাই যখন থেকে একসাথে হজ্ব করার জন্য নিয়ত করলাম আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতাম আল্লাহ যেন আমাদের কাউকে হজ্বের আগে নিয়ে না যান। আমরা যেন একসাথে আল্লাহর ঘর দেখতে পারি।

ব্রিজবেন থেকে রওনা দিয়ে দেশে পৌঁছে যখন তার সাথে দেখা হলো বেশ কিছুদিন পর, মন আনন্দে ভরে গেল। এরপর যখন কয়েকদিন পর একসাথে হজ্ব ক্যাম্পের দিকে রওনা দিলাম, বিশ্বাস হতে শুরু করলো যে আলহামদুলিল্লাহ আমরা একসাথে যাচ্ছি।

হজ্বের সময় স্বামী স্ত্রীর ইহরাম বাঁধা অবস্থায় সম্পর্কের অনেক রেস্ট্রিকশন আছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে এই রেস্ট্রিকশনগুলো আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বন্ধুত্বের আমেজ তৈরি করেছে। নানা সমস্যার মুখোমুখি এবং কাফেলার নানা রকম সকমের জন্য পুরো সফরে মাঝে মধ্যে আমাদের মধ্য মনোমালিন্য হয়নি তা নয়। মনোমালিন্য হয়েছে। রাগারাগি হয়েছে। কথাকাটাকাটি হয়েছে। অনেক সময় উনি নিজের মতো ইবাদত করেছেন। অনেক সময় আমি আমার মতো।

কিন্তু তারপরও আমার মনে হয়েছে মক্কা এবং আল্লাহর ঘর এমন একটি স্থান যেখানে আমি তাকে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ববান সবচেয়ে বেশি কেয়ারিং সবচেয়ে বেশি অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি। যেমন আমরা যখন একসাথে তাওয়াফ করেছি, উনি আমার দুপাশে হাত দিয়ে আমাকে ধাক্কা খাওয়া থেকে বাঁচাতেন। আমার পায়ে ফোস্কার সময় আমাকে হুইলচেয়ারে সায়ী করিয়েছেন। মুজদালিফায় খোলা ময়দানে আমার পাশে ঘুমিয়ে আমাকে সবার একসাথে শুয়ে পড়ার যে অস্বস্তি সেখান থেকে রক্ষা করেছেন। মুজদালিফাতে থেকে জামারাহ যেতে প্রচন্ড ভীড়ে আমার পায়ের অসুস্থতা কারণে আমি যে আস্তে আস্তে হাঁটছিলাম তখন আমার সাথে সাথে থেকেছেন। আমার ব্যাগসহ নিজের ব্যাগ ক্যারি করেছেন। আমরা একসাথে জাবালে রহমতে উঠেছি। আরাফাহ্ র দিনে একসাথে তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেছি... এরকম অনেক অনেক কিছু।‌

আমার পুরো হজ্বের কার্যক্রম দেখে মনে হয়েছে হজ্ব একজন মুসলিম পুরুষকে সত্যিকারের পুরুষ হবার ট্রেনিং দেয়। কুরআনের যে তাকে "কাউয়াম" হিসেবে বলা হয়েছে এই ট্রেনিংয়ের একটা বড় অংশ এই হজ্ব থেকে আসে।

আমার আরো মনে হয়েছে ফ্রাংলি স্পিকিং আমি জীবনে পাবলিক প্লেসে তাকে এত টাচ করিনি যতটা পুরো সফরে করেছি। তাওয়াফ শেষ করে যখন ফিরতাম গভীর রাত হয়ে যেতো। আমরা হেঁটে হেঁটে হোটেলে আসতাম। আমার পায়ের ফোস্কার জন্য নরমালি পা ফেলতে পারতাম না পুরো পথ আমি তার বাহু ধরে থাকতাম। একসাথে তাওয়াফ করার সময় তার দুপাশে থাকা হাত ধরে থাকতাম। মুজদালিফা থেকে জামারাহ যাওয়ার পথে প্রচন্ড ভীড়ে যখন আমার হারিয়ে যাবার জোগাড় সে পেছন থেকে এসে আমাকে খুঁজে নিয়ে আবার দলভুক্ত করলো। আরাফাহ্ দিনে প্রচন্ড গরমে আমার যখন ভীষণ খারাপ লাগছিলো তখন আমাকে সেবা শুশ্রূষা করে করে পুরো পথ পাড়ি দিয়ে তাঁবুতে নিয়ে এসেছে...

