16/03/2026
আজ সূরা বাক্বারার প্রথম ৫ আয়াত তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই রামাদানের খতম তারাবিহ।
নামাজে দাঁড়িয়ে যখন ইমামের কণ্ঠ থেকে আয়াতের পর আয়াত ঝরে পড়ে, তখন মনে হয় এই দুনিয়ার সঙ্গে সুতোটা আস্তে আস্তে আলগা হয়ে যাচ্ছে। শ্রুতিমধুর সেই তিলাওয়াত — যেন ঢেউয়ের পর ঢেউ — বুকের ভেতর কোথায় যেন গিয়ে আঘাত করে, যেখানে সাধারণ কোনো শব্দ পৌঁছায় না। মানুষ হারিয়ে যায়। কোথায়? — তা সে নিজেও জানে না।
তারপর আসে সেই মুহূর্ত।
মসজিদের আলোগুলো একে একে নিভে যায়। অন্ধকার নেমে আসে — কিন্তু এ অন্ধকার ভয়ের নয়, এ অন্ধকার আশ্রয়ের। যেন আল্লাহ নিজে তাঁর বান্দাদের জন্য দুনিয়াটাকে একটু সরিয়ে রাখলেন। মসজিদের সেই নিকষ আঁধারে শুধু কণ্ঠস্বর থাকে — আর থাকে কুরআন। সেই মুহূর্তে মনে হয়, আসমান থেকে প্রশান্তি নেমে আসছে চাদরের মতো, ঢেকে দিচ্ছে সব ক্লান্তি, সব অশান্তি, সব পার্থিব ভার। পরিবেশটা তখন আর মসজিদ থাকে না — হয়ে ওঠে জান্নাতের কোনো বাগান, যেখানে বাতাসও যেন আয়াত বহন করে।
আর যার অন্তরে আয়াতের অর্থ বোঝার সৌভাগ্য আছে? — তাকে তখন এই দুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সে তখন অন্য কোথাও। আল্লাহর কালামের অর্থ যখন সরাসরি বুকে গিয়ে পড়ে, তখন আর কোনো অনুবাদ লাগে না — অনুভূতিই হয়ে ওঠে ভাষা।
কুরআনের জন্য যার বুকে তীব্র এক ক্ষুধা জেগে আছে, আজকের এই রাতে তার চোখ শুকনো থাকে না। বুক ফাটা কান্না আসে — কিন্তু সে কান্না দুঃখের নয়। সে কান্না হলো সেই মানুষের, যে অনেকদিন পর তার প্রিয়জনের মুখ দেখেছে। এই অনুভূতি রমজান ছাড়া আর কোথায় পাওয়া যায়? — পাওয়া যায় না। সারা বছর ধরে হয়তো আমরা অনেক কিছু খুঁজি, কিন্তু এই এক মাস — শুধু এই এক মাস — আত্মাটা যেন তার আসল ঠিকানা খুঁজে পায়।
আজ বিজোড় রাত। ক্বদরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হাজার মাসের চেয়েও উত্তম যে রাত, সে রাত হয়তো এখনই — এই মুহূর্তে। আসমানের দরজাগুলো হয়তো এখন খোলা। ফেরেশতারা হয়তো নেমে এসেছেন পৃথিবীতে।
তাই আজকের রাতে শুধু একটাই চাওয়া — যেন এই অনুভূতি, এই সংযোগ, এই কুরআনের টান — শুধু রমজানেই সীমাবদ্ধ না থেকে বুকের ভেতর বাকি এগারোটি মাসেও কোনো এক কোণে জ্বলতে থাকে — একটি ছোট্ট প্রদীপের মতো।
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي