16/10/2026
তখনকার সময়ে এলাকায় আমাদের ও একটা কিশোর গ্যাং ছিল । গ্যাং মানে দল ।
এই দলের গরীব পোলাপাইন ৩ টাকা, ৪ টাকা চাঁদা তুইলা ১৫ টাকার ওসাকা বল আর টেপ কিনতো ।
একটা ভাঙা ব্যাটে পেরেক মাইরা বছর দুয়েক চালাইতো ।
তখনকার সময়ে এটা কখনো শোনা যাইতো না , টাকা পাইয়া পোলা নষ্ট হইয়া গেছে...
তখনকার পোলাপাইন টাকা পাইয়া শখ কইরা একটা ব্যাট কিনতো । সেই ব্যাটে সে'ই স্বৈরাচার হইয়া উঠতো মাঠে ।
সে সময়ে টাকার অভাব ছিলো তয় ' মানুষ ' হইতে চাওয়ার পোলাপাইনের অভাব ছিলো না ।
মুরুব্বিদের দেখলেই আমরা হাত উঠাইয়া সালাম দিতাম ।
ছুটির দিনে আমাদের পোলাপাইন আড্ডায় বসতো ।
সেই আড্ডায় বসে ছক কষতো , পাশের এলাকায় গিয়ে তাদের মাঠেই তাদেরকে কিভাবে ক্রিকেট, ফুটবল সব ম্যাচ হারানো যায় ।
কিন্তু সব হিসেব শেষ করেও সন্ধ্যায় মাগরিবের আজান দিলেই পোলাপাইন ঘরে ফিরে আসতো ।
এখনকার এই সময়েও এলাকায় একটা কিশোর গ্যাং আছে ।
এদের খেলার জগত ফোনে । কেউ বিমান উড়ায় , কেউ একে- ফরটি সেভেন থেকে গু* লি ছোঁড়ে ।
বাপের টাকায় সিগারেট না খাইতে পারলে এরা ' মাথা নষ্ট ' ভাইবে থাকে।
বন্ধু বান্ধব প্রচুর । হ্যাডম ও প্রচুর । সেই হ্যাডমে চাইলে যা খুশি তাই করা যায় ।
এরা বড়দের সম্মান করে না কিন্তু ' বড় ভাইদের ' সালাম দেয় , ট্রিট দেয়....
আমাদের মতো এদেরও আড্ডা হয় ।
সেই আড্ডায় টিকটক করা , ফ্রি ফায়ার, পাবজি খেলতে খেলতে তারা হিসেব কষে পাশের এলাকার কাজী বাড়ির মেয়েটারে কিভাবে তুলে আনতে হবে...
আমরা এদের আড্ডা দেখি । পাশ কাটিয়ে যাই ।
আর কখনো কখনো মনে হয়, এই আড্ডার চারপাশ ছেয়ে আছে বিষাক্ত ধৌঁয়ায়, হিট* **লারের
'হ* *লোকাস্ট ' চালানো সেই গ্যাস চেম্বারের বিষা*ক্ত বাতাসের মতো...
যে গ্যাস চেম্বার দিয়ে একটা পুরো জা* *তির একাংশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ছক আঁকা হয়েছিলো !
লেখাঃ ' আলোকশূন্য নক্ষত্র'