আমরা পুরো সফরে ইসলামী ইতিহাসের কত ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি। জাবালে রহমতে যখন উঠছিলাম দুজনের চোখ জলে ভিজে গেছে এই ভেবে যে, হয়তো এই জায়গায় ওমর ফারুক রাদিআল্লাহু আনহু বসেছিলেন। হয়তো এখান দিয়ে আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু আনহু হেঁটে গেছেন...কেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক মেয়েদের জন্য রেস্ট্রিকশন দিয়ে রাখা তা নিয়ে তর্ক করেছি...

স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক আল্লাহ প্রদত্ত। একদিন খুব মন খারাপের দিনে মসজিদে নববীতে বসে কুরআন তেলাওয়াত করছিলাম। সূরা রুম। ২১ নম্বর আয়াতে এসে কয়েকটি তাফসির পড়ছিলাম। শুধু একথা বুঝতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে কি নিদর্শন রেখেছেন। আল্লাহ "মাওয়াদ্দা" আর "রাহমা" শব্দযুগল দিয়ে কি মিন করেছেন।

আমাদের পিতা আদম আঃ যখন একা ছিলেন খোদ বেহেশতে, তার একটা সময় ভালো লাগতো না। একা একা লাগতো। আল্লাহ তখন আমাদের মাতা হাওয়া আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সৃষ্টি করলেন তার শরীরের অংশ থেকে। কেন? যেন তাদের মধ্যে ভালোবাসা এবং রহমত সৃষ্টি হয়। আদমের সন্তানদের হয়তো একজনের থেকে একজনের সৃষ্টির সুযোগ নেই কিন্তু তাদের দেখা করানো, একসাথে করানো, এবং বিয়ের মাধ্যমে চুক্তিতে আবদ্ধ হোয়া সবকিছু আল্লাহর নির্দশন। কে কোথায় থাকে হয়ত পরিচিত হয়ত অপরিচিত তারপর জীবন কে একগ্রন্থিতে বেঁধে ফেলা এটা কি আল্লাহর নিদর্শন নয়?

তাই বিয়েটা হলো প্রথমে আল্লাহর সাথে চুক্তি। তারপর পরস্পরের সাথে। এই সিমপল কথাটা আমরা বুঝতে পারি না বলে হাজার হাজার স্বামী স্ত্রীকে অবহেলা, অবজ্ঞা, অপমান, নির্যাতন, নিপীড়ন করে। কত শত শত স্ত্রী স্বামীকে কষ্ট দেয় অপমান অপদস্থ করে। আমরা বুঝতে পারি না আমরা আসলে আল্লাহর সাথে চুক্তি ভঙ্গ করছি। তার অবমাননা করছি। আর তারপরে আসে বান্দার হক... যে হক নষ্ট করলে কান্তার এলাকায় যে সে দাঁড়িয়ে থাকবে তখন কোথায় যাবেন?

এইসব ভাবছিলাম আর দুহাত তুলে মোনাজাত করছিলাম যেন দুনিয়া এবং আখিরাতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের একসাথে থাকার তৌফিক দান করুন। যেভাবে কাবার সামনে আমরা একসাথে হয়েছি তার চেয়েও উত্তম ভাবে আমরা যেন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে পারি। আমরা দুজন যেন সেই সৌভাগ্যবান দম্পতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যাদের সব হিসাব নিকাশ শেষ হবার পর দেখা হবে আর তাদের দুজন দুজনের চোখে এমন সুন্দর হয়ে উঠবে যে এক পলকে চল্লিশ বছর কেটে যাবে। আমীন ইয়া রব।

