01/02/2026
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নামে প্রকাশিত একটি টুইট। ওই টুইটে নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পোস্টটি ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ডিলিট করা হয়। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমীরে জামায়াতের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে হ্যাক হয়েছিল।
ওই পোস্টে বলা হয়েছিল—
"নারী বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তও নয়, ক্ষমা প্রার্থনামূলকও নয়—এটি নীতিগত। আমরা মনে করি না যে নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। জামায়াতে এটি অসম্ভব। আল্লাহ এটি অনুমোদন করেননি।
আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিকতার নামে যখন নারীদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে। এটি আর কিছু নয়, বরং পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অশ্লীলতা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং নারীদের পণ্যে পরিণত করা—এগুলো অগ্রগতির লক্ষণ নয়; বরং এগুলো নৈতিক পতনের উপসর্গ।
যতই তা ফ্যাশনেবল হয়ে উঠুক না কেন, আমরা অনৈতিকতার সঙ্গে কোনো আপস করি না।" (বাংলায় অনুবাদ করা)
পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল পেজ থেকে জানানো হয়, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা স্বল্প সময়ের জন্য আমীরে জামায়াতের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং এ সময় ওই পোস্টটি প্রকাশিত হয়।
কেন্দ্রীয় ক্যাম্পেইন টিম জানায়, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং উক্ত পোস্টটি আমীরে জামায়াতের কোনো বক্তব্য বা অবস্থান নয়। একই সঙ্গে সবাইকে গুজব ও যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে টুইট একাউন্ট কিভাবে হ্যাক হয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য এখনও জানান হয়নি ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক, সমালোচনা ও রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।