07/05/2026
গল্প : #বীমলার_ঘর
পর্ব : ৯ ( বীমলা'র ত্যাগ )
লেখক : #সাদনান_আল_আরাফ
❌ ( অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ) ❌
জামিল এতক্ষণ পর মুখ খুলে বলল, আম্মা তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারলে। আর তোমাকে কি দোষ দিবো। আমি নিজেই তো ইগোর বশবর্তী হয়ে। নিজের সন্তানের কথা স্ত্রীর কথা না ভেবে। আমি স্বার্থপরের মতো নিজের ইগোর কথা চিন্তা করলাম।
বীমলা হাততালি দিয়ে উঠলো। সবাই এক ধ্যানে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। একটা মেয়ে আর কত ধৈর্য ধরে থাকবে।
বীমলা বলে উঠলো, আরে আপনারা সবাই একটু শান্ত হয়ে বসেন। এতক্ষণ ধরে তো সংবাদের শিরোনাম শুনলেন। এখন সবকিছুর বিস্তারিত শুনবেন এবং দেখবেন।
শরিফ শেখ একটা সোফায় বসে ছিল। সে কিছু করতে পারতে ছিল না। বীমলা'র মুখ থেকে আগুনের লেলিহান দেখে। শরিফ শেখ তো সাত আসমান থেকে জমিনে পড়ছে।
শরিফ শেখ এক গাল হেসে বলে উঠলো, আম্মা আপনার খবরটা কি একটু তাড়াতাড়ি সম্প্রচার করবেন। আপনার একজন দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেছে যে।
শরিফ শেখের মুখে এমন কথা শুনে সবাই রেগে ফেটে পড়তে লাগলো।
খালা শাশুড়ি বলে উঠলো, বীমলা এখন কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে। তুমি কিভাবে এমনটা করতে পারো। তুমি একজন মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের সম্মান ক্ষুন্ন করবে।
বীমলা একটু দাঁড়িয়ে! জামিলা আক্তারের কাছে গিয়ে। তাঁর কাঁধটা জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো, আপনার মেয়ে আরেকজনের সংসার ভেঙ্গে দিচ্ছে। সেটা কিন্তু ঠিক আছে। আমি যখনি কারো করা পাপ গুলো প্রকাশ করতে যাচ্ছি। তখনি আমার বদনাম হয়ে গেলো।আপনাদের মনের আর জ্ঞানের গানিতিক সংযোগ বুঝতে পারলাম না।
শাশুড়ি বলে উঠলো, বীমলা তুমি ঘরে যাও। আল্লাহর ওয়াস্তে আর গন্ডগোল করো না।
বীমলা তাঁর শাশুড়ির কথার উওর না দিয়ে। সে আরিফ'কে সবকিছু রেডি করতে বললো।
সবাই বীমলা'র হাতে পায়ে ধরতেছে। কিন্তু সে তাঁর সিদ্ধান্তের উপর অটুট। সে সবকিছু রেডি করিয়ে। একটা সোফায় বসে পরে। তাঁর পাশেই বসে আছে রুশো আর শরিফ শেখ।
শাশুড়ি বলে উঠলো, জামিল তুই কি এইভাবেই বসে থাকবি। তোর হবু বউয়ের সাথে এমন আচরন করতেছে। তুই গিয়ে একটু তাদের'কে আটকা।
জামিল বলে উঠলো, আমি কেনো মরে যায় না? আজীবন শুধু সুখ খুঁজে গেলাম। আর আমার সবচেয়ে আপন মানুষ গুলো শুধু দুঃখই দিয়ে গেল। যাদের রক্ত তাঁরাই বেইমানি করলো। আমাকে কেনো নিয়ে যাওয়া না, খোদা।
জামিলের মুখে এমন কথা শুনে। সবাই একসাথে হতভম্ব হয়ে যায়। শাশুড়ি একদম ধাপ করে আঁছড়ে পড়ে মাটিতে। শশুর একটা চেয়ারে মাথা নিচু করে মুখ লুকিয়ে বসে আছে। নাজমা আর হাসান, হাসানের বউ এক কোনায় চেয়ার পেতে বসে আছে।
বীমলা জামিলের কথা শুনে কোনো প্রতিক্রিয়া করেনি। সে খুব ভালো করে জানে জামিল কত বড় অভিনেতা। সে মানুষ কি না সন্দেহ হয়। কারন মানুষ কখনো এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে না।
বীমলা বলে উঠলো, স্বামী সাহেব, আজকে হয়তো আপনার সাথে আমার শেষ দেখা। তাই সবকিছু বলেই যায়। ঝিনুক আজ থেকে তিন বছর আগে বিয়ে বসে। যার সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছে। তাঁর সাথেও তাঁর সম্পর্ক করে বিয়ে বসেছে। বছর না পেরোতেই আরিফের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে যায়। হঠাৎ একদিন তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরে। ঝিনুকের স্বামী তাঁকে তালাক দেয়। তাঁর পর সে ওইখান থেকে চলে আসে। আরিফের সাথে থাকতে থাকতে আর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে করতে গর্ভবতী হয়ে যায়। তাঁরা সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না দেখে। একটা তরতাজা প্রান খুন করে। ঝিনুক আর কোনো দিন মা হতে পারবে না। তাঁকে শুরু মা*গী আর পতিতার মতো ব্যবহার করতে পারবেন। আরিফ কালকে রাতের ভিডিওটা চালিয়ে দে।
আরিফ একটা ভিডিও চালিয়ে দেয়। সেখানে সবাই দেখতে পাচ্ছে। বীমলা'র শাশুড়ি তাঁর বোনের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। তবে কিছু টাকা নয়; প্রায় ১০ বান্ডিল তো হবেই।
জামিল তাঁর মা'কে বলে উঠলো, এইগুলো টাকা গুলো কিসের জন্য নিয়েছো?
শাশুড়ি আমতা আমতা করতে শুরু করে দেয়। জামিল যখন তাঁর বাপের দিকে তাকায়। তখন তাঁর বাবা মাথা নিচু করে ফেলে।
বীমলা বলে উঠলো, আমি বলতেছি আপনাদের। আমার শাশুড়ি টাকার বিনিময়ে তাঁর বড় সন্তান ওরফে আমার স্বামী'কে বিক্রি করে দেয়। আমার শাশুড়ি তাঁর চরিত্রহীন ভাগ্নির সাথে তাঁর বিবাহিত ছেলের বিয়ে দিচ্ছে।
সবাই তো অবাক না হয়ে পারে না। একটা মা এতটাই খারাপ হতে পারে। সবাই তাদের ছি ছি করছে।
শরিফ শেখ বলে উঠলো, আমি আগে যদি জানতাম। আপনারা এমন অর্থ লোভী। তাহলে আমার মেয়েকে বিয়ে দিতাম না। আপনারা তো পৃথিবীর সকল পাপী কে ছাড়িয়ে গেছেন। আপনারা আদৌও কি মানুষ। আমার তো মনে হয় পশু।
জামিল বলে উঠলো, তুমি এতকিছু কিভাবে জানতে পারলে?
বীমলা বলে উঠলো, এতকিছু আপনাকে জানতে হবে না। আপনি এখনো বসে আছেন কেনো। আপনি তারাতাড়ি বিয়ে করেন।
ঝিনুক বলে উঠলো, আমি কিছুই করিনি। এঁরা দুইজন আমার সাথে ষড়যন্ত্র করছে। আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি।
ঝিনুক কথাটা শেষ করতে পারে নাই। তাঁর আগেই জামিল স্ব-জোড়ে থাপ্পড় মারে।
বীমলা বলে উঠলো, আমি আর কোনো কাপুরুষের সাথে থাকবো না। আমি কোনো জন্মান্ধর সাথে থাকবো না। আজকেই আমি এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবো।
সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনতেছে। তাদের বলার মতো কারো সাহস হচ্ছে না। সবাই তো তাঁকে তিলে তিলে শেষ করে দিছে।
শরিফ শেখ বলে উঠলো, বীমলা তুমি কি হার মেনে ফেললে নাকি। আমার মেয়ে তো এমন ভিতু নয়। আমার মেয়ে হলো বাঘিনী।
বীমলা হাসতে হাসতে বলল, তালই সাহেব, আর মনে সায় দিচ্ছে না। একটা বোবার সাথে কথা বলা যায়। তবে কোনো কাপুরুষের সাথে থাকা যায় না। সারাজীবন তো দুঃখই পেয়ে গেলাম। এখন নাহয় একটু সুখ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করি।
জামিল বলে উঠলো, তুমি আমাকে মাফ করে দাও। আমি আর এমন করবো না। আমি তো নিজেই নিজের ইগোর বশবর্তী হয়ে। তোমার সাথে অন্যায় করে ফেলেছি। তুমি এইখানেই থাকো। আমাকে আরেকটা সুযোগ দেও।
বীমলা আর কোনো উওর দেয় নাই। সে সোজা রুশোকে কোলে নিয়ে চলে যায়। সে আর তাদের দিকে তাকিয়ে দেখে নাই। তাদের দেখলেই মনের হত্যাকারী মনে হবে।
জামিল তাঁর বাবা-মায়ের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তবে সেই চোখে থেকে মায়া নয় ঘৃণা প্রবাহিত হচ্ছিল। সে আর নিজেকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারতেছে না।
জামিল তাঁর মা'কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো, আম্মা তুমিও আমার সাথে এমনটা করতে পারলে। আমি নিজের সর্বত্র তোমাদের দিয়ে ছিলাম। আমার স্ত্রী সন্তানের কখনো খবর নেয় নাই। তোমাদের সবসময় খবর নিছি। তোমরা বীমলা'র সাথে অন্যায় করেছো। অথচ দেখো আমি কত বোকা আমি তোমাদের সাপোর্ট করেছি। আসলে পাপ তো আমি করেছি। যাঁর শাস্তিস্বরূপ এইটা পাইলাম।