তাই আমি আমার পাঠকদের পরামর্শ দেব স্বামী স্ত্রী একসাথে হজ্ব করুন। হজ্ব একে অপরের কাছে আসার এক সীমাহীন সুযোগ। যৌনতা বিবর্জিত একটি সময়ে আপনারা সত্যিকারভাবে একে অপরকে বোঝার জানার সুযোগ পাবেন। যাবার আগে যে বিষয়গুলো আপনাদের মাঝে গ্যাপ তৈরি করেছে সেগুলো নিয়ে কথা বলুন। দুজনে বোঝাপড়া করুন। নিয়ত করুন দোয়া করুন হজ্ব থেকে ফিরে এর আগের পারস্পরিক দায়িত্বহীনতা হক নষ্ট কষ্ট দেয়া হতে বিরত থেকে নতুন এক জীবন শুরু করবেন।

আমি এসবের কতটুকু করতে পেরেছি জানিনা এবং কতটুকু করার তৌফিক কখন পাবো তাও জানি না। তবে আমার হজ্বের একটি মূল্যবান উপলব্ধি হলো, আল্লাহ মাহরাম নিয়ে হজ্ব করার যে বিধান দিয়েছেন এবং সেই মাহরাম যদি আমাদের মহিলাদের জন্য স্বামী হয় এবং দুজনে নিয়ত করেন যে পুরো সময়টাতে আপনারা একে অপরের সহযোগী হবেন, তাহলে আপনার সেই হজ্ব যাত্রা অনন্য মহিমায় সমুজ্জল হবে। আর ভাইয়েরা হজ্বের নিয়ত করার সময় অবশ্যই আপনার স্ত্রীকে লিষ্টের এক নম্বরে রাখবেন। তাকে আপনি জীবনে হয়তো অনেক অনেক গিফট দিয়েছেন। কিন্তু আপনি আপনার সাথে তাকে হজ্বে নিয়ে যাচ্ছেন তার অভিভাবক হিসেবে তার তত্ত্বাবধান করছেন এটা হবে তাকে দেয়া আপনার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গিফট।

উম্মে সালমা, ৭/৭/২০২৬, টুঅং

04/08/2026

হজ্বের উপলব্ধি ১১

হজ্ব শেষ করে আমরা প্রিয় মদীনায় যাই। তাও মাত্র তিনদিনের জন্য। শর্ট প্যাকেজে এর চেয়ে বেশি সম্ভব ছিলো না। মদীনায় মসজিদে নববীতে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার যে ইচ্ছে ছিল তা না করতে পারার দুঃখ চাপা দিয়েই মদীনায় তিন দিন শুরু হলো।

হজ্ব শেষ করে যেহেতু মদীনায় যাওয়া তাই অনেক অনেক বেশি ক্লান্ত ছিলাম আমরা সবাই। খুব ইচ্ছে ছিলো পৌঁছে একটু ফ্রেশ হয়ে মসজিদে নববীতে যাবো। কিন্তু পুরুষরা পৌঁছেই যোহরের আজান শুনে তাড়াহুড়ো করে চলে গেলেন - আমার ফ্রেশো হওয়া হলো না সময়মতো। লাগেজ আমার পতি সাহেবের কাছে। তাই রুমেই অজু করে নামায আদায় করে শুয়ে রইলাম।

মনটা প্রচন্ড খারাপ লাগছিল। এমনিতেই পায়ের ফোস্কাগুলোর ব্যথা তার উপর কাপড় চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে মসজিদে নববীতে যেতে পারলে ভালো হতো ভেবে কান্না পাচ্ছিল। নিজের উপর বিরক্ত হচ্ছিলাম যে একটা লাগেজ না এনে দুজনের দুটো আনলে ভালো হতো। কেউ কারো উপর নির্ভরশীল হতে হতো না। কেউ কারো জন্য অপেক্ষা করতেও হতো না।

