06/08/2024
একটি ছোট গল্প
অবশেষে
লেখা থেমে যাবার পর কবি উঠে দাঁড়ালেন।
অক্ষর গুলো সৈন্য সারির মতো দাঁড়িয়ে, যেন কোনো নির্দেশের অপেক্ষায়,
সে নির্দেশ আর কোনোদিন ও আসবেনা।
এটা জেনে কবি চলে এলেন বারান্দায়। সচ্ছল জীবনের সংকেত ছড়ানো চারদিকে, সব উপেক্ষা করে কবি তাকালেন বাইরে , সেখানে পূর্ণিমার চাঁদ জনপদ কে স্নান করাচ্ছে গাঢ জ্যোৎনায়।
কবি সহ্য করতে পারলেন না ,ঘুরে দাঁড়ালেন।
সামনের ঘরে শয্যায় তার স্ত্রী,তার প্রেয়সী, রঙ্গীন পোশাকের আড়ালে তার প্রগাঢ যৌবন কবিকে আজ উত্তেজিত করলো না।
পাশের ঘরে তার দশম বর্ষীয়া কন্যা, কবি বেশ কিছুক্ষন তার শৈশব আর কৈশোরের স্বপ্নালু সুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন ; কিন্তু তাকে চুম্বন করলেন না।
কবির উর্ধাঙ্গ অনাবৃত ,কিন্তু শীতের হাওয়া তাকে তাকে বিব্রত করছে না।
বেল ফুলের সুবাস বাতাস নিয়ে আসছে।
কিন্তু কবি ফিরে পেতে চাইলেন তার কিশোর বেলার বৃষ্টি ভেজা মাটির ঘ্রান
শীতের গভীর রাত্রে যা পাওয়া সম্ভব নয়।
কবি আবার বাইরে তাকালেন , জোৎনামাখা শহরকে তার মৃত মাছের রুপালি আঁশের প্রতিফলন মনে হল।
কবি শহরের লোকেদের কথা ভাবলেন ; তারা অনেকে তাকে চেনে তবে কবি হিসেবে নয়।
এক সফল ব্যাবসায়ী , সন্তান ,স্বামী ,পিতা হিসাবে।
তাকে কবি বলে জানে অন্ধকার ঘরের এক তরঙ্গ , আর তিনি নিজে।
কবি দেখতে পেলেন এই চরাচরে একমাত্র অন্ধকার তার অট্টালিকার পদতলে।
কবি সমাধান ছুতে চাইলেন সেই শান্ত শুন্যে ভাসতে ভাসতে কবির মনে হলো বেশ হয় যদি তার ভগ্ন শরীর অংশ গুলো একটা বৃত্ত তৈরি করে,যার কেন্দ্রে থাকবে তার হৃদয় পর মুহূর্তে হেসে ফেললেন কবি।
তার বাকি জীবনের মতো এই শেষ অধ্যায় ও নিয়ন্ত্রনের বাইরে।
লেখনী: ধ্রুব