11/10/2026
পার্থক্যটা আসলে অন্য বিষয়ে!!
মিশরের সাইয়্যেদ কুতুব (রহঃ) কে জেলখানার মাঝে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এমনকি এখনো কেউ বলতে পারবে না, তাঁর কবর কোথায় অবস্থিত!
যেদিন সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) কে হত্যা করা হলো, সেদিন মিশরের পথে পথে তাঁর রচিত তাফসির 'ফি যিলালিল কুরআন' -এর সাত অথবা আট হাজার সেট অর্থাৎ চৌষট্টি হাজার পুস্তক পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো।
রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছিলো, যার কাছে সাইয়্যেদ কুতুবের (রহ.) গ্রন্থ পাওয়া যাবে, তাকে দশ বছর জেলে রাখা হবে। সাইয়্যেদ কুতুবের গ্রন্থগুলো জাদুর মতো। যে পাঠ করে, সেই তাঁর অনুসারী হয়ে যায়!
তাঁর শাহাদাতের ঘটনা পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন দেশের বেতারে সম্প্রচারিত হলে সবার মনে একটি প্রশ্ন উঁকি দিলো, এই ব্যক্তি কে? কেনো তাকে ফাঁসি দেওয়া হলো? সেই তাফসীর গ্রন্থটি কেমন, যার কারণে তাকে ফাঁসি দেয়া হলো?
তখন বৈরুতের প্রকাশকেরা প্রকাশনা জগতে, কোনো খ্রিস্টান লোকসান খেলে, তাকে বলতো,"তুমি যদি বাঁচতে চাও তাহলে সাইয়্যেদ কুতুবের 'ফি যিলালিল কুরআন' ছাপাও।"
হ্যাঁ, যে বছর সাইয়্যেদ কুতুবকে ফাঁসি দেওয়া হলো সে বছরই তার তাফসির গ্রন্থটির সপ্তম সংস্করণ ছাপা হলো। অথচ তাঁর জীবদ্দশায় মাত্র একবার ছাপানো হয়েছিলো।
আর এখন তো অবস্থা এমন যে, পৃথিবীর এমন কোনো প্রান্ত পাওয়া যাবে না, যেখানে সাইয়্যেদ কুতুবের এই তাফসিরগ্রন্থ গিয়ে পৌঁছে নি। এমন কোনো ভাষাও পাওয়া যাবে না, যে ভাষায় তা অনূদিত হয়নি।
★★
ফাঁসির আগের রাতে সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) কে কালেমা পড়ানোর জন্য জেলের ইমামকে পাঠানো হলো।
জেলের ইমাম এসে সাইয়্যেদ কুতুবকে কালেমা পড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলেন।
তাকে দেখে সাইয়্যেদ কুতুব জিজ্ঞেস করলেন,
"আপনি কী জন্য এখানে এসেছেন?"
ইমাম বললেন,"আমি আপনাকে কালেমা পড়াতে এসেছি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে আসামীকে কালেমা পড়ানো আমার দায়িত্ব।"
সাইয়্যেদ কুতুব বললেন,
"এই দায়িত্ব আপনাকে কে দিয়েছে?"
ইমাম বললেন,"সরকার দিয়েছে।"
সাইয়্যেদ কুতুব বললেন,
"এর বিনিময়ে কি আপনি বেতন পান?"
ইমাম বললেন,
"হ্যাঁ আমি সরকার থেকে বেতন-ভাতা পাই।"
তখন সাইয়্যেদ কুতুব (রহ.) বলেছিলেন,
"কি আশ্চর্য! যেই কালেমা পড়ানোর কারণে আপনি বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন, সেই কালেমার ব্যাখ্যা মুসলিম উম্মাহকে জানানোর অপরাধেই আমাকে আজ
ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে!"
❝আপনার কালেমা আপনার রুটি জোগায়,
আর আমার কালেমা আমাকে ফাঁসিতে ঝুলায়!❞