শাশুড়ি আম্মা বলে উঠলো, আমি তো কিছুই করি নাই। তুই শুধু শুধু আমাকে সন্দেহ করছিস। আর আমার বোনের মেয়ে খারাপ না।
জামিল বলে উঠলো, তুমি আমার মা দেখে। তাহলে না হলে লাশ ফেলে দিতাম। তুমি মরে যাও না কেনো। তোমার মতো মা যেনো কাউকে আল্লাহ না দেয়। তুমি জেনে শুনে আমাকে আগুনে দগ্ধ করলে।
শশুর বলে উঠলো, জামিল একদম বাজে কথা বলবি না। আর তুই এইসব কি বলছিস?
জামিল বলে উঠলো, তুমি হলে আরেকটা কালপ্রিট। তুমি তো সমান তালে তাল মিলিয়ে। আমাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিলে। আমার আধা সংসারটাও শেষ করলে। আমি তোমাদের আর দেখতে চাই না। তোমরা মারা গেলে আমি জানাযা পর্যন্ত আদায় করবো না।
এইটা বলেই জামিল দপ করে বসে পড়ে। তাঁর হাত পা গুলো কাঁপছে। তাঁর যে আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না।
হাসান বলে উঠলো, আমি আজকেই এই বাড়িতে থেকে চিরতরে চলে যাচ্ছি। আপনারা ভাববেন আপনাদের একটা সন্তান মারা গেছে?
শাশুড়ি কান্না করে বলল, তুই এইসব কি বলছিস। তোদের ছাড়া থাকবো কিভাবে?
হাসান মাহমুদ বলে উঠলো, আম্মা আব্বা মানুষ যত খারাপই হোক। একটা পশুর থেকে তো আর বেশি খারাপ না। আজ তোমরা সেই পশুকে ও হার মানালে। পশু নিজের সন্তানের জন্য জীবনটা পর্যন্ত দিয়ে দেয়। আর আজকে তোমরা তোমার সন্তানের খুন করলে। টাকার জন্য এত লোভ তোমাদের। আরে যে টাকার আশায় এইসব করলে। ভুলে গেলে চলবে না তো। আমরা সবাই কিন্তু ভাইয়ের টাকাই বড় হয়েছি। বাপ তো থাকা আর না থাকার মতো ছিল। সারা সময় ঘরে বসে বসে কাটিয়ে দিছে। তোমরা যে আমার আর আমার বউয়ের সাথে এমন আচরন করবে না। তাঁর কিন্তু কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি আমার বউকে ওয়াদা দিয়েছি। আমি তো আর বড় ভাইয়া না। যে কাপুরুষের মতো ভুলে যাবো।
হাসানের মুখে এমন কথা শুনে। জামিল একটা লম্বা নিঃশ্বাস নেয়। তাঁর ছোট ভাই মিথ্যা তো কিছু বলে নাই।
সবাই আসামির নেয় বসে আছে। খালা শাশুড়ি আর ঝিনুক চলে গেছে। চলে গেছে বললে ভুল হবে। হাসান তাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিছে।
একটা লাগেজ হাতে নিয়ে বের হয়ে আসে বীমলা। সে যে আর এইখানে থাকবে না। তাঁর কাছে দম বন্ধ হয়ে আসছে।
বীমলা বলে উঠলো, আমি চলে যাচ্ছি। আপনারা.....
চলবে......
ধানের কাজ করার জন্য গল্প দিতে পারি নাই। সবাই একটু ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর কেমন হয়েছে কমেন্ট জানাবেন।
আসসালামু আলাইকুম। হ্যাপি রিডিং ☺️💝