যাই হোক সবশেষে করে খেয়ে দেয়ে মসজিদে নববীতে গেলাম বিকেলে। আসরের নামাজ পড়তে। মসজিদে নববীতে ঢুকছি আর কি অভূতপূর্ব মন ভালোলাগায় ভরে যাচ্ছিল। এতদিন যে ছায়াদানকারী ছাতাগুলো টিভিতে দেখতাম তা আমার মাথার উপর। সবুজ ডোমের নীচে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শায়িত। তারপাশে ওমর ফারুক এবং আবুবকর রাদিআল্লাহু আনহু। চারপাশ এক তীব্র পিপাসা নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম। বাইরে প্রচন্ড গরম এবং রোদ। নামাজ শেষ করে কতক্ষন সেখানে বসে ছিলাম। ভেবেছিলাম মাগরিব পর্যন্ত রয়ে যাবো।

কিন্তু মদীনায় সবচেয়ে বড় সময় হলো আসর থেকে মাগরিব। আর এত গরম বাইরে। তাই আবার হোটেলে ফিরে এসে রেষ্ট নিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়তে আবার চলে গেলাম।

আমাদের হোটেল থেকে মসজিদে নববীর ৩১০ নম্বর গেট একদম কাছে। পাঁচ থেকে সাত মিনিট লাগে যেতে। যাওয়ার পথও সহজ। সুন্দর। ভালো লাগে হাঁটতে। আরো ভালো লাগে মসজিদে নববীর বিশাল আঙিনায় হেঁটে বেড়াতে।

মাগরিবের নামাজের পর আমি দলছুট হয়ে গেলাম। অন্যরা মসজিদে কুবা দেখতে চলে গেলেন। আমি নববীতে রয়ে গেলাম। কাউকে না পেয়ে একা একা মসজিদ এক্সপ্লোর করার ডিসিশন নিলাম। কি যে অসাধারণ সুন্দর এই মসজিদ। এই দরজা ও দরজা ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে ইশার সময় হয়ে গেল। এক সিস্টারের সাথে পরিচয় হলো। আমি হজ্ব করছি শুনে জড়িয়ে ধরলেন এবং অনেক অভিনন্দন জানালেন।

এই এক দৃশ্য হজ্ব সম্পাদন করাকে তাঁরা একটা খুব বড় একটা achievement মনে করে। খুব আশ্চর্য লাগে। জীবনে কত এচিভমেনটের কথা আমরা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। কত কত এচিভমেনটের পেছনে দৌড়েছি এখনো দৌড়াচ্ছি। কিন্তু হজ্ব যে একটা achievement, এটা কি কেউ বলেছে? কেউ এর পেছনে দৌড়াতে উৎসাহিত করেছে? কেউ কি করে? বাংলাদেশের মানুষের কাছে হজ্ব শেষ কাজ। জীবনের সবকিছু শেষ করে হজ্ব করতে যায় এবং ঐসব শেষ করার আগে হজ্ব ফরজ হলেও শুধু সেগুলো শেষ করতে হবে এই উসিলায় হজ্ব পেছাতে থাকে... পেছাতে থাকে...

এখন এইসব অনেক চেন্জ হচ্ছে কিন্তু আমি এরকম দেখেই বড় হয়েছি। তাই আরো আগে হজ্ব করার কথা ভাবতেও পারিনি। ভাবিনি।আফসোস!

যাইহোক সেই বোন আমাকে বললেন, নামায শেষে ৩২ নম্বর গেটে চলে যেতে। মদীনা তখন বেশ শুনশান। বেশির ভাগ হজ্ব কাফেলা এখনো মক্কায়। তো মহিলাদের এইজন্য সুযোগ দেয়া হয়, প্রিয় নবীজির রওজা মোবারকর কাছে রিয়াজুল জান্নাতে দুরাকাত নামাজ পড়তে।

আমি চলে গেলাম সেখানে। গিয়ে দেখি মহিলাদের লাইন। দাঁড়িয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের ঢুকিয়ে দেয়া হলো গেইট দিয়ে। মহিলারা দৌড়ানো শুরু করলেন। কে কার আগে যাবে। অনেকেই ভীষণ কাঁদছিল। তারপর নামাযের পালা।

সাদা পর্দা দিয়ে ঘেরা প্রিয় নবীজির রওজা মোবারক। গিয়ে নবীজীকে সালাম দিলাম সবাই যেভাবে দেয়। তারপর নামাজ মোনাজাত শেষে বেরিয়ে এলাম। সময় খুব সংক্ষিপ্ত ছিলো। একবোন আমার কয়েকটি ছবি তুলে দিলেন এসব জায়গায় যেগুলো একসময় খেজুরের খুঁটি ছিল।

জীবনে অনেক গুলো অসাধারন ঘটনা পরপর ঘটেছিল। মাথাটা সম্পূর্ণ ব্লাক ছিল। ভাবতে পারছিলাম না কতগুলো অসাধারণ সময় কাটাচ্ছি...

পেছনে ফিরে এখন যখন দেখি মনে হয় আবার চলে যেতে। একটা বাচ্চা যেমন একটি চকোলেট তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে আমি যেন মসজিদে নববীর দিনগুলো তারিয়ে তারিয়ে অনুভব করতে পারি। আমি মসজিদে নববীতে নবীর জীবনীময় সময় কাটাতে চাই। আমি চাই আমি সেই আঙিনায় বসে নবীর জীবনী পড়বো, মদীনার প্রতিটি ধূলোতে প্রিয় নবীর পদচিহ্ন অনুভব করবো। মদীনার ধূলো হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করবো।

আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন।

উম্মে সালমা, টুঅং, ০৪/০৮/২০২৬

Umme Sayma G.m. Wali Ullah Zarin Subah Nahin

27/07/2026

যুদ্ধের দিনের ইতিবৃত্ত

এখন আমি ভালোবাসার কষ্ট বুঝি
এখন আমি কষ্টের ভালোবাসা সাজি
একলা আমি পাগল পাগল কান্না নিয়ে
রাত গভীরতর গভীরতম রাত্রি জাগি

ঘর জানালা নিত্যদিনের অভ্যাস মতো
খুব সকালে কুয়াশা দিনে দিই যে খুলে
টেবিল মুছি কাপড় চোপড় নিই গুছিয়ে
এটা সেটা ঝেড়ে মুছে বেশ রাখি তুলে

কার জন্য? এই প্রশ্ন করা ছেড়ে দিয়ে
ভালোলাগার কুঁড়ি গুলো যাই ফুটিয়ে
আবার কখন দেখা হবে এই আমাদের
সেই অপেক্ষায় সময়গুলো দিই লুটিয়ে

আমি হাঁটি হাঁটি হাঁটি এক'পা দু'পা
ঐ দেখা যায় বন্দরের শেষ বাতিটা
আরেকটু পথ এগিয়ে গেলে সমাপ্ত হবে
আকাশসম ঢেউয়ের দিন শেষ রাতিটা

এই আশা এই দোয়া এই মোনাজাত
দুঃসাহসী নাবিক আমার শক্ত দু' হাত।

উম্মে সালমা, ২৬/০৭/২০২৬, টুঅং

27/07/2026

দৈনন্দিন

এইসব ছোটখাটো দুঃখ পকেটে পুরে
এইসব বিন্দু বিন্দু সুখ ঝোলাতে ভরে
আমি অহনির্শ হেঁটে যাই

আমি জীবন
আমার অপার্থিব নাম
ধরে প্রতিদিন তোমরা ডাকো
বলতে থাকো তোমাদের গল্প
একদিন এমন হয়েছিল...

গল্পের রাত বেড়ে যায়
আমি হেঁটে যাই
আমার দুহাতে গভীর শোক
আমার দুপায়ে জীবনের ভার
অশ্রুর পাশে হাসি
হাসির বাক্সে কান্না

জীবন... আমার অপার্থিব নাম।

উম্মে সালমা, ২৬/০৭/২০২৬, টুঅং

23/07/2026

আবদ্ধ মানুষ

কে যেন হায় ভালোবাসার জন্য
মানুষের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিলো
কে যেন হায় ভালোবাসার জন্য
মিসকীন মুসাফির হয়ে গাঁয়ে গাঁয়ে
ঘুরে ঘুরে ফিরলো?

সে কেন হায় জানলোই না
ভালোবাসার মূল ঝোলাটা
কাবার মালিকের হাতে নিবন্ধ
যে কোন সম্পর্কের নদী
তার মধ্য দিয়ে বইতে হয়
উৎসবের রাতের জরি ফোয়ারার মতো
আনন্দের রাতের আতশবাজির মতো
মালিকের ভালোবাসা ঝিলমিল ঝরতে হয়

হে সালামাহ! এই সব না বুঝতে বুঝতে
কি করে তুমি এক জীবন পার করে দিলে?

উম্মে সালমা, টুঅং, ২৪/০৮/২০২৬

23/07/2026

বেদুইন জীবন

আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো
যেখানে দাড়াচ্ছি সেখানটায় সমুদ্রের ঢেউ ধুয়ে যাওয়া বালির মতো সরে যাচ্ছে
গর্তে ঢুকে যাচ্ছে পা
কেঁপে কেঁপে উঠছে শরীর
হাত বাড়িয়ে দেখছি চারপাশে কেউ কি আছে
দ্রুত সরীয়মান বালির গহন হতে আমাকে উদ্ধার করে?

উম্মে সালমা টুঅং ২৩/০৭/২০২৬

21/07/2026

আমি জানি না
আমি কে?
তাই নিরন্তর খুঁজতে থাকি

আমি জানি না
আমি কি
তাই নিরন্তর খুঁজতে থাকি

আমি জানি না
আমি কোথা হতে এসেছি
তাই নিরন্তর খুঁজতে থাকি

কি খুঁজতে থাকি?

কিছু হাত
সহমর্মী কাঁধ
পূর্ণ মনোযোগ

ভালোবাসা
মায়া
মমতা
আনন্দ
প্রেরণা
প্রেম

মানুষের কাছে
প্রিয় মানুষদের কাছে

কিন্তু
মানুষতো...
মানুষতো মানুষের মতো করে ভালোবাসে
রাগ
ক্ষোভ
অভিমান
অভিযোগ
ঘৃণা
প্রবঞ্চনা
প্রতিশোধ
জিঘাংসা
দুধের ভিতরে কালো ময়লার মতো সাঁতরাতে থাকে

মানুষতো মানুষের মতো করে ভালোবাসে
এ ওকে ও ওকে স্মরণ করিয়ে দিতে দিতে
কে কার চেয়ে বেশি দিয়েছে
কিংবা পেতে হলে দিতে হয়
কিংবা দিবো যদি দাও

নিঃস্বার্থের অসীম আকাশ ছোট হয়ে আসে
রহমতের অবারিত হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে ওঠে
ভ্রাতৃত্বের আদি নিবাস নড়বড়ে হয়ে যায়

শংকার মতো যন্ত্রণা ঝরিয়ে দেয় শান্ত শীতলতা যেমন শীত এলে পাতা ঝরে
হিমাংকের নীচে গিয়ে তাপমাত্রা মাইনাস হয়

ঠিক এই সময়
ঠিক সেই সময়ে
কোথাও উষ্ণতা নেই
কোথাও উষ্ণতা থাকে না
কাবার মালিকর আশ্রয় ছাড়া
যিনি ডেকে ডেকে বলেন,
আমি আছি
তোমার প্রভু
কন্ঠনালীর চেয়েও অনেক নিকটে
সেই উটহারা বেদুইনের চেয়েও অধিক খুশিতে যখন তুমি আমাকে খুঁজে পাও কালবের ভেতর।

"অপার্থিব"

উম্মে সালমা, টুঅং, ২১/০৭/২০২৬

14/07/2026

হারাম শরীফ আর মসজিদে নববীতে গেলেই মনে হয় দুনিয়া আর আমাকে স্পর্শ করে না!

Address

4/8 Augustus Street Toowong
Brisbane, QLD
4066

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Silent Sounds posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Silent Sounds:

Shortcuts

Share

Category